কনগ্র্যাচুলেশনস (রুমি, পিউডিপাই এবং বয়ইনএব্যান্ডের গান)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
"কনগ্র্যাচুলেশনস"
কনগ্র্যাচুলেশনস (রুমি, পিউডিপাই এবং বয়ইনএব্যান্ডের গান).jpg
রুমি, পিউডিপাই এবং বয়ইনএব্যান্ড কর্তৃক একক
মুক্তিপ্রাপ্ত৩১ মার্চ ২০১৯ (2019-03-31)
বিন্যাস
রেকর্ডকৃতনভেম্বর ২০১৮
ধারা
দৈর্ঘ্য:১৯
লেবেলরুমি
গান লেখক
প্রযোজক
  • অ্যাপোলো ভি
  • জোয়েল বার্গহুল্ট
পিউডিপাই একক গানের কালক্রম
"রিওয়াইন্ড টাইম"
(২০১৮)
"কনগ্র্যাচুলেশনস"
(২০১৯)
"মাইন অল ডে"
(২০১৯)
রুমি একক গানের কালক্রম
"অওন ইউ"
(২০১৮)
"কনগ্র্যাচুলেশনস"
(২০১৯)
বয়ইনএব্যান্ড একক গানের কালক্রম
"লাইফ ইজ ফান"
(২০১৮)
"কনগ্র্যাচুলেশনস"
(২০১৯)
সঙ্গীত ভিডিও
ইউটিউবে "কনগ্র্যাচুলেশনস"

"কনগ্র্যাচুলেশনস" হচ্ছে সুয়েডীয় ইউটিউবার পিউডিপাই, সুয়েডীয় সংগীতশিল্পী রুমি এবং ইংরেজ সঙ্গীতজ্ঞ বয়ইনএব্যান্ডের একটি গান।[১][২][৩] ইউটিউবে সর্বাধিক সাবস্ক্রাইবকৃত চ্যানেল হিসেবে টি-সিরিজ পিউডিপাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইউটিউবে এই গানটি ২০১৯ সালের ৩১শে মার্চ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।[৪][৫][৬]

পটভূমি[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে, ভারতীয় সংগীত ভিডিও চ্যানেল বিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল টি-সিরিজের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দ্রুত সুয়েডীয় ইন্টারনেট ভিত্তিক কৌতুকাভিনেতা এবং লেট'স প্লেয়ার পিউডিপাইয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, উক্ত সময়ে তার চ্যানেলটি ইউটিউবে সর্বাধিক সাবস্ক্রাইবকৃত চ্যানেল ছিল।[৭][৮] এর ফলে পিউডিপাই এবং টি-সিরিজ এক ইন্টারনেটভিত্তিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে, যা পিউডিপাই বনাম টি-সিরিজ নামে সুপরিচিত। এ সময়ে পিউডিপাইয়ের ভক্ত এবং অন্যান্য ইউটিউবারগণ পিউডিপাইয়ের পক্ষে তাদের সমর্থন প্রদর্শন এবং টি-সিরিজের অনুরাগী এবং ইউটিউবারগণ টি-সিরিজের পক্ষে সমর্থন প্রদর্শন করেছিল। এই দ্বন্দ্ব চলাকালীন, উভয় চ্যানেল দ্রুত হারে প্রচুর পরিমাণে সাবস্ক্রাইবার অর্জন করেছিল। দুটি চ্যানেল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসে বেশ কয়েকবারে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যায় একে অপরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।[৯][১০][১১][১২][১৩][১৪]

রচনা এবং গীত[সম্পাদনা]

"কনগ্র্যাচুলেশনস" একটি আপবিট সিন্থ-পপ অথবা হিপ-হপ ধরনের গান। বিষয়বস্তুতে, "কনগ্র্যাচুলেশনস" একটি বিদ্রূপাত্মক গান; এই গানের চিত্রসংগীতে পিউডিপাই কর ফাঁকির অভিযোগে টি-সিরিজের সভাপতি ভূষণ কুমারের সমালোচনা (টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি নিবন্ধ উল্লেখ করে) করার পাশাপাশি টি-সিরিজ তাদের ব্যবসায়ের প্রথম দিকে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য অন্যের অনুমতি ব্যতীত গান বিক্রি করে সাফল্য অর্জনেরও সমালোচনা করেন। তিনি কীভাবে টি-সিরিজ তাকে থামাতে এবং ক্ষান্ত করতে এক চিঠি প্রেরণ করেছিল (যা তাকে "বিচ লাজানিয়া" গানে তার কর্মকাণ্ড এবং গীতগুলি মানহানিকর বলে অভিযোগ করে প্রদান করা হয়েছিল) তা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও এই সংগীত ভিডিওতে তিনি তার পুরো ইউটিউব জীবন জুড়ে তার সাথে থাকার জন্য তার অনুরাগীদের ধন্যবাদ প্রদর্শন করেছেন।[১৫][১৬]

