কুয়েতের তেলকূপে অগ্নিকাণ্ড

১৯৯১ সালে গালফ যুদ্ধের সময়, ইরাকি সেনারা কুয়েত থেকে পিছু হটার সময় তেলের কূপে আগুন প্রজ্বলিত করেছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অগ্রগতি ধীর হয়।[৩] এই আগুনের ফলে ৬০৫ থেকে ৭৩২টি তেলের কূপসহ অনেক তেলের হ্রদ এবং আগুনের পরিখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের সূত্রপাত ১৯৯১ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে হয়, এবং প্রথম কূপগুলোর আগুন এপ্রিলের প্রথম দিকে নিভে গেলেও, শেষ কূপটি ১৯৯১ সালের ৬ নভেম্বর বন্ধ করা হয়।[৪]
উদ্দেশ্য
[সম্পাদনা]
রুমাইলা তেলক্ষেত্রে কথিত বাঁকা-কূপ খনন নিয়ে ইরাক ও কুয়েতের মধ্যে বিরোধ ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের অন্যতম কারণ ছিল।[৫][৬]

এর পাশাপাশি, কুয়েত তেল রপ্তানির যে সীমা [[ওপেক (OPEC) [৭] চুক্তির]] মাধ্যমে নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়েও বেশি তেল উৎপাদন করছিল। ইরাকি আগ্রাসনের আগের দিনগুলোতে কুয়েত তাদের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেলে (৩ লাখ ঘনমিটার) উন্নীত করে, যা তেলের দামে তীব্র পতনের সঙ্গে মিলে যায়। ১৯৯০ সালের গ্রীষ্ম নাগাদ কুয়েতের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন ইরাকের জন্য গুরুতর বিরোধের বিষয় হয়ে ওঠে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, কুয়েতের শাসক আল-সাবাহ পরিবারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত আক্রমণ করেছিলেন সাদ্দাম হুসাইন, কারণ তারা তেল উৎপাদন কমানোর নীতি গ্রহণ করেনি। একই কারণে কুয়েতের তেলের কূপ ধ্বংসের সিদ্ধান্তও তিনি নিতে পারেন।[৮] আরেকটি ধারণা হলো, সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে ইরাক তেলের ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করেছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল, জ্বলন্ত তেলের কূপ থেকে সৃষ্টি হওয়া ঘন কালো ধোঁয়া জোট বাহিনীর বিমান হামলাকে ব্যাহত করবে, নিখুঁতভাবে নির্দেশিত অস্ত্র এবং গুপ্তচর [৯] উপগ্রহের কার্যকারিতা কমিয়ে দেবে, এবং ইরাকি বাহিনীর গতিবিধিকে আড়াল করবে। এছাড়াও, ইরাকি সামরিক নেতারা হয়তো ভেবেছিলেন যে কয়েকশো জ্বলন্ত তেলের কূপ থেকে সৃষ্ট তাপ, ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ জোট বাহিনীর জন্য একটি কঠিন প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে। তেলের কূপ ধ্বংসের সময়কাল এই সামরিক কৌশলের স্বপক্ষে ইঙ্গিত দেয়। উদাহরণস্বরূপ, জোট বাহিনীর বিমান হামলার শুরুর দিকে তুলনামূলকভাবে কম কূপ জ্বলছিল, তবে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে স্থল যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।ইরাকি সামরিক কমব্যাট ইঞ্জিনিয়াররা প্রতিরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে কুয়েতের দক্ষিণ সীমান্তে তলদেশে তেল ছেড়ে দেয়, যাতে পদাতিক ও যান্ত্রিক ইউনিটগুলোর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।[১০] এ উদ্দেশ্যে তারা প্রায় এক কিলোমিটার (০.৬২ মাইল) দীর্ঘ এবং তিন মিটার (৯.৮ ফুট) প্রশস্ত ও গভীর "আগুনের পরিখা" তৈরি করে, যা জোট বাহিনীর স্থল অভিযানের গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত ছিল। স্থলভাগে এসব আগুনের সামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি, ইচ্ছাকৃতভাবে সাগরে ছড়িয়ে দেওয়া গালফ ওয়ার তেল নিঃসরণকেও একই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। ধারণা করা হয়, এর মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য মার্কিন মেরিন বাহিনীর উভচর অভিযানে বাধা সৃষ্টি করা। [১১]
ব্যাপকতা
[সম্পাদনা]যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট যখন ইরাক-অধিকৃত কুয়েতে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ইরাকি সরকার কুয়েত থেকে পিছু হটার আগে যতটা সম্ভব তেলের মজুদ ও অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরেই ইরাকি বাহিনী কুয়েতের তেলের কূপে বিস্ফোরক স্থাপন শুরু করে। ১৯৯১ সালের ১৬ জানুয়ারি, যখন মিত্র বাহিনী ইরাকের লক্ষ্যবস্তুর ওপর বিমান হামলা শুরু করে, তখন থেকেই তেলের কূপ পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হতে থাকে। ৮ ফেব্রুয়ারি স্যাটেলাইট চিত্রে প্রথমবারের মতো জ্বলন্ত তেলের কূপ থেকে ধোঁয়া নির্গত হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে। ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, যখন মিত্র বাহিনী স্থল অভিযান শুরু করে, তখন কূপগুলোর আগুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।.[১২]
