কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ)
ကညီဒီကလုာ် တၢ်ထူၣ်ဖျဲး သုးမုၢ်ဒိၣ်
নেতা[[]]
Bo Mya (১৯৭৬–২০০০)
Saw Ba U Gyi   (১৯৪৯–১৯৫০)
অপারেশনের তারিখ১৯৪৯ (1949) – বর্তমান
সদরদপ্তরLay Wah
Manerplaw (until 1995)
সক্রিয়তার অঞ্চলকায়াহ রাজ্য
কায়িন রাজ্য
Tanintharyi Region
Bago Region
Mon State[১]
মতাদর্শKaren nationalism
Self-determination
আকার20,000
এর অংশ Karen National Union
মিত্র
বিপক্ষState opponents

Non-state opponents

খণ্ডযুদ্ধ ও যুদ্ধInternal conflict in Myanmar

কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ( স'গা করেন: ကညီဒီကလုာ် တၢ်ထူၣ်ဖျဲး သုးမုၢ်ဒိၣ် , বর্মী: ကရင်အမျိုးသား လွတ်မြောက်ရေး တပ်မတော်; সংক্ষেপে কেএনএলএ) হল কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) এর সামরিক শাখা, যা মিয়ানমারের (পূর্বে বার্মা) কারেন জনগণের স্ব-নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচারণা চালায়। কেএনএলএ ১৯৪৯ সাল থেকে বার্মিজ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কেএনএলএ ১৯৮০ সালে প্রায় ২০০০০, ২০০১ সালে ৩০০০, ২০০৬ সালে ৫০০০[৩] [৪] সালে ৬০০০ এবং ২০১৪ সালে ৭০০০ জন সৈন্য ছিল। ২০২১ সালের প্রথম দিকে, কেএনএলএ-এর কমপক্ষে ১৫,০০০ সৈন্য রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। [৫] সেনাবাহিনী সাতটি ব্রিগেডে বিভক্ত [৩] এবং একটি 'স্পেশাল ফোর্স' বিশেষ অভিযানের জন্য সংরক্ষিত। [৬]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাক-১৯৯০[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে বার্মিজ স্বাধীনতার সময় কারেন সম্প্রদায় এবং বার্মিজ সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল। কিছু কারেন স্বাধীনতা চেয়েছিল এবং অন্যরা বার্মার মধ্যে সহাবস্থানের চেষ্টা করেছিল। কেএনএলএকে পূর্বে কারেন ন্যাশনাল ডিফেন্স অর্গানাইজেশন (কেএনডিও) বলা হত। এটি ছিল একটি সশস্ত্র সংগঠন। যা কেএনইউ কতৃক ১৯৪৭ সালে কারেন সম্প্রদায় এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত হয়েছিল। বেশিরভাগ কেএনডিও সৈন্য ব্রিটিশ বার্মার বাহিনীর সদস্য ছিলো।

১৯৪৯ সালের গোড়ার দিকে বার্মিজ সরকার মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর কারেন নেতাকে গ্রেপ্তার করে এবং স্বায়ত্বশাসন এবং কারেন স্বাধীনতা বিরোধী নে উইনকে তার পদে প্রতিস্থাপন করে। তখন রেঙ্গুনের আশেপাশে কারেন অধ্যুষিত শহরগুলির বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ এবং কারেন রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের ফলে কারেন জাতীয় ইউনিয়ন সশস্ত্র সংগ্রামের ঘোষণা দেয় এবং বিশ্বের দীর্ঘতম চলমান গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

যুদ্ধের শুরুতে কারেন বাহিনী মান্দালয়ের মতো শহর সহ উত্তর বার্মার বেশিরভাগ অংশ দখল করে নেয় এবং ইনসেইন টাউনশিপে রেঙ্গুনের বাইরের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। কিন্তু সামরিক সরবরাহ পাওয়ার জন্য একটি বন্দর না থাকায় কারেন বাহিনী ধীরে ধীরে তা বার্মার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রত্যাহার করে নেয়।

১৯৭৬ সালে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চাওয়ার বিষয়ক নীতি পরিবর্তন করে এবং একটি নতুন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে যোগ দেয়। সশস্ত্র জাতিগত রাজনৈতিক দলগুলির এই জোট বার্মাকে একটি ফেডারেল ইউনিয়ন করতে আন্দোলন শুরু করে। [৭]

