বিষয়বস্তুতে চলুন

ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার

ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার
১৯০৪ সালের ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ারের ছবি
ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার নিউ ইয়র্ক-এ অবস্থিত
ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার
ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এ অবস্থিত
ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার
অবস্থানশোরেহ্যাম, লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক
স্থানাঙ্ক৪০°৫৬′৫১.৩″ উত্তর ৭২°৫৩′৫৩.৫″ পশ্চিম / ৪০.৯৪৭৫৮৩° উত্তর ৭২.৮৯৮১৯৪° পশ্চিম / 40.947583; -72.898194
নির্মিত১৯০১
স্থপতিস্ট্যানফোর্ড হোয়াইট, নিকোলা টেসলা
এনআরএইচপি সূত্র #100002744[]
এনআরএইচপি-তে যোগ২৭ জুলাই ২০১৮

ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার (১৯০১–১৯১৭), বা টেসলা টাওয়ার, ছিল নিকোলা টেসলা কর্তৃক নির্মিত একটি প্রাথমিক পরীক্ষামূলক বেতার সঞ্চালন কেন্দ্র। ১৯০১–১৯০২ সালে তিনি এটি নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের শোরেহ্যাম গ্রামে নকশা করে নির্মাণ করেন। টেসলার পরিকল্পনা ছিল তার উদ্ভাবিত তত্ত্ব অনুসারে পৃথিবীকেই সংকেত পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে বার্তা, টেলিফোন যোগাযোগ এবং এমনকি ফ্যাসিমাইল চিত্রও আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ইংল্যান্ডে এবং সমুদ্রগামী জাহাজে প্রেরণ করা। স্থাপনাটির পরিসর বৃদ্ধি এবং গুগলিয়েলমো মার্কোনির রেডিওনির্ভর দূরবার্তা প্রেরণ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হতে বেতার শক্তি স্থানান্তর সম্পর্কিত তার ধারণা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি প্রকল্পের প্রধান অর্থসহযোগী, আর্থিক পৃষ্ঠপোষক জে. পি. মরগানের কাছ থেকে অর্থায়নের অনুমোদন পায়নি। অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ না পাওয়ায় ১৯০৬ সালে প্রকল্পটি পরিত্যক্ত হয় এবং এটি কখনোই আর সচল করা সম্ভব হয়নি।

টেসলার ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টায় ১৯১৭ সালে টাওয়ারটি ভেঙে লোহালক্কড় হিসেবে বিক্রি করা হয় এবং ১৯২২ সালে সম্পত্তিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে, ওয়ার্ডেনক্লিফ ছিল আলোকচিত্র সরঞ্জাম উৎপাদনকারী একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। পরবর্তীতে এই স্থানটিতে অনেক নতুন ভবন যুক্ত করা হয় এবং এর জমির পরিমাণ ২০০ একর (৮১ হেক্টর) থেকে কমিয়ে ১৬ একরে (৬.৫ হেক্টর) নামিয়ে আনা হয়। তবে স্ট্যানফোর্ড হোয়াইটের নকশা করা ৯৪ বাই ৯৪ ফুট (২৯ বাই ২৯ মিটার) আয়তনের মূল ইটের ভবনটি এখনো টিকে আছে।

১৯৮০ ও ২০০০-এর দশকে, আলোকচিত্র যুগের বিপজ্জনক বর্জ্যসমূহ অপসারণ করা হয় এবং স্থানটি বিক্রি করে নতুন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জায়গাটি খালি করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে, স্থানটি রক্ষা করার জন্য একটি জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ সম্পত্তিটি ক্রয় করতে সফল হয় এবং ভবিষ্যতে নিকোলা টেসলার নামে একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০১৮ সালে, এই সম্পত্তিটি ঐতিহাসিক স্থানের জাতীয় নিবন্ধনে তালিকাভুক্ত হয়।[]

নকশা ও কার্যনীতি

[সম্পাদনা]
টেসলার বিবর্ধক "বৈদ্যুতিক শক্তি সঞ্চালনের যন্ত্র" (মার্কিন পেটেন্ট নং ১১১৯৭৩২) মূলত ওয়ার্ডেনক্লিফে ব্যবহৃত যন্ত্রটির মৌলিক কার্যপ্রণালী বর্ণনা করে।

উদ্ভব

[সম্পাদনা]

