কালীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই নিবন্ধটি ঝিনাইদহ জেলার একটি উপজেলা সম্পর্কিত; একই বানানের অন্যান্য নিবন্ধের জন্য, কালীগঞ্জ উপজেলা (দ্ব্যর্থতা নিরসন) দেখুন।
কালীগঞ্জ
উপজেলা
কালীগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কালীগঞ্জ
কালীগঞ্জ
বাংলাদেশে কালীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১০′উত্তর ৮৯°০১′পূর্ব / ২৩.১৬° উত্তর ৮৯.০২° পূর্ব / 23.16; 89.02স্থানাঙ্ক: ২৩°১০′উত্তর ৮৯°০১′পূর্ব / ২৩.১৬° উত্তর ৮৯.০২° পূর্ব / 23.16; 89.02
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ খুলনা বিভাগ
জেলা ঝিনাইদহ জেলা
আয়তন
 • মোট ৩১০ কিমি (১২০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২,৮২,৩৬৬
 • ঘনত্ব ৯১০/কিমি (২৪০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫৪.৮৩%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৭৩৫০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

কালীগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

কালীগঞ্জ উপজেলার মোট আয়তন ৩১০.১৬ বর্গ কিলোমিটার। কালীগঞ্জ উপজেলার অবস্থান ২৩.১৬ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩.২৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮৯.১৬ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এর উত্তরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, দক্ষিণে যশোর সদরচৌগাছা উপজেলা, পূর্বে শালিখাবাঘারপাড়া উপজেলা, পশ্চিমে কোটচাঁদপুরচৌগাছা উপজেলা অবস্থিত।[২]

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৮৬৩ সালের পূর্বে কালীগঞ্জ নলডাঙ্গা রাজবাড়ী প্রসাশনের অন্র্তভূক্ত ছিল। ১৮৬৩ সালে কালীগঞ্জ থানার সৃষ্টি হয়। কালীগঞ্জ থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। [২] এই উপজেলায় ১টি পৌরসভা, ১১ টি ইউনিয়ন,[৩] ১৮৮ টি মৌজা এবং ১৯৮ টি গ্রাম রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ও এর জিও কোড হল-

  • সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৩৩
  • জামাল ইউনিয়ন। এর জিও কোড-২০
  • কোলা ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৪৭
  • নিয়ামতপুর ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৬১
  • সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৮৮
  • ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৯৪
  • রায়গ্রাম ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৭৪
  • মালিয়াট ইউনিয়ন পরিষদ। এর জিও কোড-৫৪
  • বারবাজার ইউনিয়ন পরিষদ। এর জিও কোড-১০
  • কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৪০
  • রাখালগাছি ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৮১

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২৫২,৪৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৩০,৭১৬ জন এবং মহিলার সংখ্যা ১২১,৭২৭ জন।[৪] ধর্মাবলম্বী অনুসারে- * মুসলিম ২১০,৪৪১ জন, * হিন্দু ৪১,২১৪ জন, * বৌদ্ধ ৫৮৭ জন, * খ্রিস্টান ৩৫ জন, * অন্যান্য ১২৬ জন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মোবারকগঞ্জ চিনিকল

এই গঞ্জ শহর প্রতিষ্ঠা করে নলডাঙ্গা রাজা প্রমথভূষণ দেবরায়। এটি নলডাঙ্গা রাজবংশ-এর তহশীল ভুক্ত ছিল। প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে বর্তমান স্থানে এই শহরের গোড়াপত্তন। কালী দেবী-এর নামানুসারে নামকরণ করা হয় কালীগঞ্জ। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক জটিলতায় কখনও আলীগঞ্জ, কখনও মোবারকগঞ্জ, কখনও মধুগঞ্জ নামকরণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত কালীগঞ্জ নামটি তার ঐতিহাসিকতা নিয়ে টিকে আছে। ব্রিটিশ আমলে এখানে নদী উপর ব্রিজ এবং রেল স্টেশন নির্মিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে ওঠে এখানকার গণমানুষ। মুসলিম লীগের মোবারক আলী (?-১৯৫৯) এই আন্দোলনে এখানকার অন্যতম নেতা ছিলেন। পূর্ব-পাকিস্তান সময়ে মোবারক আলীর নামে মোবারকগঞ্জ চিনিকল, মোবারকগঞ্জ স্কুল, মোবারকগঞ্জ স্টেশনের নামকরণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস[সম্পাদনা]

যশোর এবং ঝিনাইদহ সীমান্তে মহিষাহাটি গ্রামের মান্দারতলায় ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং আনুমানিক ১০০ পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা মান্দারতলা থেকে পিছু হটে আসে। পরদিন ১৪ এপ্রিল দুলালমুন্দিয়ায় প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। কিন্তু যশোর ক্যান্টনমেন্ট পাকিস্তানীদের খুব শক্ত ঘাঁটি ছিল। ফলে তারা পিছন থেকে আক্রমণ করে। এইদিনের যুদ্ধে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ কালীগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়। কালীগঞ্জের ৩১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। এই শহরে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিচিহ্ন স্তম্ভ রয়েছে।

নদ-নদী ও জলাশয়[সম্পাদনা]

কালীগঞ্জ উপজেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে চিত্রা নদী, ভৈরব নদবেগবতী নদী[৫][৬] বেগবতী নদী জেলা সদর থেকে আলাদা করেছে। বারোবাজার ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদী যশোর জেলা হতে এই উপজেলাকে আলাদা করেছে। এছাড়া মর্জাদ, মাজদিয়া, বারফা ও সিমলা বাওড় রয়েছে। বিলের মধ্যে সাকোট, উত্তর, দিঘার, অরুয়া সালভা এবং তেঁতুল বিল উল্লেখযোগ্য।[৪]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

এখানকার সুইতলা মল্লিকপুর নামক স্থানে এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ রয়েছে। বারোবাজার সুলতানী আমলের মসজিদ এবং নলডাঙ্গা মঠবাড়ী রাজাদের নির্মিত অনেকগুলো মন্দির।

স্কুল[সম্পাদনা]

  • মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • নলডাঙ্গা সরকারি ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • সলিমুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • আয়েশা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • দুলাল্মুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • রঘুনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

কলেজ[সম্পাদনা]

  • মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ
  • নুর আলী ডিগ্রী কলেজ
  • হাটবারোবাজার ডিগ্রী কলেজ

মাদ্রাসা[সম্পাদনা]

  • শোয়াইবনগর মাদ্রাসা
  • বলিদা পাড়া মাদ্রাসা
  • আড়পাড়া মাদ্রাসা
  • মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাদ্রাসা

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে কালীগঞ্জ"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারী, ২০১৫ 
  2. বাংলাপিডিয়া,২০১১, ISBN 798-984-512-023-4
  3. http://www.dcjhenaidah.gov.bd/
  4. http://www.bbs.gov.bd
  5. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, ISBN 978-984-8945-17-9
  6. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]