ওয়াটসন জাদুঘর
![]() | |
| স্থাপিত | ১৮৮৮ |
|---|---|
| অবস্থান | Jজুবিলি গার্ডেন, রাজকোট |
| স্থানাঙ্ক | ২২°১৮′০২″ উত্তর ৭০°৪৮′০৭″ পূর্ব / ২২.৩০০৪৩১০৩৯৪৮৯৭৫৫° উত্তর ৭০.৮০১৮৬৬৮৪৩২৩৩৪৬° পূর্ব |
| ধরন | বহুমুখী |
| পরিদর্শক | ৭৮,০০০ (২০০৭-২০০৮) |
| প্রতিষ্ঠাতা | কর্নেল জন ওয়াটসন |
| তত্ত্বাবধায়ক | এস. এম. দালাল |
ওয়াটসন জাদুঘর হলো গুজরাতের রাজকোটের জুবিলি গার্ডেনের মাঝখানে অবস্থিত একটি রাজকীয় জাদুঘর, যা ১৩ শতকের শিল্পকর্ম, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প এবং রাজকীয় নিদর্শনগুলির জন্য বিখ্যাত।[১] সমগ্র সৌরাষ্ট্র (অঞ্চল) জুড়ে থাকা সাতটি জাদুঘরের মধ্যে ওয়াটসন জাদুঘরকে সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই জাদুঘরটি গুজরাত রাজ্য সরকার দ্বারা পরিচালনা করা হয়। এই জাদুঘরে তৎকালীন রাজকোটের রাজা জাদেজা রাজপুতদের মূল্যবান জিনিসপত্রের সংগ্রহ রয়েছে। এতে অমূল্য সমগ্রী, নিদর্শন, ছবি যেমন রয়েছে তেমনি এর সঙ্গে রয়েছে একটি তথ্যবহুল গ্রন্থাগার। জাদুঘরের নানাধরনের প্রকাশনা একটি কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ওয়াটসন জাদুঘরটি রাজকোটের জুবিলি গার্ডেনে অবস্থিত কুইন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট ভবনে স্থাপিত। জাদুঘরের নামকরণ করা হয়েছে একজন ব্রিটিশ রাজনৈতিক এজেন্ট কর্নেল জন ওয়াটসনের নামে।[১][২] ১৮৮৮ সালে কর্নেল জন ওয়াটসনের স্মরণে এই জাদুঘরের নামকরণ করা হয়। কর্নেল ওয়াটসন ১৮৮১ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত কাঠিয়াওয়াড় এজেন্সির একজন ব্রিটিশ রাজনৈতিক এজেন্ট ছিলেন। ওয়াটসন জাদুঘরটি বরোদা জাদুঘরের পরে গুজরাটের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘর হিসাবে ধরা হয়। এটি সৌরাষ্ট্র (অঞ্চল) এর প্রাচীনতম জাদুঘর। কর্নেল ওয়াটসন ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্বের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন এবং রাজকোট সম্পর্কে নানান তথ্য সংগ্রহ করতেন। কর্নেল ওয়াটসনের বেশিরভাগ সংগৃহীত সামগ্রী এবং অন্যান্য নিদর্শন এই যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ১৮৯৩ সালে জাদুঘর ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়এবং বোম্বে প্রেসিডেন্সির গভর্নর লর্ড জর্জ হ্যারিস জনসাধারণের জন্য এই জাদুঘরটি উন্মুক্ত করেন।[৩]
ওয়াটসন জাদুঘরে সৌরাষ্ট্র অঞ্চল থেকে সংগৃহীত সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মন্দিরের মূর্তি, খোদাই, ঔপনিবেশিক শাসকদের স্মারক, গ্রন্থাগারের চিত্রকর্ম এবং প্রতিবেশী শাসকদের দান করা চিত্রকর্মগুলি জাদুঘরের প্রধান আকর্ষণ।[১] এই জাদুঘরে প্রাকৃতিক ইতিহাস, নানা ধরনের পোশাক এবং স্থানীয় আদিবাসীদের বাড়ির নকশা প্রদর্শন করা হয়েছে। এখানে প্রত্নতত্ত্ব গ্যালারিতে প্রাগৈতিহাসিক যুগের নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। এই জাদুঘরে মুদ্রার একটি চমৎকার সংগ্রহ রয়েছে।[৪]
বিভাগ
[সম্পাদনা]
জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো। জাদুঘরে বিভক্ত কয়েকটি বিভাগ হলো পাণ্ডুলিপি, বস্ত্র, শিলালিপি, ভাস্কর্য, মুদ্রা, নৃবিজ্ঞান, লোক সূচিকর্ম এবং হস্তশিল্প, বাদ্যযন্ত্র, কাঠের কাজ, প্রাকৃতিক ইতিহাস এবং পাথর ও খনিজ পদার্থ, ১৩ শতকের মন্দিরের মূর্তি, খোদাই, ঔপনিবেশিক শাসকদের স্মারক, গ্রন্থাগারের চিত্রকর্ম এবং প্রতিবেশী শাসকদের দান করা চিত্রকর্ম।[২]
সুবিধা
[সম্পাদনা]ওয়াটসন জাদুঘর পরিদর্শনের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত যখন আবহাওয়া শীতল এবং মনোরম থাকে। এই সময় জাদুঘর এবং এর আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখার জন্য আদর্শ সময় বলে মনে করা হয়। ওয়াটসন জাদুঘর প্রতিদিন মঙ্গলবার থেকে রবিবার পর্যন্ত খোলা থাকে। এই জাদুঘরটি সোমবার দর্শকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। জাদুঘরের সময় হলো সকাল ৯:০০ থেকে দুপুর ১২:৪৫ এবং বিকেল ৩:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ পর্যন্ত। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীকে ১০ টাকা এবং শিশু দর্শনার্থীকে ৫ টাকা করে প্রবেশ মূল্য দিতে হয়।[৫]
বার্ষিক অনুষ্ঠান
[সম্পাদনা]প্রতি বছর জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ওয়াটসন জাদুঘরে সপ্তাহব্যাপী ভারতীয় শিল্প সমৃদ্ধি উৎসবের আয়োজন করা হয়।[১]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 "Watson Museum Rajkot, Gujarat"। www.tourmyindia.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২৫।
- 1 2 "Watson Museum, Rajkot"। Gujarat Tourism। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২৫।
- ↑ "Watson Museum"। ৩১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২৫।
- ↑ "Watson Museum gets rare coins"। cities.expressindia.com। ১২ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক) - ↑ "Watson Museum Tourism"। Travel Setu। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২৫।
