বিষয়বস্তুতে চলুন

কেইবু কেইওইবা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কেইবু কেইওইবা
খাঙ্গাবকের মেনজর বহুমুখী গবেষণা ও ঐক্য উদ্যানে কেইবু কেইওইবার একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তি।
দলদানব
অন্যান্য নাম(সমূহ)কাবুই সালাং মাইবা
দেশভারত
অঞ্চলমণিপুর
কেইবু কেইওইবা
কেইবু কেইওইবা বুড়িটিকে গিলে ফেলার চেষ্টা করছে।
স্রষ্টাভুমেঞ্জয় কোনসাম
কণ্ঠ প্রদানবিশ্বমিত্র
ছদ্মনামকাবুই সালাং মাইবা
প্রজাতিবাঘের মাথা বিশিষ্ট মানব
দাম্পত্য সঙ্গীথাবাটন
উদ্ভবমণিপুর
জাতীয়তাভারতীয়

কেইবু কেইওইবা (কাবুই কেইওইবা নামেও পরিচিত) মণিপুরের মৈতৈ পুরাণ এবং লোককাহিনীতে বাঘের মাথা এবং মানুষের দেহ বিশিষ্ট একটি পৌরাণিক প্রাণী। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি একসময় কাবুই সালাং মাইবা নামে একজন দক্ষ পুরোহিত ছিলেন। তিনি জাদুবিদ্যার মাধ্যমে নিজেকে হিংস্র বাঘে পরিণত করেছিলেন। অহংকারের শাস্তি হিসেবে, পুনরায় পূর্ণমানব রূপে ফিরতে পারেননি।[][][][][]

কাহিনি

[সম্পাদনা]

কেইবু কেইওইবা দিনের বেলায় মানুষ আর রাতে বাঘ ছিল। রাতের বেলায়, সে খাবারের খোঁজে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত। এক রাতে, সে একজন বয়স্ক মহিলার বাড়ি খুঁজে পেল এবং তাকে গ্রাস করার পরিকল্পনা করল। বৃদ্ধা বললেন যে তার কুঁচকে যাওয়া ত্বক সুস্বাদু হবে না এবং তাকে থাবাটন নামে একজন সুন্দরী যুবতীকে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিলেন। সাত ভাইয়ের পরিবারের একমাত্র বোন ছিলেন থাবাটন। বৃদ্ধা কেইবু কেইওইবাকে বললেন যে তার ভাইয়েরা কাজে গেছে এবং থাবাটন একা। বৃদ্ধা কেইবু কেইওইবাকে সাহায্য করে যাতে থাবাটন তার বাড়ির দরজা খুলে দেয়। কেইবু থাবাটনকে অপহরণ করে।[]

এর কিছুক্ষণ পরেই, থাবাটনের ভাইয়েরা কাজ থেকে বাড়ি ফিরে আসে।[] এবং আবিষ্কার করে যে থাবাটন নিখোঁজ। তারা বৃদ্ধাকে তাদের বোন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, এবং সে তাদের কেইবু কেইওইবার কথা বলে। সাত ভাই তাদের অস্ত্র প্রস্তুত করে এবং বোনের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। কেইবু কেইবা থাবাটনকে খায়নি বরং, থাবাটনকে তার স্ত্রী হতে বাধ্য করে, এবং তারা একসাথে বনে বাস করে। ভাইয়েরা তাদের বোনকে খুঁজতে থাকে। একদিন, তারা থাবাটনকে দেখতে পায়। যখন তারা তার কাছে যায়, তারা দেখতে পায় যে সে একজন পুরুষের সাথে আছে এবং তার সাথে একটি শিশু পুত্রও আছে। ভাইয়েরা গোপনে থাবাটনকে সংকেত দেয় যেন সে জানতে পারে যে তারা এসেছে। যখন কেইবু কেইওইবা শিকারের জন্য বাইরে যায়, তখন থাবাটন তার ভাইদের সাথে দেখা করে এবং তারা তার পালানোর পরিকল্পনা করে।[]:৭৬

