ওয়াদি আস সালাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ওয়াদি আস সালাম (আরবি: وادي السلام‎, প্রতিবর্ণী. Wādī as-Salām, অনুবাদ 'শান্তি উপত্যকা'‎) হচ্ছে একটি মুসলমানদের কবস্থান যা ইরাকের নাজাফ নগরীতে অবস্থিত। এটা পৃথিবীর সব থেকে বড় কবস্থান।[১] কবরখানাটির আয়তন ১,৪৮৫.৫ একর (৬০১.১৬ হেক্টর; ৬.০১ কিমি; ২.৩২ মা) এবং এখানে ৫০ লাখ মৃতদেহ সমাহিত আছে।[২] এখানে প্রতিবছর লাখ লাখ তীর্থযাত্রী আসে।[৩]

অবস্থান[সম্পাদনা]

শুধু বিশ্বের সর্ববৃহৎ কবরস্থান হিসেবেই না, ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবেও এটি মুসলমানদের কাছে, বিশেষ করে শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান। এই স্থানেই হযরত হুদ (আ) এবং হযরত সালেহ (আ) এর কবর আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। এছাড়া ইসলামের চতুর্থ খলিফা এবং শিয়াদের প্রথম ইমাম হযরত আলি এর মাজারও এই কবরস্থানের পাশেই অবস্থিত।

শিয়া বিশ্বাস[সম্পাদনা]

শিয়াদের বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত ইবরাহীম (আ) তার পুত্র হযরত ইসহাক (আ)-কে সাথে নিয়ে একবার ইরাকের নাজাফে এসেছিলেন। সে সময় এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প হতো। কিন্তু হযরত ইবরাহীম (আ) যতদিন এখানে অবস্থান করেছিলেন, ততদিন পর্যন্ত কোনো ভূমিকম্প হয়নি। পরবর্তীতে এক রাতে ইবরাহীম (আ) পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামে গেলে সেদিনই নাজাফে ভূমিকম্প হয়। তখন এলাকাবাসী তাকে অনুরোধ করে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য।

তাদের অনুরোধ রক্ষা করতে না পারলেও হযরত ইবরাহীম (আ) তাদের কাছে নিজের নামে এক টুকরো জমি ক্রয় করেন। সেই জমির টুকরোটিই বর্তমানে ওয়াদি আস্-সালাম কবরস্থান[৪] । শিয়াদের বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত ইবরাহীম (আ) ভবিষ্যদ্বাণী করেন, এই স্থানে এক সময় একটি মাজার এবং কবরস্থান গড়ে উঠবে। সেই কবরস্থানে শায়িতদের মধ্যে ৭০,০০০ মানুষ বিনা হিসেবে বেহেশত লাভ করবে।

শিয়াদের চতুর্থ ইমাম, ইমাম সাজ্জাদের বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত আলি বলেছিলেন, ওয়াদি আস্‌-সালাম হচ্ছে বেহেশতের একটি খন্ড। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতিটি মুমিন ব্যক্তি, তিনি যেখানেই মৃত্যুবরণ করেন না কেন, তার রূহ বা আত্মাকে এই কবরস্থানে উপস্থিত করা হবে। এসকল বিশ্বাসের কারণে শিয়াদের কাছে নাজাফ শহরটি এবং এই কবরস্থানটির মর্যাদা অনেক বেশি।

ওয়াদি আস্‌-সালামে দাফন করার পূর্বে শিয়ারা কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। মুর্দাকে গোসল এবং কাফনের কাপড় পরিধান করানোর কাজটি সাধারণত কবরস্থানেই করানো হয়। এরপর হযরত আলি এর মাজার সংলগ্ন মসজিদে জানাজার নামাজ পড়ানো হয়। তারপর দাফন করার পূর্বে মৃতদেহ নিয়ে মাজারের চারদিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করা হয়।[৫]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

ওয়াদি আস্‌-সালাম কবরস্থানের অধিকাংশ কবরই মূলত পোড়ামাটির ইটের তৈরি। অধিকাংশ কবরের ইটের উপর প্লাস্টার করা এবং তার উপর পবিত্র কুরআন শরিফের বিভিন্ন আয়াতের ক্যালিগ্রাফি খোদাই করা আছে। কবরগুলো বিভিন্ন আকার, আকৃতির এবং উচ্চতার। ব্যক্তিগত একক কবরের বাইরে কিছু আছে পারিবারিক সমাধি কক্ষ, যেগুলোর উপরে সাধারণত গম্বুজ থাকে। কিছু ভূ-গর্ভস্থ সমাধি কক্ষও আছে, যেখানে মইয়ের সাহায্য প্রবেশ করা যায়। এই সমাধি কক্ষগুলোর প্রতিটি ৩০ থেকে ৫০ জনের মৃতদেহ ধারণ করতে সক্ষম।

‘৩০ এবং ‘৪০-এর দশকে নির্মিত কবরগুলোর আবার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। সেগুলোর অধিকাংশই প্রায় ৩ মিটার উঁচু এবং গোলাকার চূড়া বিশিষ্ট, যেন পার্শ্ববর্তী লোকালয়ের উঁচু ভবনগুলোর ছাদ থেকে দেখেও সেগুলোকে চিহ্নিত করা যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hala Mundhir Fattah; Frank Caso (২০০৯)। A brief history of Iraq। Infobase Publishing। পৃষ্ঠা 140। আইএসবিএন 978-0-8160-5767-2। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১০ 
  2. HOW BIG IS WADI-US-SALAAM CEMETERY?, washingtonmonthly.com.
  3. Anthony Ham (১৫ সেপ্টে ২০১০)। Middle East। Lonely Planet। পৃষ্ঠা 224। আইএসবিএন 9781742203591 
  4. Dumper, Michael; Stanley, Bruce E., সম্পাদকগণ (২০০৭)। Cities of the Middle East and North Africa: A Historical Encyclopedia (illustrated সংস্করণ)। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 269। আইএসবিএন 9781576079195There is also the tradition that Abraham bought land in the Wadi as-Salaam (Valley of Peace) that runs through the present city, predicting that it would be from here that 70,000 of those buried in the valley would be guaranteed entrance into paradise and would then be able to intercede with Allah for others. Imam Ali is reported to have said that Wadi as-Salaam was a part of heaven. 
  5. George Farag (২০০৭)। Diaspora and Transitional Administration: Shiite Iraqi Diaspora and the Administration of Post-Saddam Hussein Iraq। ProQuest। পৃষ্ঠা 131–2। আইএসবিএন 9780549410034