কলকাতার জলপথ পরিবহন ব্যবস্থা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কলকাতার হুগলি নদীর পূর্ব তীরের বাগবাজার ফেরীঘাট থেকে ফেরী পরবর্তী গন্তব্যের উদেশ্যে যাত্রা করছে।

কলকাতা জলপথ পরিবহন ব্যবস্থা বা কলকাতা-হাওড়া জলপথ পরিবহন ব্যবস্থা হল কলকাতা মহানগর অঞ্চলের মধ্যে হুগলী নদীর দুই পাড়ের ফেরী সংযোগ ব্যবস্থা। এই জলপথ পরিবহন প্রধানত হাওড়াকলকাতা শহরকে যুক্ত করছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রুট[সম্পাদনা]

বাগবাজার ফেরীঘাটে একটি লঞ্চ

কলকাতা জলপথ পরিবহনের রুট প্রধানত তিন ধরনের। এই রুট গুলি হল কলকাতা ও হাওড়ার মাঝে ছোট রুট, পর্যটক বহনকারী মায়াপুর, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ভারতগামী দীর্ঘ রুট এবং কলকাতা বন্দর থেকে অন্দামানগামী সমুদ্র রুট। তবে কলকাতা জল পথ পরিবহন ব্যবস্থা বলতে সাধারণত কলকাতা ও হাওড়ার মাঝে ছোট রুটকেই বোঝায়।

সমস্যা[সম্পাদনা]

শ্রীরামপুরে একটি ফেরীঘাট।

কলকাতার জলপথ পরিবহন ব্যবস্থার পরিকাঠাম বেশির ভাগই মান্ধাতামলের। ফলে বর্তমান সময়ে তা যাত্রী পরিবহনের জন্য অযোগ্য হয়ে উঠছিল। ২০১৩ সালে পর্যবেক্ষন করে দেখা যায় হুগলি নদীতে রাজ্য ভূতল পরিবহনের ৯টি ফেরিঘাটই রয়েছে বিপজ্জনক অবস্থায়। কোনওটায় নোঙর কমজোরি হওয়ার জন্য বড় লঞ্চ ভিড়তে পারে না। কোনওটার আবার গ্যাংওয়ে ছোট হওয়ায় ভাটার সময়ে মাটিতে বসে যায়। কোনও জেটির অবস্থা এতই খারাপ যে জোয়ারের সময়ে অসংখ্য ফুটো দিয়ে জল ঢুকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ফলে জলপথে যাত্রী পরিবহন দিন দিন বিপতজনক হয়ে উঠছিল। [১]

সংস্কার ও উন্নয়ণ[সম্পাদনা]

শিবপুর-সহ অন্য ফেরিঘাটগুলি বড় লঞ্চ চলাচলের উপযুক্ত নয় এবং অধিকাংশের পরিকাঠামো যে প্রাচীন। ফেরিঘাটগুলি দুর্বল তা প্রকাশ্যে আসায় সেগুলি সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

এই বিষয় নিয়ে হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে হাওড়া জেলা প্রশাসনের কর্তারা। বৈঠকে সমিতির তরফে কলকাতা-হাওড়া যাতায়াতে হুগলি নদীতে রাজ্য ভূতল পরিবহন সংস্থর ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পন্টুন বা জেটি ও তার গ্যাংওয়ের সংস্কারের কথা বলা হয়। এ জন্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের খসড়াও পেশ করা হয়েছে।

হাওড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ শুক্রবার রাজ্য পরিবহন দফতরের সচিবালয়ে হাওড়ার জেলাশাসক শুভাঞ্জন দাশ এবং পরিবহন দফতর, রাজ্য ভূতল পরিবহন, হুগলি নদী জলপথ সমবায় সমিতি, হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স ও পূর্ত দফতর-সহ অন্যান্য দফতরের কর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক করেন পরিবহন সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেও ওই হিসেব পেশ করা হয়। এর পর “জলপথ পরিবহণের পরিকাঠামো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনায় ফেরিঘাট সংস্কারের খরচ-সহ রিপোর্ট জমা দিয়েছে ‘হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি’।”

কলকাতা-হাওড়া জলপথ পরিবহণে শিবপুর, মেটিয়াবুরুজ, চাঁদপাল ১ নম্বর জেটি, নাজিরগঞ্জ, ফেয়ারলি, আর্মেনিয়ান, হাওড়া ২ নম্বর জেটি, শোভাবাজার এবং বাগবাজার জেটি ও গ্যাংওয়ে ব্যবহার হয়। সমিতির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতার দিকের চাঁদপাল জেটির গ্যাংওয়ে এতটাই ছোট যে ভাটার সময় সেটি মাটিতে বসে যায়। তাই ওই ফেরীঘাটের বড় গ্যাংওয়ে প্রয়োজন। শিবপুর ফেরিঘাটেরও জেটি এত ছোট ও পুরনো যে বড় লঞ্চ ভেড়ানো যায় না। শিবপুর ফেরিঘাটের গ্যাংওয়েরও মেরামতের করা হবে। জেটি বাঁধার নোঙড় ও লোহার শিকলগুলিও পাল্টানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নতুন মহাকরণ নবান্নয় পৌঁছতে প্রধান ফেরিঘাট হবে শিবপুর। ফলে শিবপুর ফেরিঘাটের সংস্কারের উদ্দোগ নেওয়া হয়েছে। নবান্নের জন্য রামকৃষ্ণপুর ফেরিঘাটে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে। সেই কারণে ফেরিঘাটির জেটি ও গ্যাংওয়ে মেরামতের চেষ্টা চলছে। পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, ভূতল পরিবহণ সংস্থার থেকেও জেটি ও গ্যাংওয়ে সারানোর জন্য রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার দু’টি রিপোর্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিবপুর ঘাট থেকে অটো বা ফোরশোর রোড থেকে বাস চালানো যায় কি না, তা-ও আলোচনা হবে।[২]

২০১৩ সালে দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে চাঁদপাল, শিবপুর এবং রামকৃষ্ণঘাটের সংস্কার হবে। এর পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে সারানো হবে ফেয়ারলি, নাজিরগঞ্জ, হাওড়া ২ নম্বর জেটি এবং আর্মেনিয়ান ঘাট। শেষ পর্যায়ে সংস্কারের কাজ হবে বাগবাজার এবং মেটিয়াবুরুজ জেটিতে। ফেরিঘাটগুলির যেমন পন্টুনের কাজ হবে, তেমনই সংস্কার হবে গ্যাংওয়ের মূল কাঠামোর। সেই সঙ্গে ফেরিঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নও করা হবে। প্রতিটি ফেরিঘাটের জন্য প্রাথমিক ভাবে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

নতুন তৈরি দু’টি ফেরির বা লঞ্চের জন্যও রাজ্য পরিবহণ দফতরের কাছে বাড়তি ৬৪ লক্ষ টাকা দাবি করেছে সমিতি। ওই দু’টি লঞ্চ ‘এম ভি গীতাঞ্জলি’ এবং ‘এম ভি নটরাজ’ চালু করা হয়েছে। দু’টি ফেরির বরাত দেওয়া হয়েছিল ৫৭ লক্ষ ৮০০ টাকা দরে। কিন্তু বরাতে দুর্নীতির অভিযোগ করে সমিতি থেকে বলা হয়েছে ফেরি-পিছু ৯০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবহন দফতর তা খাড়িজ করে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "নড়ে বসল সেচ দফতর, সাত দিনে শুরু ফেরিঘাট সংস্কার"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৮ 
  2. "হাওড়ার মহাকরণে পৌঁছে দিতে বাড়বে ফেরির সংখ্যা"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৮