কালকা-সিমলা রেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(কালকা-সিমলা রেলওয়ে থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search
ভারতের পর্বত রেল
KSR Steam special at Taradevi 05-02-13 56.jpeg
তারাদেবী স্টেশনে শিভাক ডিলাক্স এক্সপ্রেস
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
অবস্থান ভারত উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
মানদণ্ড ii, iv
তথ্যসূত্র ৯৪৪
স্থানাঙ্ক ৩১°০৬′১৭″ উত্তর ৭৭°১০′২৪″ পূর্ব / ৩১.১০৪৬০৫° উত্তর ৭৭.১৭৩৪২৪° পূর্ব / 31.104605; 77.173424
শিলালিপির ইতিহাস ১৯৯৯ (২৩তম সভা)
প্রসারণ ২০০৫; ২০০৮
কালকা-সিমলা রেল ভারত-এ অবস্থিত
কালকা-সিমলা রেল
কালকা-সিমলা রেলের অবস্থান

কলকা-সিমলা রেলওয়ে একটি ন্যারোগ্যাজ (২ ফুট ৬ইঞ্চি) রেলওয়ে। এটি উত্তর পশ্চিম ভারতের কলকা থেকে সিমলা ভ্রমনের সবচেয়ে পর্বতময় একটি রেলওয়ে। উত্তেজনাপূর্ণ পাহাড়-পর্বত এবং ছবির মতন আশেপাশের গ্রামের জন্য এই রেলওয়ে বিখ্যাত

ইতিহাস[সম্পাদনা]

শিমলা (বর্তমানে সিমলা) ইংরেজরা স্থাপিত করে এংলো-গুর্খা যুদ্ধের কিছুকাল পরে এবং এটি হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ৭.১১৬ ফুট (২,১৬৯ মিঃ) উচুতে অবস্থিত। ১৮৩০ সাল নাগাদ সিমলা ইংরেজদের প্রধান ঘাটিতে পরিণত হয়। ১৮৬৪ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতে গ্রীষ্মকালীন রাজকধানীতে পরিণত হয়। এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদর দফতরও ছিল। রেলওয়ে তৈরী পূর্বে এখান যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল গ্রামের গাড়ি।[১]

১৮৯৮ সালে দিল্লী-আম্বালা-কলকা রেলওয়ে কোম্পানী ২ফুট গ্যাজে (৬১০মিমি.) এই রেলওয়েটি তৈরী শুরু করে। [১] এই রেলওয়ে তৈরী প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৮৪,৭৮,৫০০ টাকা। যাহোক কাজটি শেষ করতে বাজেটের দ্বিগুণ ব্যয় হয়। ১৯০৩ সালের ৯ই নভেম্বর ৯৬.৫৪ কি.মি. রেলওয়ে রেল চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।[১] উচুতে রাজধানীর অবস্থান এবং অদ্ভুত পরিবেশের জন্য কলকা-সিমলা ট্রেন ভ্রমণে অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় বেশি ভাড়া নেওয়া হয়। যাহোক এই রেল লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ করা কোম্পানীর জন্য সহজ ছিল না, কোম্পানীকে ১৯০৬ সালের ১লা জানুয়ারীতে তৎকালীন সরকারের কাছে তৎকালীন ১,৭১,০৭,৭৪৮ টাকায় বিক্রি করে দিতে হয়। ১৯০৫ সালে এই রেললাইনের গ্যাজ পুনরায় পরিবর্তন করে ২’ ৬” গ্যাজে উন্নিত করা হয়।

২০০৭ সালের মধ্য আগষ্টে হিমাচল প্রদেশ সরকার ঘোষণা করে যে, এই রেলওয়ে রুট সেপ্টেম্বরে বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদা পাওয়া জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।[২]

এই রেলওয়ে দিয়ে যেতে পথিমধ্যে একটি শহর পড়ে যার নাম সোলান, যা ছোট সিমলা নামে পরিচিত। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি জুন মাসে সোলান শহরে শুলিনি দেবী’র পূজা হয় যার নাম অনুসারে শহরের নাম সোলান।

