কুর্দিস্তান ইসলামি আমিরাত
Islamic Emirate of Kurdistan میرنشینی ئیسلامیی کوردستان | |
|---|---|
| ২০০১-২০০৩ | |
|
পতাকা | |
Islamic Emirate of Kurdistan (black) at their peak, controlling the entire Halabja Governorate | |
| অবস্থা | Unrecognized independent state (2001–2003) |
| রাজধানী | Byara |
| বৃহত্তম নগরী | Halabja |
| সরকারি ভাষা | Kurdish |
| ধর্ম | Salafism |
| সরকার | Islamic emirate |
| Emir | |
• 2001–2003 | Mullah Krekar |
| Deputies | |
• 2001-2003 | Wirya Salih |
• 2001-2003 | Ali Bapir |
| ইতিহাস | |
• প্রতিষ্ঠা | 1994 |
• বিলুপ্ত | March 30, 2003 |
| মুদ্রা | Iranian rial, Iraqi dinar (de facto) |
| বর্তমানে যার অংশ | Iraqi Kurdistan |
কুর্দিস্তান ইসলামি আমিরাত (কুর্দি: میرنشینی ئیسلامیی کوردستان) ছিল ইরাকের হালাবজা গভর্নরেটে অবস্থিত একটি অস্বীকৃত কুর্দি ইসলামি রাষ্ট্র। ১৯৯১ সাল থেকে অঞ্চলটি ইরাকি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। ১৯৯৪ সালে এটি কুর্দিস্তান অঞ্চলের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন ভাইকিং হ্যামার'-এর মাধ্যমে এই আমিরাতের পতন ঘটে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]১৯৯১ সালের ইরাকি বিদ্রোহে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি), কুর্দিস্তান প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন (পিইউকে) এবং কুর্দিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (আইএমকে) অংশ নেয়। তারা ইরাকি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কুর্দিস্তান অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছিল। এরপরও কুর্দিস্তান অঞ্চলে আইএমকে-এর একটি শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় ছিল। পরবর্তীতে কেডিপি এবং পিইউকে-এর মধ্যে ইরাকি কুর্দি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের পর একটি চুক্তির মাধ্যমে কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। কেডিপি পায় দোহুক ও ইরবিল গভর্নরেট, পিইউকে পায় সুলায়মানিয়া গভর্নরেট এবং আইএমকে-কে হালাবজা গভর্নরেটের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়।
এই আমিরাতটি প্রাথমিকভাবে কুর্দিস্তান অঞ্চলের একটি স্বায়ত্তশাসিত অংশ ছিল। পরবর্তীতে আইএমকে কুর্দি সরকারের সাথে যোগ দিলে দলের কিছু সদস্য তা মেনে নিতে পারেননি। তারা আইএমকে ত্যাগ করে নিজস্ব দল গঠন করেন এবং এই আমিরাতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান।[১][২] এই দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মোল্লা ক্রেকারের নেতৃত্বাধীন 'ইসলাহ', আলী বাপিরের নেতৃত্বাধীন 'কুর্দিস্তান জাস্টিস গ্রুপ' এবং আবু আবদুল্লাহ শাফির নেতৃত্বাধীন 'জুন্দ আল-ইসলাম' (যা তাওহিদ ইসলামিক ফ্রন্ট, ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্ট এবং দ্বিতীয় সোরান ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল)।[৩]
মোল্লা ক্রেকার দ্রুতই বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালে তিনি আমিরাতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একই সাথে তিনি সমগ্র বৃহত্তর কুর্দিস্তানকে এর অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই ইসলামি আমিরাতকে সম্প্রসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মোল্লা ক্রেকার এই ইসলামি আমিরাতকে একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন এবং দাবি করেন যে এটি কুর্দিস্তানের সীমানার বাইরে বিস্তৃত হবে না।[৪][৫][৬] এই ইসলামি আমিরাতে 'ইসলাহ' এবং 'জুন্দ আল-ইসলাম' একত্রিত হয়ে 'আনসার আল-ইসলাম' গঠন করে, যা আমিরাতের সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করত।[৩]
আনসার আল-ইসলামের নেতা মোল্লা ক্রেকার ছিলেন এই আমিরাতের আমির। আর আবু আবদুল্লাহ আল-শাফি ও আলী বাপির ছিলেন তাঁর ডেপুটি বা সহকারী। চারদিক থেকে কার্যত অবরুদ্ধ থাকায়, প্রতিবেশী ইরানের সুন্নি কুর্দি জিহাদিরা এই আমিরাতকে সীমান্ত পেরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন জুগিয়েছিল। তারা এমন কিছু নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল যার মাধ্যমে এই অঞ্চলে অবৈধভাবে বিভিন্ন সামগ্রী পাচার করা হতো।[৭][৮][৯][১০][১১]
ইসলামি আমিরাতের অধীনে জীবন
