কুতুব শাহি রাজবংশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গোলকুন্ডা সালতানাত
কুতুব শাহি রাজবংশ
سلطنت قطب شاهی
కుతుబ్ షాహి రాజవంశము

 

১৫১২–১৬৮৭


গোলকুন্ডা সালতানাতের পতাকা

গোলকুন্ডা সালতানাতের বিস্তার
রাজধানী গোলকুন্ডা / হায়দ্রাবাদ
ভাষাসমূহ ফার্সি (সরকারি)[১]
তেলেগু[২]
দক্ষিণী
উর্দু
ধর্ম ইসলাম (শিয়া)
সরকার রাজতন্ত্র
ইতিহাস
 -  সংস্থাপিত ১৫১২
 -  ভাঙ্গিয়া দেত্তয়া হয়েছে ১৬৮৭
মুদ্রা মোহর
সতর্কীকরণ: "মহাদেশের" জন্য উল্লিখিত মান সম্মত নয়

কুতুব শাহি রাজবংশ (উর্দু: سلطنت قطب شاهی; তেলেগু: కుతుబ్ షాహి రాజవంశము) ছিল ভারতের একটি তুর্কমেন বংশোদ্ভূত শিয়া মুসলিম রাজবংশ।[৩][৪] এই রাজবংশ তুর্কমেনিস্তানের কারা কোয়ুনলু রাজবংশের সাথে সম্পর্কিত ধরা হয়। রাজবংশের সদস্যর কুতুব শাহি নামে পরিচিত ছিলেন। বর্তমান ভারতের অন্তর্গত তৎকালীন গোলকুন্ডা সালতানাত তারা শাসন করেছেন।[৫] আদিল শাহি এবং নিজাম শাহিদের সাথে গোলকুন্ডা সালতানাতের সংঘর্ষ বিরতিহীনভাবে চলছিল।[৬] ১৬৩৬ সালে সম্রাট শাহজাহান কুতুব শাহিদেরকে মুঘলদের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে বাধ্য করেন।[৬] ১৬৮৭ সাল পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় ছিল। এরপর সম্রাট আওরঙ্গজেব গোলকুন্ডা সালতানাত জয় করেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

গোলকুন্ডা চিত্রকর্ম - ফিঞ্চ, ফড়িং ও মৌমাছি; ভারত (দক্ষিণাত্য, গোলকুন্ডা), ১৬৫০-১৬৭০ জলরং।
সুলতান মুহাম্মদ কুতুব শাহর সমাধি, হায়দ্রাবাদ।

১৬শ শতাব্দীতে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান কুলি কুতুব-উল-মুলক তার চাচা আল্লাহ-কুলি, কিছু আত্মীয় ও বন্ধুর সাথে দিল্লি আসেন। এরপর তিনি দক্ষিণে চলে যান এবং বাহমানি সুলতান মুহাম্মদ শাহর অধীনে চাকরি নেন।[৭] বাহমানি রাজ্য দক্ষিণাত্যের পাঁচটি সালতানাতে বিভক্ত হওয়ার পর তিনি গোলকুন্ডা জয় করেন।[৭] শীঘ্রই তিনি বাহমানিদের কাছ থেকে নিজের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি কুতুব শাহ উপাধি ধারণ করেন এবং গোলকুন্ডার কুতুব শাহি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫৪৩ সালে তার নিজের পুত্র জামশেদ কুলি কুতুব শাহ তাকে হত্যা করে সুলতান হন।[৭] পরে ১৫৫০ সালে জামশেদ ক্যান্সারে মারা যান।[৮] জামশেদের তরুণ পুত্র এক বছর শাসন করেছেন। এরপর অভিজাতরা ইবরাহিম কুলিকে সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় বসায়।[৮] মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহর শাসনামলে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত ছিল। অনেক হিন্দু রাষ্ট্রীয় উচ্চপদ লাভ করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মন্ত্রী মদন্ন ও আক্কান্ন।

গোলকুন্ডা ও পরবর্তীকালে হায়দ্রাবাদ সালতানাতের রাজধানী ছিল।[৭] এই দুইটি শহর কুতুব শাহি সুলতানরা শোভিত করেছেন। এই রাজবংশ ১৭১ বছর গোলকুন্ডা শাসন করেছে। এরপর মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৮৭ সালে সালতানাত জয় করেন।[৯]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

কুতুব শাহি সুলতানরা স্থাপত্য এবং শিক্ষার অনুরাগী ছিলেন।[১০] দরবারে ফার্সি সংস্কৃতি ও সাহিত্যের কদর করা হত।[৬] সুলতান মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ দক্ষিণী উর্দু, ফার্সি ও তেলেগু ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন। তিনি বিপুল কাব্যের সংগ্রহ রেখে গেছেন।[১০] পরবর্তী কবি ও লেখকরা ফার্সি, হিন্দি ও তেলেগু শব্দ ব্যবহার করে উর্দুতে রচনাকর্ম সম্পাদন করেছেন।[১০] ১৫৩৫ সাল নাগাদ কুতুব শাহি সুলতানরা রাজস্ব ও বিচারিক ক্ষেত্রে তেলেগু ভাষার ব্যবহার শুরু করেন।[১১]

প্রাথমিক পর্যায়ে কুতুব শাহি সুলতানরা ফার্সি সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করলেও পরবর্তীকালে দক্ষিণাত্যের স্থানীয় সংস্কৃতিকে গ্রহণ করেন। তেলেগু ভাষা এবং উর্দুর নবগঠিত দক্ষিণী শৈলী প্রধান হয়ে উঠে। কুতুব শাহি সুলতানদের মাতৃভাষা তেলেগু না হওয়া সত্ত্বেও তারা তেলেগু ভাষায় কথা বলতে ও লিখতে পারতেন।[১০] তেলেগুর পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তারা তেলেগু সুলতান নামে আখ্যায়িত হয়েছিলেন।[১২]

