কিয়োমিজু-কেরা
| কিয়োমিজু-কেরা | |
|---|---|
清水寺 | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | বৌদ্ধধর্ম |
| ফেরকা | কিতা-হোসসো |
| অধীশ্বর | কানন |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | হিগাশিয়ামা-কু, কিয়োতো |
| দেশ | জাপান |
| স্থাপত্য | |
| প্রতিষ্ঠাতা | সাকানোউয়ে নো তামারামারো, পুনর্নির্মাণ করেন তোয়ুগাওয়া ইয়েমিৎসু |
| প্রতিষ্ঠার তারিখ | ৭৭৮ |
| সম্পূর্ণ হয় | ১৬৩৩ (পুনর্নির্মাণ) |
| ওয়েবসাইট | |
| www | |
| কিয়োমিজু-কেরা | |||||
কাঞ্জি-তে "কিয়োমিজু-কেরা" | |||||
| জাপানি নাম | |||||
|---|---|---|---|---|---|
| কাঞ্জি | 清水寺 | ||||
| হিরাগানা | きよみずでら | ||||
| |||||
কিয়োমিজু-কেরা (জাপানি: 清水寺, আক্ষ. 'বিশুদ্ধ জলের মঠ') হলো পূর্ব কিয়োতো, জাপানে অবস্থিত একটি বৌদ্ধ মন্দির। মন্দিরটি প্রাচীন কিয়োতোর ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটি অংশ।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]
মন্দিরটি ৭৭৮ সালে, নারা যুগের শেষের দিকে, এনচিন শোনিন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যিনি নারা (৭১০ থেকে ৭৮৪ সাল পর্যন্ত জাপানের রাজধানী) থেকে আগত একজন পুরোহিত ছিলেন। কথিত আছে যে, তিনি ওতোওয়া ঝর্ণার পাশে মন্দিরটি নির্মাণের জন্য একটি দৈবদর্শন লাভ করেছিলেন।[২][৩]
৭৯৮ সালে, শোগুন সাকানোউয়ে নো তামারামারো, সম্রাট কানমুরের (শা. ৭৮১-৮০৬) প্রাসাদ থেকে একটি বড় হল এনে এই স্থানটির উন্নতি সাধন করেন। সম্রাট বৌদ্ধ মঠগুলোর শক্তিশালী প্রভাব থেকে দূরে থাকার জন্য নারা ত্যাগ করেছিলেন। এই সময়ে কোফুকু-জি এবং কিয়োমিজু-কেরা মন্দিরদুটির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।[২]
মন্দিরের বর্তমান ভবনগুলোর বেশিরভাগই ১৬৩৩ সালে শোগুন তোয়ুগাওয়া ইয়েমিৎসুর আদেশে নির্মিত হয়েছিল।[৪] পুরো কাঠামোটিতে একটিও পেরেক ব্যবহার করা হয়নি। এর নামটি মন্দিরের অভ্যন্তরে থাকা জলপ্রপাত থেকে এসেছে, যা কাছের পাহাড় থেকে প্রবাহিত হয়। কিয়োমিজু শব্দের অর্থ "বিশুদ্ধ জল"।[৫][৬]
এটি মূলত নারা যুগ থেকে চলে আসা প্রাচীন এবং প্রভাবশালী হোসসো সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত ছিল।[৩] তবে, ১৯৬৫ সালে এটি সেই নির্ভরতা ছিন্ন করে এবং এর বর্তমান তত্ত্বাবধায়করা নিজেদেরকে কিতা-হোসসো (উত্তর হোসসো) সম্প্রদায়ের সদস্য বলে পরিচয় দেন।[৭]
বর্তমান
[সম্পাদনা]"কিয়োমজুর মঞ্চ থেকে লাফ দেওয়া" (to jump off the stage at Kiyomizu) জাপানি এই প্রবাদটি ইংরেজি "to take the plunge" (ঝাঁপ দেওয়া বা কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া) প্রবাদের সমতুল্য।[৬] এটি এদো যুগের একটি ঐতিহ্যকে নির্দেশ করে, যেখানে বিশ্বাস করা হতো যে, যদি কেউ মঞ্চ থেকে ১৩-মিটার (৪৩-ফুট) নিচে লাফ দিয়ে বেঁচে যায়, তবে তার ইচ্ছা পূরণ হবে। এদো যুগে, ২৩৪টি লাফের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ৮৫.৪ শতাংশ বেঁচে গিয়েছিল।[৬] ১৮৭২ সালে এই প্রথাটি নিষিদ্ধ করা হয়।[৬]
মন্দির চত্বরে আরও কয়েকটি তীর্থস্থান রয়েছে, যার মধ্যে জিশু তীর্থ অন্যতম। এটি ওকুনিনুশি, অর্থাৎ ভালোবাসা এবং "উত্তম সঙ্গী"র দেবতাকে উৎসর্গীকৃত।[৫] জিশু তীর্থে একজোড়া "প্রেমের পাথর" রয়েছে, যা একে অপরের থেকে ১০ মিটার (৩০ ফুট) দূরে অবস্থিত।[৮] নিঃসঙ্গ দর্শনার্থীরা চোখ বন্ধ করে এক পাথর থেকে অন্য পাথরে হাঁটার চেষ্টা করতে পারেন। চোখ বন্ধ করে অন্য পাথরে পৌঁছাতে পারলে বিশ্বাস করা হয় যে, সেই ব্যক্তি তার সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পাবে।[৯]