[সম্পাদনা]মোল্লা ক্রেকারের মতো আনসার আল-ইসলামের অনেক যোদ্ধা ও নেতাও জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। তারা এই নতুন আমিরাতকে কুর্দি স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি বিজয় হিসেবে দেখতেন। তারা ঐতিহ্যপন্থীও ছিলেন এবং সামাজিকভাবে কুর্দি সংস্কৃতির প্রচার করতেন। তবে তাদের অনেক জাতীয়তাবাদী নীতি থাকলেও, জাতীয়তাবাদের যেসব উপাদান ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল, সেগুলো তারা বর্জন করেছিলেন।[৪][৫][৬] বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায় যে, আনসার আল-ইসলাম সেখানে কঠোর শরিয়াহ আইন কার্যকর করেছিল। তারা ইয়ারসানি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং সুফি মাজার ও খানকাহগুলো ধ্বংস করে দেয়।[১২][১৩][১৪]
মোল্লা ওমরের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান ইসলামি আমিরাতের সাথে কুর্দিস্তান ইসলামি আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল। তালেবান বা আল-কায়েদার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য তারা কুর্দিদের আফগানিস্তানে পাঠাত।[১৫] এমনকি তারা আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিজেদের প্রতিনিধিদলও পাঠিয়েছিল।[১৬] ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা নিজেদের সীমান্তে ঘটে যাওয়া এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে উদাসীন ছিল।[৯]
সাদ্দাম হোসেন এই ইসলামি আমিরাত সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি আনসার আল-ইসলামকে একটি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছিলেন।[১৭][১৮]
পতন
[সম্পাদনা]
ইরাক আক্রমণ শুরু হওয়ার পর, তুরস্কের বুলেন্ত এজেভিত সরকার মার্কিন বাহিনীকে তুর্কি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরাকে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে 'অপারেশন ভাইকিং হ্যামার' শুরু করে। আমিরাতের পতনের পর অনেক আনসার যোদ্ধা ইরান-ইরাক সীমান্তে জড়ো হন এবং ইরানি কুর্দি সমর্থকদের সহায়তায় তারা সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে পালিয়ে যান।[১৯]
আমিরাতের পতনের পর আনসার আল-ইসলাম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আবু আবদুল্লাহ আল-শাফি 'আনসার আল-সুন্নাহ' গঠনের জন্য কুর্দিস্তান থেকে পালিয়ে যান এবং মোল্লা ক্রেকার নরওয়েতে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মোল্লা ক্রেকার "রাউতি শাখা" নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।[২০][২১] পরবর্তীতে আলী বাপির কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের সাথে সমঝোতা করেন।[২২][২৩]
২০১৬ সালের শেষের দিকে, আমিরাত প্রতিষ্ঠার ১৫তম বার্ষিকীতে মোল্লা ক্রেকার বলেন, "আমি আশা করি আমরা যত দ্রুত সম্ভব ইরাক থেকে আলাদা হয়ে যাব। আমি একে সর্বান্তকরণে সমর্থন করব। ১৯২১ সালে আমাদের ইরাক রাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করা হয়েছিল, যা মূলত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। ইরাক যখন প্রথমবার যুদ্ধবিমান কিনেছিল, তখন তারা কুর্দিস্তান এবং সুলায়মানিয়ার একটি ক্ষুদ্র অংশে বোমাবর্ষণ করেছিল। কুর্দিস্তান যদি ইরাক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে, তবে আমি তাকে পুরোপুরি সমর্থন করব। মৌরিতানিয়া যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল, তখন তাদের পতাকা ওড়ানোর মতো কোনো ভবনও ছিল না, তবুও তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল।" তিনি আরও দাবি করেন যে, কুর্দি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর আর কোনো ক্ষোভ নেই। হোশিয়ার জেবারি নিশ্চিত করেন যে, কুর্দি সরকার ক্রেকারের সাথে সমঝোতা বা শান্তি স্থাপন করেছে।[২৪]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- কুর্দি আমিরাত
- কুনার ইসলামি আমিরাত
- আফগানিস্তান ইসলামি আমিরাত (১৯৯৬–২০০১)
- রাফাহ ইসলামি আমিরাত
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "The Islamist Threat from Iraqi Kurdistan | The Washington Institute"। www.washingtoninstitute.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ Faleh A. Jabar and Hosham Dawod, The Kurds: nationalism and politics (London: Saqi), 203-230.
