কামার-উদ্দিন খান দুঘলাত
| কামার-উদ্দিন খান দুঘলাত মুসলিম | |
|---|---|
তৈমুর লঙের পুত্র উমর শেখের নেতৃত্বে তৈমুরি বাহিনী কামার-উদ্দিনের বাহিনীকে পরাজিত করছে; রাজকীয় মুঘল জাফরনামা-র একটি পৃষ্ঠা, অঙ্কন: জগজীবন কালান, মুঘল ভারত, আনু. ১৫৯৫-১৬০০ | |
| মঙ্গোলিস্তানের খান | |
| রাজত্ব | ১৩৬৮–১৩৯০ |
| পূর্বসূরি | ইলিয়াস খোজা |
| উত্তরসূরি | খিজির খোজা |
| জন্ম | অজানা |
| মৃত্যু | ১৩৯০ |
| প্রাসাদ | দুঘলাত বংশ |
| ধর্ম | সুন্নি ইসলাম |
কামার-উদ্দিন খান দুঘলাত মুসলিম (চাগাতাই ও ফার্সি: مسلمان قمر الدین خان دغلت) ছিলেন ১৩৬৮ থেকে ১৩৯০ সালের মধ্যে মঙ্গোলিস্তানের একজন মুঘল শাসক। তিনি মঙ্গোল যুদ্ধবাজদের দুঘলাত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার মাতার দিক থেকে তিনি আরব মুসলিম সেনাপতি কুতাইবা ইবনে মুসলিমের বংশধর ছিলেন। তিনি চেঙ্গিজ খান বা চাগতাই খানের বংশধর ছিলেন না, ফলে তিনি বোরজিগিন বংশের সদস্য ছিলেন না।
তুঘলুগ তৈমুরের অধীনে আমীর তুলুক এবং বুলাজি উভয়েই 'উলুস বেগ' পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বুলাজির মৃত্যুর পর এই পদটি তার পুত্র খুদায়দাদকে দেওয়া হয়। বুলাজির ভাই কামার-উদ্দিন এর বিরোধিতা করেন, কারণ তিনি নিজেই 'উলুস বেগ' হতে চেয়েছিলেন। তার এই অনুরোধ তুঘলুগ তৈমুর প্রত্যাখ্যান করেন; ফলস্বরূপ তুঘলুগ তৈমুরের মৃত্যুর পর কামার-উদ্দিন তার পুত্র ইলিয়াস খোজা খানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
সম্ভবত তিনিই ইলিয়াস খোজার মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন; তুঘলুগ তৈমুরের পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকেও হত্যা করা হয়েছিল। কামার-উদ্দিন নিজেকে 'খান' হিসেবে ঘোষণা করেন—তিনিই একমাত্র দুঘলাত যিনি এমনটি করেছিলেন। যদিও তিনি অনেক আমীরের সমর্থন পাননি,[১] তবুও তিনি মঙ্গোলিস্তানে তার অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হন।[২]
কামার-উদ্দিনের রাজত্বকাল ছিল মধ্য এশিয়ার তৈমুরি সাম্রাজ্যের আমীর তৈমুর লঙের সাথে ধারাবাহিক যুদ্ধের সমষ্টি। কামার-উদ্দিনের বাহিনী মহান তৈমুর লংকে পরাজিত করতে পারেনি, কিন্তু একই সাথে তৈমুরও কামার-উদ্দিনকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে পারেননি; কারণ কামার-উদ্দিনের সৈন্যরা মঙ্গোলিস্তানের ঊষর স্তেপ অঞ্চলে পিছু হটতে সক্ষম ছিল। তবে ১৩৯০ সালে তৈমুর ও তার বাহিনীর নতুন এক আক্রমণের সময় কামার-উদ্দিন নিখোঁজ হন। তার এই নিখোঁজ হওয়ার ফলে চাগতাই বংশীয় খিজির খোজার পক্ষে মঙ্গোলিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়।[৩]
কামার-উদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাতিজা খুদায়দাদ দুঘলাত পরিবারের প্রধান সদস্যে পরিণত হন। চেঙ্গিজ খানের ইয়াসা (আইন) সম্পর্কে খুদায়দাদের গভীর জ্ঞান ছিল, যা মঙ্গোলীয় ঐতিহ্যের প্রতি দুঘলাতদের অব্যাহত শ্রদ্ধার এক উদাহরণ।[৪] 'তারিখ-ই-রশিদি' অনুসারে, খুদায়দাদ ছিলেন খিজির খোজার প্রাথমিক সমর্থক এবং কামার-উদ্দিন যখন চাগতাই বংশের সদস্যদের নির্মূল করছিলেন, তখন তিনি তাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। খুদায়দাদের শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং খিজির খোজার মৃত্যুর পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি একজন 'রাজা-নির্ধারক' (king-maker) হয়ে ওঠেন।[৫] তিনি তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আকসু, খোতান, কাশগড় এবং ইয়ারকন্দ ভাগ করে দেন;[৬] ভূখণ্ডের এই বিভাজন মির্জা আবু বকর দুঘলাতের সময় পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
| পূর্বসূরী ইলিয়াস খোজা |
মঙ্গোল খান ১৩৬৮–১৩৯০ |
উত্তরসূরী খিজির খোজা |
উদ্ধৃতি
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- Barthold, W. "Dughlat." The Encyclopedia of Islam, Volume 2. New Ed. Leiden: E. J. Brill, 1965.
- Elias, N. Commentary. The Tarikh-i-Rashidi (A History of the Moghuls of Central Asia). By Mirza Muhammad Haidar. Translated by Edward Denison Ross, edited by N. Elias. London, 1895.
- Grousset, René. The Empire of the Steppes: A History of Central Asia. Trans. Naomi Walford. New Jersey: Rutgers, 1970. আইএসবিএন ০-৮১৩৫-১৩০৪-৯
- Kim, Hodong. The Early History of the Moghul Nomads: The Legacy of the Chaghatai Khanate. The Mongol Empire and Its Legacy. Ed. Reuven Amitai-Preiss and David Morgan. Leiden: Brill, 1998. আইএসবিএন ৯০-০৪-১১০৪৮-৮
- Mirza Muhammad Haidar. The Tarikh-i-Rashidi (A History of the Moghuls of Central Asia). Translated by Edward Denison Ross, edited by N.Elias. London, 1895.