২০০৭ সালে, কিয়োমিজু-কেরা বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চর্যের জন্য ২১ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর মধ্যে একজন ছিল,[১০] কিন্তু বিজয়ী সাতটির মধ্যে নির্বাচিত হয়নি। ২০২০ অলিম্পিকের প্রস্তুতির জন্য সংস্কার কাজের সময় মন্দিরটি সম্পূর্ণরূপে আধা-স্বচ্ছ ভারা দিয়ে ঢাকা ছিল।
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]কিয়োমিজু-কেরা ওতোওয়া পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত, যা পূর্ব কিয়োতোর হিগাশিয়ামা পর্বতশ্রেণীর অংশ। মূল হলের একটি বিশাল বারান্দা রয়েছে, যা কাকেজুকুরি পদ্ধতিতে নির্মিত উঁচু স্তম্ভ দ্বারা সমর্থিত। এই বারান্দাটি পাহাড়ের ঢাল থেকে বাইরের দিকে প্রসারিত এবং এখান থেকে পুরো শহরের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এদো যুগে বহু জনপ্রিয় স্থানের বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীদের, স্থান দেওয়ার জন্য বড় বারান্দা এবং মূল হল নির্মাণ করা হতো।[১১]
মূল হলের নিচে ওতোওয়া জলপ্রপাত অবস্থিত, যেখানে তিনটি ধারা একটি পুকুরে পতিত হয়। দর্শনার্থীরা এই জল পান করতে পারেন, যা ইচ্ছা পূরণ করার ক্ষমতা রাখে বলে বিশ্বাস করা হয়। এখানে "তাইনাই মেগুরি" নামক একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গও রয়েছে, যা দাইজুইকু বোসাতসু (বোধিসত্ত্ব মহাপ্রতিসরা)-এর গর্ভের প্রতীক বলে মনে করা হয়।[১২][১৩]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- শরৎকালে কিয়োমিজু-কেরা
- শীতকালে কিয়োমিজু-কেরা
- ক্ষিতিগর্ভ (বা জিজো)-র অসংখ্য ছোট মূর্তি
- ওতোওয়া-নো-তাকি, যেখানকার জলপ্রপাতের জল দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং পড়াশোনায় সাফল্যের জন্য পান করে
- আলোকিত কিয়োমিজু-কেরা
- ডুগং স্থাপত্য উপাদান, কিয়োমিজু-কেরা
- কিয়োমিজু-কেরার ড্রাগন ভাস্কর্য
- ডান থেকে বামে: কাইসান-দো (প্রতিষ্ঠাতা হল), কিও-দো (সূত্র হল) এবং সাঞ্জু-নো-তো (তিনতলা প্যাগোডা)
- কিয়োমিজু-কেরা থেকে কিয়োতো শহর এবং নিওমনের দৃশ্য
- কিয়োমিজু-কেরা

তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Historic Monuments of Ancient Kyoto (Kyoto, Uji and Otsu Cities)"। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০০৮।
- 1 2 "Kiyomizu-dera"। World History Encyclopedia (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২২।
- 1 2 Graham (2007), p. 32
- ↑ Graham 2007, পৃ. 37
- 1 2 "Kiyomizu Temple"। ৭ এপ্রিল ২০০৭। ৩ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০০৮।
- 1 2 3 4 "Kiyomizudera, Kyoto"। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০০৮।
- ↑ "Kiyomizu-deploy"। ১২ জুলাই ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "恋占いの石"। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২০।
- ↑ "japanvisitor.com"। ১৫ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০।
- ↑ "The Finalists for The Official New 7 Wonders of the World"। ১ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০০৯।
- ↑ Graham 2007, পৃ. 80
- ↑ Mukri, Farha (৩ এপ্রিল ২০১৯)। "From darkness to light at Japan's Kiyomizu-dera"। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "Kiyomizu-dera temple is one of Kyoto's must-see attractions!"। ১৩ জুন ২০১৬।