কিলিচ আলি পাশা কমপ্লেক্স
| কিলিচ আলী পাশা মসজিদ | |
|---|---|
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | সুন্নি ইসলাম |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | ইস্তানবুল, তুরস্ক |
| স্থানাঙ্ক | ৪১°০১′৩৫″ উত্তর ২৮°৫৮′৫১″ পূর্ব / ৪১.০২৬৩৭৩° উত্তর ২৮.৯৮০৯২৮° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| স্থপতি | মিমার সিনান |
| ধরন | মসজিদ |
| স্থাপত্য শৈলী | অটোমান স্থাপত্য |
| ভূমি খনন | ১৫৭৮ |
| সম্পূর্ণ হয় | ১৫৮০ |
| বিনির্দেশ | |
| গম্বুজের ব্যাস (বাহিরে) | ১২.৭ মিটার (৪২ ফুট) |
| মিনার | ১ |
কিলিচ আলী পাশা মসজিদ (তুর্কি: Kılıç Ali Paşa Cami) একটি ঐতিহাসিক মসজিদ যা ১৫৮০ থেকে ১৫৮৭ সালের মধ্যে মিমার সিনান কর্তৃক নকশাকৃত ও নির্মিত হয়। মসজিদ নির্মাণের সময় তার বয়স নব্বইয়ের কোঠায় ছিল। মসজিদটি ১৫৭৮-১৫৮০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়।
এই কমপ্লেক্সটি ইস্তানবুলের বেয়োগলু জেলার তোফানে এলাকায় অবস্থিত। এটি কাপুদান-ই দেরিয়া (অটোমান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল) কিলিচ আলী পাশার জন্য নির্মিত হয়েছিল। তাকে সমুদ্রের পাশে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কারণ তিনি ছিলেন একজন নৌ সেনাপতি।[১][২][৩]
এই কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা, একটি হামাম, একটি সমাধি এবং একটি ফোয়ারা।
মূলত, কিলিচ আলী পাশা মসজিদটি বসফরাস প্রণালীর ঠিক পাশে ছিল, তবে পরবর্তী সময়ে জলভূমি ভরাটের কারণে এটি অন্যান্য ভবন দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে যায়। বর্তমানে এটি গালাতাপোর্ট ক্রুজ টার্মিনালের সামনে অবস্থিত।
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]
মসজিদ
[সম্পাদনা]মসজিদের প্রধান গম্বুজের ব্যাস ১২.৭০ মিটার (৪১.৭ ফুট), যা গ্রানাইটের স্তম্ভের উপর স্থাপিত পেনডেন্টিভ দ্বারা সংযুক্ত এবং কিবলা অক্ষে দুটি অর্ধ-গম্বুজ দ্বারা সমর্থিত। প্রবেশপথের দুই পাশে দুটি তলাবিশিষ্ট বারান্দা রয়েছে। মসজিদের নকশাটি একটি বাইজেন্টাইন বেসিলিকার মতো দেখতে, যা হায়া সোফিয়ার সাথে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ।[১]
মসজিদের উপরে পাঁচটি ছোট গম্বুজ রয়েছে, যা ছয়টি মার্বেল স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইজনিক টাইলসের উচ্চ মানসম্পন্ন প্যানেলসমূহ নামাজের মূল হলের উপরিভাগে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে কুরআন থেকে আয়াত খোদাই করা রয়েছে। মসজিদে মাত্র একটি মিনার রয়েছে, যার একটিই ব্যালকনি আছে। তবে পুরো মসজিদে মোট ২৪৭টি জানালা রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান গম্বুজেই ২৪টি জানালা আছে। একটি বর্গাকৃতির বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে মিহরাব অবস্থিত।
১৬শ শতকের একটি নৌবাহিনীর প্রদীপ প্রধান গম্বুজ থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে এটি সরিয়ে নেয়া হয় যা পরবর্তীতে ইস্তানবুল নৌ জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়।[২]
দুটি ক্রোনোগ্রাম (সংখ্যানুযায়ী কাব্যিক শিলালিপি) অনুযায়ী মসজিদটির নির্মাণ তারিখ হিজরি ৯৮৮ (১৫৮০ জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি)।
দুটি শিলালিপির মধ্যে একটিতে (যা কমপ্লেক্সের বাহ্যিক প্রবেশপথে অবস্থিত) উসমানীয় তুর্কি ভাষায় লেখা চার-পঙক্তির একটি কবিতা রয়েছে, যা জালি থুলুথ ক্যালিগ্রাফি শৈলীতে খোদাই করা হয়েছে। কবিতাটি লিখেছিলেন কবি উলভী এবং ক্যালিগ্রাফি করেছিলেন দেমিরচিকুলু ইউসুফ। কবিতাটি হলো:
Mîr-i bahr â’nî Kılıç Paşa Kapudan-ı zemân
Yaptı çün bu camii ola yeri Darüsselâm
Hâtif-i kudsî görüp Ulvî dedi tarihini
Ehl-i imâna ibâdetgâh olsun bu makam