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা(EPA) কংগ্রেসে এক প্রতিবেদনে জানায়, "পিছু হটার সময় ইরাকি সেনারা ৭০০-র বেশি তেলের কূপ, সংরক্ষণ ট্যাংক, শোধনাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করেছে বা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।"[১৩] অনুমান করা হয়, ৬০৫ থেকে ৭৩২টি কূপে আগুন জ্বলছিল। এর পাশাপাশি, জানুয়ারিতে জোট বাহিনীর ভারী বোমা হামলায় আরও ৩৪টি কূপ ধ্বংস হয়।
১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুয়েত পেট্রোলিয়াম কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, ৬১০টি কূপে আগুন লেগেছিল, এবং মোট ৭৪৯টি স্থাপনা হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, নয়তো পুড়ে যাচ্ছিল। এছাড়া, একটি অনির্দিষ্ট সংখ্যক নিম্নাঞ্চল তেলে ভরে গিয়েছিল, যেগুলোকে "তেলের হ্রদ" (oil lakes) ও "আগুনের পরিখা" (fire trenches) বলা হয়। এই অগ্নিকাণ্ড পেট্রোলিয়াম শিল্পের ইতিহাসে সংঘটিত মোট তেলকূপ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৫০% ছিল এবং কুয়েতের প্রতিটি প্রধান তেলক্ষেত্রে থাকা ৮৫% কূপ হয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছিল, নয়তো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে আগুন ও অন্যান্য ক্ষতিসমূহ নিয়ন্ত্রণে আনতে সমন্বিত প্রচেষ্টা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল[১৪] পর্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত আগুনের সময়কালে বিভিন্ন উৎস থেকে অনুমান করা হয়েছিল যে, জ্বালানো তেল কূপগুলির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৬ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল এবং ৭০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়েছিল। .[১৫] সাত মাস পর, ৪৪১টি স্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল, এবং ৩০৮টি ছিল অনিয়ন্ত্রিত। শেষ কূপটি ১৯৯১ সালের ৬ নভেম্বর বন্ধ করা হয়। মোট পুড়ে যাওয়া তেলের পরিমাণ সাধারণত এক বিলিয়ন ব্যারেল বা কুয়েতের মোট সরবরাহের ১০৪ বিলিয়ন[১৬][১৭] ব্যারেলের প্রায় এক শতাংশ হিসেবে অনুমান করা হয়। ২০২২ সালে দৈনিক বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯.৪ মিলিয়ন ব্যারেল;[১৮] এই পরিমাণ তেল পুড়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে ব্যবহৃত হারে ১০ দিনের জন্য চলতে পারত।
অর্থনৈতিক ক্ষতি
[সম্পাদনা]১৯৯১ সালের মার্চ মাসে, কুয়েত অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, কুয়েতের ৯০ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের প্রায় ১০% ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। সেই সময়কার বিশ্ববাজারে এর আর্থিক মূল্য ছিল আনুমানিক ১৫৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।[১৯]
সামরিক প্রভাব
[সম্পাদনা]


১৯৯১ সালের ২১ মার্চ, কুয়েতের তেলের আগুন থেকে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ার কারণে রাস মিশাব বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সৌদি রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি C-130H বিমান বিধ্বস্ত । এতে ৯২ জন সেনেগালিজ সৈন্য ও ৬ জন সৌদি ক্রু সদস্য নিহত হন, যা জোট বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ছিল[২০] ইরাকি অ্যান্টি-আর্মার বাহিনীও কৌশলগতভাবে এই ধোঁয়াকে ব্যবহার করে "ব্যাটল অব ফেজ লাইন বুলেট" যুদ্ধে সফলতা অর্জন করে। এটি তাদের জন্য অগ্রসরমান ব্র্যাডলি IFV বাহিনীর বিরুদ্ধে চমক সৃষ্টি করতে সাহায্য করে এবং "যুদ্ধের ধোঁয়াশা"আরও বাড়িয়ে দেয়।[২১] যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি, কারণ দমকল কর্মীদের সেখানে পাঠানো অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। তেলের কূপের চা।রপাশে স্থাপন করা হয়েছিল ভূমি মাইন, যা অপসারণ না করা পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা যায়নি। প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল (৭,৯০,০০০ ঘনমিটার) তেল নষ্ট হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে বেসরকারি ঠিকাদারি দল এই অগ্নিকাণ্ড নেভানোর দায়িত্ব নেয়, যার ফলে কুয়েতের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। .[২২] তবে, ততদিনে আগুন প্রায় দশ মাস ধরে জ্বলতে থাকে, যার ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।
