কুফিক লিপি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
৮ম বা ৯ম শতাব্দীতে কুফিক লিপিতে লিখিত কুরআনের পান্ডুলিপি, (সুরা ৪৮:২৭-২৮) ।

কুফিক লিপি হল আরবি হরফের প্রাচীন ক্যালিগ্রাফিক রূপ। প্রাচীন নাবাতীয় বর্ণমালার পুনর্বিন্যাসে এই লিপির উদ্ভব হয়েছে। ৭ম শতাব্দীর শেষদিকে ইরাকের কুফায় এই লিপির উদ্ভব হয় ও পরে অন্যান্য স্থানে তা ছড়িয়ে পড়ে।[১] ১১শ শতাব্দী নাগাদ এটি কুরআনে ব্যবহৃত প্রধান লিপি ছিল।[১]

ব্যবহার[সম্পাদনা]

কুরআনের পান্ডুলিপিতে কুফিক লিপির ব্যবহার।

৮ম থেকে ১০শ শতাব্দী পর্যন্ত পান্ডুপিপিতে কুফিক লিপির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হত। সেলজুক মুদ্রা ও সৌধ এবং প্রথমদিককার উসমানীয় মুদ্রায় এই লিপি দেখতে পাওয়া যায়। এর আলঙ্করিক বৈশিষ্ট্য থাকায় তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার আগে জনসাধারণের জন্য নির্মিত দালান ও বসতবাড়িতে অলংকরণের জন্য কুফিক লিপিতে কারুকাজ করা হত।

ইরাকের বর্তমান পতাকায় কুফিক লিপিতে আল্লাহু আকবর লেখা রয়েছে।

বর্গাকার ও জ্যামিতিক কুফিক[সম্পাদনা]

দেয়ালে ব্যবহারের জন্য বর্গাকার ও জ্যামিতিক কুফিক লিপি ব্যবহার হয়। ইরানের বান্নাই নামে পরিচিত পদ্ধতিতে কখনো সম্পূর্ণ দালান আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা) ও আলি ইবনে আবি তালিবের নাম লিখিত টাইলসে আচ্ছাদিত করা হয়।[২]

পাশ্চাত্যে প্রভাব[সম্পাদনা]

সিউডো-কুফিক বা কুফিস্ক হল কুফিক লিপির অনুকরণে গড়ে উঠা লিপিশিল্প। রেনেসা বা মধ্য যুগে এই রীতি গড়ে উঠেঃ “ইউরোপীয় শিল্পে আরবির অনুকরণকে প্রায় সিউডো-কুফিক বলে বর্ণনা করা হয়, এর উদ্ভব হয়েছে আরবি লিপি থেকে যাতে সোজা ও কৌণিক টানের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়, এবং তা ইসলামি স্থাপত্যের অলংকরণে প্রায়শ ব্যবহার হয়"।[৩]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Arabic scripts"। British Museum। সংগৃহীত ১৩ মার্চ ২০১৩ 
  2. Jonathan M. Bloom; Sheila Blair (২০০৯)। The Grove encyclopedia of Islamic art and architecture। Oxford University Press। পৃ: 101, 131, 246। আইএসবিএন 978-0-19-530991-1। সংগৃহীত ৪ জানুয়ারি ২০১২ 
  3. Mack, p.51

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]