বিষয়বস্তুতে চলুন

কার্পাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কার্পাস
জাপানের ওসাকায় চাষকৃত নমুনা উদ্ভিদের বীজের ক্যাপসুল
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস সম্পাদনা করুন
জগৎ/রাজ্য: প্লান্টি (Plante)
গোষ্ঠী: ট্র্যাকিওফাইট (Tracheophytes)
ক্লেড: অ্যাঞ্জিওস্পার্মস (Angiosperms)
ক্লেড: ইউডিকটস
গোষ্ঠী: রোসিদস
বর্গ: Malvales
পরিবার: Malvaceae
গণ: Gossypium
লিনিয়াস[]
প্রজাতি: G. arboreum
দ্বিপদী নাম
Gossypium arboreum
লিনিয়াস[]
প্রতিশব্দ[]
    • Gossypium albiflorum Tod.
    • Gossypium anomalum G.Watt
    • Gossypium arboreum var. wightianum (Tod.) M.R.Almeida
    • Gossypium asiaticum Raf.
    • Gossypium bani (G.Watt) Prokh.
    • Gossypium cernuum Tod.
    • Gossypium comesii Sprenger
    • Gossypium figarei Tod.
    • Gossypium glabratum Tod.
    • Gossypium gracile Salisb.
    • Gossypium herbaceum var. wightianum (Tod.) T.Cooke
    • Gossypium indicum Lam.
    • Gossypium intermedium Tod.
    • Gossypium macranthum Tod.
    • Gossypium nanking Meyen
    • Gossypium neglectum Tod.
    • Gossypium obtusifolium Roxb. ex G.Don
    • Gossypium obtusifolium var. wightiana G.Watt
    • Gossypium perennans Delile ex Roberty
    • Gossypium puniceum Fenzl
    • Gossypium roseum Tod.
    • Gossypium roxburghii Tod.
    • Gossypium royleanum Tod.
    • Gossypium rubicundum Roxb. ex Wight & Arn.
    • Gossypium rubrum Forssk.
    • Gossypium sanguineum Hassk.
    • Gossypium soudanense (G.Watt) G.Watt
    • Gossypium vaupelii J.Graham
    • Gossypium wattianum S.Y.Hu
    • ...

কার্পাস বা কার্পাস তুলা (বৈজ্ঞানিক নাম: Gossypium arboreum) হলো গসিপিয়াম গণের একটি উদ্ভিদ। এটি ভারতীয় উপমহাদেশপ্রাচীন বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের স্থানীয় প্রজাতি। সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা সিন্ধু সভ্যতায় কাপড় উৎপাদনের জন্য কার্পাস চাষের নিদর্শন পাওয়া যায়। ১৭৫৩ সালে কার্ল লিনিয়াসের স্পিসিজ প্লান্টারাম গ্রন্থে এর বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি প্রজাতির একটি হলোটাইপ প্রদান করেন, যা বর্তমানে সুয়েডীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের লিনিয়ান হার্বেরিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে।[]

বর্ণনা

[সম্পাদনা]

কার্পাস গাছ মূলত একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা এক থেকে দুই মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর শাখা কিছুটা বেগুনি আভাযুক্ত এবং সূক্ষ্ম রোমে আবৃত থাকে। পাতার গোড়ায় সরলরৈখিক থেকে বল্লমাকার উপপত্র দেখা যায়। কখনো কখনো এরা কাস্তে আকৃতিরও হতে পারে। পাতাগুলো ১.৫ থেকে ১০ সে.মি. লম্বা বৃন্ত দ্বারা কাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকে। পত্রফলকের আকৃতি গোলাকার থেকে ডিম্বাকার হয়ে থাকে। পাতায় পাঁচ থেকে সাতটি খাঁজ বা খণ্ডকের উপস্থিতির জন্য এদের খানিকটা ম্যাপল পাতার মতো দেখায়। খণ্ডকগুলো সরলরৈখিক থেকে বল্লমাকার হয়ে থাকে। এদের শীর্ষ দন্তাকার। মধ্যশিরা এবং কখনো কখনো এর সাথে সংযুক্ত শিরায় গ্রন্থি উপস্থিত থাকতে পারে। পত্রপৃষ্ঠ মসৃণ। কচি অবস্থায় পাতায় সরল তারকাকৃতির রোম উপস্থিত থাকে এবং পাতা পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে ঝরে পড়ে।[]

