কলকাতার ভূবিজ্ঞান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
India-Kolkata-locator-map.PNG

কলকাতা ভারতের পূর্বভাগে অবস্থিত। এটা হুগলি নদীর তীর বরাবর সমান্তরালভাবে প্রসারিত হয়েছে। কলকাতা পুর নিগম ১৮৫ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে গঠিত। এই শহর সমুদ্র তলের কাছাকাছি ১৭ ফুট গড় উচ্চতায় অবস্থিত। পুরো গঙ্গা অববাহিকা অঞ্চল শহরের ১০০ কিমি দক্ষিণ থেকে আরম্ভ হয়েছে। শহরের বেশির ভাগ জায়গা আসলে জলা ভিজেজমি, বিশেষভাবে শহরের পূর্ব দিকের অংশে এরকম জায়গা বর্তমানেও দেখতে পাওয়া যাবে। 

ভূতত্ত্ব[সম্পাদনা]

বেশির ভাগটাই যেহেতু সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমির অন্তর্ভুক্ত, সেজন্যে এখানকার মাটি এবং জল আগের থেকেই পাললিক প্রকৃতির হয়ে আছে। কলকাতার অবস্থান 'বাংলা অববাহিকা'র ওপর, একটা কেন্দ্রীভূত তৃতীয় পর্যায়ের অববাহিকা।[[১] বাংলা অববাহিকা তিনটে গাঠনিক এককের সমাহার:  পশ্চিমের তাক অথবা সমতলভূমি, মাঝের ঢালু অথবা তাক / গড়ান ভাঙা; এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের গভীর অববাহিকার অংশ। ঢালু অঞ্চল যেটা প্রায় ২৫ কিমি (১৬ মাইল) চওড়া তার পশ্চিমাংশের ওপর কলকাতা আছে, যার গভীরতা হল প্রায় ৪৫,০০০ মি (১৪৮,০০০ ফুট) এবং নিচে আছে স্ফটিকতুল্য বনিয়াদ; এগুলোর মধ্যে ঊর্ধ্বাংশ হল ৩৫০-৪৫০ মি (১,১৫০-১,৪৮০ ফুট) চতুর্থ স্তরীয়, পরবর্তী অংশে ৪,৫০০-৫,৫০০ মি (১৪,৭৬০-১৮,০৪০ ফুট) আছে তৃতীয় স্তরীয় পলি, ৫০০-৭০০ মি (১,৬৪০-২,৩০০ ফুট) চুনাপাথর জাতীয় আগ্নেয়শিলার ধৌত আগ্নেয়শিলা এবং ৬০০-৮০০ মি (১,৯৭০-২,৬২০ ফুট) পারমিয়ান-কার্বনিফেরাস গণ্ডোয়ানা পাথর।[[১] চতুর্থ পর্যায়ের তলানির মধ্যে আছে: কাদা, পলি, এবং বিভিন্ন ধরনের বালি এবং নুড়ি পাথর। এই তলানিগুলো দুটো নরম কাদা স্তরের মাঝখানে পেষাই হয়: নিচের অংশটা ২৫০-৬৫০ মি গভীর (৮২০-২,১৩০ ফুট); ওপরের অংশটা ১০-৪০ মি (৩০-১৩০ ফুট) পুরু।[[১] ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্টান্ডার্ডস-এর বয়ান অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সংবেদনশীলতা I থেকে V মাত্রা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে, এই শহর ভূকম্পীয় অঞ্চল III অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে।[[২]

শহর ভূবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

ময়দানের ওপারে কলকাতার আকাশ
কলকাতার একটা উপগ্রহ ছবিতে জমির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে
হুগলি নদীর পাড়ে অবস্থিত প্রিন্সেপ ঘাট

হুগলি নদীর পূর্ব পাড় বরাবর উত্তর-দক্ষিণে অসমানভাবে বেড়ে যাওয়ায়, কলকাতা পূর্ব ভারতে নিম্ন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ সংলগ্ন অঞ্চলে থিতু হয়ে আছে, এই শহরের ১.৫ থেকে ৯ মি (৫ থেকে ৩০ ফুট)।