এই গানের সঙ্গীত ভিডিওতে পিউডিপাই টি-সিরিজের ইংরেজি ভাষার উইকিপিডিয়া নিবন্ধ তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অভ্যর্থনা[সম্পাদনা]

এই গানের জনপ্রিয়তার ফলে ২০১৯ সালের ৩১শে মার্চ তারিখে পিউডিপাই ১,৬৮,০০০ এবং ১লা এপ্রিল তারিখে ৩,০৯,০০০ সাবস্ক্রাইবার অর্জন করেছিল;[১৭] যার ফলে উক্ত দিনে পিউডিপাই টি-সিরিজকে সরিয়ে পুনরায় ১ নম্বর স্থান দখল করেছিল। পরবর্তীতে ৮ই এপ্রিল তারিখে তিনি সর্বোচ্চ ৫,১২,০০০ অধিক সাবস্ক্রাইবার নিয়ে টি-সিরিজ হতে এগিয়ে ছিলেন।[১৮] কিন্তু এই ভিডিওর প্রভাব শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে ২০১৯ সালের ১৪ই এপ্রিল তারিখে টি-সিরিজ পুনরায় পিউডিপাইকে পিছনে ফেলে দেয়।

এই গানটি ইউটিউবে প্রকাশের পরের দিন, পিউডিপাই টি-সিরিজকে পেছনে ফেলে পুনরায় ১ নম্বর স্থানটি দখল করেন, যা তিনি উক্ত সাবস্ক্রাইবার গণনার স্ক্রিনশট দিয়ে "বিগ লল" হিসেবে আখ্যায়িত করে টুইটারে একটি টুইট দিয়েছিলেন।[১৯]

এই গানটি প্রকাশের আট দিন পরে, পিউডিপাইয়ের পূর্ববর্তী বিদ্রূপাত্মক গান, "বিচ লাজানিয়া"-এর পাশাপাশি এই গানটিকেও ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। টি-সিরিজ দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিল যে এই গানগুলো হচ্ছে মানহানিকর, অসম্মানজনক, অপমানজনক এবং আক্রমণাত্মক। একই সাথে তারা আরও জানায় যে, এই গানে "বারবার অবমাননাকর, অশ্লীল এবং বর্ণবাদী প্রকৃতিরও মন্তব্য করা হয়েছে"। দিল্লি হাইকোর্ট এই দুটি গানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেছিল, সাথে তারা উল্লেখ করে যে, "বিচ লাজানিয়া মুক্তির পরে টি-সিরিজের সাথে যোগাযোগ করার পর পিউডিপাই তার এই ভিডিও পোস্ট করার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং "আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি এ ধরনের [আর] কোনও পরিকল্পনা করছেন না।"[২০][২১][২২]

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে, টি-সিরিজ এবং পিউডিপাই আদালতের বাইরে তাদের আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন বলে জানা গিয়েছে।[২৩]

চিত্রসংগীত[সম্পাদনা]

গানটি মুক্তির একই দিনে, এই গানের একটি চিত্রসংগীত প্রকাশিত হয়েছিল। চিত্রসংগীত প্রকাশের পূর্বে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে টি-সিরিজ সাবস্ক্রাইবার সংখ্যার দিক থেকে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় এই গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল।[২৪] এই গানে পিউডিপাই, রুমি এবং বয়ইনএব্র্যান্ড পার্টির সাজসজ্জা, বেলুন, শ্যাম্পেন এবং টি-সিরিজের লোগোর সমৃদ্ধ একটি কেকের সমন্বয়ে একটি কক্ষের অভ্যন্তরে এক পার্টির আয়োজন করে। তারা ব্যঙ্গাত্মকভাবে টি-সিরিজকে অভিনন্দন জানিয়ে গান এবং নৃত্য পরিবেশন করে। দ্বিতীয় শ্লোকের পরে, পিউডিপাই তার সকল ভক্ত এবং সাবস্ক্রাইবদের তার পুরো কর্মজীবন জুড়ে সমর্থন করার জন্য একটি "ধন্যবাদ" দেন এবং ভিডিওটির সাথে গানের প্রায় শেষের দিকে ক্যামেরায় তার ভক্তদের জন্য একটি "ব্রোফিস্ট" উপহার দেন। অতঃপর পিউডিপাই, রুমি এবং বয়ইনএবান্ড মিলে রাতের আকাশে আতশবাজি চালনা করেন। এই গানের একেবারে শেষ দৃশ্যে ইউটিউবার মিস্টারবিস্ট টি-সিরিজের জন্য ধীর করতালি প্রদান করেন। ২০২০ সালের জুন অনুযায়ী, এই গানের চিত্রসংগীতটি ১৮৫ মিলিয়নের অধিক বার প্রদর্শন করা হয়েছে।[২৫]

