ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা, জিব্রাল্টার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা, জিব্রাল্টার
Ocean Village berths with rock behind.jpg
রকের বামপাশে ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা, রানওয়েম্যারিনা উপসাগর বামে দূরে অবস্থিত
অবস্থান
দেশজিব্রাল্টার
অবস্থানজিব্রাল্টার উপসাগর
স্থানাঙ্ক৩৬°০৮′৫২″ উত্তর ৫°২১′১৭″ পশ্চিম / ৩৬.১৪৭৮° উত্তর ৫.৩৫৪৮° পশ্চিম / 36.1478; -5.3548স্থানাঙ্ক: ৩৬°০৮′৫২″ উত্তর ৫°২১′১৭″ পশ্চিম / ৩৬.১৪৭৮° উত্তর ৫.৩৫৪৮° পশ্চিম / 36.1478; -5.3548
বিস্তারিত
মালিকওশেন ভিলেজ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
পোতাশ্রয়ের প্রকারকৃত্তিম
ওয়েবসাইট
ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা

ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা হচ্ছে জিব্রাল্টার-এ ব্রিটিশদের আওতাধীন তিনটি ম্যারিনার একটি। এটা ইবেরিয়ান উপদ্বীপ এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। আগে এর নাম ছিল শেফার্ড'স ম্যারিনা। এটি জিব্রাল্টার উপসাগরে অবস্থিত, জিব্রাল্টার বন্দর এবং জিব্রাল্টার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায়। ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা এবং সংলগ্ন ম্যারিনা বে-দু'টোকেই বর্তমানে ওশেন ভিলেজ প্রজেক্ট নামে একটি বিলাসবহুল রিসোর্টের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা এবং সংলগ্ন ম্যারিনা বে'তে মোট বার্থের (জাহাজ বা নৌকা বাঁধার জায়গা) সংখ্যা ৩৩০ টি। বন্দরে সাগরের গভীরতা ৪.৫ মিটার (১৫ ফিট)। ম্যারিনায় ৯০ মিটার (৩০০ ফিট) থেকে শুরু করে ১০০ মিটার (৩৩০ ফিট) পর্যন্ত দৈর্ঘের জাহাজের জায়গা হতে পারে। এখানে তিনটি আবাসিক টাওয়ার রয়েছে, যেগুলোর নীল কাচে মোড়ানো ব্যালকনি থেকে ম্যারিনা দেখা যায়। এগুলো হলঃ গ্র্যান্ড ওশে্ন প্লাজা, ইমপেরিয়াল প্লাজা এবং ম্যাজেস্টিক প্লাজা। ২০১২ সালের ৪ জুন তারিখে ওশেন ভিলেজ ম্যারিনায় ১৬১ টি জলযান নোঙর করে। এর উদ্দেশ্য ছিল রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর রাজত্বের ষাট বছর পূর্তির হীরক জয়ন্তি পালন করা।  

অবস্থান[সম্পাদনা]

ঞ্জিব্রাল্টারে ম্যারিনার সংখ্যা তিনটিঃ ম্যারিনা বে, ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা এবং কুইনসওয়ে কুয়ে ম্যারিনা। [১] ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা জিব্রাল্টারের পশ্চিম্ দিকে, জিব্রাল্টার বন্দরের উত্তরে এবং এয়ারপোর্ট রানওয়ে'র ঠিক পাশে, জিব্রাল্টার উপসাগরে অবস্থিত। [২] এটি উত্তরে অবস্থিত ম্যারিনা বে'র খুব কাছে। [৩] এই ম্যারিনাটি ওশেন ভিলেজ প্রজেক্ট বা ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা কমপ্লেক্সের একটি অংশ, যাকে সংক্ষেপে কেবল ওশেন ভিলেজও বলা হয়। [৪] ওশেন ভিলেজ ম্যারিনার আগের নাম ছিল শেফার্ড'স ম্যারিনা বা শেফার্ড'স ইয়ার্ড। [৫] ম্যারিনা বে এবং ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা দু'টোকেই এখন ওশেন ভিলেজের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। [৪][৬] ম্যারিনার অবস্থানগত সুবিধার কারণে এটি সমূদ্রের আর্দ্র লেভ্যান্টার বাতাসের হাত থেকে বাঁচতে পারে। [৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা, জিব্রাল্টার