কেইবু ফিরে আসার পর, থাবাটন তাকে উভয় প্রান্তে খোলা একটি ফাঁপা উটং (বাঁশের পাইপ) দেয়। সে কেইবু কেইওইবাকে উটং দিয়ে ঝর্ণা থেকে পানি আনতে বলে। কেইবুর অনুপস্থিতিতে, ভাইয়েরা কেইবুর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়, শিশুকে হত্যা করে এবং তাদের বোনকে নিয়ে পালিয়ে যায়।[]:৭৭ অন্যদিকে, কেইবু কেইওইবা যখন উটংয়ে পানি ভরার চেষ্টা করেছিল, তখন পানি চুইয়ে পড়েছিল। গাছের ডাল থেকে তার কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে একটি কাক কেইবুকে উপহাস করল। পানি ভরতে ব্যর্থ কেইবু কেইওইবা বাড়ি ফিরে দেখে তার ছেলে মৃত, তার স্ত্রী নিখোঁজ এবং তার বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাগে উম্মাদ কেইবু থাবাটন এবং তার ভাইদের বাড়িতে ফিরে আসে। সাত ভাই অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকে। কেইবু কেইওইবা তাদের কাছে আসার সাথে সাথেই তারা আক্রমণ করে। অবশেষে, থাবাটনের সাত ভাইয়ের হাতে কেইবু কেইওইবা মারা যায়। থাবাটন এবং তার সাত ভাই চিরকাল সুখে বসবাস করে।[]:৭৮[]:৫৯

চলচ্চিত্র

[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে মৈতৈ ভাষার অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র কেইবু কেইওইবাতে চরিত্রটি মানবসদৃশ্য বাঘ হিসেবে রূপায়িত হয়েছে। ছায়াছবিতে কেইবু মানুষের মত সংলাপ বলেছে। ডিজিটালাইজেশনের সময় মানুষের কণ্ঠস্বর এবং কথা বলার ক্রিয়ায় সামঞ্জস্য আনার জন্য এখানে চরিত্রটির মুখের গঠনটি একটি বাস্তব বাঘের স্বাভাবিক আকৃতি থেকে কিছুটা বিকৃত করে তৈরি করা হয়েছিল। কেইবার চিত্রকর ভুমেঞ্জয়কে চিত্রাঙ্কনে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল, কারণ চরিত্রটি একজন মানুষ এবং একটি পশুর সংমিশ্রণ। গল্পের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে অঙ্কন দল বিভিন্ন বিবর্ণ রঙ ব্যবহার করেছে।[]

থিয়েটার

[সম্পাদনা]

ইয়ামাতা আমাসুং কেইবু কেইওইবা (অনু.ইয়ামাতা-নো-ওরচি এবং কেইবু কেইওইবা) একটি মৈতৈ-ভাষার নাটক যা দুটি কিংবদন্তি প্রাণী, কেইবু কেইবা এবং জাপানি পুরাণের ইয়ামাতা-নো-ওরোচির গল্পকে আবদ্ধ করে। নাটকে প্রথমে কেইবু কেইওইবার ভূমিকায় ক্ষেত্রমায়ুম প্রিয়ব্রত এবং তারপরে পাঙ্গামবাম টাইসন মেইতেই অভিনয় করেছিলেন।[][১০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. রেগুনাথন, সুধামাহি (২০০৫)। ফোকটেলস অব দ্য নর্থ-ইস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। চিল্ড্রেন'স বুক ট্রাস। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০১১-৯৬৭-৮। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০২২
  2. সিং, মইরাংথেম কিরতি (১৯৯৩)। ফোক কালচার অব মণিপুর (ইংরেজি ভাষায়)। মানস পাবলিকেশন। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০৪৯-০৬৩-০। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০২২
  3. ডেভি, জি. এন.; ডেভিস, জিওফ্রে; চক্রবর্তি, কে. কে. (১২ আগস্ট ২০১৫)। নোয়িং ডিফারেন্টলি: দ্য চ্যালাঞ্জ অব দ্য ইন্ডেজেনাস (ইংরেজি ভাষায়)। রুটলেজ। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৭-৩২৫৬৯-৭। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০২২
  4. সঙ্গীত নাটক (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯৮৫।
  5. ক্রেসনার, ডেভিড (২০০৮)। ঠিয়েটার ইন থিওরি ১৯০০-২০০০: এন এন্থোলজি (ইংরেজি ভাষায়)। উইলি। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫১-৪০৪৩-০। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০২২
  6. 1 2 3 4 বি জয়ন্তকুমার শর্মা; চিরম রাজকেতন সিং (২০১৪)। ফোকটেলস অব মণিপুর। পৃ. ৭৪–৭৫।
  7. 1 2 এস সনাতম্বি (২০১৪)। মণিপুরী ফুংগাৱারী (মণিপুরী ভাষায়)। পৃ. ৫৭-৫৮।
  8. নিশিকান্ত, নাওরেম (৭ নভেম্বর ২০১৩)। "Bhumenjoy Konsam on the Chemistry of Making Keibu-Kei-Oiba – Part II"মণিপুর টাইমস (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  9. "YAMATA AMASUNG KEIBU KEIOIBA – 21st Bharat Rang Mahotsav 2020" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২২ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  10. "Heisnam Tomba's Play: Yamata Amasung Keibu Keioiba"স্টেজবাজ (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১৩ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]