বিষয়বস্তুতে চলুন

কারকাদান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কারকাদান (কারগাদান থেকে)
ওয়াল্টার্স পাণ্ডুলিপি W.659-এর একটি পৃষ্ঠা, যেখানে কারকাদান চিত্রিত হয়েছে।
দলকাল্পনিক প্রাণী
অঞ্চলভারত, পারস্য

কারকাদান (আরবি: كركدن কারকাদান বা কারকাদ্দান, ফার্সি: كرگدن) হল একটি কাল্পনিক প্রাণী, যা বলা হয় যে ভারতের ও ইরানের তৃণভূমিতে বাস করত।

ফার্সি ও আরবিতে কারগাদান শব্দটির অর্থ গণ্ডার।

উত্তর ভারতের শিল্পকলাতেও কারকাদান-এর চিত্র পাওয়া যায়।[১] এটি ইউনিকর্ন-এর মতো, যা কুমারীদের দ্বারা বশীভূত হতে পারে এবং অন্যান্য প্রাণীদের প্রতি হিংস্র আচরণ করে।[১] এটি মূলত ভারতীয় গণ্ডার দ্বারা অনুপ্রাণিত, যা প্রথম ১০ম-১১শ শতকে বর্ণিত হয়েছিল। পরে এটি একটি কাল্পনিক প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়, যাকে "একটি ছায়াময় গণ্ডারের পূর্বপুরুষ" হিসেবে দেখা হয়,[২] এবং যার শিং-কে ওষধিগুণসম্পন্ন বলে মনে করা হয়।

বিবরণের বিবর্তন

[সম্পাদনা]

কারকাদান সম্পর্কে একটি প্রাচীন বর্ণনা পাওয়া যায় ১০ম-১১শ শতকের পারস্য পণ্ডিত আল-বিরুনী (৯৭৩–১০৪৮)-এর লেখায়। তিনি এটি সম্পর্কে লেখেন: "এর আকৃতি মহিষের মতো... এর গায়ে কালো আঁশযুক্ত ত্বক আছে; গলায় ঝুলে থাকা চামড়ার ভাঁজ রয়েছে। প্রতিটি পায়ে তিনটি হলুদ খুর... লেজটি ছোট। এর চোখ নিচের দিকে থাকে, অন্য সকল প্রাণীর তুলনায় গালের নিচে। নাকের উপর একটি শিং থাকে যা উপরের দিকে বাঁকানো।" পরবর্তী বর্ণনায় আরও কিছু বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়: "শিংটি শঙ্কু আকৃতির, মাথার দিকে বাঁকানো এবং এক বিঘত লম্বা... এর কান গাধার কানের মতো দু’পাশে বেরিয়ে থাকে, এবং এর উপরের ঠোঁট হাতির শুঁড়ের মতো আঙুলের আকৃতি ধারণ করে।" এই বিবরণ থেকে স্পষ্ট হয় যে এটি ভারতীয় গণ্ডার-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি।[২]

তবে পারস্য ভাষায় গণ্ডার এবং এই কাল্পনিক প্রাণী উভয়ের জন্যই কারকাদান শব্দ ব্যবহৃত হওয়ার কারণে, এই প্রাণী সম্পর্কে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এটি বিভিন্ন চিত্রকর্মেও স্পষ্ট বোঝা যায়।[৩]

আল-বিরুনীর পরবর্তী পারস্য লেখকরা তার বর্ণনার উপর ভিত্তি করে আরও অলৌকিক বৈশিষ্ট্য সংযোজন করেন। পরবর্তী বর্ণনায় শিংটি ছোট বাঁকা থেকে লম্বা সোজা হয়ে যায় এবং শিল্পীদের চিত্রে এটি নাকের বদলে কপালে দেখানো হতে থাকে।[২]

১৩শ শতকের পারস্য চিকিৎসক জাকারিয়া আল-কাজভিনি তার আজাইব আল-মাখলুকাত গ্রন্থে কারকাদানের শিং-এর বিষনাশক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন।[২] তিনি দাবি করেন যে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়ক, এমনকি মৃগী ও পঙ্গুত্ব নিরাময়েও কার্যকর।[৪]

আল-কাজভিনি উল্লেখ করেন যে কারকাদানের শিং দিয়ে ছুরি ও অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। ক্রিস লেভার্সের মতে, খুতু নামক এক ধরনের বস্তু, যা হয়তো দাঁত বা হাড় দ্বারা গঠিত, এটিকে বিষনাশক হিসেবে ব্যবহারের ধারণার জন্ম দেয়। এই কারণেই ১৩শ শতকের আল-কাজভিনি এটিকে বিষনাশক হিসেবে বিবেচনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে এটি ইউনিকর্নের সাথে তুলনা করা হয়।[২]

কারকাদান শব্দটি কুর্দি নাম থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "এক শিংওয়ালা গাধা"। ফার্সি কারগাদান বা সংস্কৃত কর্তাজান শব্দটির অর্থ "মরুভূমির অধিপতি"।[৫]

সমসাময়িক গবেষণা ও সংস্কৃতিতে কারকাদান

[সম্পাদনা]

রিচার্ড এট্টিংহাউসেন ১৯৫০ সালে The Unicorn গ্রন্থে কারকাদানের বিস্তারিত গবেষণা করেন,[৬] যা ইউনিকর্ন সংক্রান্ত গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Suhr, Elmer G. (১৯৬৪)। "An Interpretation of the Unicorn"। Folklore। ৭৫ (2): ৯১–১০৯। ডিওআই:10.1080/0015587x.1964.9716952।
  2. 1 2 3 4 5 Lavers, Chris (২০১০)। The Natural History of Unicorns। RandomHouse। পৃ. ১০৭–১০৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৬-০৮৭৪১৫-৫।
  3. ↑ Rice, D.S. (১৯৫৫)। "Rev. of Ettinghausen, The Unicorn"। Bulletin of the School of Oriental and African Studies, University of London। ১৭ (1): ১৭২–৭৪। ডিওআই:10.1017/s0041977x00106470।
  4. ↑ Hees, Syrinx von (২০০২)। Enzyklopädie als Spiegel des Weltbildes। Otto Harrassowitz Verlag। পৃ. ২০৫–২০৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৪৪৭-০৪৫১১-৭।
  5. ↑ Meddelanden från Lunds Universitets historiska museum। C.W.K. Gleerup। ১৯৭৩। পৃ. ১৯৩।
  6. ↑ Vajda, Georges (১৯৭১)। Deux commentaires karaïtes sur l'ecclésiaste। Brill। পৃ. ৮৬ note ৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-০২৬৫৮-২।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]