ওশেন ভিলেজ ম্যারিনার আগের নাম ছিল শেফার্ড'স ম্যারিনা, এবং এর মালিক ছিল এইচ শেফার্ড অ্যান্ড কোং। [৮] ২০০৪ সালে ম্যারিনাটি ওশেন ভিলেজ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। একে ভেঙে নতুন রূপ দেয়া হয় তখন। [৯] বিক্রির পর কয়েক বছর ম্যারিনার আগের নামই থেকে যায়। এই বিক্রির ফলে যে বিতর্ক ওঠেনি তা নয়, কারণ ম্যারিনার কিছু অধিবাসীকে নিজেদের জায়গা থেকে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য করা হয়। ২০০৬ সালে ওশেন ভিলেজ ইনভেস্টমেন্টস ম্যারিনা বে অধিগ্রহণ করার পর দু'টি ম্যারিনাকেই এক করে ওশেন ভিলেজ নামে একটি অবসর ও বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়।

[১০]

৪ জুন ২০১২ তারিখে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাজত্বের ষাট বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ওশেন ভিলেজ ম্যারিনায় ১৬১ টি জলযান নোঙর করে। [১১] লন্ডন এ টেমস নদী তে একই রকমের একটি অনুষ্ঠানের এক দিন পরেই এই জিব্রাল্টারে এটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় ওশেন ভিলেজের প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগরি বুচার এবং ইভেন্ট অর্গানাইজার রস অ্যাস্টেনগো'র শুভেচ্ছাবাণী দিয়ে। [১২] জিব্রাল্টার বন্দর কর্তৃপক্ষ উপস্থিত জনতাকে সানস্ক্রিণ থেকে শুরু করে দুই জাহাজের মধ্যবর্তী দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়ে নিরাপত্তার উপদেশ দেয়।  দুপুরবেলা নৌবহরটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে রানওয়ে'র পশ্চিম পাশ হয়ে ইউরোপা পয়েন্ট পার হয়, এবং রানওয়ে'র পুব পাশ পৌছানোর পর ফিরে আসে।  বহরে প্রায় ৭০ মিটার (২৩০ ফিট) দৈর্ঘের নৌকাও ছিল। প্রথমে ছিল ছোট নৌকাগুলো, তারপর ছিল ৯ মিটার (৩০ ফিট) দৈর্ঘের পাওয়ার বোটগুলো। তারপর ছিল পালতোলা নৌকাগুলো। বহরের সামনে ছিল জেনারেল এলিয়ট নামে জিব্রাল্টার বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি জাহাজ, তার সাথে আরও কিছু সহায়ক জলযান। [১১][১৩]

সুযোগসুবিধা[সম্পাদনা]

ম্যারিনার আবাসিক উন্নয়ন ব্যবস্থা

ওশেন ভিলেজ ম্যারিনা এবং ম্যারিনা বে'র মোট বার্থ সংখ্যা ৩৩০ টি, এবং গভীরতা ৪.৫ মিটার (১৫ ফিট)। [৭] ম্যারিনাটি ৯০ মিটার (৩০০ ফিট) থেকে ১০০ মিটার (৩৩০ ফিট) দৈর্ঘের জলযান ধারণ করতে পারে।  [১৪] বর্তমানে ম্যারিনায় কিছু প্রিমিয়ার বার্থ রয়েছে, যেগুলো বেশিরভাগই ১৮ মিটার (৫৯ ফিট) থেকে ২৫ মিটার (৮২ ফিট) দৈর্ঘের, যদিও সবচেয়ে বড়টায় ৮০ মিটার (২৬০ ফিট০ দৈর্ঘের জাহাজও নোঙর করতে পারে। [৭] জিব্রাল্টারের ইয়ট নোঙর করার বার্থটি ২০০৫ সালে বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তমানে কাস্টমসের সকল কাজ প্রতিটি বন্দর নিজেই করে থাকে। [১৫][১৬] ওশেন ভিলেজ ম্যারিনার প্রতিটি বার্থে বর্তমানে পানি, বিদ্যুৎ, স্যাটেলাইট টেলিভিশন, টেলিফোন, ফ্যাক্স এবং ওয়াই-ফাই সুবিধা রয়েছে। অন্যান্য সুবিধার মাঝে রয়েছে লন্ড্রি এবং কর্মচারী সুবিধা। গ্যাসোলিন এবং ডিজেল পাওয়া যায় কুয়েসাইড এ। [১৭]