পরবর্তীতে এই অগ্নিকাণ্ডকে গালফ যুদ্ধ সিন্ড্রোমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা যুদ্ধ শেষে অনেক সৈন্য ও অসামরিক কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। [২৩] এ রোগের মধ্যে অতিশয় ক্লান্তি, পেশির ব্যথা ও মানসিক দুর্বলতা অন্যতম লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কূপের আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তারা এই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হননি। পরবর্তীতে স্নায়ু বিকলকারী সারিন গ্যাস-কে এই রোগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।[২৪]
স্থলবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে, তেলের কূপের খুব কাছাকাছি থাকা সৈন্যরা মাঝে মাঝে "তেলের বৃষ্টি" অনুভব করলেও, সবচেয়ে বেশি যে প্রভাব লক্ষ করা যায় তা ছিল ঘন কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ, যা বায়ুমণ্ডলে উঠে ধীরে ধীরে নিচে পড়ত। এই ধোঁয়ার স্তম্ভগুলো উপরের দিকে উঠতে উঠতে একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে ধূসর মেঘের মতো স্তর তৈরি করত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তেলের হ্রদ থেকে উৎপন্ন ধোঁয়ার মাত্র ১০% ছিল ঘন কালো, যেখানে ২৫% ধোঁয়া ছিল সাদা থেকে ধূসর রঙের, আর বাকি ধোঁয়ার রঙ ছিল ধূসর থেকে কালোর মধ্যে পরিবর্তিত।
একজন গালফ যুদ্ধের প্রবীণ সৈনিক এ সম্পর্কে বলেছিলেন:.[২৫]
"সারাদিনই মনে হচ্ছিল আকাশ মেঘে ঢেকে আছে। আসলে, প্রথমে বুঝতেই পারিনি যে এটি ধোঁয়া। ধোঁয়ার স্তর আমাদের থেকে প্রায় ৫০০ ফুট ওপরে ছিল, তাই আকাশ দেখা যেত না। তবে সামনে দূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, কোনো অসুবিধা হচ্ছিল না। আমরা তখনই নিশ্চিত হলাম যে এটি ধোঁয়া, যখন দেখলাম আমাদের নাসারন্ধ্র থেকে বের হওয়া শ্লেষ্মা কালো রঙের হয়ে যাচ্ছে..."
২০০০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের বস্তুকণার (ধোঁয়া ও অন্যান্য কণা) সংস্পর্শে আসার মাত্রা বিশ্লেষণ করা হয়। তবে গবেষণাটি মূলত সিলিকা বালুর ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, যা সিলিকোসিস রোগের কারণ হতে পারে।
গবেষণাটিতে সৈন্যদের চিকিৎসা নথিও পর্যালোচনা করা হয় এবং উপসংহারে উল্লেখ করা হয়:[২৬] "গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গালফ যুদ্ধের সময় সিলিকা ছাড়া অন্যান্য ইনহেলড বস্তুকণার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল নগণ্য বা একেবারেই ছিল না।"
নেভানোর প্রচেষ্টা
[সম্পাদনা]জ্বলন্ত কূপগুলো দ্রুত নিভিয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি ছিল, কারণ যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কুয়েত বিপুল পরিমাণ তেল রাজস্ব হারাবে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ছিল যে এই আগুন নিজে থেকে নিভে যেতে দুই থেকে পাঁচ বছর লেগে যেতে পারে, যতক্ষণ না কূপগুলোর ভেতরের চাপ কমে আসে।[২৭]
অগ্নি নির্বাপণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রথমেই কাজ শুরু করে বেকটেল, রেড অ্যাডায়ার কোম্পানি (যা বর্তমানে গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানায়), বুটস অ্যান্ড কুটস, এবং ওয়াইল্ড ওয়েল কন্ট্রোল। পরবর্তীতে সেফটি বস দলে যোগ দেয় এবং অন্যান্য যে কোনো সংস্থার তুলনায় সবচেয়ে বেশি ১৮০টি কূপের আগুন নিভিয়ে দেয়। এছাড়াও কাড ওয়েল/প্রেশার কন্ট্রোল, নিল অ্যাডামস ফায়ারফাইটারস, ও কুয়েত ওয়াইল্ড ওয়েল কিলারস-সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই কাজে যুক্ত হয়।[২৮]
বুটস অ্যান্ড কুটস ইন্টারন্যাশনাল ওয়েল কন্ট্রোলের প্রকৌশলী ল্যারি এইচ. ফ্লাকের মতে, ১৯৯১ সালের কুয়েতের ৯০% আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছিল শুধুমাত্র সমুদ্রের পানি ব্যবহার করে,[২৯] যা অত্যন্ত শক্তিশালী পাইপের মাধ্যমে আগুনের গোড়ায় স্প্রে করা হতো। পানির উৎস ছিল পারস্য উপসাগর, যেখানে আগে তেল সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত পাইপলাইনকে উল্টো প্রবাহে চালিয়ে সমুদ্রের পানি কূপগুলোর কাছে পৌঁছানো হয়।[৩০] প্রথমদিকে আগুন নেভানোর গতি ছিল প্রতি ৭-১০ দিনে একটি কূপ, কিন্তু পরে মাইন অপসারণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে এটি প্রতি দিনে ২টি বা তার বেশি করা সম্ভব হয়।
সবচেয়ে জটিল অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে, উচ্চ গতিতে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর জন্য গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করা হয়, যা হাঙ্গেরীয় বিশেষজ্ঞরা মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনকে একটি টি-৩৪ ট্যাংকের ওপর বসিয়ে তৈরি করে (পরবর্তীতে এটি টি-৫৫ ট্যাংকে প্রতিস্থাপিত হয়)। এই প্রযুক্তি, যা "বিগ উইন্ড" নামে পরিচিত,[৩১][৩২][৩৩] ৪৩ দিনে ৯টি কূপের আগুন নিভিয়ে দেয়।