১৯৯০-২০১০[সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালে কেএনএলএতে বৌদ্ধ সৈন্যদের একটি দল দাবি করে যে কেএনএলএ অন্যায়ভাবে খ্রিস্টানদের আধিপত্য ছিল। তাই তারা কেএনএলএ থেকে আলাদা হয়ে একটি নতুন বাহিনী ডেমোক্রেটিক কারেন বু্দ্ধিস্ট আর্মি (ডিকেবিএ) গঠন করে। যেটি দ্রুত বার্মিজ সামরিক সরকারের সাথে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে নেয়।

১৯৫৫ সালে কেএনএলএ ডিকেবিএর কাছে কাওমুরা এবং মায়াওয়াদ্দিকে হারায়। এটি কেএনএলএ এর সীমান্ত বাণিজ্য কর আরোপকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

কেএনএলএ ব্রিগেড ৭-এর প্রাক্তন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হতে মং (হতেন মং) এর নেতৃত্বে নিজেদের কেএনইউ/কেএনএলএ পিস কাউন্সিল নামে পরিচিতি দেয়া একটি দল ফেব্রুয়ারি ২০০৭ সালে কেএনএলএ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং একটি শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির আয়োজন করে। কারেন লিবারেশন আর্মি কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই বার্মিজ সামরিক সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। [৮]

২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী থাইল্যান্ডে কারেন লিবারেশন আর্মির সেক্রেটারি-জেনারেল পড়োহ মাহন শা লাহ ফানকে হত্যা করা হয়।

২০০৯ সালের ১৩ই মে মিয়ানমারের একজন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার মো. জেনারেল কাউং মায়াত কেএনএলএ কর্তৃক নিহত হয়। তিনি ৫নং সামরিক অপারেশন কমান্ডের কমান্ডার ছিলেন। [৯] পরের মাসে ১৯শে জুন ডিকেবিএ সৈন্যরা কেএনএলএ ব্রিগেড ৭ সদর দপ্তরে আক্রমণ শুরু করে, যা তারা ২৩শে জুন দখল করে নেয়। [১০]

২০১০-বর্তমান[সম্পাদনা]

২০১০ সালে ডিকেবিএ বার্মিজ সামরিক সরকারের বর্ডার গার্ডে নিয়োজিত হবে এই ঘোষণার পর ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ডেমোক্রেটিক কারেন বৌদ্ধ সেনা (ডিকেবিএ) সৈন্যরা কেএনএলএ পরিত্যাগ করে। কেউ কেউ থাইল্যান্ডে পালিয়ে যায়।

২০১০ সালের নভেম্বরে, ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক কারেন বৌদ্ধ সেনাবাহিনীর বড় অংশ বিদ্রোহ করেছে এবং কেএনএলএ-এর সাথে নিজেদেরকে পুনরায় সংযুক্ত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। যার ফলে জান্তা সৈন্যদের সাথে বিরোধ দেখা দেয়। সামরিক সরকারের সম্ভাব্য ক্র্যাকডাউনের আগেই দুই বিদ্রোহী বাহিনী একটি জোট গঠন করে। [১১]

২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর মিয়ানমার সরকার কেএনএলএর মূল সংস্থা কেএনইউ ও অন্যান্য কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি চুক্তি (এনসিএ) স্বাক্ষর করে। [১২]

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে কেএনএলএ যোদ্ধাদের সাথে তানিনথারি অঞ্চলে নিউ মন স্টেট পার্টির (এনএমএসপি) সশস্ত্র শাখা মোন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (এমএনএলএ) সদস্যদের সাথে সংঘাত ঘটে। কেএনইউ ও এনএমএসপি উভয়ই গৃহযুদ্ধের সময় দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি চুক্তির (এনসিএ) স্বাক্ষরকারী। ২০১৮ সালের মার্চে এ দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি অস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

২০২১ সালের মায়ানমার অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কেএনইউ এবং মিয়ামার সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ২০২১ সালের ২৭শে মার্চ কেএনএলএ ব্রিগেড ৫ থাই সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের একটি সেনা ঘাঁটি দখল করে একজন ডেপুটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সহ ১০ জন সৈন্যকে হত্যা করে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী পাল্টা জবাব হিসেবে কারেন গ্রামে একাধিক বিমান হামলা চালায়। [১৩] [১৪]