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃন্তে ফুল ফোটে। ফুলের নিচে উপবৃতি উপস্থিত থাকে, যা মূলত বৃত্যংশসদৃশ একমুখী মঞ্জরীপত্রের সমাহার। এরা আকারে বড় এবং প্রতিটি শীর্ষ খণ্ডিত। মাঝেমাঝে খণ্ড দৃষ্টিগোচর না-ও হতে পারে। এরা গোড়ায় তাম্বুলাকার বা হৃৎপিণ্ডাকার এবং সূক্ষ্মাগ্র। প্রকৃত বৃতি খুবই ছোট, লম্বায় প্রায় ৫ মিলিমিটার (০.২০ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়। এর আকৃতি কাপ-সদৃশ এবং পাঁচটি সূক্ষ্ম খণ্ডযুক্ত। পাঁপড়ি পাণ্ডুর হলুদ বর্ণের। মাঝেমাঝে মধ্যখানে বেগুনি রঙের সন্নিবেশ ঘটে থাকে। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাঁপড়িই বেগুনি বর্ণের হতে পারে। দৈর্ঘ্যে প্রতিটি পাঁপড়ি ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার (১.২ থেকে ১.৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পুংকেশর পরাগরেণু বহন করে এবং ১.৫ থেকে ২ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ফল ১.৫ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার (০.৫৯ থেকে ০.৯৮ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা ও তিন থেকে চারটি প্রকোষ্টবিশিষ্ট হয়ে থাকে। ফল মসৃণ, রোমবিহীন এবং লম্বাকার বা ডিম্বাকৃতির হতে পারে। পৃষ্ট খাঁজকাটা ও গর্তযুক্ত এবং প্রান্তভাগ সরু হয়ে থাকে। ভেতরের বীজ গোলাকৃতির এবং লম্বা সাদা তুলার আঁশে আবৃত থাকে।[]

বাংলা অঞ্চলে (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকাই মসলিন নামের বিশেষ একটি কাপড় উৎপাদনে "ফুটি কার্পাস" (Gossypium arboreum var. neglecta) নামে কার্পাসের একটি বিশেষ জাতের তুলা ব্যবহৃত হতো।[] ঢাকার দক্ষিণে মেঘনা নদী-তীরবর্তী অঞ্চলেই কেবল এই জাতের তুলা উৎপাদিত হতো। এই তুলার প্রসারণক্ষমতা অন্যান্য জাতের তুলার চাইতেও বেশি ছিল, যা অধিক কাউন্টের সুতা কাটায় সহায়ক ছিল।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Rowe, J.; Holubec, V. (২০১৯)। "Gossypium anomalum"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯আইইউসিএন: e.T৭১৭৭৪১৬৬A৭১৭৭৪১৮৮। ডিওআই:10.2305/IUCN.UK.2019-2.RLTS.T71774166A71774188.en
  2. 1 2 3 "Gossypium arboreum"Plants of the World Online (ইংরেজি ভাষায়)। Royal Botanic Gardens, Kew। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২২
  3. 1 2 3 Abedin, Sultanul (১৯৭৯), "Gossypium arboreum", Ali, S.I.; Qaiser, M. (সম্পাদকগণ), Flora of Pakistan, খণ্ড ১৩০, St. Louis: University of Karachi & Missouri Botanical Garden, পৃ. ৩০
  4. Gorvett, Zaria (১৭ মার্চ ২০২১)। "The ancient fabric that no one knows how to make"BBC Future। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২২
  5. Islam, Khademul (মে ২০১৬)। "Our Story of Dhaka Muslin"aramcoworld.com। AramcoWorld। ১০ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২২

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]