কুতুব শাহি স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগতভাবে ছিল ইন্দো-ফার্সি। এতে হিন্দু, মুরিশ, মুঘল ও ফার্সি স্থাপত্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে।[১৩] গোলকুন্ডার কিছু ইন্দো-ফার্সি স্থাপত্যের উদাহরণ হল গোলকুন্ডা দুর্গ, কুতুব শাহি সমাধি, চারমিনার, চার কামান, মক্কা মসজিদতুলি মসজিদ[১৩]

ধর্ম[সম্পাদনা]

কুতুব শাহি সুলতানরা শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন। জুমার খুতবায় বারো জন শিয়া ইমাম এবং সাফাভিদের নাম উল্লেখ করা হত।[১৪] তবে ১৬৩৬ সালে শাহজাহান আধিপত্য স্থাপনের পর এই প্রথা বন্ধ হয়ে যায়।[১৪] শিয়া হলেও রাজ্যে সুন্নি ও হিন্দুদের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানো হত।[১৪]

সুলতানগণ[সম্পাদনা]

কুতুব শাহি বংশে আটজন সুলতান শাসন করেছেন:

  1. সুলতান কুলি কুতুব-উল-মুলক (১৫১৮-১৫৪৩)
  2. জামশেদ কুলি কুতুব শাহ (১৫৪৩-১৫৫০)
  3. সুবহান কুলি কুতুব শাহ (১৫৫০)
  4. ইবরাহিম কুলি কুতুব শাহ (১৫৫০-১৫৮০)
  5. মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ (১৫৮০-১৬১২)
  6. সুলতান মুহাম্মদ কুতুব শাহ (১৬১২-১৬৭২)
  7. আবদুল্লাহ কুতুব শাহ (১৬২৬-১৬৭২)
  8. আবুল হাসান কুতুব শাহ (১৬৭২-১৬৮৯)

সমাধি[সম্পাদনা]

কুতুব শাহি সুলতানদের সমাধি গোলকুন্ডা থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এসকল স্থাপনাকে খোদাই করা পাথর দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে এবং তা বাগান দ্বারা ঘেরা।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Brian Spooner and William L. Hanaway, Literacy in the Persianate World: Writing and the Social Order, (University of Pennsylvania Press, 2012), 317.
  2. Alam, Muzaffar (১৯৯৮)। "The pursuit of Persian: Language in Mughal Politics"। Modern Asian Studies। Cambridge University Press। 32 (2): 317–349। doi:10.1017/s0026749x98002947Ibrahim Qutb Shah encouraged the growth of Telugu and his successor Muhammad Quli Qutb Shah patronized and himself wrote poetry in Telugu and in Dakhni. Abdullah Qutb Shah instituted a special office to prepare the royal edicts in Telugu (dabiri-ye faramin-i Hindavi). While administrative and revenue papers at local levels in the Qutb Shahi Sultanate were prepared largely in Telugu, the royal edicts were often bilingual.'06 The last Qutb Shahi Sultan, Abul Hasan Tana Shah, sometimes issued his orders only in Telugu, with a Persian summary given on the back of the farmans. 
  3. Christoph Marcinkowski, Shi'ite Identities: Community and Culture in Changing Social Contexts, (LIT Verlag GmbH & Co., 2010), 169.
  4. Annemarie Schimmel, Classical Urdu Literature from the Beginning to Iqbāl, (Otto Harrasowitz, 1975), 143.
  5. Sen, Sailendra (২০১৩)। A Textbook of Medieval Indian History। Primus Books। পৃষ্ঠা 118। আইএসবিএন 978-9-38060-734-4 
  6. C.E. Bosworth, The New Islamic Dynasties, (Columbia University Press, 1996), 328.
  7. George Michell, Mark Zebrowski, Architecture and Art of the Deccan Sultanates, (Cambridge University Press, 1999), 17.
  8. Masʻūd Ḥusain K̲h̲ān̲, Mohammad Quli Qutb Shah, Volume 216, (Sahitya Akademi, 1996), 2.
  9. Satish Chandra, Medieval India: From Sultanat to the Mughals, Part II, (Har-Anand, 2009), 331.
  10. Satish Chandra, Medieval India: From Sultanat to the Mughals, Part II, (Har-Anand, 2009), 210.
  11. A Social and Historical Introduction to the Deccan, 1323-1687, Richard M. Eaton, Sultans of the South: Arts of India's Deccan Courts, 1323-1687, ed. Navina Najat Haidar, Marika Sardar, (Metropolitan Museum of Art 2011), 8.
  12. Richard M. Eaton, A Social History of the Deccan, 1300-1761: Eight Indian Lives, Vol. 1, (Cambridge University Press, 2005), 142-143.
  13. Salma Ahmed Farooqui, A Comprehensive History of Medieval India: From Twelfth to the Mid-Eighteenth Century, (Dorling Kindersley Pvt. Ltd, 2011), 181.
  14. Salma Ahmed Farooqui, A Comprehensive History of Medieval India: From Twelfth to the Mid-Eighteenth Century, (Dorling Kindersley Pvt. Ltd, 2011), 180.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

Chopra, R. M., The Rise, Growth And Decline of Indo-Persian Literature, 2012, Iran Culture House, New Delhi.

  • Jawed Vashisht, Ghizal-e Raana (A selection of Quli Qutab Shah's ghazals)
  • Jawed Vashisht, Roop Ras (Romantic poems of Quli Qutab Shah)
  • Jawed Vashisht, Mohammed Quli aur Nabi ka Sadka
  • Jawed Vashisht, Dakhni Darpan

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]