কল্পনা চাকমা অপহরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কল্পনা চাকমা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক[১] ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১১ জুন মধ্যরাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাইল্যাঘোনার নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন।[১] এই ঘটনাটি বাংলাদেশ এবং বহি:বিশ্বে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে ও মানবাধিকার এবং নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।[২] এমনকি তখন এ ঘটনা প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় ও সেই বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।[২]

পরিচিতি[সম্পাদনা]

অপহরণ[সম্পাদনা]

এই অপহরণের জন্য অপহৃতার পরিবার থেকে বরাবরই অপহরণকারী হিসেবে তৎকালীন সময় রাঙামাটিতে কর্তব্যরত সামরিক বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।[২]

মামলা ও তদন্ত[সম্পাদনা]

কল্পনা চাকমা অপহৃৎ হওয়ার পর দেশ ও বিদেশে সংগঠিত বিভিন্ন জনমত ও আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর[১] সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জলিলকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়।[৩] একই সাথে সরকার পুলিশ বিভাগের মাধ্যমেও তদন্ত পরিচালানা করে।

১৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে রাঙামাটির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদলতে জমা দেয়া সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না-রাজি দিয়েছেন মামলার বাদী কালিন্দী কুমার চাকমা।[২] শুনানি শেষে বিচারক বিষয়টি নিয়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখ পরবর্তী আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করে। এদিন শুনানিতে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা সিআইডির রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা প্রত্যাখ্যান করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ চাইলে আদালতও সিআইডির প্রতিবেদন নিয়ে সংশয়ের কথা জানান এবং উপরোক্ত আদেশ দেন।[২][৪]

পরবর্তী পদক্ষেপ[সম্পাদনা]

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

অপহৃৎ হওয়ার দীর্ঘ ১৬ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী কল্পনা চাকমার।

আবার যেহেতু এখনও তদন্তের কাজ শেষ হয়নি, তাই 'কল্পনা চাকমা অপহরণ'-এর বিচারের কাজও থেমে রয়েছে।[২]

এদিকে, কল্পনা চাকমার পরিবার তার সম্পর্কে নিশ্চিত কোন খবর না পাওয়ায় এখনো তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা থেকে বিরত রয়েছে।[২]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]