ম্যারিনার পাশাপাশি ওশেন ভিলেজ রিসোর্টে রয়েছে তিনটি আবাসিক টাওয়ারঃ গ্র্যান্ড ওশেন প্লাজা, ইমপেরিয়াল প্লাজা এবং ম্যাজেস্টিক প্লাজা। এগুলোতে বাণিজ্যিক সুবিধাও রয়েছে। ২০১২ সালে ওশেন ভিলেজে একটি নতুন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র চালু হওয়ার কথা ছিল।[৫] এসব ব্যবস্থার মধ্যে আরও রয়েছে বিভিন্ন ধরণের রেস্টুরেন্ট, বার এবং খুচরা দোকান, সেই সাথে অফিসের জায়গা। বিনোদনের জন্য লেজার আইল্যান্ডে রয়েছে ব্যবসা কেন্দ্র, ক্যাসিনো এবং অন্যান্য সুবিধা। [৭]

১৯৬১ সালে ম্যারিনা চালু হওয়ার সময় এর মালিক ছিলেন জিব্রাল্টারের শেফার্ড পরিবার। তারা এখনও এখানেই থাকেন। ইয়ট মালিকরা এখান থেকে জাহাজ তৈরি ও মেরামত সুবিধা পেয়ে থাকেন। ম্যারিনা কোর্টের নিচ তলায় অবস্থিত জাহাজ কারবারি দোকানে ইয়টের নানা রকম জিনিসপত্র কিনতে পাওয়া যায়। কুইনসওয়ে কুয়ে ম্যারিনার কাছে কোলিং দ্বীপে অবস্থিত শিপইয়ার্ড থেকে ইঞ্জিন মেরামতি, ওয়েল্ডিং এবং রঙ করানো যায়।  শেফার্ডরা জিব্রাল্টারের তিনটি বন্দরেই সেবা দিয়ে থাকেন, এবং প্রয়োজন হলে জাহাজ টেনে আনার জন্য নিজেদের চল্লিশ টন ওজনের ক্রেন ব্যবহার করেন। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে জাহাজের খোল পরিষ্কার, অ্যানোড বা ট্র্যান্সডিউসার বদলানো, এবং পলি পরিষ্কার করা। [১৮][১৯] নর্থ মোল এবং কোলিং আইল্যান্ড- দুই জায়গাতেই এসব কাজ করা হয়। [২০]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Marinas in Gibraltar"। Gibraltar Tourist Board। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  2. "Marina Bay, Gibraltar"। World Marine Guide। ৩০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  3. "Port of Gibraltar - Port Map"। Gibraltar Port Authority। ২০১১। ১০ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  4. "Ocean Village Marina, Gibraltar"। Cruising & Marina Guide। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  5. "Ocean Village Gibraltar"। Marina Bay। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  6. "An Outline of the Port Infrastructure"। Port of Gibraltar Handbook 2010-11। Land & Marine Publications Ltd, on behalf of the Gibraltar Port Authority। ২০১০। পৃষ্ঠা 13। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  7. "Ocean Village Marina Brochure" (PDF)। Ocean Village। ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  8. Cornell, Jimmy (১৯৯৩)। Around the World Rally (illustrated সংস্করণ)। Sheridan House, Inc। পৃষ্ঠা 14। আইএসবিএন 9780924486470। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  9. Toby Hodges (১ জুন ২০০৪)। "Development of Sheppard's Marina, Gibraltar"Yachting Monthly। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  10. Port of Gibraltar Handbook (PDF)। Land & Marine Publications Ltd। ২০০৭। পৃষ্ঠা 38। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  11. "Be a part of history in the Gibraltar Diamond Jubilee Flotilla"Home and Lifestyle Magazine। ১৬ মে ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  12. "Ocean Village Reaches New Heights"Gibraltar Chronicle। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০। ১২ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  13. "Diamond Jubilee Flotilla"। Ocean Village। ৩০ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  14. "Ocean Village Marina Gibraltar, Gibraltar"। World Marine Guide। ২৮ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  15. "Yachting - Marinas"। Gibraltar Port Authority। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  16. "Yachting - Clearance Formalities"। Gibraltar Port Authority। ২০১১। ১১ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  17. "Top Quality Marina and Waterfront Facilities"। Port of Gibraltar Handbook 2010-11। Land & Marine Publications Ltd, on behalf of the Gibraltar Port Authority। ২০১০। পৃষ্ঠা 47–49। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  18. "Sheppard's of Gibraltar - Yacht Chandlery and Repairs"। Sheppard's of Gibraltar। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  19. "Sheppard's of Gibraltar - Map"। Sheppard's of Gibraltar। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  20. "Haul-out"। Sheppard's of Gibraltar। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]