- 1 2 "Ansar al-Islam in Iraqi Kurdistan." Human Rights Watch, Date unknown. Web. 18 October 2010.
- 1 2 Gade, Tine; Palani, Kamaran (22 May 2022). "The hybridisation of religion and nationalism in Iraqi Kurdistan: The case of Kurdish Islam". Third World Thematics: A TWQ Journal. 5 (3–6): 221–241. doi:10.1080/23802014.2022.2070269. hdl:11250/2999460. S2CID 249036504.
- 1 2 "Does Kurdish jihadist group threaten Hayat Tahrir al-Sham in north Syria? - Al-Monitor: The Pulse of the Middle East". http://www.al-monitor.com. 20 June 2021. Archived from the original on 5 May 2022. Retrieved 27 March 2022.
- 1 2 Aymenn Jawad Al-Tamimi (11 May 2014). "Key Updates on Iraq's Sunni Insurgent Groups". Brown Moses Blog. Archived from the original on 28 January 2015. Retrieved 26 May 2014.
- ↑ "Komal should 'shed' Islamic label: party leader"। www.rudaw.net। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "How ISIS Infiltrated Iranian Kurdistan"। iranwire.com।
- 1 2 "Journey to jihad: Iran's Sunni Kurds fighting a holy war in Idlib"। www.rudaw.net। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "Iraqi political groupings and individuals"। middleeastreference.org.uk। ৫ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Ram, Sunil (এপ্রিল ২০০৩)। "The Enemy of My Enemy: The odd link between Ansar al-Islam, Iraq and Iran" (পিডিএফ)। The Canadian Institute of Strategic Studies। ৩০ মার্চ ২০০৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "Ansar al-Islam in Iraqi Kurdistan (Human Rights Watch Backgrounder, )"। www.hrw.org।
- ↑ "Ansar al-Islam in Iraqi Kurdistan"। Human Rights Watch। ১৫ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ Brynjar, Lia। Understanding Jihadi Proto-States - JSTOR। জেস্টোর 26297412।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":1" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Schanzer, Jonathan (January 2004) "Ansar al-Islam: Back in Iraq :: Middle East Quarterly". Middle East Quarterly. Archived from the original on 2016-11-29. Retrieved 2016-11-28.
- ↑ "Senate Intelligence Committee Report p.92-93." (পিডিএফ)। ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Senate Select Committee on Intelligence on Postwar Findings About Iraq's WMD Programs and Links to Terrorism and How They Compare with Prewar Assessments. 109th Congress, 2nd Session" (পিডিএফ)। Senate Report on Pre-war Intelligence on Iraq। ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৬। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।(See III.G, Conclusions 5 and 6, p.109.)
- ↑ "The rise and fall of Ansar al-Islam"। Christian Science Monitor। আইএসএসএন 0882-7729। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "NBC2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Italy announces swoop on 'jihadist network'"। The Local। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ Obeid, Adel Ahmad.'L'islamisme en mutation : Une étude pluridisciplinaire sur la mouvance islamiste kurde, pp. 22-23
- ↑ Obeid, Adel Ahmad.'L'islamisme en mutation : Une étude pluridisciplinaire sur la mouvance islamiste kurde, pp. 80-83
- ↑ Mahmud Yasin Kurdi (২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। "Time has come to break from Iraq, says radical Kurdish cleric Mulla Krekar"। rudaw.net। ২৯ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৬।