২০২১ সালের ২৭শে এপ্রিল কেএনএলএ থাইল্যান্ডের মায়ে স্যাম ল্যাপ উপ-জেলার সীমান্তবর্তী সালভিন নদীর তীরে মিয়ানমারের একটি সেনা ঘাঁটি দখল করে। যুদ্ধ চলাকালে সীমান্তের থাইল্যান্ডের এক বেসামরিক নাগরিক একটি বুলেটে বিঁধে আহত হয়েছিল। [১৫] [১৬]

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কেএনএলএ ব্রিগেড ৩ এবং ৫ বাগো অঞ্চলের কিয়াউক্কি উপজেলায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প দখল করে নেয়। [১৭] [১৮]

বিদেশী স্বেচ্ছাযোদ্ধা[সম্পাদনা]

কেএনএলএর পক্ষে লড়াই করছে এমন বেশ কিছু বিদেশী সৈন্য মিয়ানমারে আছে।

ডেভ এভারেট একজন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান এসএএস সৈনিক, কেএনএলএর পক্ষে লড়াই করেন এবং পরে কেএনএলএতে অর্থ চুরি করার চেষ্টা করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার হন। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেস বল তাদের সামরিক কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন।

টমাস ব্লেমিং নামের একজন আমেরিকান দাবি করেছেন যে তিনি ক্যারেনের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন এবং ওযার ইন কারেন কান্ট্রি নামে একটি বই লিখেছেন। [১৯]

কেএনএলএর তিনজন ফরাসি স্বেচ্ছাসেবক লড়াইয়ে নিহত হয়েছিল: জিন-ফিলিপ কোরেজেস (নিহত ১৯৮৫), অলিভিয়ের থিরিয়াত (নিহত ১৯৮৯) এবং গুইলাম অয়েলিক (নিহত ১৯৯০)।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "KNU and NMSP agree to temporary ceasefire"The Myanmar Times (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ মার্চ ২০১৮। ২৯ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৮ 
  2. "Message from Lieutenant General Bao Jue Hai, Deputy Commander of the Karen National Liberation Army, to the Graduation Ceremony of the Burmese People's Liberation Army"। ৮ এপ্রিল ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২২ 
  3. Asia Times
  4. "Burma: Prospects for a Democratic Future, by Robert I. Rotberg"। ২৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  5. "ชาติพันธุ์กระเหรี่ยง ต่อสู้เพื่อความฝัน "รัฐกะเหรี่ยง""pptvhd36.com (থাই ভাষায়)। ৩০ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২১ 
  6. 'Special Force' Joins KNLA on High Alert ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ মে ২০১১ তারিখে
  7. Karen National Union website www.knuhq.org
  8. Karen Peace Council Rejects BGF Proposal ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ নভেম্বর ২০১০ তারিখে
  9. "Senior Burmese Commander killed by KNLA Soldiers"। ৩০ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১০ 
  10. "Mae La Refugees Fear DKBA Attack"। ২৯ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১০ 
  11. "Myanmar rebel armies join forces"Al-Jazeera English। ১২ নভেম্বর ২০১০। ১৩ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১০ 
  12. "Myanmar signs ceasefire with eight armed groups"Reuters। ১৪ অক্টোবর ২০১৫। ৩ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৭ 
  13. "Six die in Myanmar Air Strikes on Karen Villages Near the Thai Border"। ২৭ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২১ 
  14. "Myanmar army launches air strikes in Karen state, group says"Reuters। ২৭ মার্চ ২০২১। ১১ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২১ 
  15. "Myanmar army base burned down by guerrillas; airstrikes follow"USA Today। ২ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২১ 
  16. "Myanmar insurgents say they razed military base near Thai border"Bangkok Post। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২১ 
  17. "KNLA and KNDO Capture Tatmadaw Camp"। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  18. "KNU occupies Myanmar military base in Bago"। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  19. Bleming, Thomas James (২০০৭)। War in Karen Country: Armed Struggle for a Free and Independent Karen State in Southeast Asia। iUniverse। আইএসবিএন 978-0-595-69327-6ওসিএলসি 609978846