কালীগঞ্জ উপজেলা (লালমনিরহাট)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৮′২৭″উত্তর ৮৯°১৫′১২″পূর্ব / ২৫.৯৭৪১° উত্তর ৮৯.২৫৩৩° পূর্ব / 25.9741; 89.2533

কালীগঞ্জ উপজেলা (লালমনিরহাট)
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
কালীগঞ্জ
বিভাগ
 - জেলা
রংপুর বিভাগ
 - লালমনিরহাট জেলা
স্থানাঙ্ক ২৫°৫৮′২৭″উত্তর ৮৯°১৫′১২″পূর্ব / ২৫.৯৭৪১° উত্তর ৮৯.২৫৩৩° পূর্ব / 25.9741; 89.2533
আয়তন ২৩৬.৯৪ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০১১)
 - ঘনত্ব
 - শিক্ষার হার
২,৪৫,৫৯৫ জন [১]
 - ৯৭০ বর্গকিমি
 - ৪৭.৫%
ওয়েবসাইট: উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

কালীগঞ্জ বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

কালীগঞ্জ উপজেলার আয়তন ২৩৬.৯৬ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে হাতিবান্ধা উপজেলা ও ভারতের কুচবিহার জেলা, পূর্বে আদিতমারী উপজেলা, পশ্চিমে জলঢাকা (নীলফামারী উপজেলা) এবং দক্ষিনে গঙ্গাচড়া (রংপুর) ও কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

পূর্বে কালীগঞ্জ থানা ফুরুনবাড়ী নামে অভিহিত ছিল। ভারতের কোচবিহার রাজ্যের সাথে সম্পর্ক যুক্ত থাকলেও মূলত রংপুর জেলার অধীনস্থ উত্তর সীমান্তে অবস্থান ছিল। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য উনবিংশ শতাব্দির পূর্ব ভাগে বর্তমানের গোড়ল মৌজার ফুরুন বাড়ীতে একটি পুলিশ ফাড়ি স্থাপিত হয়েছিলো। ১৩০৪ বঙ্গাব্দে বেঙ্গল ডুয়ারস রেলপথ (বিডি আর) প্রতিষ্ঠিত হলে অপেক্ষাকৃত ভালো যোগাযোগের প্রয়োজনে ফুরুনবাড়ী পুলিশ ফাড়িটি কালীগঞ্জে স্থানান্তিত করা হয়।

১৭৯৩ খ্রীস্টাব্দে ১২ নং রেগুলেশন অনুযায়ী রংপুর জেলার ২১ টি থানা নিয়ে রংপুর জেলা সৃষ্টি হয় , তার মধ্যে কালীগঞ্জ হাতিবান্ধা ও আদিত্মারী অঞ্চল নিয়ে ফুরুনবারি থানা গঠিত ছিল। বুকাননের সার্ভে রিপোর্টে (১৮০৬-১৬) সে সময়ে রংপুর জেলা (জলপাইগুড়িসহ) ২৪ টি থানায় বিভক্ত ছিল এবং ফুলবাড়িথানার আয়তন ছিল ১৮০ বর্গ মাইল । ধারনা করা হয় কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধা এবং আদিত্মারি থানার বহু অংশ সে সময়ের ফুরুনবাড়ি সীমানার বাইরে ছিল । কারন বর্তমানে উক্ত ৩ টি থানার সীমানা আদিতমারী - ৭৫ বর্গমাইল , কালীগঞ্জ- ৯২ বর্গমাইল এবং হাতিবান্ধা - ১১২ বর্গমাইল, মোট ২৭৯ বর্গমাইল ।