সরাসরি উল্লম্বভাবে জ্বলতে থাকা কূপের আগুন নেভাতে ডিনামাইটের মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে জ্বলন্ত তেল ও অক্সিজেন একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে আগুন নিভে যায় (যেভাবে বাতাস ফুঁ দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে ফেলা হয়)। সাধারণত ৫৫ গ্যালন ড্রামের ভেতরে বিস্ফোরক ভরা হতো, যা ফায়ার রিটার্ডেন্ট রাসায়নিক ও নিরোধক উপাদান দিয়ে মোড়ানো থাকত, এবং কপারের সাহায্যে এটি আগুনের সবচেয়ে কাছাকাছি স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো।
এই দুঃসাধ্য কাজের জন্য দমকল কর্মীরা তাদের অভিযানকে "অপারেশন ডেজার্ট হেল" নামে অভিহিত করে, যা "অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম"-এর নাম অনুসারে রাখা হয়।[৩৪]
পরিবেশগত প্রভাব
[সম্পাদনা]
ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পরপরই, দখলকৃত কুয়েতি তেল কূপগুলো ধ্বংস করার ফলে এক বিশাল পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, এই আগুনের ফলে "পারমাণবিক শীত" (nuclear winter)-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তীব্র অম্ল বৃষ্টি (acid rain) হতে পারে, এমনকি অল্প সময়ের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি (short-term global warming) ঘটতে পারে। ১৯৯০ সালের নভেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (World Climate Conference) এসব Immediately following নিয়ে আলোচনা করা হয়।[৩৫][৩৬]
১৯৯১ সালের ১০ জানুয়ারি, জার্নাল 'ন্যাচার'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানী পল Immediately following তার গণনার ভিত্তিতে জানান যে, তেল কূপের আগুনের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া উত্তর গোলার্ধের অর্ধেক অংশ ঢেকে ফেলবে, এবং পারমাণবিক শীতের মতো তীব্র ঠান্ডা পড়বে। তার মতে, ১০০ দিন পর এই [৩৭] ধোঁয়ার নিচে থাকা অঞ্চলের তাপমাত্রা ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
পরবর্তীতে ‘উইলমিংটন মর্নিং স্টার’ ও ‘বাল্টিমোর সান’ পত্রিকায় জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এ নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তখনকার বিখ্যাত বিজ্ঞান জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব কার্ল সাগান, যিনি পারমাণবিক শীত সম্পর্কিত প্রথম কয়েকটি গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ছিলেন (রিচার্ড পি. টারকো, জন ডব্লিউ বার্কস, অ্যালান রোবক ও পল ক্রুটজেনের সঙ্গে), তিনি বলেছিলেন, যদি ইরাকিরা ৩০০ থেকে ৫০০টি উচ্চচাপযুক্ত তেল কূপে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেগুলো কয়েক মাস ধরে জ্বলতে থাকে, তাহলে তা মহাদেশীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও জানান, এই ধোঁয়া উত্তর গোলার্ধজুড়ে "হিমশীতল" (sub-freezing) তাপমাত্রা সৃষ্টি করতে পারে।
অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম শুরু হওয়ার পর, বিজ্ঞানী এস. ফ্রেড সিঙ্গার ও কার্ল সাগান 'এবিসি নিউজ' চ্যানেলের নাইটলাইন অনুষ্ঠানে কুয়েতি তেল কূপের আগুনের সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। সাগান আবারও বলেন, এই ধোঁয়ার কিছু প্রভাব পারমাণবিক শীতের মতোই হতে পারে, কারণ এটি বাতাসের স্তর পেরিয়ে ‘স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে’ (stratosphere) পৌঁছাতে পারে, যা কুয়েতের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,০০০ মিটার[৩৮] উচ্চতায় শুরু হয়। ফলে, এই ধোঁয়ার বৈশ্বিক প্রভাব পড়তে পারে।
সাগান এটিও বলেন যে, এই পরিস্থিতি ১৮১৫ সালের ইন্দোনেশিয়ার তাম্বোরা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে তুলনীয়, যা "গ্রীষ্মবিহীন বছর" (Year Without a Summer) নামে পরিচিত ১৮১৬ সালের বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণ হয়েছিল। প্রাথমিক মডেলিংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার ওপর পড়তে পারে, এমনকি উত্তর গোলার্ধের বিশাল অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানী এস. ফ্রেড সিঙ্গার ধারণা করেছিলেন যে, তেলের ধোঁয়া ৯১০ মিটার (প্রায় ৩,০০০ ফুট) উচ্চতায় উঠবে এবং তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বৃষ্টির মাধ্যমে ধুয়ে যাবে, যার ফলে এই ধোঁয়ার স্থায়িত্ব খুব বেশি হবে না। অন্যদিকে, কার্ল সাগান পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, ধোঁয়া অনেক উঁচুতে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।বাস্তবে দেখা যায়, উভয়ের পূর্বাভাস ভুল ছিল, তবে সিঙ্গারের অনুমান তুলনামূলকভাবে সঠিক ছিল। ধোঁয়া মূলত আরব উপসাগর অঞ্চলে সীমিত ছিল, এবং বেশিরভাগ ধোঁয়া ১০,০০০ ফুট (প্রায় ৩,০০০ মিটার) উচ্চতায় উঠেছিল, কখনও কখনও তা ২০,০০০ ফুট (প্রায় ৬,১০০ মিটার) উচ্চতায় পৌঁছায়।.[৩৯][৪০]
