বিষয়বস্তুতে চলুন

কানামাছি (চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কানামাছি
কানামাছি চলচ্চিত্রের একটি পোস্টার
পরিচালকরাজ চক্রবর্তী
প্রযোজকআশোক ধানুকা
রচয়িতারাজ চক্রবর্তী
অভিমন্যু মুখার্জি
কাহিনিকারকে. ভি. আনন্দ
শ্রেষ্ঠাংশেঅঙ্কুশ হাজরা
শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়
আবীর চট্টোপাধ্যায়
সায়নী ঘোষ
রজতাভ দত্ত
সুরকারইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত
ঋষি চন্দ
চিত্রগ্রাহকসুভঙ্কর ভাড়
যুবরাজ
সম্পাদকরবি রঞ্জন মৈত্র
প্রযোজনা
কোম্পানি
পরিবেশকএসকে মুভিজ
মুক্তি
  • ১৫ মার্চ ২০১৩ (2013-03-15)
দেশভারত
ভাষাবাংলা

কানামাছি হলো একটি ২০১৩ সালের ভারতীয় বাংলা ভাষার রাজনৈতিক থ্রিলার[] চলচ্চিত্র যা রাজ চক্রবর্তী রচিত ও পরিচালিত এবং এসকে মুভিজের ব্যানারে অশোক ধানুকা প্রযোজিত,[] এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অঙ্কুশ হাজরা, আবীর চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, রজতাভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত, শঙ্কর চক্রবর্তী এবং শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।[] চলচ্চিত্রটির সঙ্গীত রচনা করেছিলেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত এবং ঋষি চন্দ, যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ছিলেন দাশগুপ্ত নিজেই। ছবিটি ২০১১ সালের তামিল চলচ্চিত্র কো এর পুনঃনির্মাণ। [][][]

কাহিনীসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রের শুরুতে, আনন্দবাজার পত্রিকা (এবিপি)-এর তরুণ ফটোসাংবাদিক আবীর (অঙ্কুশ হাজরা) একটি ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। সে নকশালদের ধাওয়া করে তাদের ছবি তুলতে সক্ষম হয়। পালানোর সময়, নয়না (শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়) নামের এক তরুণী তাকে ডাকাত ভেবে ভুল করে এবং আসল ডাকাতদের তার ক্যামেরা কেড়ে নিতে সাহায্য করে। তবে, আবীর ক্যামেরার মেমোরি কার্ডটি রক্ষা করতে সক্ষম হয়। পরে অফিসে এসে আবীর আবার নয়নার দেখা পায়, যে সেখানে নিবন্ধ সম্পাদক হিসেবে নতুন যোগ দিয়েছে। আবীরের সহকর্মী পায়েল (সায়নী ঘোষ) তার প্রতি অনুরক্ত, কিন্তু আবীর তাকে কেবল বন্ধু হিসেবেই দেখে।

নয়না বিরোধী দলনেতা তারকেশ্বর দত্তের (সুপ্রিয় দত্ত) অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বিয়ের চেষ্টার উপর একটি কভার স্টোরি লেখে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারকেশ্বর অফিসে এসে নয়নাকে হুমকি দেয় এবং তার সাক্ষাৎকারের অডিও রেকর্ডিং গায়েব করে দেয়, যার ফলে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে নয়নার চাকরি চলে যায়। পরে আবীর নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারকেশ্বরের বাল্যবিবাহের ছবি তুলে আনে। সেই ছবিসহ খবরটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে নয়না আবীরের প্রেমে পড়ে এবং আবীরও তার প্রতি সাড়া দেয়। পায়েল প্রথমে ঈর্ষান্বিত হলেও পরে তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়।

এদিকে, অভিমন্যু (আবীর চট্টোপাধ্যায়) নামে এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার এবং তার দল 'বর্ণপরিচয়' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের অর্থ ও প্রতিশ্রুতির সামনে তাদের আদর্শ পাত্তা পায় না। একদিন, মুখ্যমন্ত্রী সুরজিৎ সরকারের (রজতাভ দত্ত) পাঠানো গুণ্ডারা অভিমন্যুকে আক্রমণ করলে, সে এবিপি অফিসে আশ্রয় নেয়। আবীর ও নয়না তার নির্বাচনী প্রচারণার কথা জানতে পেরে তাকে পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং তাদের পত্রিকা অভিমন্যুর খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করতে শুরু করে।

এক রাতে অভিমন্যুর নির্বাচনী সভায় একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পায়েলের পাঠানো এক খুদেবার্তার মাধ্যমে আবীর ঠিক সময়ে অভিমন্যুকে বাঁচিয়ে নেয়। পরে, আবীর বিস্ফোরণস্থলের কাছে পায়েলকে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় খুঁজে পায়। মৃত্যুর আগে পায়েল আবীর ও নয়নাকে কিছু বলার চেষ্টা করে। আবীর পরে একটি ভিডিও ক্লিপ থেকে আবিষ্কার করে যে পায়েলকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকারী আর কেউ নয়, সেই ব্যাংক ডাকাত দলের নকশাল নেতা।

কিছুদিন পর, নয়না পত্রিকায় অভিমন্যুর একটি ছবি দেখে বুঝতে পারে যে ছবিটি একটি কলেজের দলীয় ছবি থেকে কাটা হয়েছে, যেখানে আবীরও উপস্থিত ছিল। নয়নার প্রশ্নের মুখে, আবীর স্বীকার করে যে সে এবং অভিমন্যু একই কলেজে পড়ত এবং তারা সেরা বন্ধু ছিল।

নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে অভিমন্যু মুখ্যমন্ত্রী হয় এবং ১০ জন নকশালকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই খবরে হতবাক হয়ে আবীর তার সাথে দেখা করতে যায় এবং সেখানে পায়েলের হত্যাকারী, সেই নকশাল নেতাকে দেখতে পায়। আবীর সেই নেতাকে অনুসরণ করে তার গোপন আস্তানায় পৌঁছায়। একই সময়ে, অভিমন্যু পুলিশকে সেই আস্তানায় হানা দিয়ে নকশালদের হত্যার নির্দেশ দেয়। গোলাগুলির মধ্যে, শঙ্কর নামের সেই নকশাল নেতা আবীরের কাছে স্বীকার করে যে, জনগণের সহানুভূতি অর্জনের জন্য অভিমন্যুই এই পুরো চক্রান্তটি সাজিয়েছিল—নকশালদের দিয়ে বোমা হামলা করানো থেকে শুরু করে নিজের সাজানো প্রাণনাশের নাটক—সবই তার পরিকল্পনা ছিল। পায়েল এই সত্যিটা জেনে ফেলায় অভিমন্যুই তাকে হত্যা করে। আবীর বুঝতে পারে যে, পায়েল মৃত্যুর আগে অভিমন্যুর আসল পরিচয় সম্পর্কেই সতর্ক করতে চেয়েছিল।

আবীর শঙ্করের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করে নয়নাকে পাঠিয়ে দেয়। এর মধ্যে অভিমন্যু সেখানে উপস্থিত হয় এবং শঙ্করকে হত্যা করে। সে আবীরকেও হত্যা করার চেষ্টা করে, কিন্তু আবীর একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসে, এবং সেই বিস্ফোরণে অভিমন্যু নিহত হয়।

অভিমন্যুর মৃত্যুর খবর পেয়ে তার দলের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের নির্দোষ মুখ দেখে, আবীর নয়নাকে সত্য প্রকাশ করতে বারণ করে, কারণ সত্যিটা সামনে এলে দলের সদস্যরা সমস্যায় পড়বে। নয়না তখন অভিমন্যুকে নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। চলচ্চিত্রটি শেষ হয় আবীর ও নয়নার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে, কিন্তু তাদের প্রধান সম্পাদক তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের পরবর্তী নির্বাচনে খবর প্রচারে দায়িত্ব পালন করতে বলেন।

অভিনয়শিল্পী

[সম্পাদনা]

সংগীত

[সম্পাদনা]
কানামাছি
কর্তৃক সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবাম
ঘরানাচলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক
সঙ্গীত প্রকাশনীএসকে মুভিজ
প্রযোজক

চলচ্চিত্রটির সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবামটি সুরারোপ করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত এবং ঋষি চন্দনিকো পার্কে আয়োজিত "মির্চি রিপাবলিক অফ রকস" নামক একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানে এই অ্যালবামের জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

সকল গানের গীতিকার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়, প্রসেন; সকল গানের সুরকার ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, ঋষি চন্দ

কানামাছি অ্যালবামের গান
নং.শিরোনামগীতিকারসুরকারশিল্পী(গণ)দৈর্ঘ্য
১."মন বাওরে"প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তঅরিজিৎ সিং, তিমির বিশ্বাস, অন্বেষা এবং উদিত নারায়ণ৪:৪৬
২."বেপরোয়া মনে"প্রসেনঋষি চন্দকুণাল গাঞ্জাওয়ালা৪:১৮
৩."দিল দরদিয়া"প্রসেনঋষি চন্দজুবিন গর্গ, তিমির বিশ্বাস৩:১৮
৪."কানামাছি টাইটেল ট্র্যাক"প্রসেনঋষি চন্দকুণাল গাঞ্জাওয়ালা, ঋষি চন্দ৪:২৮
৫."কানামাছি ম্যাশআপ"  বিভিন্ন শিল্পী৪:১৫
মোট দৈর্ঘ্য:২০:০৫

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Kanamachi Movie Review {2.5/5}: Critic Review of Kanamachi by Times of India"The Times of India। ১৫ মার্চ ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০২৪
  2. 1 2 "Kanamachi creates a buzz"The Times of India। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১২
  3. "Kanamachi creates a buzz"The Times of India। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১২
  4. "Raj Chakraborty's Bangla Movie Kanamachi (2012) to Release Soon"। WBRi। ২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১২
  5. "Ankush: the new star on the block with "Kanamachi""Tollywood Dhamaka। ২৮ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৩

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে কানামাছি (ইংরেজি)