কালো চাল

কালো চাল (বেগুনি চাল হিসাবেও পরিচিত) হল ধানের এক জাতীয় বিশেষ ধরনের প্রজাতি। এর বিভিন্ন প্রকরণের মধ্যে কয়েকটি বেশ আঠালো বা চটচটে চাল উৎপাদন করে। বিভিন্ন ধরনের প্রকরণের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশীয় কালো চাল, ফিলিপাইন বালাতিনা চাল,[১] এবং থাই জুঁই (জেসমিন) কালো চাল। মণিপুরে এই কালো চাল চক-হাও নামে পরিচিত। সে অঞ্চলে কালো চাল থেকে তৈরি নানান মিষ্টান্ন অনুষ্ঠানাদিতে মূল ভোজনপর্বে পরিবেশন করা হয়। বাংলাদেশে এটি কলো ধানের চাল নামে পরিচিত এবং পোলাও বা পায়েস ভিত্তিক মিষ্টান্ন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। কালো চালের খোসা অ্যান্থোসায়ানিনসমৃদ্ধ। [২] এই চালের শস্যদানায় আঁশের পরিমাণ বাদামি চালের সমপরিমাণ এবং এর স্বাদও বাদামি চালের মত।[৩]
কালো চালের রঙ গাঢ় কালো হয়ে থাকে এবং সিদ্ধ হয়ে গেলে সাধারণত গাঢ় বেগুনি হয়ে যায়। এর গাঢ় বেগুনি বর্ণের জন্য মূলত দায়ী অ্যান্থোসায়ানিন উপাদানগুলি,[৪] যা অন্যান্য রঙের চালের তুলনায় ওজনে বেশি। [৫][৬] এটি জাউ, মিষ্টান্ন, চিরাচরিত চীনা কালো চালের পিঠা, রুটি এবং নুডলস তৈরির জন্যও উপযুক্ত।
গুণ
[সম্পাদনা]- অ্যান্থসায়ানিন বেশি থাকে যা একটি ক্যান্সার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
- ফাইবার অনেক বেশি থাকে। একারণে এ চালের ভাত শরীরে গ্লুকোজ তৈরি করে খুব ধীর গতিতে। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই এ চালকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব কার্যকর বলা হয়।
- আমিষ, ভিটামিন, জিংক, খনিজ পদার্থসহ অন্য উপাদানগুলো সাধারণ চালের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি থাকে।[৭]
বাংলাদেশে চাষ ও দাম
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের কুমিল্লা, নওগাঁ, চট্টগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলায় ৫ থেকে ৭ প্রজাতির কালো চালের ধান চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর আবাদ এলাকার পরিমাণ বাড়ছে। ঢাকায় আমদানিকৃত ব্ল্যাক রাইস বা কালো চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা। দেশী কালো চাল বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা প্রতি কেজিতে।[৮]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Heirloom rice preserved, made productive"। Philippine Rice Research Institute। Department of Agriculture, Philippines। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৮।
- ↑ Yao, S. L.; Xu, Y (২০১৩)। "Black rice and anthocyanins induce inhibition of cholesterol absorption in vitro": ১৬০২–৮। ডিওআই:10.1039/c3fo60196j। পিএমআইডি 24056583।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ "Food Grains of India"। 232-234। ১৮৯২: ২৩৪। জেস্টোর 4102547।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Oikawa, T.; Maeda, H. (২০১৫)। "The birth of a black rice gene and its local spread by introgression": ২৪০১–২৪১৪। ডিওআই:10.1105/tpc.115.00310।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Ichikawa, Haruyo; Ichiyanagi, Takashi (২০০১)। "Antioxidant activity of anthocyanin extract from purple black rice": ২১১–২১৮। ডিওআই:10.1089/10966200152744481। পিএমআইডি 12639403।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Abdel-Aal, El-Sayed M; Young, J. Christopher (২০০৬)। "Anthocyanin composition in black, blue, pink, purple, and red cereal grains": ৪৬৯৬–৭০৪। ডিওআই:10.1021/jf0606609। পিএমআইডি 16787017।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ কালো চাল: তিন গুণ পুষ্টিমানের 'ব্ল্যাক রাইস'-এর আবাদ যেভাবে শুরু হলো বাংলাদেশে, বিবিসি নিউজ বাংলা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
- ↑ কালো চাল: তিন গুণ পুষ্টিমানের 'ব্ল্যাক রাইস'-এর আবাদ যেভাবে শুরু হলো বাংলাদেশে, বিবিসি নিউজ বাংলা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২