১৯৯১ সালের ৭ মার্চ, 'নেচার' জার্নালে প্রকাশিত প্রাথমিক গবেষণার সমালোচনা করে বিজ্ঞানী রিচার্ড ডি. স্মল সিঙ্গারের[৪১] মতোই মত প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে কার্ল সাগান তার ‘The Demon-Haunted World’ বইয়ে স্বীকার করেন যে তার পূর্বাভাস ভুল ছিল। তিনি লেখেন: "দুপুরবেলায় চারদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল, এবং আরব উপসাগর অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গিয়েছিল, তবে খুব বেশি ধোঁয়া স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছেনি এবং এশিয়ার ওপর বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।"[৪২] তেলের আগুনের তাপ শোষণ ও ধোঁয়ার উচ্চতা আগুনের শিখা সূর্যের ৭৫-৮০% বিকিরণ শোষণ করেছিল। ধোঁয়ার কণাগুলো সর্বোচ্চ ২০,০০০ ফুট (৬,১০০ মিটার) পর্যন্ত উঠতে পেরেছিল, তবে বাতাসের আর্দ্রতার কারণে তা তুলনামূলক দ্রুত বৃষ্টির মাধ্যমে নিচে নেমে আসে।[৪৩] [৪৪] কার্ল সাগান ও তার সহকর্মীরা ধারণা করেছিলেন যে, "সেলফ-লোফটিং" (self-lofting) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধোঁয়া ক্রমাগত উপরের দিকে উঠবে এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে কয়েক বছর ধরে সূর্যের আলো ব্লক করবে, যার ফলে তীব্র ঠান্ডা পড়বে এবং কৃষিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তবে বাস্তবে, এটি ঘটেনি।
সাগান এবং তাঁর সহকর্মীরা ধারণা করেছিলেন যে, স্যুটি ধোঁয়া সূর্যের তাপ শোষণ করার পর উপরে উঠে যাবে। অর্থাৎ, স্যুটের কালো কণা সূর্য থেকে গরম হয়ে আকাশে আরো উপরে উঠবে, এবং সেই ধোঁয়া স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে চলে যাবে। সেখানে সেটা বাতাস থেকে ফেলার জন্য অনেক বছর লাগবে, এবং এর ফলে এশিয়া ও সম্ভবত উত্তর গোলার্ধের কৃষিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, এমনকি ভূমির তাপমাত্রাও কমে যাবে।[৪৫] পরে জানা যায় যে, কুয়েতের তেল আগুন শুধু ১৯৯১ সালের মধ্যে আরবীয় উপসাগর ও আশেপাশের অঞ্চলের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করেছিল, যখন আগুন জ্বলছিল। বায়ু ধোঁয়াটিকে আরবীয় উপদ্বীপের পূর্ব দিকে নিয়ে যায়, আর ধাহরান ও রিয়াদসহ কিছু শহরে ধোঁয়া ও স্যুটের বৃষ্টি হয়েছিল।[৪৬] এরপর, অগ্নিসংযোগের প্রভাব ছিল আঞ্চলিক বায়ু মানের অবস্থা খারাপ হওয়া, যা অনেক কুয়েতি এবং আশপাশের দেশের লোকদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করেছিল। পিটার হবস ও লরেন্স রাডকের ১৯৯২ সালের গবেষণায় বলা হয়েছিল, কুয়েতের তেল আগুন থেকে সালফার ডাইঅক্সাইডের নিঃসরণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক কোম্পানির মোট নিঃসরণের ৫৭%, কার্বন ডাইঅক্সাইড ছিল ২% এবং স্যুটের পরিমাণ ছিল ৩৪০০ মেট্রিক টন। ২০০০ সালের ডিটিআইসি আর্কাইভে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, কুয়েতের তেল আগুনে ৯৬% দক্ষতার সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়েছিল। তবে অসম্পূর্ণ দহন থেকে ধোঁয়া কণার পরিমাণ ছিল ২%, যার মধ্যে ০.৪% ছিল স্যুট। (বাকি ২% ছিল তেল যা সঠিকভাবে পুড়েনি)।
ধোঁয়া বিষয়ক তথ্যচিত্র
[সম্পাদনা]পিটার ভি. হবস একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য অপেশাদার তথ্যচিত্র কুয়েত অয়েল ফায়ারস-এর কথকও ছিলেন। এতে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের (UW) "ক্লাউড অ্যান্ড অ্যারোসল রিসার্চ গ্রুপ"-এর কাজ তুলে ধরা হয়, যেখানে তারা ধোঁয়ার মেঘের মধ্য দিয়ে, চারপাশে ও ওপরে উড়ে নমুনা সংগ্রহ, পরিমাপ এবং ভিডিও ধারণ করেছিল কনভেয়ার C-131[৪৭] বিমান ব্যবহার করে।[৪৮]
উপকূলরেখার ক্ষতি
[সম্পাদনা]
