কলামন্ডলম বিন্দুলেখা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কলামন্ডলম বিন্দুলেখা
জন্ম
বিন্দুলেখা

(1978-10-18) ১৮ অক্টোবর ১৯৭৮ (বয়স ৪৩)
পেশাম্যুরাল চিত্রশিল্পী, নৃত্যশিল্পী
কর্মজীবন২০০১-বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীমাধব রামদাসন

কলামন্ডলম বিন্দুলেখা ভারতের কেরল রাজ্যের একজন মুরাল চিত্রশিল্পী এবং মোহিনীঅট্টমভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী[১]। তিনি কেরল রাজ্যের প্রথম নারী যিনি মন্দিরগাত্রে ম্যুরাল অঙ্কন করেন[২]

প্রাথমিক জীবন এবং পটভূমি[সম্পাদনা]

বিন্দুলেখা মোহিনীঅট্টম ও ভরতনাট্যমে ডিপ্লোমা ধারক এবং কেরালার কলামণ্ডলম থেকে স্নাতক হয়েছেন ১৯৯৮ সালে।তাঁর ভগ্নীপতি সদানন্দনের, কাজ দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে তিনি মুরাল চিত্র আঁকা শুরু করেন। সদানন্দন ছিলেন প্রথিতযশা শিল্পী মামিউর কৃষ্ণন কুট্টি নায়ারের শিষ্য[৩]। তের বছর বয়স থেকে তিনি সদানন্দনের কাছ থেকে বাড়িতেই গুরুকুল পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে তিনি ম্যুরাল অঙ্কন শিল্পে প্রথাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

শৈলী[সম্পাদনা]

বিন্দুলেখার অঙ্কনশৈলী মূলত ঐতিহ্যবাহী ম্যুরাল চিত্রকলা এবং সমসাময়িক শিল্পের মেলবন্ধন, যা তার অঙ্কনশৈলীকে আধুনিক বলে প্রতিভাত করে। ঐতিহ্যগতভাবে, উজ্জ্বল লাল, কমলা এবং হলুদ রঙ ম্যুরালগুলিতে অধিকতর ব্যবহৃত হয়, তবে বিন্দুলেখা নীল রঙের মতো অপ্রচলিত রঙের ব্যবহার করেছেন। রঙের ব্যবহার ছাড়াও, তার কিছু ম্যুরাল শিল্পে অন্য ধারার শৈলীও ব্যবহৃত হয়েছে। তার নিজের কথায় প্রথাগত নৃত্যশিল্পী হওয়ার কারণে মন্দিরগাত্রে অঙ্কনের সময়ে, ছবির মুদ্রা, রস এবং ভাব ফুটিয়ে তোলা তার পক্ষে সহজ হয়।

চিত্র সমালোচকদের মতে[৪], থিমের দিক থেকেও বিন্দুলেখার একটি নতুন দিগদর্শন রয়েছে। আকাশে ফড়িঙ্গঙের নাচ, গভীর সমুদ্রের জলকন্যা, নৃত্যরত রাজহাঁস এই সমস্ত চিত্রাঙ্কঙ্গঙ্গুলির মধ্যে এমন প্রশান্তি রয়েছে, যা দৈনন্দিন জীবন থেকে দর্শককে অন্যভাবে উত্তরণ করতে পারে। কখনো মনে হয় এই গুলি প্রকৃতির রূপায়ণ আবার কখনো মনে হয় এগুলি প্রাকৃতিক নয়, স্বর্গীয়। দৃঢ় আঁচড়ে, অনুচ্চারিত রঙের খেলায় ম্যুরাল গুলি যেন উত্তরণের প্রতীক। তাঁর কাল্পনিক মূর্তিগুলি স্মরণ করিয়ে দেয় ভারতীয় শিল্পে অজন্তা চিত্রকলার ধারাবাহিকতা।

তার প্রথমদিকের অনেকগুলি চিত্রাঙ্কন ‘নাট্যকরন’ (নৃত্যের প্রাথমিক উপাদান) অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। তার নিজের কথায় “যখন আমি পরে এটি নিয়ে ভাবলাম তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার সমস্ত কাজ পূর্ব-লিখিত পাঠ্য-পুরাণ, ধ্যান শ্লোক, নাট্যকরনের উপর ভিত্তি করে ছিল। আমি যখন এই সীমাবদ্ধতাগুলি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তখনই।"[৫] পরবর্তীকালে, বিন্দুলেখা ঐতিহ্যগত আবহাওয়া থেকে বের হয়ে তার শিল্পকলায় আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।

শিল্প কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ত্রিশূরের তিরুর ভেদকুরুম্বাকাভু মন্দিরগাত্রে ম্যুরাল অঙ্কনের মধ্যে দিয়ে। এটিই কোন মন্দিরগাত্রে একজন মহিলা ম্যুরাল শিল্পীর দ্বারা অঙ্কন করা প্রথম কাজ বলে মনে করা হয়।এটি ভদ্রকালী দেবীর মন্দির হওয়াতে, তিনি দেবীর তিনটি রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটান ম্যুরাল অঙ্কনের মধ্যে দিয়ে। সরস্বতী (সাদা রঙে), ভদ্রকালী (গাঢ় নীল রঙে) এবং মহালক্ষ্মী (লাল রঙে) নিয়ে গঠিত মুরাল চিত্রটি আয়তনে প্রায় ৫০ বর্গফুট এবগ্ন এটি সম্পূর্ণ করতে দুই বছর সময় লেগেছে।এই চিত্রশিল্পটির মূলভাব - "রজ, তম, সত্ব'[৬]। ক্যানভাসে চিত্রিত ম্যুরাল চিত্রগুলির প্রথম একক প্রদর্শনী হয় ২০০৪ সালে ত্রিশূরে কেরালার ললিতকলা আকাদেমি আর্ট গ্যালারীতে। এছাড়াও কোচি, মুম্বাই এবং ব্যাঙ্গালোরে তার শিল্পকর্মের প্রদর্শনী হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

মালয়ালম চলচ্চিত্র পরিচালক মাধব রামাদাসনের সাথে কালামন্ডলম বিন্দুলেখা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ।

প্রধান প্রদর্শনীর তালিকা[সম্পাদনা]

  • মনোয়ানম – স্বপ্নের উড়ান
  • ঐতিহ্য এবং তার পরেও

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Breaking into another male bastion"The Hindu। ২০০৪-১০-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৪ 
  2. "A Dancer's Tryst With Colours"The New Indian Express। ২০১৪-০৯-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৪ 
  3. "The mural of the story"Deccan Chronicle। ২০১৩-০৭-২২। ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৪ 
  4. https://narthaki.com/info/rev14/rev1674.html
  5. https://www.thehindu.com/features/metroplus/events/kalamandalam-bindhulekhas-mural-art-exhibition-at-durbar-hall-art-gallery-in-kochi/article6419772.ece
  6. "Mural artist to display her paintings"The Hindu। ২০১১-০৮-১১। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৪