কথাবত্থু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

অভিধর্ম পিটকের অন্যতম গ্রন্থ হলো কথাবত্থু।এই গ্রন্থটির সংকলন করেছিলেন মোগ্গলিপুত্র তিষ্যসম্রাট অশোকের রাজত্বকালে তৃতীয় বৌদ্ধ মহাসঙ্গীতির অবসানে মোগ্গলিপুত্র তিষ্য স্থবির গ্রন্থটি রচনা করেন।কথাবত্থু প্রশ্নোক্তরমূলক গ্রন্থ।[১] "সুমঙ্গলবিলাসিনী " গ্রন্থে উল্লেখ আছে - "এটি অভিধর্ম পিটকের তৃতীয় গ্রন্থ।"[২] আত্মার অস্তিত্ব নিয়ে ধারণা তথা সূত্রে উল্লেখিত বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত ভিক্ষুসংঘের মধ্যে যে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল তা এখানে(কথাবত্থু) যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।[৩] কথাবত্থু সেই মনস্তাত্ত্বিক বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্র অভিধর্ম পিটকের অন্তর্গত একটি। এই গ্রন্থে বৌদ্ধ থেরবাদীদের সাথে বৌদ্ধ অন্যমতাবলম্বীদের সাথে তর্কের মাধ্যমে প্রশ্ন- উত্তর দেখা যায়।কথাবত্থু গ্রন্থের শুরুতে স্থান পেয়েছে থেরবাদীপুদ্গলবাদীদের প্রশ্নোক্তর পর্ব। সেই প্রশ্নোক্তরের ধরনটি ছিল এরূপ-

প্রশ্ন(থেরবাদী): পুদ্গল (ব্যক্তি) কি বাস্তব? পুদ্গল নামক ধারণাটি কি পারমার্থিক সত্যের ধারণায় সমর্থিত?

উত্তর(পুদ্গলবাদী): হ্যাঁ।

প্রশ্ন: বাস্তব আর পারমার্থিক সত্য যেভাবে পরিচিত, পুদ্গলও কি সেই একইভাব স্বীকৃত?

উত্তর: "না, সেভাব স্বীকৃত নয়।"[৪]

এভাবে প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে উক্ত গ্রন্থে থেরবাদীদের সাথে অন্য মতাবলম্বীদের তর্কের তথ্য পাওয়া যায়। গ্রন্থটিতে তেইশটি অধ্যায় আছে। প্রত্যক অধ্যায়ে আট-বারোটি করে প্রশ্নোত্তর মালা রয়েছে। মহামতি সম্রাট অশোকের সময়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৌদ্ধ মহাসঙ্গীতির সময় মোগ্গলিপুত্র তিষ্য স্থবির গ্রন্থটি সংকলন করেন।এটাকে বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন সম্পর্কিত তর্কশাস্ত্র বলা হয়। এ-গ্রন্থ বিভিপ্ন জটিল দার্শনিক তত্ত্বের উত্তর-প্রত্যুত্তর রয়েছে। অভিধর্মের কঠিন এবং দুর্বোধ্য দার্শনিক বিষয়গুলোকে এ - গ্রন্থে যুক্তি-তর্কে সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্রন্থটিতে বুদ্ধবাণী উদ্ধৃতির মাধ্যমে অন্যান্য দার্শনিক তত্ত্ব খন্ডন করা হয়েছে।[৫]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Kathavatthu, Translated into Bangli Uzzal Barua Basu, F.E.30 Decembur 2016.
  2. Pali sahittor itihas, Rabindra Bijoy Barua. P.312
  3. Kathavatthu, trsnslated into Bangali Uzzal Barua Basu, P.xvii
  4. Kathavatthu(points of Controversy), T.B Uzzal Barua Basu, p.xx
  5. Buddhadhamma And Noitik Shiksha, NCTB,2018,P-45