কেট শপ্যাঁ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
Kate Chopin.jpg
শপ্যাঁ, ১৮৯৪ সালে
জন্ম Katherine O'Flaherty
(১৮৫০-০২-০৮)৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৫০
সেন্ট লুইস, মিসৌরি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু ২২ আগস্ট ১৯০৪(১৯০৪-০৮-২২) (৫৪ বছর)
সেন্ট লুইস, মিসৌরি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
পেশা লেখিকা
জাতীয়তা Flag of the United States.svg মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ধরন Realistic fiction
উল্লেখযোগ্য রচনাবলি দ্য অ্যাওয়েকনিং

কেট শপ্যাঁ (ইংরেজি: Kate Chopin জন্ম: ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫০-মৃত্যু: ২২ আগস্ট, ১৯০৪) হলেন একজন আমেরিকান ছোটগল্পকারঔপন্যাসিক। ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত দ্য অ্যাওয়েকনিং (The Awakening) উপন্যাসটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস। এছাড়াও তিনি অনেক ছোটগল্প লেখেন। ১৮৯০'এর দশকে আটলান্টিক মান্থলি, ভোগ[১], দ্য সেঞ্চুরি ম্যাগাজিন, দ্য ইয়ুথ'স কম্প্যানিয়ন প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর লেখা অনেক ছোট গল্পই প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে এগুলি দুটি পৃথক সংগ্রহ - বেয়ু ফোক (১৮৯৪) ও আ নাইট ইন আকাডিয়ায় (১৮৯৭) সংকলিত হয়ে একত্রে প্রকাশিত হয়। তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁকে তাঁর সময়ের অন্যতম সেরা সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে।[২]

বর্তমানে তাঁকে অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের ক্যাথলিক প্রতিবেশ থেকে উঠে আসা নারীবাদী (ফেমিনিস্ট) লেখিকাদের অন্যতম পূর্বসুরী বলে মনে করে থাকেন।

কেট শপ্যাঁ - ছবিটি সম্ভবত ১৮৯০'এর দশকের কোনও সময়ে তোলা।

জীবন[সম্পাদনা]

মিসৌরির সেন্ট লুইস'এ তাঁর জন্ম; আসল নাম ক্যাথারিন ও'ফ্লেয়ার্টি। তাঁর বাবা টমাস ও'ফ্লেয়ার্টি ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি আয়ারল্যান্ডের গলওয়ে থেকে এখানে এসেছিলেন। অর্থাৎ বাবার দিক থেকে তিনি ছিলেন আইরিশ-ক্যাথোলিক বংশোদ্ভূত। অপর দিকে তাঁর মা এলিজা ফ্যারিস, তাঁর বাবার দ্বিতীয়া স্ত্রী, ছিলেন সেন্ট লুইসের অন্যতম নাম করা এক ফরাসি পরিবারের মেয়ে। তাঁরা ফ্রেঞ্চ-কানাডা থেকে এসে সেন্ট লুইসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। ফলে মার দিক থেকে শিশু ক্যাথারিনের উপর ফরাসি সংস্কৃতিরও যথেষ্ট প্রভাব পড়েছিল। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়, কিন্তু তাঁর বোনেরা শৈশবেই মারা যায় ও তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইদেরও (বাবার প্রথম পক্ষের সন্তান) কুড়িতে পৌঁছতেই মৃত্যু ঘটে। ১৮৫৫ সালে, যখন তিনি মাত্র ৫ বছরের শিশু, সে'সময়ই তাঁর বাবার মৃত্যু ঘটলে তিনি মা ও দিদার (মাতামহ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এইসময় থেকেই নানারকম রূপকথা, কবিতা, ধর্মীয় সাহিত্য, এবং ধ্রুপদী ও সাম্প্রতিক সাহিত্যর সাথেও তাঁর পরিচয় ঘটতে শুরু করে।

ক্লুটিয়েরভিল গ্রামে শপ্যাঁদের বাড়ি - পরবর্তীকালে এখানে কেট শপ্যাঁর স্মরণে বেয়ু ফোক সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[৩]

১৮৭০ সালের ৮ জুন সূতির ব্যবসায়ী অস্কার শপ্যাঁর সাথে তাঁর বিবাহ হয়[৪] এবং নবদম্পতি নিউ অরলিয়ঁস শহরে তাঁদের বসতি স্থাপন করেন। তাঁদের ছয় সন্তান হয়। কিন্তু ১৮৭৯ সালে সূতির ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে হয় ও লুইসিয়ানা প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্লুটিয়েরভিল গ্রামে তাঁরা নতুন করে বাসা বাঁধেন। ছোট ছোট কিছু ফার্মের দেখাশোনা ও একটি দোকান চালাতে গিয়ে এই অঞ্চলের ক্রেওল জনসাধারণের সাথে তাঁরা খুবই ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে খুবই প্রভাবিত করে; পরবর্তীকালে কেট'এর লেখায় বারে বারে এর প্রভাব ফুটে উঠতে দেখা যায়।

১৮৮২ সালে অস্কারের মৃত্যু ঘটলে পারিবারিক দুর্দশা চরমে ওঠে। অভাব ও দেনার দায়ে লুইসিয়ানার ব্যবসা বিক্রি করে দিতে হয়। ১৮৮৪ সালে কেট তাঁর সন্তানদের নিয়ে আবার সেন্ট লুইসে তাঁর মায়ের কাছে ফিরে আসেন। কিন্তু পরের বছর তাঁর মায়েরও মৃত্যু ঘটলে তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন। এইসময় তাঁর চিকিৎসক ও পারিবারিক বন্ধু ফ্রেডেরিক কোলবেনআয়ার তাঁকে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন - এর ফলে তাঁর জীবনে একটা নতুন লক্ষ্য তৈরি হবে, আর্থিক সমস্যারও হয়তো কিছুটা সুরাহা ঘটবে।[৫][৬]