সোলান স্টেশনে সাধারণ ট্রেন

২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর একটি প্রশিক্ষিত দল উক্ত রেলওয়ে এলাকা ভ্রমণ করে বিশ্ব ঐতিহ্য নির্বাচনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। পরবর্তিতে ২০০৮ সালের জুলাই মাসের ৮ তারিখে ভারতের পর্বত রেলওয়ে হিসেবে কলকা-সিমলা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে।.[৩] ঐ সময় বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভারতের পর্বত রেলওয়ে (দার্জিলিং হিমালয় রেলওয়ে ও নিলিগিরি পর্বত রেলওয়ে সহ) এবং মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টার্মিলান আগে থেকে স্থান লাভ করেছিল।[৪]

পথ[সম্পাদনা]

কলকা-সিমলা রেলওয়ে
০ কি.মি. কলকা
৬ কি.মি. টাকসাল
১১ কি.মি. গাম্মান
১৭ কি.মি. কটি
২৭ কি.মি. সন্বোয়ারা
৩৩ কি.মি. ধরমপুর
৩৯ কি.মি. কুমারহাট্টি
৪৩ কি.মি. বারোগ
৪৭ কি.মি. সোলান
৫৩ কি.মি. সালোগ্রা
৫৯ কি.মি. কান্দাঘাট
৬৫ কি.মি. কানোহ
৭৩ কি.মি. কাথলীঘাট
৭৮ কি.মি. শঘী
৮৫ কি.মি. তারাদেবী
৯০ কি.মি. টটু (জতুগ)
৯৩ কি.মি. সামারহিল
৯৬ কি.মি. সিমলা

ব্রিটিশ ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী সিমলার সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য কলকা-সিমলা রেলওয়ে স্থাপিত হয়। বর্তমানে সিমলা হিমাচল প্রদেশের রাজধানী এবং কলকা হরিয়ানা প্রদেশের পাঞ্চকুলা’র একটি শহর। পুরো ট্রেন রাস্তায় দুইধারে দর্শনীয় প্রকৃতি এর চোখ ধাধানো প্রকৃতির মাঝে এই রেললাইন, ভ্রমন পিপাসুদের আকর্ষন করে। ট্রেন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৫৬ মিঃ উচুতে অবস্থিত শহর কলকা অতিক্রম করার পরপর ট্রেন পাহাড়ে পাদদেশের প্রবেশ করে এবং এর পরপরই ট্রেনটি পাহাড়ে চড়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

স্টেশন[সম্পাদনা]

এই রুটটি কলকার সিভালিক মালভূমির বিভিন্ন স্থান যেমনঃ ধরমপুর, সোলান, কান্দাঘাট, তারাদেবী, সালগোরা, টটু, সামারহিল এবং সিমলা থেকে হিমালয়ের প্যানোরমিক ভিউ দেখা যায়, যা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষনে পরিণত হয়েছে। মজার ব্যপার হচ্ছে এই রূটের ২০ টি ছোট ছোট স্টেশন এই রূটের সেতুর ঠিক কাছাকাছি অবস্থিত, যা নির্মিত হয়েছিল সেতু তৈরীর কাজে নিয়োজিত শমিক কর্মীদের বিশ্রামের জন্য। যার সবগুলো এখনো বিদ্যমান, কিন্তু কিছু কিছু পরিত্যক্ত।[৫]

একটি বড় সেতুর একটি লাইনে একটি সাধারণ ট্রেন

সুড়ঙ্গ[সম্পাদনা]

আসলে কলকা-সিমলা রেলওয়ে রুটে মোট ২০টি সুড়ঙ্গ পথ অবস্থিত। কিন্তু ১৯৩০ সালে এই ১০৭ টি সুড়ঙ্গ পথের ৪টি সুড়ঙ্গ পথ ভেঙে ফেলা হয়, তারপর থেকে এই রুটে মোট সুড়ঙ্গ পথ হয় ১০৩ টি। ২০০৬ সালে ৪৬ নাম্বার সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়, যায় ফলে বর্তমানে মোট ১০২ টি সুড়ঙ্গ পথ কার্যকর আছে। সিমলাতে অবস্থিত এই রুটের শেষ সুড়ঙ্গ পূর্বের ১০৩ নাম্বার সুড়ঙ্গ সিমলা শহরের বিখ্যাত স্থাপনায় পরিণত হয়।