এই কবিতার শেষ লাইন - 'এটি যেন বিশ্বাসীদের জন্য উপাসনালয় হয়' - এর প্রতিটি অক্ষরের যোগফল হিজরি ৯৮৮-এর সমান।
প্রাঙ্গণ
[সম্পাদনা]মসজিদের প্রাঙ্গণে নামাজের পূর্বে অজুর জন্য একটি মার্বেল ফোয়ারা রয়েছে, যা আটটি স্তম্ভ দ্বারা সমর্থিত এবং একটি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। বাইরের বারান্দার ছাদ ঢালু এবং এটি বারোটি স্তম্ভ দ্বারা সমর্থিত। এর কেন্দ্রে একটি মার্বেল প্রবেশদ্বার রয়েছে, যা মসজিদে প্রবেশের পথ।[৩]
মসজিদের পাশে কবরস্থানে কিলিচ আলী পাশার অষ্টভুজাকৃতির তুরবে (সমাধি) রয়েছে, যার উপর মিমার সিনান কর্তৃক নকশাকৃত একটি গম্বুজ রয়েছে। এর কাঠের দরজাগুলো মুক্তা দ্বারা খোদাই করা হয়েছে।
মাদ্রাসা
[সম্পাদনা]
মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত মাদ্রাসাটি প্রায় বর্গাকৃতির নকশায় নির্মিত। এটি মিমার সিনান ডিজাইন করেছেন কিনা তা নিশ্চিত নয়, কারণ এটি তার আনুষ্ঠানিক কাজের তালিকা তাজকিরাত-আল-আবনিয়া-তে অন্তর্ভুক্ত নয়।[৩]
হামাম
[সম্পাদনা]মসজিদের ডান পাশে অবস্থিত হাম্মামটি ১৫৮৩ সালে সম্পন্ন হয়।[২]
হামামের কাঁচের দরজা দুটি পৃথক সোগুকলুক (ঠান্ডা ঘর) এ প্রবেশের সুযোগ দেয়, যা মূল হারারেত (গরম কক্ষ) এর পাশে অবস্থিত। হারারেতটি ষড়ভুজাকৃতি পরিকল্পনায় তৈরি এবং এর ছয়টি খিলানযুক্ত অলিন্দের মধ্যে চারটিতে উন্মুক্ত গোসলের স্থান রয়েছে। বাকি দুটি সোগুকলুকের সাথে সংযুক্ত। সোগুকলুকের অবস্থান এবং হারারেতের নকশা সিনানের অন্যান্য বিদ্যমান হাম্মামগুলোর প্রচলিত বিন্যাসের থেকে কিছুটা আলাদা।[৩]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]- তোফানে থেকে কিলিচ আলী পাশা মসজিদের দৃশ্য
- হামাম দিক থেকে কিলিচ আলী পাশা মসজিদ
- মসজিদের প্রাঙ্গণ ও ওজুখানা
- মসজিদের প্রবেশপথ
- কিলিচ আলী পাশা মসজিদের প্রাঙ্গণ
- মসজিদের পূর্ব পাশ
- মসজিদের অভ্যন্তরীণ দৃশ্য
- মসজিদ থেকে মিহরাব ও মিম্বারের দিকে দৃশ্য
- মসজিদের মিহরাব
- পাশ থেকে মসজিদের মিহরাবের দৃশ্য
- মসজিদের জানালা
- মসজিদের ক্যালিগ্রাফিক টাইলস
- মসজিদের টাইলস
- মসজিদের টাইলস
- কিলিচ আলী পাশার ক্রোনোগ্রাম
মসজিদ সম্পর্কিত গল্প
[সম্পাদনা]কমপ্লেক্সের ভিত্তি সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণের পর তুর্কি গবেষক রাসিহ নুরি ইলেরি দাবি করেছিলেন যে স্প্যানিশ লেখক মিগেল দে সেরভান্তেস তার উপন্যাস ডন কিহোতে এর বন্দি চরিত্রের মতো একসময় এই মসজিদের নির্মাণকালে ক্রীতদাস ছিলেন।[১]
কিলিচ আলী পাশা যখন তার জীবনের শেষ পর্যায়ে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি রাষ্ট্রের কাছে জমির জন্য আবেদন করেন (কারণ অটোমান সাম্রাজ্যে সমস্ত জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন ছিল)। তবে তিনি এবং রুস্তম পাশা একে অপরকে অপছন্দ করতেন। এজন্য রুস্তম পাশা কটাক্ষ করে বলেছিলেন, "যেহেতু তিনি নৌবাহিনীর প্রধান, তিনি যেন তার মসজিদ সমুদ্রের উপর তৈরি করেন।" কিন্তু কিলিচ আলী পাশা নিরুৎসাহিত হননি; তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর এনে একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেন এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। বর্তমানে মসজিদটি স্থলভাগে অবস্থিত, কারণ পরবর্তী সময়ে বন্দর নির্মাণের জন্য সেই স্থানটি ভূমি দ্বারা ভরাট করা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 Eren, Güleren (জুন ২০০৬), "The Heritage of A Sailor", Beyoğlu, নং 3, পৃ. ৫৯–৬৪
- 1 2 3 Bayrak, M. Orhan (১৯৯৪)। Türkiye Tarihi Yerler Kılavuzu। İstanbul: İnkılâp Kitabevi। পৃ. ৩২৬–৩২৭। আইএসবিএন ৯৭৫-১০-০৭০৫-৪।
- 1 2 3 4 Sumner-Boyd, Hilary; Freely, John (১৯৯৪)। Strolling Through Istanbul: A Guide to the City (6 সংস্করণ)। İstanbul: SEV Matbaacılık। পৃ. ৪৫০–৪৫১। আইএসবিএন ৯৭৫-৮১৭৬-৪৪-৭।