কলকাতা মহানগর অঞ্চল বিস্তৃত ১,৮৮৬.৬৭ বর্গকিমি (৭২৮.৪৫ বর্গমাইল) জায়গা জুড়ে[৩]: এবং ২০১১ গণনানুযায়ী তিনটে পুর নিগম (কলকাতা পুর নিগমসহ), ৩৯ স্থানীয় পুরসভা এবং ২৪ পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ে।[৩]:২০০৬ গণনানুযায়ী ৭২টি শহর এবং ৫২৭ মফস্বল শহর ও গ্রাম এরই মধ্যে পরিবেষ্টিত হয়ে জড়িয়ে আছে।[৪] বৃহত্তর কলকাতার নগরাঞ্চল নিম্নলিখিত জেলাগুলোর সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে আছে:উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং নদিয়া।.[৪][৫]:১৫ রাজধানী কলকাতাকে, কলকাতা পুর নিগম (কেএমসি) ১৮৫ (৭১ বর্গমাইল) বর্গকিমি অঞ্চল জুড়ে অধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে রাখা হয়েছে। শহরটা পূর্ব-পশ্চিমে আকৃতিতে খুবই ছোটো, হুগলি নদী থেকে শুরু করে মোটামুটি ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস পর্যন্ত বিস্তৃত - ৯-১০ কিমি (৫.৬-৬.২ মাইল) চওড়া।.[৬] উত্তর-দক্ষিণের বিস্তৃতি অনেকটা বেশি, এবং এর অক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয় উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতা।

উত্তর কলকাতা শহরের সবচেয়ে পুরোনো অংশ। উনিশ শতকের স্থাপত্য এবং সরু গলি রাস্তা এর বিশেষত্ব, যে অঞ্চলগুলো এর অন্তর্ভুক্ত তা হল শ্যামবাজার, শোভাবাজার, চিৎপুর, কাশিপুর,বরাহনগর, সিঁথি এবং দমদম[৭]:৬৫–৬৬ মধ্য কলকাতা কেন্দ্রীয় 'বাণিজ্য জেলা' অথবা অফিস পাড়া হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে আছে বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ, আগে যাকে ডালহৌসি স্কোয়ার বলা হোত, এবং আছে সিধো-কানহু ডহর, প্রাক্তন নাম এসপ্ল্যানেড এর পূবে; স্ট্র্যান্ড রোড হল পশ্চিমে।.[৮] পশ্চিমবঙ্গ সচিবালয়, সাধারণ ডাকঘর, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, উচ্চ ন্যায়ালয়, লালবাজার পুলিশ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, এবং অন্যান্য অনেক সরকারি এবং বেসরকারি কার্যালয় সেখানে আছে। দক্ষিণের আরো একটা বাণিজ্যকেন্দ্র হল মাদার টেরিজা সরণি (পার্ক স্ট্রিট) সংলগ্ন অঞ্চল, যেমন জওহরলাল নেহরু রোড (পুরোনো চৌরঙ্গি), ক্যামাক স্ট্রিট (অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণি), উড স্ট্রিট, লাউডন স্ট্রিট, শেকশপিয়ার সরণি (আগেকার থিয়েটার রোড), এবং আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড (পূর্বের লোয়ার সার্কুলার রোড)। [৯] কলকাতা ময়দান হল অনেকটা জায়গা জুড়ে খোলা মাঠ, শহরের হৃদয়াম্ভ্যন্তরে যাকে বলা হয় 'কলকাতার ফুসফুস';[১০] এখানে আছে গড়ের মাঠ, অর্থাৎ 'ফোর্ট উইলিয়াম', মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান স্পোর্টিংয়ের ঘেরামাঠ, ব্রিগেড প্যারেড ময়দান, যেখানে খেলাধুলো এবং সভাসমিতি হয়। [১১] ময়দানেরই দক্ষিণ প্রান্তে আছে ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ এবং কলকাতা রেস কোর্স। অন্যান্য দিঘি ও পার্কের মধ্যে আছে বিবাদী বাগে লালদিঘি, বিদ্যাসাগর উদ্যানে (কলেজ স্কোয়ার) গোলদিঘি, আজাদ হিন্দ বাগ (হেদুয়া পার্ক), বিধাননগরে সেন্ট্রাল পার্ক এবং হুগলি নদীর পাড় বরাবর স্ট্র্যান্ড রোডের ওপর 'সহস্রাব্দ বাগান' বা মিলেনিয়াম পার্ক