সবচেয়ে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ হল বারোগে, এই সুড়ঙ্গ নিয়ে স্থানীয় লোকের মধ্যে বিভিন্ন কথা ও কিংবদন্তি রয়েছে। কর্ণেল বারোগের বিখ্যাত গল্প অনুসারে, এই সুড়ঙ্গের প্রকৌশলী এই সুড়ঙ্গের মধ্যে আত্মহত্যা করেন। তিনি সুড়ঙ্গটির তৈরী করার জন্য দুই দিক থেকে খনন শুরু করেন, কিন্তু তিনি তা জোড়া লাগাতে পারেন না। তাই তাকে তৎকালীন ১ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি এই অপমান সহ্য করতে না পেরে সেই অসম্পূর্ণ সুড়ঙ্গে গুলি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সে স্থানটি এখনো আছে।[৬] পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী এইচ. এস. হেরলিংটন এই কাজটি ১৯০০-১৯০৩ সালে শেষ করেন। ref name="RuchTrib"/>[৭]

পরিকাঠামো[সম্পাদনা]

এই রেললাইনে ৮৬৪ টি সেতু আছে যার একটির একটি ১৮.২৯ মিঃ লম্বা স্টিলের সেতু। অন্যান্য গুলো অনেকটা গ্যালারীর মতন দেখতে অনেকটা প্রাচীন রোমান স্থাপনার মতন।

৪৯৩ নাম্বার সেতু, ঐতিহাসিকভাবে যেটা “আর্ক গ্যালারী” নামে পরিচিত। যা কান্দাঘাট ও কানোহ স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এইটা তিনস্তরের গ্যালারী মতন পাথরের তৈরী। ২২৬ নাম্বার সেতু, যা সন্বোয়ারা ও ধরনমপুরের মাঝে অবস্থিত। যা পাচ স্তর বিশিষ্ট গ্যালারীর মত।[১]

হিমালয়ান কুইন ট্রেন

ট্রেন[সম্পাদনা]

কালকা থেকে[সম্পাদনা]

নম্বর নাম নির্গমন বিরাম শ্রেণী
৫২৪৫৭ প্যাসেঞ্জের ৩:৩০ ১৬ FC, GEN
৭২৪৫১ রেল মোটর ৫:০০ FC only
৫২৪৫১ শিবলিক ডিলাক্স এক্সপ্রেস ৫:২০ CC only
৫২৪৫৩ এক্সপ্রেস ৬:০০ ১০ FC, 2S, GEN
৫২৪৫৫ হিমালয়ান কুইন ১২:১০ CC, GEN

শিমলা থেকে[সম্পাদনা]

  • ৫২৪৫২ শিভাক ডিলাক্স এক্সপ্রেস (সিমলা ১৭:৪০-১০:১৫কলকা) চেয়ার কোচ খাবারসহ
  • ৫২৪৫৪ কলকা সিমলা এক্সপ্রেস (সিমলা ১৮:১৫-২৩:২০কলকা) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী ও লোকাল সিটিং
  • ৫২৪৫৬ হিমালয়ান কুইন (সিমলা ১০:৩০-১৬:১০কলকা) চেয়ার কোচ, মেইল সার্ভিস
  • ৫২৪৫৮ কলকা সিমলা প্যাসেঞ্জার (সিমলা ১৪:২৫-২০:১০কলকা) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী ও লোকাল সিটিং
  • ৭২৪৫২ রেল মোটর (সিমলা ১৬:২৫-২৩:৩৫কলকা) উচ্চ শ্রেণীর পর্যটকদের জন্য। শুধু প্রথম শ্রেনীর চেয়ার কোচ। কাচের ছাদ, বাইরের দৃশ্য দেখার জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী
বারোগ স্টেশনে ছোট ট্রেন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Engineer" journal article, circa 1915, reprinted in Narrow Gauge & Industrial Railway Modelling Review, no. 75, July 2008
  2. "HP declares Kalka–Shimla Railway as 'heritage' property"। The Hindu। ২০০৭-০৮-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৮-১৩ 
  3. "Kalka–Shimla Railway makes it to Unesco's World Heritage list"The Hindu Business Line। ২০০৮-০৭-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৭-১০ 
  4. http://www.outlookindia.com/pti_print.asp?id=494079
  5. Khanna, Ruchika M. (জুন ৫, ২০০৩)। "Whistling through woods, the romance continues"The Tribune, Chandigarh। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৮-১৫ 
  6. Singh, Jagmeet। "Man behind Barog tunnel lies forgotten"The Tribune, Chandigarh। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-০১ 
  7. Chauhan, Pratibha (অক্টো ৯, ২০১১)। "A leaf from history: ...Shimla's Baba Bhalku Rail Museum"The Sunday Tribune, Chandigarh। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৮-১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]