১৮৯০-এর দশকের শুরুর দিক থেকে পরিচালিত পরীক্ষার ভিত্তিতেই টেসলা ওয়ার্ডেনক্লিফ প্রকল্পের নকশা গড়ে তোলেন। এসব পরীক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি নতুন বেতার শক্তি সঞ্চালন ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা। ১৮৮৮ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্টজ কর্তৃক প্রমাণিত হার্টজিয়ান তরঙ্গ (বেতার তরঙ্গ) ব্যবহারের ধারণাটি টেসলা পরিত্যাগ করেছিলেন। টেসলা এসবের অস্তিত্ব সম্পর্কেই সন্দেহ পোষণ করতেন এবং সে সময়ে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুসরণ করতেন—যদি এসবের অস্তিত্ব থাকেও, তবে এগুলো কেবল এক ধরনের অদৃশ্য আলো, যা দৃশ্যমান আলোর মতোই সরল রেখায় গমন করবে। অর্থাৎ, এগুলো সোজা মহাকাশের দিকে ছুটে গিয়ে “হতাশাজনকভাবে হারিয়ে যাবে”।[][] ১৮৯৯ সালে কলোরাডো স্প্রিংসে পরিচালিত গবেষণাগারে কাজ এবং পরবর্তী বৃহৎ আকারের পরীক্ষার মাধ্যমে টেসলা একটি বিশ্বব্যাপী বেতার ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করতে পারে সে সম্পর্কে নিজের ধারণা গড়ে তোলেন। এই পরীক্ষা থেকে তিনি একটি তাত্ত্বিক ধারণা দেন:[]

যদি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে পৃথিবীর অভ্যন্তরে তড়িৎ প্রবাহ প্রেরণ করা যায়, তবে পৃথিবীর নিজস্ব তড়িৎ আধানকে কাজে লাগানো সম্ভব। এর ফলে এমন একটি অনুনাদ সৃষ্টি হবে যা বর্ধিত হয়ে “স্থির তরঙ্গ” তৈরি করবে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে এই তরঙ্গ শক্তি হিসেবে আহরণ করে বিভিন্ন যন্ত্র চালানো অথবা মড্যুলেশনের মাধ্যমে সংকেত প্রেরণ করা যাবে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. কর্মী (১৩ মার্চ ২০০৯)। "জাতীয় নিবন্ধন তথ্য পদ্ধতি  (#100002744)"ঐতিহাসিক স্থানসমূহের জাতীয় নিবন্ধনজাতীয় পার্ক পরিষেবা
  2. "২৭ জুলাই ২০১৮-এর জন্য ঐতিহাসিক স্থানের জাতীয় নিবন্ধনের সাপ্তাহিক তালিকা" (পিডিএফ)। ইউ.এস. ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস। ২৭ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮
  3. উন্‌শ, এ. (জুন ২০১৮)। "নিকোলা টেসলার প্রকৃত বেতার ব্যবস্থা: এক উপেক্ষিত দৃষ্টান্ত"। প্রসিডিংস অব দ্য আইইইই১০৬ (৬): ১১১৫–১১২৩। ডিওআই:10.1109/JPROC.2018.2827438
  4. ডব্লিউ. বার্নার্ড কার্লসন, টেসলা: ইনভেন্টর অব দ্য ইলেকট্রিক্যাল এইজ, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস – ২০১৩, পৃষ্ঠা ২০৯
  5. ডব্লিউ. বার্নার্ড কার্লসন, টেসলা: ইনভেন্টর অব দ্য ইলেকট্রিক্যাল এইজ, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস – ২০১৩, পৃষ্ঠা ২১০–২১১

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • অ্যান্ডারসন, লিল্যান্ড, "ওয়ার্ডেনক্লিফ সম্পর্কে টেসলার দুষ্প্রাপ্য নোট", ইলেকট্রিক স্পেসক্রাফট – এ জার্নাল অব ইন্টারেক্টিভ রিসার্চ, ইস্যু ২৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮। এতে বেলগ্রেডের টেসলা মিউজিয়াম থেকে প্রাপ্ত দুষ্প্রাপ্য নথিপত্র রয়েছে, যার মধ্যে ১৯০১ সালের টেসলার নোট এবং স্কেচ অন্তর্ভুক্ত।
  • বাস, রবার্ট ডব্লিউ., "তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণের ক্ষেত্রে ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণের সুদৃঢ় সমাধান হিসেবে স্ব-স্থায়ী নন-হার্টজিয়ান অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ দোলন"। ইনভেন্টেক এন্টারপ্রাইজেস, ইনক., লাস ভেগাস, নেভাডা।
  • "Boundless Space: A Bus Bar"। দ্য ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্ল্ড, খণ্ড ৩২, নং ১৯।
  • ম্যাসি, ওয়াল্টার ওয়েন্টওয়ার্থ, "বেতার টেলিগ্রাফি ও টেলিফোনির সহজবোধ্য ব্যাখ্যা"। নিউ ইয়র্ক, ভ্যান নস্ট্রান্ড। ১৯০৮।
  • রাদার, জন, "টেসলা: এক স্বল্প-স্বীকৃত প্রতিভা, শোরেহ্যামে রেখে গেছেন তার নিদর্শন"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। লং আইল্যান্ড উইকলি ডেস্ক।
  • টেসলা, নিকোলা, "বেতার বৈদ্যুতিক শক্তি সঞ্চালন", ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার, ৫ মার্চ ১৯০৪।
  • টেসলা, নিকোলা, "বেতার শক্তি সঞ্চালনের বিশ্ব ব্যবস্থা", টেলিগ্রাফ অ্যান্ড টেলিগ্রাফ এজ, ১৬ অক্টোবর ১৯২৭।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]