বিষয়বস্তুতে চলুন

কাকাপো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কাকাপো
Strigops habroptila
মাউড আইল্যান্ডে একটি পুরুষ সিরোক্কো তোঁতা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Chordata
উপপর্ব: Vertebrata
শ্রেণী: Aves
বর্গ: Psittaciformes
পরিবার: Psittacidae
গণ: Strigops
প্রজাতি: Strigops habroptila
দ্বিপদী নাম
Strigops habroptila
G. R. Gray, 1845
প্রতিশব্দ

Strigops habroptilus G. R. Gray, 1845[][]

কাকাপো (মাউরিঃ kākāpō অর্থ রাতের তোতা), আউল প্যারোট (পেঁচামুখো তোঁতা) নামেও পরিচিত, নিশাচর, ভূ-চর, নিউজিল্যান্ডের এন্ডেমিক পাখি[]। এর গাঁয়ের পাখনার রঙ হলুদাভ সবুজ, বড় আকারের ঠোঁটের রঙ ধূসর, ছোট পা, পায়ের থাবা বড়, ডানা ও লেজের দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে কম। অন্যান্য তোতা থেকে আলাদা করার মত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরাই একমাত্র তোঁতা যারা ওড়ে না, সব থেকে ভারী তোঁতা, নিশাচর, তৃণভোজী। এটাই সম্ভবত পৃথিবীর সব থেকে দীর্ঘজীবী পাখি[]

শ্রেণীবিন্যাস

[সম্পাদনা]

১৮৪৫ সালে ইংরেজ অরনিথোলজিস্ট জর্জ রবার্ট গ্রে কাকাপো সম্পর্কে বর্ণনা করেন। কাকাপো শব্দটি হচ্ছে মাউরি শব্দ কাকা পো'র ইংরেজি অনুবাদ। মাউরি কাকা অর্থ তোঁতা এবং পো অর্থ রাত। এটার জেনেরিক নাম নেওয়া হয়েছে প্রাচীন গ্রিক থেকে যার অর্থ পেঁচা মুখো।

বর্ণনা

[সম্পাদনা]

কাকাপো বড় পাখি, প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দৈর্ঘ্য ৫৮-৬৪ সেমি এবং ওজনে ০.৯৪ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়। স্ত্রী পাখির তুলনায় পুরুষ পাখির আকার বড়। এরাই পৃথিবীর সব থেকে বড় জীবিত তোতা। কাকাপো উড়তে অক্ষম পাখি। এদের ছোট ডানা ওড়ার জন্য সক্ষম নয়।

স্বভাব

[সম্পাদনা]

কাকাপো নিশাচর প্রাণী, এরা দিনের বেলা গাছের আড়ালে অথবা ভূমিতে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের বেলা চলাফেরা করে। কাকাপো উড়তে না পারলেও খুব ভালো গাছ বাইতে পারে। এরা স্বাচ্ছন্দ্যে উঁচু গাছে চড়ে যায়। এবং গাছ থেকে নিজের ক্ষুদ্র ডানা প্যারাসুটের মত ব্যবহার করে মাটিতে নেমে আসতে পারে। এদের পা খুবই সুগঠিত, পায়ে হেটে এরা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।

মাউরি সংস্কৃতিতে

[সম্পাদনা]

মাউরি লোক সাহিত্যে এবং বিশ্বাসের সাথে কাকাপো ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তারা বিশ্বাস করে কাকাপো পাখি ভবিষ্যত বলতে পারে।

কাকাপোর প্রজনন ও ডিম পাড়ার বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

কাকাপো (Kākāpō) নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় এক বিরল উড়তে অক্ষম তোতা পাখি। এর প্রজনন প্রক্রিয়া অত্যন্ত বিশেষ ধরনের, কারণ কাকাপো নিয়মিত ডিম পাড়ে না; বরং নির্দিষ্ট গাছের ফলন, বিশেষ করে রিমু (Rimu) গাছের ফলের প্রাচুর্যের উপর নির্ভর করে এদের প্রজনন ঘটে। স্ত্রী কাকাপো একবারে সাধারণত ১ থেকে ৪টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগে এবং এই সময়ে মা কাকাপো-ই ডিমে তা দেয় ও বাচ্চার যত্ন নেয়। তবে নিশাচর জীবনধারার কারণে অনেক সময় ডিম ফেলে রাখতে গিয়ে শিকারির হাতে ডিম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণেই বর্তমানে কনজারভেশন টিমগুলো অনেক ডিম সংগ্রহ করে কৃত্রিম ইনকিউবেটরে রেখে তা থেকে বাচ্চা ফোটায়। পৃথিবীতে কাকাপোর সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রতিটি ডিম সংরক্ষণমূলক দিক থেকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।[]

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Strigops habroptila"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2012.2প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন। 2012। সংগ্রহের তারিখ 24/10/2012 {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |accessdate= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অবৈধ |ref=harv (সাহায্য)
  2. (1998) , website, Zoonomen - Zoological Nomenclature Resource
  3. Dickinson, Edward C., ed. (2003) , The Howard and Moore Complete Checklist of the Birds of the World, 3rd edition
  4. Best, H. A. (১৯৮৪)। "The foods of kakapo on Stewart Island as determined from their feeding sign" (PDF)New Zealand Journal of Ecology: ৭১–৮৩। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১৬
  5. Powlesland, Ralph G.; Merton, Don V.; Cockrem, John F. (২০০৬)। "A parrot apart: the natural history of the kakapo (Strigops habroptilus), and the context of its conservation management" (পিডিএফ)Notornis৫৩ (1): ৩–২৬। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৬
  6. "Kākāpō"www.doc.govt.nz (নিউজিল্যান্ডীয় ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]