কালচার রিফ্রেমড
| নারীবাদ |
|---|
| ধারাবাহিকের একটি অংশ |
কালচার রিফ্রেমড হল একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০১৫ সালে গঠিত হয়েছিল, এর কাজ ছিল তরুণদের ওপর পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাবের মোকাবিলা করা।[১] নারীবাদী, পর্নোগ্রাফি বিরোধী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা স্টপ পর্ন কালচার থেকে এটির সৃষ্টি হয়েছিল।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে, ইন্টারনেটের দ্রুত প্রসার ঘটে। তার সাথে সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির উপলব্ধতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারীবাদীরা পর্নোগ্রাফির বিস্তার এবং "এর উৎপাদন ও ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত সহিংসতা" নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংগঠিত হতে শুরু করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ পর্নোগ্রাফি শিল্পের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতির মোকাবিলায় একটি জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। কেউ কেউ ১৯৭০-এর দশকের অনুরূপ স্লাইড শোগুলির হালনাগাদ করা একটি সংস্করণ তৈরি করেন। সেটিকে শিক্ষামূলক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সংস্কৃতির অশ্লীলকরণের (বা যৌনীকরণ) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করা হয়। এই প্রচেষ্টার ফলে ২০০৮ সালে "স্টপ পর্ন কালচার" তৈরি হয়।[৩][৪]
২০১৫ সালে যখন স্টপ পর্ন কালচারের প্রতিষ্ঠাতা গেইল ডাইনস এবং অন্যান্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা যুবসমাজের ওপর পর্নের প্রভাব অধ্যয়ন করার জন্য এবং এর ক্ষতিকারক প্রভাব কমাতে পিতামাতা ও শিক্ষকদের সহায়তা করার জন্য সংগঠিত হয়েছিলেন তখন অলাভজনক সংস্থা কালচার রিফ্রেমড-এর জন্ম হয়।[১]
লক্ষ্য এবং কাজ
[সম্পাদনা]কালচার রিফ্রেমড-এর লক্ষ্যকে একটি বাক্যে বলা হয়েছে: "আমরা শিশু ও যুবকদের ওপর পর্নোগ্রাফির মানসিক, আচরণগত এবং যৌন ক্ষতি বন্ধ করার জন্য কাজ করি।"[১]
এই দলটি বলেছে যে ১২ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই স্পষ্ট, হার্ডকোর পর্ন দেখেছে, যদিও তা প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবেই। তাদের মতে, এর প্রভাবে সামাজিক, মানসিক ও শারীরিক বিকাশ এবং সেইসঙ্গে বোধগম্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বলে যে বাবা-মা ও পরিচর্যাকারী ব্যক্তিরা শিশুদের 'অতি-যৌনতাকেন্দ্রিক মিডিয়া এবং পর্ন'-এর প্রতি মানসিক ঘাতসহিষ্ণুতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারেন।[৫]
এর ওয়েবসাইটে বিনামূল্যের কোর্সের তিনটি বিভাগ রয়েছে, যার মধ্যে একটি শিক্ষকদের জন্য, একটি প্রাক-কৈশোর সন্তানের পিতামাতাদের জন্য এবং শেষেরটি বয়ঃসন্ধির সন্তানের পিতামাতাদের জন্য।[৬][৭] ওয়েবসাইটটিতে তথ্যপত্র এবং প্রতিবেদন দেখতে পাওয়া যাবে। এদের অনলাইন শিক্ষামূলক লাইব্রেরিটি শত শত পিয়ার পর্যালোচিত নিবন্ধের জন্য একটি তথ্যভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে।[৮]
স্টপ পর্ন কালচার
[সম্পাদনা]"ক্রমবর্ধমান অশ্লীল পপ সংস্কৃতি" এবং পর্ন শিল্পের শোষণ, বলপ্রয়োগ ও সহিংসতাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ২০০৮ সালে[৪] স্টপ পর্ন কালচার নামক ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছিল।[৯] এদের কাজের বেশিরভাগই করা হত অনলাইন বক্তৃতার ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রচারণার সাহায্যে। এর পাশাপাশি এরা নারীবাদী স্লাইডশো প্রশিক্ষণের জন্য কর্মশালা এবং সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।[১০] এটি ছিল একটি অবৈতনিক সংস্থা এবং এখানে নিয়োগ হত স্বেচ্ছাসেবক ও ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে। মূলত বিপণন, ডিজিটাল লেখা, ভিডিও সম্পাদনা এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রকল্পগুলির ওপর এরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করত।[১১]
