কানা রাজার সুড়ঙ্গ
| কানা রাজার সুড়ঙ্গ | |
|---|---|
| নামকরণ | |
| নামের ভাষা | বাংলা |
| ভূগোল | |
| অবস্থান | উখিয়ার ঘোনা , কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন, রামু উপজেলা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ |
| অঞ্চল | দক্ষিণ চট্টগ্রাম |
কানা রাজার সুড়ঙ্গ (স্থানীভাবে আঁধার মানিক নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের দক্ষিণ চট্টগ্রাম একটি প্রাচীনতম গুহা যা কক্সবাজারের রামু উপজেলাতে অবস্থিত এবং এটি বর্তমানে সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে তালিকাভুক্ত।[১]
অবস্থান
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন এর উখিয়ার ঘোনা নামক পাহাড়ে এই সুড়ঙ্গের অবস্থান।[২] এটি কক্সবাজার শহর হইতে ২৫ কিলোমিটার এবং উখিয়া থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ঠিক কখন কাদের দ্বারা কিভাবে এই গুহাটি খনন করা হয়েছিল তার প্রমাণ এখনো ইতিহাসবিদদের কাছে অনুপস্থিত। তবে কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন এটি ১৭৮৪ সালে আরাকান বার্মা সম্রাজ্য কর্তৃক দখলে নেওয়ার আরাকানের এক আমাত্য সিন পিয়ান আরাকানের স্বাধীনতার জন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, এটিকে তিনি গোপন ঘাটি হিসেবে ব্যবহার করতেন। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠা বাহিনীর দ্বারা তিনি কয়েকবার আরাকান রাজ্যের রাজধানী ছাড়া অন্যান্য এলাকা নিজ অধিকারে নিতে সক্ষম হলেও শেষপর্যন্ত তাকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল। এসময় তিনি 'কক্সবাজার-টেকনাফের' পাহাড়ি এলাকাতে আত্মগোপন করে থাকতেন। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জি. ই হারভের লেখা “হিস্ট্রি অব বার্মা” বইয়ে দেখা যায়, 'সিন পিয়ান' ১৮১৫ সালে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় অসুস্থতায় কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকাই মারা যান।[৩]
এ গুহাটি সর্বপ্রথম ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ান তাল-গ্যাস অনুসন্ধানী দলের মাধ্যমে আবিস্কৃত হয়েছিল। তবে গুহাটি সরকারের নজরে এসেছিল ২০১৮ সালের শেষের দিকে, তখন থেকে এটি 'কানা রাজার সুড়ঙ্গ' নামে পরিচিত হয়ে আসছে।[৪]
সুড়ঙ্গের গঠন
[সম্পাদনা]গুহাটির প্রবেশমুখ ত্রিভুজাকৃতির এবং মাটি থেকে ২৫ ফুট উঁচু। এখন পর্যন্ত মানুষ গুহাটির আনুমানিক ৩৫০ ফুট যেতে সক্ষম হয়েছে এর শেষ কোথায় তা এখনো অস্পষ্ট। প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৭০ ফুট পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া যায়, এর পর হামাগুড়ি দিতে হয়। ৬০ ফুট দূরত্বে দেখা মিলে ২৫ ফুট লম্বা ও ২৫ ফুট প্রস্থের একটি বৈঠকখানা। বৈঠকখানার চারকোনে চারটি সুড়ঙ্গপথ রয়েছে। দুটি পথ ওপরের দিকে, অন্য দুটি পথ গেছে নিচের দিকে। মাটি জমে পথগুলো প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। সুড়ঙ্গের দেয়ালে দেখা মিলবে আঁকাআঁকির ছবি। গুহার ভেতরে অসংখ্য বাদুড়, কীটপতঙ্গে ভরপুর, থাকতে পারে বিষধর সাপও।[৫]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "ঈদে ঘুরে আসুন কানা রাজার সুড়ঙ্গে"। www.ukhiyanews.com। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "রামুতে রহস্যময় কানা রাজার সুড়ঙ্গ"। www.somoyerkonthosor.com। শাহীন মাহমুদ রাসেল। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "রহস্যময় কানা রাজার সুড়ঙ্গ"। www.ajkerpatrika.com। শিপ্ত বড়ুয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "দর্শনীয় স্থান,কানা রাজার সুড়ঙ্গ"। ukhiya.coxsbazar.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "কী আছে রামুর সুড়ঙ্গে?"। www.prothomalo.com। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০২৫।