যদিও জ্বলন্ত তেলের উৎস থেকে বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলীয় স্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাবের পূর্বাভাস বাস্তবে ঘটেনি, ভূমিস্তরের দীর্ঘমেয়াদি তেল ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব আঞ্চলিকভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ছিল।[৪৯] আনুমানিক ৪৬টি তেলকূপ অনিয়ন্ত্রিতভাবে তেল নির্গত করেছিল, এবং সেগুলো বন্ধ করার প্রচেষ্টা শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০,০০০–৪,০০,০০০ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়ছিল। শেষ অনিয়ন্ত্রিত নির্গমনকারী কূপটি অক্টোবরের শেষ দিকে, ১৯৯১ সালে বন্ধ করা হয়। কুয়েতের তেলমন্ত্রী অনুমান করেছিলেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো থেকে ২৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে প্রায় ৩০০টি তেলের হ্রদ তৈরি করেছিল, যা আনুমানিক ৪ কোটি টন বালি ও মাটি দূষিত করেছিল। মরুভূমির বালি, অপরিশোধিত তেল ও জ্বলন্ত কূপ থেকে উৎপন্ন কালি একত্রে কঠিন স্তরের "টারক্রিট" গঠন করেছিল, যা কুয়েতের মোট ভূমির প্রায় পাঁচ শতাংশ এলাকা ঢেকে দেয়।[৫০][৫১][৫২]
পরিষ্কারকাজ পরিচালনা করেছিল কুয়েত ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ এবং আরব অয়েল কোম্পানি, যারা তেলের হ্রদ পরিষ্কারের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছিল, যার মধ্যে পেট্রোলিয়াম-ডিগ্রেডিং ব্যাকটেরিয়া ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তেল হ্রদসংলগ্ন দূষিত এলাকার অধিকাংশ উদ্ভিদ ১৯৯৫ সালের মধ্যে পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে, তবে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে কিছু হ্রদ আংশিকভাবে শক্ত হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তেল বালির গভীরে প্রবেশ করতে থাকে, যা কুয়েতের ছোট ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করে।[৫৩] স্থলভিত্তিক কুয়েতি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি লেকভিউ গাশার-এর রেকর্ডকে অতিক্রম করেছিল, যেখানে ১৯১০ সালে ৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়েছিল, যা ইতিহাসে বৃহত্তম তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ৬০ থেকে ৮০ লাখ ব্যারেল তেল সরাসরি আরব উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে গালফ ওয়ার অয়েল স্পিল নামে পরিচিত হয়।
প্রামাণ্যচিত্র
[সম্পাদনা]এই আগুনগুলিই ১৯৯২ সালের একটি IMAX তথ্যচিত্র Fires of Kuwait,-এর বিষয় ছিল, যা অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। চলচ্চিত্রে হাঙ্গেরীয় দল তাদের জেট টারবাইন এক্সটিঙ্গুইশার ব্যবহার করার দৃশ্য রয়েছে।
Lessons of Darkness একটি ১৯৯২ সালের চলচ্চিত্র, যা পরিচালক ভার্নার হর্জোগের তৈরি, এবং এটি উপসাগরীয় যুদ্ধোত্তর কুয়েতের তেলক্ষেত্রগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিয়ে অনুসন্ধান করে।
বেচটেল কর্পোরেশন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র Kuwait: Bringing Back the Sun'প্রযোজনা করেছিল, যা অগ্নি নির্বাপনের প্রচেষ্টাগুলোকে সারসংক্ষেপ করে এবং আল-আওদা (আরবিতে "দ্য রিটার্ন") প্রকল্পের ওপর মনোযোগ দেয়।[৫৪]
তুলনাযোগ্য ঘটনা
[সম্পাদনা]২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের সময়, ইরাকি বাহিনী পারস্য উপসাগরের মধ্যে প্রায় ৪০টি তেলকূপে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা আক্রমণ রোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।[৫৪] ১৯৯১ সালে কুয়েতের তেল কূপগুলোর ৪১টি আগুন নির্বাপনের সফল প্রচেষ্টার পর, কুয়েত ওয়াইল্ড ওয়েল কিলারস তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ২০০৩ সালে ইরাকের রুমেইলা তেলক্ষেত্রে আগুন নেভানোর কাজে লাগান।
- ২০০৩ সালে ইরাকের রুমেইলা তেলক্ষেত্রে এক তেল কূপে আগুন নেভানোর জন্য অগ্নিনির্বাপকরা লড়াই করছেন।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Against the Fires of Hell: The Environmental Disaster of the Gulf War. Hawley, T. M., Harcourt Brace Jovanovich, New York, 1992. [আইএসবিএন অনুপস্থিত]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Fighting the Oil Well Fires ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৫-০২-২০ তারিখে
- Oil fire photographs taken by a Kuwaiti journalist in 1991 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৭-০৩-২০ তারিখে
- "The Kuwaiti Oil Fires (Environmental Disasters)" Facts on File, Inc., April 2005, আইএসবিএন ০৮১৬০৫৭৫৮৩, Author: Kristine Hirschmann
রেফারেন্স
[সম্পাদনা]- 1 2 "IV. Air Pollutants From Oil Fires and other Sources"। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৪।
- ↑ "Tab J – Plume Configurations"। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৪।
- ↑ Persian Gulf War". Britannica. 9 January 2022. Archived from the original on 2 June 2015. Retrieved 2 March 2022.