২০১৩ সালে, স্টপ পর্ন কালচার সংস্থা পর্ন স্টাডিজ জার্নালের বিরুদ্ধে আবেদন লেখা শুরু করে। পর্ন স্টাডিজ ছিল অশ্লীলতার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে লেখা এই ধরণের প্রথম একটি পিয়ার পর্যালোচিত প্রকাশনা। "স্টপ পর্ন কালচার" -এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডাইনস দাবি করেছিলেন যে জার্নালটিতে পর্ন-মুখী পক্ষপাত রয়েছে। কিন্তু জার্নালটি এই দাবি অস্বীকার করেছিল।[১২]
২০১৪ সালে, মিডিয়া এডুকেশন ফাউণ্ডেশন একটি তথ্যচিত্র তৈরি করে যার শিরোনাম ছিল "পর্নল্যাণ্ড: হাউ দ্য পর্ণ ইণ্ডাস্ট্রি হ্যাজ হাইজ্যাকড আওয়ার সেক্সুয়ালিটি"। এটি ডাইন্সের ২০১০ সালের একটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল এবং স্টপ পর্ণ কালচার ওয়েবসাইটে প্রচারিত হয়েছিল। একে "নারীবাদী পর্নোগ্রাফি বিরোধী আন্দোলনের মূল যুক্তিগুলির একটি আদর্শ ভূমিকা" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।[১৩]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্নোগ্রাফি বিরোধী আন্দোলন
- যুক্তরাজ্যে পর্নোগ্রাফি বিরোধী আন্দোলন
- ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশন - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌন শিল্পের একটি অলাভজনক বাণিজ্য সংস্থা।
- ন্যাশনাল সেন্টার অন সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন - আগে ছিল মরালিটি অন মিডিয়া
- পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে নারী - ১৯৭০ এবং ১৯৮০ এর দশকের পর্ন-বিরোধী দল যারা স্লাইড শো ব্যবহার করত।
- XXXchurch.com - পর্নোগ্রাফি এবং যৌনতার প্রতি আসক্তিতে আক্রান্ত পুরুষদের সাহায্য করার জন্য একটি ওয়েবসাইট
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 "About Culture Reframed"। culturereframed.org। Culture Reframed। ২০২৫। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "About Stop Porn Culture International"। stoppornculture.org। Stop Porn Culture। ২০১৪। ৩ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ "History of SPC"। stoppornculture.org। Stop Porn Culture। ২০১৪। ১৮ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৪।
- 1 2 "Dr. Gail Dines - Culture Reframed"। culturereframed.org। Culture Reframed। ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "The Crisis - Culture Reframed"। culturereframed.org। Culture Reframed। ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Courses - Culture Reframed"। culturereframed.org। Culture Reframed। ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৫।
- ↑ Ebbert, Stephanie (৬ সেপ্টেম্বর ২০২০)। "How to build your children's resilience to porn"। The Boston Globe। ১১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Resources - Culture Reframed"। culturereframed.org। Culture Reframed। ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "SPC Mission Statement"। stoppornculture.org। Stop Porn Culture। ২০১৪। ৬ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১৪।
- ↑ Tarrant, Shira (৬ আগস্ট ২০১০)। Ms.। Feminist Majority Foundation https://msmagazine.com/2010/08/06/porn-pleasure-or-profit-ms-interviews-gail-dines-part-iii/। ২২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৫।
{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - ↑ "SPC Internships"। stoppornculture.com। Stop Porn Culture। ২০১৪। ৬ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৪।
- ↑ Carole Cadwalladr (২০১৩)। "Porn wars: the debate that's dividing academia"। theguardian.com। Guardian News and Media Limited। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৪।
- ↑ "Pornland: How the Porn Industry Has Hijacked Our Sexuality – a Documentary"। stoppornculture.org। Stop Porn Culture। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪। ১৪ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৪।