১৮৯০'এর দশকের প্রথম দিকে তিনি বিভিন্ন ছোট গল্প লিখতে শুরু করেন ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর লেখা গল্প ও অনুবাদ ছাপাও হতে শুরু করে। কিন্তু এইসময় তাঁর খ্যাতি মূলত স্থানীয় পত্রিকার পাঠকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁর লেখার সাহিত্য-মূল্য সে'সময় অনেকটা উপেক্ষিতই থেকে যায়। তাঁর প্রথম উপন্যাস অ্যাট ফল্ট প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালে। সমালোচকরা সেই উপন্যাসের যথেষ্ট প্রশংসাও করে। এতে উৎসাহিত হয়ে তিনি আরও একটি উপন্যাস "ইয়ং ডঃ গস"এ হাত দেন। কিন্তু এই উপন্যাসটি ছাপার জন্য কোনও প্রকাশক খুঁজে না পাওয়া গেলে, হতাশ হয়ে কেট পাণ্ডুলিপিটাই নষ্ট করে ফেলেন ও শুধুই ছোট গল্পের দিকে মন দেন। এগুলি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে ও তারপর একত্রে সংকলিত হয়ে বেয়ু ফোক (১৮৯৪) ও আ নাইট ইন আকাডিয়ায় (১৮৯৭) নামে দুটি ছোটগল্প সংগ্রহ হিসেবে বের হয়।

১৮৯৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দ্য অ্যাওয়েকনিং (The Awakening)। শুরুতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় উপন্যাসটির যথেষ্ট বিরূপ সমালোচনাই ঘটে। আসলে এই উপন্যাসে তিনি যেরকম বলিষ্ঠভাবে নারী যৌনতা, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাতৃত্ব, প্রভৃতি বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করেন, সমসাময়িক সমাজ তা তখনও সেভাবে নিতে প্রস্তুত ছিল না।[৭] তবে কিছু কিছু সংবাদ সাময়িকীতে গ্রন্থ পর্যালোচনায় উপন্যাসটির প্রশংসাও করা হয়।[৮] কিন্তু বিরূপ সমালোচনায় তিনি তখন এতটাই আহত বোধ করেন যে এরপর আর তিনি উপন্যাস না লিখে ছোটগল্পেই সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি লেখেন "দ্য জেন্টলম্যান ফ্রম নিউ অর্লিয়েন্স"। সেই বছরই মারকুইস'এর হু'জ হুতে তাঁর নামও স্থান পায়।

১৯০৪ সালের ২০ আগস্ট সেন্ট লুইসে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ও দুই দিন বাদে ২২ তারিখ ৫৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

উপন্যাস ও ছোটগল্প[সম্পাদনা]

  • অ্যাট ফল্ট (১৮৯০), উপন্যাস
  • "অ্যাট দ্য কানাডিয়ান বল" (১৮৯২)
  • "ডেজারে'স বেবি" (১৮৯৫)
  • "দ্য স্টোরি অব অ্যান আওয়ার" (১৮৯৬)
  • "আ পেয়ার অব সিল্ক স্টকিংস" (১৮৯৭)
  • "দ্য স্টর্ম" (১৮৯৮)
  • "দ্য লকেট"
  • "এথেনেজ"
  • "লাইলাক"
  • "আ রেসপেকটেবল উওম্যান"
  • "দ্য আনএক্সপেকটেড"
  • "হিজ কিস"
  • "বিয়ন্ড দ্য বেয়ু"
  • "বিউটি অব দ্য বেবি"
  • "অ্যান ওল্ড-অ্যাকাউন্ট ক্রেওল"
  • "রিগ্রেট"
  • "মাদাম সেলেস্ত্যাঁ'স ডিভোর্স"
  • দ্য অ্যাওয়েকনিং (১৮৯৯), উপন্যাস
  • "দ্য জেন্টলম্যান ফ্রম নিউ অর্লিয়েন্স" (১৯০০)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Toth, Emily (1999). Unveiling Kate Chopin. Jackson: University Press of Mississippi. pp. 170–173. আইএসবিএন ৯৭৮-১৫৭৮০৬১০২০.
  2. Fred Lewis Pattee. A History of American Literature Since 1870. Harvard University Press. p. 364.
  3. Welborn, Vickie (1888-10-01). "Loss of Kate Chopin House to fire 'devastating' ". Oct. 1, 2008. The Town Talk.
  4. Marriage certificate between Oscar Chopin and Katie O'Flaherty accessed on ancestry.com on 19 October 2015
  5. Carmen Birkle: Kate Chopin: "The Storm" - Die Geburt der "New Woman" aus dem Geiste des Regionalismus. In: Klaus Lubbers (Hrsg.): Die englische und amerikanische Kurzgeschichte. Wissenschaftliche Buchgesellschaft Darmstadt 1990, আইএসবিএন ৩-৫৩৪-০৫৩৮৬-৯, পৃঃ ১১০-১১৯।
  6. Seyersted, Per (1985). Kate Chopin: A Critical Biography. Baton Rouge, LA: Louisiana State UP. আইএসবিএন ০-৮০৭১-০৬৭৮-X.
  7. Walker, Nancy (2001). Kate Chopin: A Literary Life. Palgrave Publishers.
  8. Toth, Emily (1990). Kate Chopin. William Morrow & Company, Inc.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে: