বিষয়বস্তুতে চলুন

কালো রাজহাঁস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কালো রাজহাঁস
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: প্রাণী
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: এভিস
বর্গ: আন্সেরিফর্মিস
পরিবার: অ্যানাটিডি
উপপরিবার: অ্যান্সেরিনি
গোত্র: সিগ্নিনি
গণ: সিগনাস
প্রজাতি: সি. এ্যট্রাটাস
দ্বিপদী নাম
সিগ্নাস এ্যট্রাটাস
(ল্যাথাম, ১৭৯০)
প্রতিশব্দ
  • এ্যনাস এ্যট্রাটা Latham, 1790 * চেনওপিস এ্যট্রাটাস
কালো রাজহাঁস

কালো রাজহাঁস (সিগ্নাস এ্যট্রাটাস) বা কালো মরাল কিংবা কৃষ্ণহংস মরালের একটি প্রজাতি। এটি একটি বৃহৎ জলচর পাখি যা প্রধানত অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে থাকে। ১৮৬০ সালে নিউজিল্যান্ড কালো রাজহাঁস জাতির প্রচলন ঘটেছিল।[২] অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে জলবায়ু অবস্থার উপর নির্ভরশীল হয়ে তারা অভিপ্রয়াণ করে।

কালো রাজহাঁস একটি বড় পাখি। এদের সাধারণত কালো পালক এবং লাল ঠোঁট থাকে। তারা একগামী প্রজননকারী এবং ডিমে তা দেওয়ার কর্তব্য এবং মরালছানার প্রতিপালন স্ত্রী-পুরুষ উভয়ই করে।

কালো মরালকে ১৮০০ শতাব্দীতে একটি আলঙ্কারিক পাখি হিসেবে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত করা হয়, কিন্তু এরা স্বাধীন হয়ে স্থিতিশীল জনগোষ্ঠী গঠন করে। কালো মরালের এক ছোট্ট জনসংখ্যার মার্লোতে টেম্‌স নদীর উপর এবং হ্যাম্পশায়ারের ইত্ছেন নদীতে উপস্থিত।[৩] একে ১৯৭০ সালে ইংরেজি প্রকৃতিবিদ জন ল্যাথাম বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণনা করেন। কালো মরালকে পূর্বে চেনোপিস মহাজাতির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। কালো মরালকে হয় একা অথবা শত শত বা হাজার সহচরদের সঙ্গে পাওয়া যায়। কালো মরাল চিড়িয়াখানা ও পাখি সংগ্রহের জনপ্রিয় পাখি, এবং পালিয়ে কখনও কখনও তাদের প্রাকৃতিক সীমার বাইরে দেখা যায়।[৪]

বিবরণ

[সম্পাদনা]
পরিণত বয়স্কদের পাশ দৃশ্যতে দেখা যাচ্ছে চরিত্রগত য-ফলা আকৃতির ঘাড়

কৃষ্ণহংসের সাধারণত কালো পালক এবং সাদা উড্ডয়নকারী পালক থাকে। এদের উজ্জ্বল লাল রঙের ঠোঁট থাকে। এদের পায়ের রঙ ধূসরাভ-কালো। পুরুষ কালো মরালরা স্ত্রীদের থেকে বড় হয়ে থাকে এবং তাদের ঠোঁট আরো লম্বা এবং সোজা হয়। হংসশাবকরা ধূসর-বাদামী রঙের হয়। তাদের ফ্যাকাশে দ্বিধার পালক থাকে।[৪]

একটি পূর্ণবয়স্ক কালো রাজহাঁসের দৈর্ঘ্য ১১০ থেকে ১৪২ সেন্টিমিটার (৪৩ থেকে ৫৬ ইঞ্চি) হয় এবং ওজন ৩.৭ থেকে ৯ কেজি (৮.২-১৯.৮ পাউণ্ড) হয়। এদের পাখার প্রসারতার দৈর্ঘ্য ১.৬ থেকে ২ মিটার (৫.২ থেকে ৬.৬ ফুট) হয়।[৪][৫] মরালের গলা হাসের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ হয় এবং য-ফলা আকৃতির মতো বাঁকা হয়।

কালো রাজহাঁস একটি সুরেলা এবং সুদূরপ্রসারী ভেঁপু-মত শব্দ করে জলের উপর বা উড্ডয়নকালীন। সেইসাথে এরা অনেক পরিসীমার নরম গাঁ গাঁ শব্দ করতে পারে। এছাড়া এরা শিস করতে পারে, বিশেষত যখন প্রজনন বা পাখির বাসা করার সময় বিরক্ত করা হয়।[৪][৬]

যখন কালো মরাল সাঁতার কাটে, তারা তাদের গলা নমিত বা খাড়া করে রাখা এবং প্রায়ই তাদের পালক অথবা ডানা একটি আক্রমনাত্মক প্রদর্শনের ভঙ্গিতে উত্থাপ্ন করে থাকে। উড্ডয়নকালীন কালো মরালের ঝাঁক একটি সোজা লাইন বা ইংরেজির "ভী"-আকৃতি গঠন করে, প্রত্যেকটি পাখি তরঙ্গায়িত দীর্ঘ গলার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে ওড়ে, এবং শিস দেয় বা তাদের ডানা দিয়ে ভেঁপু বা ডঙ্কার আওয়াজ করে।[৪] যদিও তারা অন্যান্য অস্ট্রেলিয়ার পাখিদের থেকে আলাদা, তাও দূর থেকে দেখলে এদের দোয়েলবর্ণ রাজহাঁসের (Magpie goose) মতো দেখায়। এরপরও কালো মরালকে আলাদা করা যায় এর দীর্ঘতর গলা এবং ধীর ডানার ঝাপটার মাধ্যমে।[৭]

কালো রাজহাঁসের এক বন্দী জনসংখ্যা যা লেক্ল্যান্ড, ফ্লোরিডা থাকে, তাদের মধ্যে কয়েকজনের পালকের রং কালোর বদলে হালকা কর্বুরিত ধূসর পাওয়া গিয়েছে।[৮]

ব্যাপ্তি

[সম্পাদনা]
ওয়াচা জলাধার, বুলগেরিয়ার কালো রাজহাঁস
নিউজিল্যান্ডএ একটি হংসশাবকের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক

কালো রাজহাঁস দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্ব অস্ট্রেলিয়া ও সংলগ্ন উপকূলীয় দ্বীপগুলোর জলাভূমিতে থাকে। দক্ষিণ পশ্চিমে এরা উত্তর পশ্চিম কেপ, কেপ লিউভিন এবং ইউক্লা এলাকায় থাকে; পূর্বে এরা আর্থারটন টেবিলল্যান্ড, আয়ার উপদ্বীপ ও তাসমানিয়া দ্বারা বেষ্টিত অঞ্চলে থিকে। মারে-ডার্লিং নদীর অববাহিকা কালো রাজহাঁসের বৃহৎ জনগোষ্ঠী সমর্থন করে।[৪][৭] এটা কেন্দ্রীয় ও উত্তরাঞ্চল অস্ট্রেলিয়ায় বিরল।

কালো রাজহাঁস এর পছন্দের আবাসস্থল খাদ্য ও পাখির উপকরণ জন্য ডুবো এবং উত্থানশীল গাছপালা সঙ্গে তাজা, লোনা ও লবণ জলের হ্রদ, জলাভূমি ও নদী জুড়ে বিস্তৃত। কালো রাজহাঁস স্থায়ী জলাভূমি সহ শোভাময় হ্রদ পছন্দ করে, কিন্তু কালো রাজহাঁস এছাড়াও প্লাবিত চারণভূমি এবং জোয়ার ভাটার সময় জল সড়ে-যাওয়া কর্দমময় প্রান্তরে পাওয়া যায়, এবং মাঝে মাঝে দ্বীপ বা অনুবেল উন্মুক্ত সমুদ্রের উপরেও।[৪]