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর দক্ষিণ কলকাতার উন্নতি হয়; অভিজাত অঞ্চল হিসেবে এই অঞ্চলের মধ্যে আছে বালিগঞ্জ, আলিপুর, নিউ আলিপুর, শরৎ বোস রোড (ল্যান্সডাউন), ভবানিপুর, টালিগঞ্জ, যোধপুর পার্ক, লেক গার্ডেন্স, গল্ফ গ্রিন (উদয় শংকর সরণি), যাদবপুর এবং কসবা[১২] দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বের দূরবর্তী অঞ্চলগুলো হোল: গার্ডেনরিচ, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, কুঁদঘাট, রানিকুঠি, বাঁশদ্রোনী, বাঘাযতীন এবং গড়িয়া। বৃহত্তর কলকাতা অঞ্চলের দুটো পরিকল্পিত শহরের একটা হচ্ছে বিধাননগর, যেটা সল্টলেক সিটি নামেও পরিচিত, মূল শহরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত; বিধাননগরের পূর্বে অন্যটা রাজারহাট, এটাকে নিউ টাউনও বলে।.[১২][১৩] নতুন শতকের সন্ধিক্ষণে, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে বিধাননগরের সেক্টর ফাইভকে তথ্য প্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলো একটা বাণিজ্যাঞ্চলে উন্নীত করে।[১৪] বিধাননগর এবং নিউ টাউন দুটো শহরই কলকাতা পুর নগর নিগমের সীমার বাইরে অবস্থিত এবং সেখানে তাদের নিজস্ব পুরসভা বর্তমান।[১৩] কলকাতার পশ্চিম প্রান্তে আছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ;[১৫] এই চত্বর সেনাবাহিনীর অধিকারক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে।

পুরোনো কলকাতা কার্যালয় পাড়া 'কলকাতা বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট' (সিবিডি) হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি শাসনপীঠ এবং অন্যান্য সরকারি কার্যালয়গুলোও এখানে আছে। নতুন কার্যালয় পাড়া দক্ষিণের চৌহদ্দির মধ্যে আছে মাদার টেরিজা সরণি (পার্ক স্ট্রিট), অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণি (ক্যামাক স্ট্রিট) এবংএজেসি বোস রোড। অনেক উঁচু বহুতলসমন্বিত কার্যালয়ের মধ্যে কলকাতার উচ্চতম বাণিজ্যিক ভবনগুলো, যেমন চ্যাটার্জি ইন্টারন্যাশনাল, টাটা সেন্টার, এভারেস্ট হাউজ, ইন্ডাস্ট্রি হাউজ, ৪২ তলা, সিজিও ভবন ইত্যাদি আছে। গঙ্গা নদী এবং জওহরলাল নেহরু রোড (আগে বলা হোত চৌরঙ্গি রোড) মধ্যবর্তী বিশাল মাঠ হল ময়দান। এটাকে বলা হয়ে থাকে কলকাতার ফুসফুস। এই তৃণভূমির মাঝে অবশ্য ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার (অক্টারলোনি মনুমেন্ট), ইডেন উদ্যান এবং অন্যান্য অনেক খেলার ক্লাব আছে। মূল শহরের কার্যালয় পাড়ার ঘিঞ্জি অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে অনেক সরকারি কার্যালয় বিধাননগর-এর  সেন্ট্রাল পার্ক অঞ্চলের বহুতল ভবনগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছে।