চার্ট[সম্পাদনা]

চার্ট শীর্ষ
অবস্থান
নিউজিল্যান্ড হট সিঙ্গেলস (রেকর্ডেড মিউজিক এনজেড)[২৬] ২৭
সুইডেন হিটসিকার (সভেরিগেটপলিস্টান)[২৭]
ইউএস কমেডি ডিজিটাল ট্র্যাক সেলস (বিলবোর্ড)[২৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "PewDiePie concedes defeat to rival T-Series"BBC। ১ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. Tobin, Ben। "PewDiePie back on top as largest YouTube channel over Indian music label T-Series"USA TODAY (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  3. "PewDiePie drops scathing Congratulations video for T-Series"Metro (ইংরেজি ভাষায়)। ২ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  4. Radulovic, Petrana (৩১ মার্চ ২০১৯)। "PewDiePie admits defeat to T-Series"Polygon (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  5. Alexander, Julia (৩১ মার্চ ২০১৯)। "PewDiePie concedes to T-Series in battle for YouTube's biggest channel"The Verge (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  6. Alt, sloth_on_meth's (১ এপ্রিল ২০১৯)। "CONGRATULATIONS! PEWDIEPIE IS BACK IN THE LEAD! THIS. IS. EPIC!"@subgap (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  7. Huddleston Jr., Tom। "This Bollywood YouTube Channel Is on the Verge of Bumping 'PewDiePie' from His Top Spot"CNBCNBC Universal। ৩১ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  8. Rakin, Ethan। "PewDiePie Could Lose His King of YouTube Crown to a Channel Called T-Series"Business Insider Singapore। ৮ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০২০ 
  9. Trenholm, Richard; Ryan, Jackson। "PewDiePie Dethroned by T-Series as YouTube's Most Subscribed Channel"CNETCBS Interactive। ১২ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  10. Hamilton, Isobel Asher। "PewDiePie Briefly Lost His Crown as the Biggest YouTuber on the Planet"Business Insider। ১৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৯ 
  11. Spangler, Todd। "PewDiePie vs. T-Series: YouTube Channels Keep Battling for No. 1 Spot"Variety। Penske Business Media। ২০ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  12. "PewDiePie concedes defeat to YouTube rival T-Series"BBC। এপ্রিল ১, ২০১৯। 
  13. "Congratulations"YouTube। মার্চ ৩১, ২০১৯। 
  14. Virginia Glaze (মার্চ ৩১, ২০১৯)। "Watch PewDiePie roast T-Series with epic new 'Congratulations' diss track"dexerto.com 
  15. Radulovic, Petrana (৩১ মার্চ ২০১৯)। "PewDiePie admits defeat to T-Series"Polygon 
  16. Julia Alexander (মার্চ ৩১, ২০১৯)। "PewDiePie concedes to T-Series in battle for YouTube's biggest channel"The Verge 
  17. "pewdiepie Monthly YouTube Statistics - Socialblade.com"socialblade.com। এপ্রিল ১০, ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ 
  18. "Compare T-series and Pewdiepie YouTube Statistics ( By Social Blade)"socialblade.com। ২২ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১৯ 
  19. PewDiePie [@pewdiepie] (এপ্রিল ১, ২০১৯)। "big lol" (টুইট)। এপ্রিল ২, ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা – টুইটার-এর মাধ্যমে। 
  20. Babele, Aryan (১২ এপ্রিল ২০১৯)। "Delhi High Court orders YouTube to remove PewDiePie "diss tracks" on T-Series"Medianama। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯ 
  21. Stenn, Lili (১৫ এপ্রিল ২০১৯)। "PewDiePie's T-Series Diss Tracks Banned in India"Rogue Rocket। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯ 
  22. Sanchz, Daniel (১১ এপ্রিল ২০১৯)। "India Clamps Down on PewDiePie Racism — High Court Orders YouTube to Remove Two Offensive Videos"Digital Music News। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  23. Ghosh, Shona (১৩ আগস্ট ২০১৯)। "PewDiePie and T-Series quietly settled a court battle over 'racist' diss tracks following their epic YouTube battle"Business Insider। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  24. "Making the song with PewDiePie (Congratulations BTS)"YouTube (ইংরেজি ভাষায়)। Boyinaband। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  25. "Congratulations" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৩ 
  26. "NZ Hot Singles Chart"Recorded Music NZ। এপ্রিল ১৫, ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১২, ২০১৯ 
  27. "Veckolista Heatseeker, vecka 15"Sverigetopplistan। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৩, ২০১৯ 
  28. "Comedy Digital Track Sales"Billboard। অক্টোবর ১৩, ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১৭, ২০১৯