কালো রাজহাঁস একদা উপবিষ্ট বলে মনে করা হয়েছিল, কিন্তু প্রজাতি এখন অত্যন্ত যাযাবর হিসেবে পরিচিত। এদের কোন নির্দিষ্ট পরিযায়ী প্যাটার্ন নেই, কিন্তু এরা বৃষ্টিপাতে বা খরাতে আলাদা প্রতিক্রিয়া করে। উচ্চ বৃষ্টিপাত বছরগুলোতে, দেশান্তর হয় দক্ষিণ পশ্চিম এবং দক্ষিণ পূর্ব থেকে অভ্যন্তরে,এবং শুষ্ক বছর এই অঞ্চলে একটি বিপরীত অভিবাসন ঘটে। যখন বৃষ্টি শুষ্ক কেন্দ্রীয় অঞ্চলে পড়ে না, তখন কালো রাজহাঁস এসব এলাকায় অভিপ্রয়াণ করে নীড় গড়তে এবং তাদের বাচ্চাদের বড়ো করতে। তবে শুষ্ক অবস্থা যদি ফিরে আসে, বাচ্চাদের বড়ো করার আগে, প্রাপ্তবয়স্ক পাখিরা তাদের বাসা এবং তাদের ডিম বা ছানাদের পরিত্যাগ আর্দ্র অঞ্চলে ফিরে আসবে।[৯] কালো রাজহাঁস, অনেক অন্যান্য ডাহুক মত, তাদের সব ফ্লাইট পালক একবারে প্রজননের পর ঝরে দেয় এবং তারা প্রায় এক মাসের জন্য উড়তে অক্ষম হয়। এই সময় তারা সাধারণত নিরাপত্তার জন্য বড়, খোলা জলের উপর বসতি স্থাপন করে।[৯]

এই প্রজাতির বৃহৎ পরিসর রয়েছে ১ থেকে ১০ মিলিয়ন কিমি২ মধ্যে। বর্তমান বিশ্বে জনসংখ্যা প্রায় ৫০০০০০ বলে অনুমান করা হয়। বিলুপ্তি বা জনসংখ্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পতনের কোন ভয় এখনো এই অসংখ্য এবং বহুবিস্তৃত পাখি সঙ্গে চিহ্নিত করা হয়নি।[১]

কালো রাজহাঁসকে প্রথম ১৬৯৭ সালে ইউরোপীয়রা দেখে, যখন উইলেম ডে ওয়লামিংহের অভিযান অনুসন্ধান করে সওয়ান নদী, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায়।

কালো রাজহাঁস ব্রাজিলের টেরেসোপলিসে

প্রবর্তন করা জনগোষ্ঠী

[সম্পাদনা]
উড়ন্ত অবস্থায় কালো রাজহাঁস

নিউজিল্যান্ডে মাওরি আগমনের পূর্বে, "নিউজিল্যান্ড সোয়ান" নামে কালো রাজহাঁসের একটি উপপ্রজাতি এই দ্বীপপুঞ্জে প্রবর্তিত হয়। তবে শিকার করার ফলে এরা বিলুপ্ত হয়েছে। ১৮৬৪ সালে, অস্ট্রেলিয়ার কালো রাজহাঁস একটি আলঙ্কারিক জলপক্ষী হিসেবে নিউজিল্যান্ডে প্রচলন করা হয় এবং এখন বড় উপকূলীয় বা অভ্যন্তরীণ হ্রদে, বিশেষত রতরুয়া হ্রদ, ভাইরারাপা হ্রদ, এলেসমেয়ার হ্রদ, এবং চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জ এদের দেখা খুবি স্বাভাবিক।[৬] কালো রাজহাঁস প্রাকৃতিকভাবেও নিউজিল্যান্ড উড়ে এসেছে, এই কারণে বিজ্ঞানীরা তাদের বহিরাগত প্রজাতির চেয়ে স্থানীয় প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও বর্তমান জনসংখ্যা মূলত ইচ্ছাকৃত প্রচলন থেকে অবতীর্ণ হয়েছে বলে মনে করা হয়।[১০]

স্পেনের এক পুকুরে কালো রাজহাঁস

কালো রাজহাঁস এছাড়াও পশ্চিম ইউরোপে, বিশেষ করে ব্রিটেনে একটি আলঙ্কারিক জলপক্ষী হিসেবে খুবই জনপ্রিয়, এবং পলাতকদের সাধারণভাবে রিপোর্ট করা হয়। এখনও, ব্রিটেনে জনসংখ্যা স্বনির্ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং তাই এই প্রজাতি এখনও ব্রিটিশ তালিকাতে নেই,[১১] কিন্তু বনকুক্কুট ও জলাভূমি ট্রাস্ট ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যে নয়টি প্রজনন জোড়াকে গুনেছে, এবং ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালে ৪৩ পাশবিক পাখি অনুমান করেছে।

ডলিশ, ডেভনে কালো রাজহাঁসের উপনিবেশ এত ভাল করে শহরী সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে আছে যে এই পাখি চল্লিশ বছর ধরে শহরের প্রতীক হিসেবে রয়েছে।[১২] এছাড়াও একজোড়া লেক নর্থ ক্যারোলাইনার ভেন্স্ভিলের জুনালুস্কা হ্রদ,একটি বৃহৎ হ্রদের কাছাকাছি বসবাস করতে দেখা গেছে।

এছাড়া জাপানেও বুনো প্রজাতি আছে। এদের মূলত ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সালে আমদানি করা হয়।[১৩][১৪][১৫]

জলের নিচে তার মাথা এবং ঘাড় ডিপ করে হাবার পাওয়ার জন্য

আহার এবং খাদ্য

[সম্পাদনা]
বসন্ত বৃষ্টিতে কালো রাজহাঁস

কালো রাজহাঁস প্রায় সাধারণত তৃণভোজী, আরকিছু আঞ্চলিক ও ঋতুভিত্তিক তারতম্য ছাড়া, এদের খাদ্য সাধারণত জলজ ও জলাভূমির উদ্ভিদ দ্বারা প্রভাবিত হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসে রিডমেস পাতা (মহাজাতি টাইফা) হল জলাভূমি পাখির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। নিমজ্জিত শেত্তলাগুলি এবং জলজ উদ্ভিদ যেমন ভ্যালিস্নেরিয়াও এদের গুরুত্বপূর্ণ খাবার।  কুইন্সল্যান্ডে জলজ উদ্ভিদ যেমন পোটামোগেটন, স্টোনভরট, এবং শেত্তলা হল এদের গুরুত্বপূর্ণ খাবার। সঠিক রচনা পানি স্তরের সাথে পরিবর্তিত হয়; বন্যা পরিস্থিতিতে কালো রাজহাঁস যখন স্বাভাবিক খাবার নাগালের বাইরে থাকে তখন তারা তীরে চারণভূমির উদ্ভিদ খায়।[১৬] কালো রাজহাঁস অন্যান্য মরালএর অনুরূপ পদ্ধতিতেই খায়। এরা যখন অগভীর জলে খায় জলের নিচে তার মাথা এবং ঘাড় ডিপ করে। গভীর জলে পাখি পৌঁছানোর জন্য আলাদা পদধতি ব্যবহার করে। কালো রাজহাঁস জল পৃষ্ঠতল থেকে খাদ্য ছেঁকে নিতে সক্ষম হয়।[১৬]

বাসা এবং প্রজনন

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলিয়াতে ছানার সঙ্গে তাদের অভিভাবক

অন্যান্য মরালের মতো কালো রাজহাঁস মূলত একগামী (৬ শতাংশের বিচ্ছেদ হয়)। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সব কুল এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত জুড়ি পিতৃত্ব প্রদর্শন করে।[১৭] আনুমানিক এক-চতুর্থাংশ কালো রাজহাঁস, সাধারণত পুরুষেরা সমকামী হয়।[১৮] তারা বাসা চুরি, বা অস্থায়ী 'থ্রীসাম' গঠন করে মহিলার সঙ্গে ডিম পাওয়ার জন্য। মহিলা ডিম পাড়আর পর তারা তাকে তাড়িয়ে দেয়।[১৯][২০][২১]