কলকাতার বসতবাড়িগুলো প্রধানত নিচুতলবিশিষ্ট এবং পুরোনো ঔপনিবেশিক ভবন এবং সংখ্যাতীতভাবে চারতলাবিশিষ্ট হয়। দক্ষিণ কলকাতায় দশ থেকে পনেরো তলার আবাসন বেশিমাত্রায় উঠছে। শহর তার বহুতল বাড়ি তৈরির ব্যাপারে সম্প্রতি আইনগত ছাড়পত্র দিয়েছে এবং বিশতলা বাড়ি বানানো বর্তমানে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্ব ভারতে বাসোপযোগী উচ্চতম ভবনগুলো হল:প্রিন্স আনোয়ার শা রোডস্থিত ৩৬তলা (ভূমি + ৩৫) সাউথ সিটির চারটে টাওয়ার। ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস বরাবর প্রচুর বহুতল তৈরির কাজ চলছে, যেগুলো শহরের চেহারা-ই বদলে দিচ্ছে। অভিজাত হোটেল, সভাসমিতির কেন্দ্র, বহু বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হাসপাতাল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বিক্রয়কেন্দ্র এবং প্রমোদকেন্দ্রসমূহ দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে।

শহরের অবহেলিত ঘিঞ্জি পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থার উন্নতিতে সাম্প্রতিক একটা জোয়ার এসেছে, পশ্চিম কলকাতা আন্তর্জাতিক শহরাঞ্চল তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার একটা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ডানকুনিতে অন্য একটা বিরাট নতুন শহরাঞ্চল প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে। ২০০১ জনগণনা অনুযায়ী মূল শহর এবং বিভিন্ন খাঁজে বস্তি এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির কাঠামোগুলো ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে রয়ে গিয়েছে। বস্তির পুনরুন্নয়ন প্রকল্পগুলো (প্রমোটিং) মানুষের জীবনযাত্রার অবস্থা কিছুটা হলেও বদলে দিয়েছে, কিন্তু এখনো এই অঞ্চলের উৎকর্ষসাধনের সমূহ সম্ভাবনা আছে। বস্তি উন্নয়নের বিষয়সমূহ এক জটিল অবস্থার মধ্যে আটকে যায়, কারণ সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বস্তিবাসীদের নতুন বাসস্থানে যেতে বাধা এবং সংগঠকদের অসফলতা সব মিলিয়ে উন্নয়নের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। নতুন মেট্রো শহরে বৈশিষ্ট্যপূর্ণভাবে আছে শপিং মল, রেস্তোরাঁ, কফি শপ এবং প্রমোদানুষ্ঠানের জায়গাগুলো, যেমন সিটি সেন্টার, রবীন্দ্র সদন, নন্দন, কলামন্দির, মহাজাতি সদন, শরৎ সদন, আকাদেমি অফ ফাইন আর্টস, তন্ত্র, বরিস্তা, সৌরভস প্যাভেলিয়ন এবং সায়েন্স সিটি ইত্যাদি। 

আবহাওয়া[সম্পাদনা]

গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিসহ কলকাতায় আছে ক্রান্তীয় ভিজে-এবং-শুকনো আবহাওয়া।  বার্ষিক গড় তাপমান ২৬.৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট); মাসিক গড় তাপমান ১৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৬৭ থেকে ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং মে-জুন মাস চলাকালীন সর্বোচ্চ তাপমান প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি হয়ে যায়। কলকাতায় শীতের প্রকোপ থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ভাগ পর্যন্ত, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির মধ্যে তাপমান ১৪ থেকে ১২ কিংবা তার নিচে নেমে যায়। সর্বোচ্চ নথিভুক্ত তাপমান ৪৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং সর্বনিম্ন হল ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৪১ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।[[১৬]

