কায়েদ-ই-আজমের জন্মদিন
| কায়েদ-ই-আজমের জন্মদিন | |
|---|---|
১৯৪৬ সালের ২২ এপ্রিল প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের সংখ্যার প্রচ্ছদে কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতিকৃতি | |
| আনুষ্ঠানিক নাম | কায়েদ-ই-আজম দিবস |
| অন্য নাম | কায়েদ দিবস জিন্নাহর জন্মদিন |
| পালনকারী | পাকিস্তান |
| ধরন | জাতীয় |
| তাৎপর্য | কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সম্মান জানানো হয়; তিনি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম গভর্নর-জেনারেল |
| তারিখ | ২৫ ডিসেম্বর |
| সংঘটন | বার্ষিক |
কায়েদ-ই-আজমের জন্মদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কায়েদ-ই-আজম দিবস এবং কখনও কখনও কায়েদ দিবস বা জিন্নাহর জন্মদিন নামে পরিচিত, পাকিস্তানে পালিত একটি সরকারি ছুটির দিন। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর এটি পালিত হয়। জিন্নাহ কায়েদ-ই-আজম ("মহান নেতা") নামে পরিচিত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ছুটির দিন। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবদ্দশায় ১৯৪২ সাল থেকেই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং এরপর থেকে তা অব্যাহত রয়েছে। দিবসটি মূলত সরকার ও দেশের জনগণ পালন করে। এদিন জাতীয় পতাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেমন সরকারি ও বেসরকারি ভবনে উত্তোলন করা হয়; বিশেষ করে করাচিতে কায়েদ-ই-আজম হাউসের শীর্ষে পতাকা উত্তোলন করা হয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ (১৮৭৬–১৯৪৮) ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম গভর্নর-জেনারেল।[১][২] তিনি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম শ্রদ্ধেয় নেতা এবং প্রায়ই কায়েদ-ই-আজম নামে অভিহিত হন, যার অর্থ "মহান নেতা"। ১৯৪২ সালে ২৫ ডিসেম্বর জিন্নাহর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিখিল ভারত মুসলিম লীগ দরিদ্রদের জন্য একটি তহবিল গঠন করে এবং লিয়াকত আলী খান এই মহান নেতার সম্মানে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেন।[৩] তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লির ওয়েলিংটন প্যাভিলিয়নেও মুসলিম নাগরিকেরা জিন্নাহর সম্মানে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এরপর থেকে তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর তাঁকে সম্মান জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এর মধ্যে ছিল সংবর্ধনা, কুচকাওয়াজ, স্মরণসভা, বক্তৃতা এবং বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও স্বীকৃতি।
পালন ও ঐতিহ্য
[সম্পাদনা]
এটি পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ছুটির দিন এবং সারা দেশে প্রচলিতভাবে পালিত হয়।[৫] ২৫ ডিসেম্বর একই সঙ্গে বড়দিন হওয়ায় পাকিস্তানের খ্রিষ্টান নাগরিকেরা এই দিনে উভয় দিবস পালন করে।[৬][৭][৮]
সাধারণত বিশিষ্ট নেতা, সামরিক কমান্ডার ও নাগরিকদের অংশগ্রহণে একটি কেন্দ্রীয় আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান মাজার-ই-কায়েদে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য কায়েদ-ই-আজম জিন্নাহর জীবন ও অবদানকে তুলে ধরা। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান,[৯] যার মধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে,[১০] বন্ধ থাকে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট স্থানে বিতর্ক, সেমিনার ও প্রদর্শনীর মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিরাপত্তাব্যবস্থা
[সম্পাদনা]দিবসটির নিরাপত্তাব্যবস্থার দায়িত্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর থাকে। এ কাজে পাকিস্তান বিমানবাহিনীকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়।[১১][১২] কায়েদ-ই-আজম দিবসে আনুষ্ঠানিক প্রহরার দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে প্রহরী বদলের অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।[১৩]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Ahmed 2005, পৃ. 239।
- ↑ "Quaid-e-Azam Day – December 25, 2021"। National Today। ৪ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ Abro, Zahid Hussain (২৫ ডিসেম্বর ২০২১)। "Quaid's birthday celebration in his lifetime"। The News International। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ Siddiqui, Latafat Ali (১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। "Quaid's statue at Canada's university"। Dawn। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২০।
- ↑ "Quaid Day: Celebrities honour Jinnah on his birth anniversary"। The Express Tribune। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Quaid-e-Azam Day in Pakistan"। timeanddate.com।
- ↑ "Quaid-e-Azam Day – Pakistan Girl Guides Association"। Pakistan Girl Guides Association।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "PM, president echo Jinnah's message of inclusivity, religious minorities' rights on his 148th birthday"। DAWN.COM (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Nation celebrates Quaid-e-Azam's birth anniversary"। radio.gov.pk।
- ↑ "Students performing national song regarding Quaid-e-Azam Day in Islamabad"। The Nation। ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Nation celebrates 143th birth anniversary of Quaid-i-Azam"। geo.tv। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Nation celebrates Quaid's 143rd birthday"। Dawn। Pakistan। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Watch: Change of guard ceremony held on Jinnah's birthday"। SAMAA TV।
সাধারণ উৎস
[সম্পাদনা]Ahmed, Akbar S. (২০০৫) [First published 1997]। Jinnah, Pakistan, and Islamic Identity: The Search for Saladin। London: Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৪-৭৫০২২-১।