পরিবার

সাধারণত, দক্ষিণ গোলার্ধের কালো রাজহাঁস আর্দ্র শীতকালে(সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) নীড় স্থাপন করে, মাঝে মাঝে বড় উপনিবেশ স্থাপন করে।একটি কালো রাজহাঁস নীড় মূলত একটি বৃহৎ গাদা বা নলখাগড়া, ঘাস এবং আগাছার ঢিপি হয়; ব্যাস ১ থেকে ১.৫ মিটার (৩ থেকে ৪.৫ ফুট) হয় এবং উচ্চতায় ১ মিটার হয়, অগভীর জলে বা দ্বীপে।[৪][৯] একটি নীড় প্রতি বছর পুনঃব্যবহৃত, পুনরুদ্ধার অথবা হিসাবে প্রয়োজন পুনর্নির্মিত হয়। পিতা এবং মাতা দুজনেই নীড় যত্ন নেওয়ের ভাগ নেয়। একজন প্রথাগত ছোঁতে ৪ থেকে ৮ সবুজাভ সাদা ডিম থাকে যা ৩৫ থেকে ৪০ দিনের জন্য পুষ্টি সাধন করা হয়।[২২] ছানার বের হওয়ার সমন্বয়সাধন করতে শেষ ডিম ডিম্বপ্রসরের পর অণ্ডস্ফুটন শুরু হয়। অণ্ডস্ফুটন প্রবর্তনের করার আগেও পিতা বা মাতা ডিমের উপর বসে কিন্তু উষ্ণ করেনা। পিতা এবং মাতা দুজনেই অণ্ডস্ফুটন করে, মা মরাল রাতে অণ্ডস্ফুটন করে। অণ্ডস্ফুটন সময়সীমার মধ্যে বেশি পরিবর্তন উভয় লিঙ্গের দ্বারা আনুষ্ঠানিক প্রদর্শন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।[১৬] ডিম ঘটনাক্রমে নীড় থেকে বাইরে গড়িয়ে পড়লে উভয় লিঙ্গ (শুধুমাত্র স্ত্রী মরাল এই কৃতিত্ব সঞ্চালন করে অন্যান্য প্রজাতিতে) ঘাড় ব্যবহার করে ডিম উদ্ধার করে।[১৬] সব মরালের মতো কালো রাজহাঁস আক্রমণাত্মকভাবে তাদের ডানা এনং ঠোঁট দিয়ে তাদের বাসা শত্রুদের থেকে রক্ষা করে।[১৬] ছানার বের হওয়ার পর শাবকদের প্রায় ৯ মাস পক্ষোদ্ভেদ হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকরা যত্ন করে।[৪][৬] ছানারা গভীর জলে ভ্রমণের জন্য তাদের বাবা-মায়ের পিঠে চড়ে যায়, কিন্তু কালো মরাল মূক মরাল এবং কালোগলা মরাল থেকে এই আচরণ কম করে।[১৬]

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক

[সম্পাদনা]

সংরক্ষণ

[সম্পাদনা]

কালো রাজহাঁস জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া সুরক্ষিত। আইউইসিএন-এর তালিকায় ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে মূল্যায়ন করা আছে।[১]

অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্র পতাকা

কালো রাজহাঁস এমনকি সিগ্নাস এ্যট্রাটাস আবিষ্কারের আগে, একটি সাহিত্য বা শৈল্পিক চিত্র ছিল। সাংস্কৃতিক তথ্যসূত্র প্রতীকী বিপরীতের উপর এবং একটি স্বতন্ত্র অঙ্কনের উপর ভিত্তি করে।

অস্ট্রেলিয়ার ঘোষকতা এবং সংস্কৃতিতে কৃষ্ণহংসের ভূমিকা আঠারো শতকে প্রথম উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা হয় তখন থেকে শুরু। কৃষ্ণহংসকে অস্ট্রেলিয়ভাবের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কালো মরাল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রতীক, একে সেখানকার পতাকায় এবং কুলচিহ্নতেও দেখা যায়।[২৩]

আদিবাসী অস্ট্রেলীয়

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমের নুঙ্গার মানুষ বিভিন্ন স্থানীয় নামের দ্বারা (যেমন: কুলজ্যাক/গুলজ্যাক, মালি) কালো রাজহাঁসকে উল্লেখ করে।[২৩]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 "Cygnus atratus"। বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2013.2। প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন। ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৩। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: অবৈধ |ref=harv (সাহায্য)
  2. ↑ Lever, Christopher (২৯ জানুয়ারি ২০১০)। Naturalised Birds of the World (ইংরাজি ভাষায়)। Bloomsbury Publishing। পৃ. ৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৮১-২৮২৫-১।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক)
  3. ↑ "Have you seen a Black swan?"। www.wildlifeextra.com। ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)
  4. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Pizzey, Graham (১৯৮০)। A Field Guide to the Birds of Australia (ইংরেজি ভাষায়)। Sydney: HarperCollins Australia। পৃ. ৬৬। আইএসবিএন ISBN&#৩২;০-০০-২১৯২০১-২.। {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: অবৈধ অক্ষর পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  5. ↑ "Cygnus atratus - Black swan (Species)"। ২৯ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৭।
  6. 1 2 3 Falla, R.A; Sibson, R.B.; Turbott, E.G (১৯৮১)। The New Guide to the Birds of New Zealand and Outlying Islands (ইংরাজি ভাষায়)। Auckland: Collins। পৃ. ৮০। আইএসবিএন ISBN&#৩২;০-০০-২১৭৫৬৩-০। {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: অবৈধ অক্ষর পরীক্ষা করুন (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  7. 1 2 Waterfowl in New South Wales। Sydney: CSIRO and NSW Fauna Panel। ১৯৬৪।
  8. ↑ Ledger, RICK ROUSOS The। "Mutant Swans Could Mean Hundreds of Dollars for City"। The Ledger (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৭।
  9. 1 2 3 Scott, Peter, সম্পাদক (২০১৪)। The World Atlas of Birds। Chartwell Books। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৮৫৮৩১৬৩১।
  10. ↑ Birds, New Zealand। "New Zealand Birds | Birds | Gallery | black swan, Cygnus atratus"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৭।
  11. ↑ "BTO BirdFacts | Black Swan" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৭।
  12. ↑ "Dawlish Waterfowl"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৭।
  13. ↑ "Cygnus atratus / Invasive Species of Japan" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৭।
  14. ↑ "Swan dive into the strait dividing economic views | The Japan Times"। The Japan Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৭।
  15. ↑ Brazil, Mark (৫ জুলাই ২০০১)। "Beauty versus the environment"। The Japan Times Online (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0447-5763। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৭।
  16. 1 2 3 4 5 6 Scott, Peter (১৯৭২)। The Swans (ইংরাজি ভাষায়)। London: Michael Joseph। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭১৮১-০৭০৭-৯।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  17. ↑ Extra-pair paternity does not result in differential sexual selection in the mutually ornamented black swan (Cygnus atratus) K. Kraaijeveld*, P. J. Carew, T. Billing,Greg J. Adcock and Raoul A.
  18. ↑ "Homosexual Animals Out of the Closet"। Live Science। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৭।
  19. ↑ Geoff R. MacFarlane, Simon P. Blomberg, Gisela Kaplan, Lesley J. Rogers; Same-sex sexual behavior in birds: expression is related to social mating system and state of development at hatching. Behav Ecol 2007; 18 (1): 21-33. doi: 10.1093/beheco/arl065
  20. ↑ Braithwaite, L. W.। The Black Swan। Australian Natural History।
  21. ↑ Braithwaite, L. W. (১৯৮১)। Ecological studies of the Black Swan III – Behaviour and social organization। Australian Wildlife Research।
  22. ↑ "Birds of Australia - The Black Swan"। ৯ মার্চ ২০০৭। ৯ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৭।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)
  23. 1 2 Systems, Connected। "Department of the Premier and Cabinet - Bird Emblem" (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৭।

কাজ উদাহৃত

[সম্পাদনা]