কলকাতার আবহাওয়ায় বর্ষা হচ্ছে একটা বিশেষ ব্যাপার। অাগস্ট মাসের বর্ষা চলাকালীন সময়ে এখানে সর্বোচ্চ বৃষ্টপাত হয় (৩০৬ মিলিমিটার) এবং বার্ষিক মোট গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,৫৮২ মিলিমিটার।খুব সকালে কুয়াশা এবং সন্ধ্যায় ধোঁয়াশা দেখা যায়, এর কারণ তাপমানের ওঠাপড়া। শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বাতাস গ্রীষ্মকালকে প্রভাবিত করে। বছরে মোট সূর্যালোকিত সময় ২,৫২৮ ঘণ্টার মতো, বিচ্ছিন্নভাবে এটা ঘটে মার্চ মাসে।[[১৭] গ্রীষ্মের শুরুতে প্রায়ই ঝড়ঝঞ্ঝা এবং ভারী বৃষ্টি শহরে আছড়ে পড়ে, যেটা শহরবাসীকে প্রচণ্ড দাবদাহ এবং আর্দ্রতা থেকে স্বস্তি দেয়। এই গ্রীষ্মকালীন ঝড়ঝঞ্ঝাকে কালবৈশাখী  বলে (উত্তর-পশ্চিম)। জাতি সংঘ উন্নয়ন প্রকল্প সংবাদ অনুযায়ী, এই বাতাস এবং ঘূর্ণিঝড় অঞ্চল হল 'খুব উচ্চ ধ্বংস আপদ'।

উল্লেখসমূহ[সম্পাদনা]

  1. Das, Diptendra; Chattopadhyay, B.C. (১৭–১৯ ডিসেম্বর ২০০৯)। Characterization of soil over Kolkata municipal area (PDF)Indian Geotechnical Conference1। Guntur, India। পৃষ্ঠা 11–12। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১২ 
  2. "Hazard profiles of Indian districts" (PDF)National Capacity Building Project in Disaster ManagementUNDP। ১৯ মে ২০০৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০০৬ 
  3. "Introducing KMA" (PDF)Annual Report 2011। Kolkata Metropolitan Development Authority। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  4. "007 Kolkata (India)" (PDF)। World Association of the Major Metropolises। ৮ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০০৭ 
  5. Sahdev, Shashi; Verma, Nilima, সম্পাদকগণ (২০০৮)। "Kolkata—an outline"Urban Land price Scenario- Kolkata − 2008 (DOC)। Industry and Economic Planning। Town and Country Planning Organisation, Ministry of Urban Development, Government of India। ২৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪. 
  6. Calcutta, West Bengal, India (মানচিত্র)। Mission to planet earth program। NASA। ২০ জুন ১৯৯৬। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  7. Sahdev, Shashi; Verma, Nilima, সম্পাদকগণ (২০০৮)। "Trends in land prices in Kolkata"Urban Land price Scenario- Kolkata − 2008 (DOC)। Industry and Economic Planning। Town and Country Planning Organisation, Ministry of Urban Development, Government of India। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪. 
  8. "Kolkata heritage"। Government of West Bengal। ১৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১১. 
  9. "BSNL may take two weeks to be back online"Times of India। New Delhi। Times News Network (TNN)। ৯ জুলাই ২০০৯। ২০১২-০৭-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১১With the Camac Street-Park Street-Shakespeare Sarani commercial hub located smack in the middle of the affected zone... 
  10. Yardley, Jim (২৭ জানুয়ারি ২০১১)। "In city's teeming heart, a place to gaze and graze"The New York Times। New York। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১১To Kolkata, it is the 'lungs of the city,' a recharge zone for the soul. 
  11. Das, Soumitra (২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০)। "Maidan marauders"The Telegraph। Kolkata। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১১. 
  12. Chakravorty, Sanjoy (২০০০)। "From colonial city to global city? The far-from-complete spatial transformation of Calcutta" (PDF)। Marcuse, Peter; Kempen, Ronald van। Globalizing cities: a new spatial order? (PDF)। Oxford, UK: Blackwell Publishing। পৃষ্ঠা 56–77। আইএসবিএন 0-631-21290-6। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১২ 
  13. Chakraborti, Suman (২ নভেম্বর ২০১১)। "Beautification project for Salt Lake, Sec V and New Town"Times of India। New Delhi। ২০১৩-০১-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  14. "Kolkata! India's new IT hub"Rediff.com। ১৩ জুলাই ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  15. "Eastern Command"। Indian Army। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১২ 
  16. Weatherbase entry for Kolkata
  17. GAIA article