রংপুর জেলার ভবানিগঞ্জ (গাইবান্ধা), তিনটি থানার সমম্বয়ে গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ এবং সুন্দরগঞ্জ নিয়ে ১৮৫৭ সালে মহকুমা সৃষ্টি হয়। বাকি থানা গুলো জেলা-সদর মহকুমার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৭৫ সালে সদর মহকুমাকে ২ টি মহকুমায় (রংপুর সদর ও নীলফামারী)বিভক্ত করলে নতুন ভাবে থানা বিন্যাসে ৫ টি থানা নিয়ে রংপুর সদর মহকুমার আয়তন দাড়ায় ১১৪১ বর্গমাইল। তখন বর্তমানে কালীগঞ্জ বা সে সময়ের ফুরুনবারির আয়তন হয় ২৩৫ বর্গমাইল। ১৯০১ সালের আদমশুমারি রিপোর্টে ফুরুনবাড়িথানা ১৮৭৫ সালে কালিগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে তুশভান্দার জমিদারীর (দু আনা কাজিরহাট) তখন একটি বড় বন্দরে পরিনত হয়। সে সময়ের তিস্তা নদী কালীগঞ্জের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরবর্তীতে তিস্তা নদী সড়ে গিয়ে গঙ্গাচরার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয় । ১৯১৩ সালে হাতিবান্ধা থানা সৃষ্টির পূর্ব পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানা রংপুর জেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত সীমান্তবর্তিত থানা হিসেবে পরিচিত ছিল । ১৯৮১ সালের ৯ ই এপ্রিল পর্যন্ত কালীগঞ্জ ১৬ টি ইউনিয়নের সমম্ব্যে একটি বিশাল থানা ছিল। ঐ সালের ১০ ই এপ্রিল ৮ টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে আদিত্মারি থানার সৃষ্টি হয় । ১৯৮২ সালের ১৫ ই ডিসেম্বর কালীগঞ্জ থানা উপজেলায় উন্নীত হয়।এ উপজেলার প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিচার হিসেবে যোগদান করেন জনাব মোঃ আনছার আলী এবং প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলহাজ করিম উদ্দিন আহমেদ। ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কাকিনা জমিদার বাড়ি ও জমিদার বংশ: বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলাধীন কাকিনা ইউনিয়নের কাকিনা মৌজায় এক কালে গড়ে উঠেছিলো বড় বড় ইমারত বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি , যা কালের স্রোতে নিশ্চিহ্ন হোয়ে গেছে । কাকিনা জমিদার বাড়ির অতিত সৃতি ধারণ করে এখন নীরবে দারিয়ে রয়েছে শুধু মাত্র –‘ হাওয়াখানা ‘ । ইতিহাস বিশ্লেষণে জানা যায়, মহারাজা মোদ নারায়ণের সময় কাকিনা ছিল কোচবিহার রাজ্জাধিন একটি চাকলা । তৎকালে কাকিনার চাকলাদার ছিলেন ইন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তী । ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে ঘোড়া ঘাটের ফৌজদার এবাদত খাঁ মহারাজা মোদ নারায়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কোচ রাজ্যে অভিযান চালানোর সময় রঘু রামের দুই পুত্র রাঘবেন্দ্র নারায়ন ও রাম নারায়ন ফৌজদারের পক্ষ অবলম্বন করেন। মোগলদের এ অভিযানে কোচ বাহিনী পরাজিত হলে ইন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তীকে কাকিনার চাকলাদার পদ থেকে অপসারন করা হয় এবং রাঘবেন্দ্র নারায়ণকে পরগণা বাষট্টি ও রাম নারায়নকে পরগণা কাকিনার চৌধুরী নিযুক্ত করা হয় । এভাবেই ইন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তীর চাকলাদারি শেষ হোয়ে কাকিনায় রাম নারায়নের মাধ্যমে নতুন জমিদারীর সূচনা ঘটে । রাম নারায়ন চৌধুরীর পিতা রঘু রাম সম্পর্কে যতদূর জানা যায় , চাকলাদার ইন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তীর সময় তিনি কাকিনা চাকলার একজন সাধারণ কর্মচারী ছিলেন। তবে রঘু রামের পিতা রমানাথ ১৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে কোচবিহার মহারাজা প্রাণ নারায়ণের সময় (১৬৩২-৬৫খ্রিঃ) রাজ দপ্তরে মজুমদারেরে কাজে নিয়োজিত ছিলেন । যা হোক , ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে রাম নারায়ণ কাকিনা পরগণার চৌধুরী নিযুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে কাকিনায় যে জমিদারীর সূচনা ঘটেছিল , জমিদার মহেন্দ্র রঞ্জনের সময় তার অপরিণামদর্শী খরচ ও বিলাসিতার কারণে তা ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। মহাজনদের বকেয়া ও সরকারী রাজস্ব পরিশোধে সক্ষম না হওয়ায় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে তার জমিদারী নিলাম হোয়ে যায় । ১৯২৬- ৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় তিনি সপরিবারে কাকিনা ত্যাগ করে কাসিয়াং ( দার্জিলিং) –এ চলে যান । ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের দিকে সেখানেই তার জীবনাবসান ঘটে। কাকিনা জমিদার বংশ তালিকায় যে কয়েকজন জমিদারের উল্লেখ পাওয়া যায়, তারা হলেন- ১। রাম নারায়ণ চৌধুরী ( জমিদারীর সূচনা- ১৬৮৭ খ্রিঃ) ২। রুদ্র রায় চৌধুরী ৩। রসিক রায় চৌধুরী ( অপুত্রক অবস্থায় মারা যান । স্ত্রী অলকানন্দা পরে জমিদারী চালান এবং দত্তক পুত্র গ্রহণ করেন ) ৪। রাম রুদ্র রায় চৌধুরী ( দত্তক পুত্র। ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জমিদারী চালান) ৫। শম্ভু চন্দ্র রায় চৌধুরী ( মৃত্যু – ১৮৬৮ খ্রিঃ) ৬। মহিমা রঞ্জন রায় চৌধুরী (দত্তক পুত্র । জন্ম -৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৩ খ্রিঃ এবং মৃত্যু -১ এপ্রিল ১৯০৯ খ্রিঃ) ৭। মহেন্দ্র রঞ্জন রায় চৌধুরী ( ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে নিলামের মধ্য দিয়ে জমিদারীর সমাপ্তি ) বর্ণিত জমিদার গণের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সময় ধরে জমিদারী পরিচালনা করেন শম্ভু চন্দ্র রায় চৌধুরী । বড় বড় ইমারত বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি তাঁর সময়ই নির্মিত হয়েছিলো বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। জমিদার মহিমা রঞ্জন চৌধুরীর আমলে এখানে একটি যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো । ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর তদীয় পুত্র মহেন্দ্র রঞ্জন রায় চৌধুরী জাদু ঘরের স্থলে ‘মহিমা রঞ্জন মেমোরিয়াল হাই ইংলিশ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ‘কাকিনা মহিমা রঞ্জন সৃতি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে পরিচিত ।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
  • দলগ্রাম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

অর্থনৈতিক মেরুদন্ড কৃষি । কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে ধান.পাট, তামাক, ভুট্টা, গম, শাক-সবজি উল্লেখযোগ্য

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • শেখ ফজলল করিম: নীতিবাদী সাহিত্য সাধক। জন্ম – বাংলা ১২৮৯ সালের ৩০ চৈত্র ( ইতিহাস গবেষক সমর পালের মতে ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ এপ্রিল )- মৃত্যু ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ২৮ সেপ্টেম্বর।
  • করিম উদ্দিন আহমেদ: (জন্ম ১৯২৩ সালের ১৯ মার্চ) স্বাধীন বাংলাদেশের আইনসভার নির্বাচিত সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে কালীগঞ্জ উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]