- ↑ "III. Chronology of Events, A. Discussion"। ২০ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৪।
- ↑ Thomas C. Hayes, Confrontation in the Gulf; The Oilfield Lying Below the Iraq-Kuwait Dispute Archived 2019-07-30 at the Wayback Machine, The New York Times, September 3, 1990
- ↑ Murdico, Suzanne (2004). The Gulf War : War and Conflict in the Middle East. The Rosen Publishing Group. pp. 13, 68. ISBN 978-0823945511.
- ↑ Thomas C. Hayes (September 3, 1990). "Confrontation in the Gulf; The Oilfield Lying Below the Iraq-Kuwait Dispute". The New York Times. Archived from the original on July 30, 2019. Retrieved February 10, 2017.
- ↑ The Economic and Environmental Impact of the Gulf War on Kuwait and the Arabian Gulf". The Trade & Environment Database. American University. December 1, 2000. Archived from the original on August 2, 2015. Retrieved February 14, 2007.
- ↑ "Burning oil wells could be disaster, Sagan says". January 23, 1991. p. 1 of 2. Archived from the original on 2014-10-06. Retrieved 2014-06-07.
- ↑ III. Chronology of Events; A. Discussion". Archived from the original on 2017-05-20. Retrieved 2014-06-06.
- ↑ "Timeline: 20 years of major oil spills". Australian Broadcasting Corporation. May 4, 2010. Archived from the original on February 4, 2011. Retrieved May 25, 2010.
- ↑ United States Department of Defense Environmental Exposure Report: Oil Well Fires (updated August 2, 2000)
- ↑ United States Environmental Protection Agency (1991). "Report to Congress: United States Gulf Environmental Technical Assistance" Archived 2016-04-24 at the Wayback Machine, pp. 14, A-1.
- ↑ "Figure 28. Kuwait oil well capping, extinguishing, and oil flow chronology". Archived from the original on 2017-11-03. Retrieved 2014-06-06.
- ↑ Wellman, Robert Campbell (February 14, 1999). "Iraq and Kuwait: 1972, 1990, 1991, 1997." Earthshots: Satellite Images of Environmental Change". U.S. Geological Survey. Archived from the original on April 29, 2012. Retrieved July 27, 2010.
- ↑ CNN.com, Kuwait still recovering from Gulf War fires, January 3, 2003.
- ↑ The Energy Library (web site), "Gulf War oil well fires and oil spills," www.theenergylibrary.com Archived 2014-07-14 at the Wayback Machine
- ↑ "SHORT-TERM ENERGY OUTLOOK". EIA. 3 Aug 2023. Archived from the original on 11 Aug 2023. Retrieved 11 Aug 2023.
- ↑ Branigin, William (1991-03-14). "KUWAIT'S ENVIRONMENTAL, ECONOMIC NIGHTMARE". Washington Post. ISSN 0190-8286. Retrieved 2022-03-15.
- ↑ Schmitt, Eric (March 22, 1991). "After the War" Archived 2017-10-20 at the Wayback Machine. The New York Times.
- ↑ Atkinson, Rick (1993). Crusade, The untold story of the Persian Gulf War. Houghton Mifflin Company. p. 430. ISBN 0-395-71083-9.
- ↑ Husain, T. (1995). Kuwaiti Oil Fires: Regional Environmental Perspectives. Oxford: BPC Wheatons Ltd. p. 68.
- ↑ Presidential Advisory Committee on Gulf War Veterans' Illnesses: Final Report Archived 2017-05-05 at the Wayback Machine, December 1996
- ↑ UTSW genetic study confirms sarin nerve gas as cause of Gulf War illness, May 11, 2022
- ↑ "Possible Health effects of Oil fires". Archived from the original on 2017-02-19. Retrieved 2014-06-06.
- ↑ "Particulate Exposure During The Arabian Gulf War B. R Thomas 2000. PDF". Archived from the original on September 24, 2015. Retrieved October 5, 2016.
- ↑ "Betchel Corporation Kuwait: Bringing Back the Sun". YouTube. 26 September 2008. Archived from the original on 2021-04-10. Retrieved 2014-10-10.
- ↑ "See how the Kuwait Oil Fields were Restored". Bechtel Corporate. Archived from the original on 2021-06-08. Retrieved 2017-07-19.
- ↑ "Iraq Fires erupt in large Iraqi oil field in south Compiled from Times wires © St. Petersburg Times published March 21, 2003". Archived from the original on July 15, 2014. Retrieved June 12, 2014.
- ↑ "Betchel corporation Kuwait: Bringing Back the Sun, animation sequence". YouTube. 26 September 2008. Archived from the original on 2021-04-10. Retrieved 2014-10-10.
- ↑ "Tab C – Fighting the Oil Well Fires". Archived from the original on 2015-02-20. Retrieved 2008-02-02.
- ↑ Zoltan Scrivener (June 2001). "Stilling The Fires of War, A Hungarian company lashes two MiG engines to a Soviet tank and proceeds to huff and puff and blow out the worst sort of raging oil-well fire". p. 2. Archived from the original on 2014-07-14. Retrieved 2014-06-12.
