ওয়েবের প্রথম গভীর ক্ষেত্র
| ওয়েবের প্রথম গভীর ক্ষেত্র | |
|---|---|
ওয়েবের প্রথম গভীর ক্ষেত্র | |
| পর্যবেক্ষণমূলক উপাত্ত ( ইপক ) | |
| তারামণ্ডল | ছায়াপথ স্তবক এসএমএসিএস ০৭২৩ |
| দূরত্ব | ৪.৬ বিলিয়ন (৪৬০ কোটি) আলোকবর্ষ |
| আরও দেখুন: ছায়াপথ স্তবক, ছায়াপথ স্তবকের তালিকা | |
ওয়েবের প্রথম গভীর ক্ষেত্র হলো জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের তোলা প্রথম কার্যকরী ছবি। এতে স্ম্যাকস জে০৭২৩.৩–৭৩২৭ নামক একটি ছায়াপথ স্তবকের ছবি ধারণ করা হয়েছে। এই স্তবকটি পতত্রীমীন মণ্ডল নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন (৪৬০ কোটি) আলোকবর্ষ (যদিও এর সহ-চলমান দূরত্ব ৫.১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ)। ২০২২ সালের ১১ জুলাই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এই যৌগিক ছবিটি দূরবীক্ষণ যন্ত্রটির নিয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা (NIRCam) দিয়ে তোলা হয়েছে। এতে দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে দৃশ্যমান আকাশের একটি ক্ষুদ্র অংশ ফুটে উঠেছে। ছবিটিতে হাজার হাজার ছায়াপথ দেখা যাচ্ছে, যা এখন পর্যন্ত তোলা আদি মহাবিশ্বের সবচেয়ে উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি।
পটভূমি
[সম্পাদনা]জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র হলো একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র, যা মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পরিচালনা করে। এটি মূলত অবলোহিত জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য নকশা করা হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের পর, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১.৫ নিযুত কিলোমিটার (৯,০০,০০০ মাইল) দূরে দ্বিতীয় সূর্য-পৃথিবী ল্যাগ্রেঞ্জ বিন্দুর (L2) চারপাশের একটি হ্যালো কক্ষপথে অবস্থান করছে। এই L2 বিন্দুতে সূর্য ও পৃথিবীর সম্মিলিত মহাকর্ষীয় বলের কারণে দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি পৃথিবীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সূর্যকে পরিক্রমণ করতে পারে।[১]
ওয়েবের প্রথম গভীর ক্ষেত্র ছবিটি দূরবীক্ষণ যন্ত্রটির নিয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা (এনআইআরক্যাম) দিয়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মোট ১২.৫ ঘণ্টা ধরে ধারণ করা ছবিগুলো একত্রিত করে এই যৌগিক ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।[২][৩] ছবিটি অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যে হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের গভীরতম ক্ষেত্রগুলোর চেয়েও বেশি গভীরতা অর্জন করেছে, অথচ হাবল দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সেই ছবিগুলো তুলতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগেছিল।
স্ম্যাকস জে০৭২৩.৩–৭৩২৭ হলো আকাশের একটি ছায়াপথ স্তবক, যা পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে দেখা যায়।[৪] সুদূর অতীতের মহাবিশ্ব অনুসন্ধানের জন্য হাবলসহ অন্যান্য দূরবীক্ষণ যন্ত্র প্রায়ই এই স্তবকটি পর্যবেক্ষণ করে থাকে।[১]
বৈজ্ঞানিক ফলাফল
[সম্পাদনা]এই ছবিতে স্ম্যাকস জে০৭২৩.৩–৭৩২৭ ছায়াপথ স্তবকটিকে যেভাবে দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগের রূপ।[৩] আকাশে এই ছবিটির কৌণিক আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র। মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো ব্যক্তি যদি তার হাতের এক হাত দূরত্বে একটি বালুকণা ধরে রাখেন, তবে সেই বালুকণাটি আকাশের যতটুকু অংশ জুড়ে থাকবে, এই ছবিটির আকারও ঠিক ততটুকু।[২] ছবিটিতে দৃশ্যমান অনেক মহাজাগতিক বস্তুর আলো মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কারণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় উল্লেখযোগ্য লোহিত সরণের মধ্য দিয়ে গেছে।[৫]
এই ছায়াপথ স্তবকের সম্মিলিত ভর একটি মহাকর্ষীয় লেন্স হিসেবে কাজ করে, যা এর পেছনে থাকা আরও দূরের ছায়াপথগুলোর আলোকে বাঁকিয়ে ও বিবর্ধিত করে দেখায়। ওয়েবের নিয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা এই দূরবর্তী ছায়াপথগুলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এর ফলে এমন কিছু ক্ষুদ্র ও ম্লান গঠন উন্মোচিত হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।[২]
তাৎপর্য
[সম্পাদনা]ওয়েবের প্রথম গভীর ক্ষেত্র হলো জেমস ওয়েব দূরবীক্ষণ যন্ত্রের তোলা প্রথম সম্পূর্ণ রঙিন (ছদ্ম-রঙিন) ছবি[৬] এবং এটি এখন পর্যন্ত ধারণ করা মহাবিশ্বের সবচেয়ে উচ্চ-রেজোলিউশনের অবলোহিত চিত্র। ছবিটি মহাবিশ্বের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশে হাজার হাজার ছায়াপথকে উন্মোচন করেছে। ওয়েবের তীক্ষ্ণ নিয়ার-ইনফ্রারেড দৃষ্টি অত্যন্ত দূরবর্তী ছায়াপথগুলোর ম্লান গঠনকেও স্পষ্ট করে তুলেছে, যা আদি মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত দৃশ্য তুলে ধরে। অবলোহিত আলোয় দেখা সবচেয়ে ম্লান বস্তুসহ হাজার হাজার ছায়াপথ প্রথমবারের মতো ওয়েবের এই ছবিতে ধরা পড়েছে।[৭][২]
২০২২ সালের ১১ জুলাই হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেন।[১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 Overbye, Dennis; Chang, Kenneth (১১ জুলাই ২০২২)। "Biden and NASA Share First Webb Space Telescope Image"। The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২২।
- 1 2 3 4 Garner, Rob (১১ জুলাই ২০২২)। "NASA's Webb Delivers Deepest Infrared Image of Universe Yet"। NASA। ১১ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২২।
- 1 2 "Webb's first deep field" (ইংরেজি ভাষায়)। European Space Agency। ১২ জুলাই ২০২২। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২২।
- ↑ "SRELICS"। IRAS। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২২।
- ↑ Isabella Isaacs-Thomas (১১ জুলাই ২০২২)। "Here's the deepest, clearest infrared image of the universe ever produced"। PBS। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২২।
- ↑ Strickland, Ashley (১১ জুলাই ২০২২)। "President Biden reveals the James Webb Space Telescope's stunning first image"। CNN। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২২।
- ↑ Chow, Denise (১১ জুলাই ২০২২)। "The Webb telescope's first full-color photo is here – and it's stunning"। NBC News (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২২।