- ↑ Husain, T., Kuwaiti Oil Fires: Regional Environmental Perspectives, Oxford, UK: BPC Wheatons Ltd, 1995, p. 51.
- ↑ "Archived copy" (PDF). Archived from the original (PDF) on 2014-07-14. Retrieved 2014-06-10.।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য);|url=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য): CS1 maint: archived copy as title (link) - ↑ Kuwaiti Oil Fires – Modeling Revisited[permanent dead link]
- ↑ Evans, David (January 21, 1991). "Burning oil wells could darken U.S. skies". Wilmington Morning Star. Retrieved December 22, 2019.[permanent dead link]
- ↑ Aldhous, Peter (January 10, 1991), "Oil-well climate catastrophe", Nature, 349 (6305): 96, Bibcode:1991Natur.349...96A, doi:10.1038/349096a0, The fears expressed last week centred around the cloud of soot that would result if Kuwait's oil wells were set alight by Iraqi forces ... with effects similar to those of the "nuclear winter" ... Paul Crutzen, from the Max Planck Institute for Chemistry in Mainz, has produced some rough calculations which predict a cloud of soot covering half of the Northern Hemisphere within 100 days. Crutzen ... estimates that temperatures beneath such a cloud could be reduced by 5–10 degrees C
- ↑ ftp://ftp.atmos.washington.edu/debbie/UAE-Award/Enc11-Reprints-Hobbs-etal-Cloud-Active-Nuclei/05-HobbsRadke-1992-Science-v256-987.pdf%5B%5D[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Hirschmann, Kris. "The Kuwaiti Oil Fires". Facts on File. Archived from the original on 2014-01-02. Retrieved 2017-09-10.
- ↑ "First Israeli Scud Fatalities Oil Fires in Kuwait". Nightline. January 22, 1991. ABC.
- ↑ Small, Richard D. (March 7, 1991), "Environmental impact of fires in Kuwait", Nature, 350 (6313), Pacific-Sierra Research Corporation: 11–12, Bibcode:1991Natur.350...11S, doi:10.1038/350011a0, PMID 2017261, S2CID 4261036, 16,000 metric tons of actual soot is produced from 220,000 metric tons of oil burned every day. 'My estimates of the smoke produced by destruction of Kuwait's oil wells and refineries and the smoke stabilization altitude do not support any of the purported impacts. The smoke is not injected high enough to spread over large areas of the Northern Hemisphere nor is enough produced to cause a measurable temperature change or failure of the monsoons.
- ↑ Sagan, Carl (1996). The demon-haunted world: science as a candle in the dark. New York: Random House. p. 257. ISBN 978-0-394-53512-8.
- ↑ Airborne Studies of the Smoke from the Kuwait Oil Fires Hobbs, Peter V; Radke, Lawrence F Science; May 15, 1992; 256,5059[permanent dead link]
- ↑ Hobbs, Peter V.; Radke, Lawrence F. (May 15, 1992). "Airborne Studies of the Smoke from the Kuwait Oil Fires". Science. 256 (5059): 987–91. Bibcode:1992Sci...256..987H. doi:10.1126/science.256.5059.987. PMID 17795001. S2CID 43394877. Archived from the original on July 28, 2020. Retrieved September 16, 2019.
- ↑ "Burning oil wells could be disaster, Sagan says January 23, 1991". p. 2 of 2. Archived from the original on 2014-10-06. Retrieved 2014-06-07.
- ↑ Patrick K. Dowling. "The Meteorological Effects of the Kuwait Oil Fires" (PDF). Archived (PDF) from the original on 2013-10-05. Retrieved 2007-11-15.
- ↑ "Photo Search Results". Retrieved March 24, 2015.
- ↑ Kuwait Oil Fires. January 23, 2012. Archived from the original on 2021-12-11. Retrieved March 24, 2015 – via YouTube.
- ↑ Khordagui, Hosny (1993). "Environmental impact of the Gulf War: An integrated preliminary assessment". Environmental Management. 17 (4): 557–562. Bibcode:1993EnMan..17..557K. doi:10.1007/bf02394670. S2CID 153413376.
- ↑ National Aeronautics and Space Administration, Goddard Space Flight Center News, 1991 Kuwait Oil Fires Archived 2015-07-18 at the Wayback Machine, March 21, 2003.
- ↑ United States Geological Survey, Campbell, Robert Wellman, ed. 1999. Iraq and Kuwait: 1972, 1990, 1991, 1997. Earthshots: Satellite Images of Environmental Change. U.S. Geological Survey. http://earthshots.usgs.gov Archived April 29, 2012, at the Wayback Machine, revised February 14, 1999.
- ↑ United Nations, Updated Scientific Report on the Environmental Effects of the Conflict between Iraq and Kuwait Archived 2010-07-28 at the Wayback Machine, March 8, 1993.
- ↑ Heather MacLeod McClain (2001). "Environmental impact: Oil fires and spills leave hazardous legacy". CNN. Archived from the original on December 22, 2006. Retrieved February 3, 2007.
- 1 2 "Kuwait Oil Company". Archived from the original on 2015-05-19. Retrieved 2015-05-16.