ওয়াজির খান (রামপুর)
ওয়াজির খান | |
|---|---|
| জন্ম | মোহাম্মদ ওয়াজির খান ১৮৬০ রামপুর রাজ্য |
| মৃত্যু | ১৯২৬ (বয়স ৬৬) রামপুর রাজ্য |
| ছদ্মনাম | ওয়াজির (উর্দু কবিতা), গওহর পিয়া (হিন্দি কবিতা) |
| পেশা | সঙ্গীতজ্ঞ নাট্যকার কবি সঙ্গীততত্ত্ববিদ |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| সময়কাল | ১৮৬০ – ১৯২৬ |
| ধরন | হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত সঙ্গীতধর্মী থিয়েটার |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | বিলায়তি চক্কর (উর্দু উপন্যাস) রিসালা মৌসিবি |
ওস্তাদ মোহাম্মদ ওয়াজির খান (১৮৬০–১৯২৬) নবাব হামিদ আলী খানের শাসনামলে আরবাব-ই-নিশাতের (রামপুর রাজ্যের সঙ্গীত বিভাগ) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১] তিনি একজন দক্ষ নাট্যকারও ছিলেন এবং রামপুরের ক্লাব ঘর ভবনে রামপুর নাট্যকলা প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রাথমিক জীবন ও পটভূমি
[সম্পাদনা]ওয়াজির খান ১৮৬০ সালে তৎকালীন রামপুর রাজ্যে আমীর খান বীণকারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।[২][৩] তিনি ছিলেন নওবত খান এবং হুসাইনীর (মিয়া তানসেনের কন্যা) বংশধর।[১] সঙ্গীতের পাশাপাশি ওয়াজির খানের আগ্রহ ছিল বহুমুখী। তিনি একাধারে পেশাদার নাট্যকার, কবি, প্রকাশিত লেখক, চিত্রশিল্পী, শৌখিন আলোকচিত্রী এবং একজন দক্ষ চারুলিপিকর ছিলেন। প্রধানত তিনি আরবি এবং ফারসি ভাষায় চারুলিপি করতেন। কবিতার ক্ষেত্রে তিনি বিখ্যাত কবি দাঘ দেহলভীর শিষ্য ছিলেন। সঙ্গীততত্ত্ববিদ হিসেবে তিনি 'রিসালা মৌসিবি' গ্রন্থটি রচনা করেন। এছাড়াও ওয়াজির খান আরবি ভাষা, ফার্সি ভাষা, উর্দু ভাষা, হিন্দি ভাষা, বাংলা, মারাঠি ভাষা এবং গুজরাতি সহ বহু ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।
রন্ধনশৈলী
[সম্পাদনা]নওবত খানি পরিবারের সদস্যরা ভোজনরসিক ছিলেন। তারা নিজস্ব রন্ধনশৈলী তৈরি করেছিলেন। তাদের খাবারে চালের বিভিন্ন পদ এবং কাবাব নিয়মিত থাকত। অওধের নবাবী দরবারের 'রাকাবদার' বা পাচক তাদের রান্নাঘরে নিযুক্ত ছিল। বলা হতো, এই পরিবারের কেউ যদি প্রতিবেলা খাবারের পর মিষ্টান্ন না খান, তবে তিনি প্রকৃত নওবত খানি নন।
তাদের রান্নাঘরের আয়োজন উপকরণে এতটাই সমৃদ্ধ ছিল যে, একবার নবাব হামিদ আলী খান বলেছিলেন, এই পরিবার যদি এত ভালো খাবারের ভক্ত না হতো, তবে তাদের স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈরি বাড়ি থাকত।[২]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]ওস্তাদ মুহাম্মদ ওয়াজির খান ছিলেন নবাব হামিদ আলী খান, আলাউদ্দিন খাঁ,[৪] হাফিজ আলী খান এবং বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখন্ডের ওস্তাদ। আলাউদ্দিন খাঁ পরবর্তীতে আধুনিক মাইহার ঘরানা প্রতিষ্ঠা করেন, যার শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন আলী আকবর খাঁ (পুত্র), অন্নপূর্ণা দেবী (কন্যা), পণ্ডিত রবিশঙ্কর (জামাতা), নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, বসন্ত রায়, পান্নালাল ঘোষ, বাহাদুর খান এবং শরণ রানী বাকলিওয়াল।[২]

আলাউদ্দিন খাঁর সংগ্রাম
[সম্পাদনা]ওয়াজির খান একজন রাজপুত্রের মতো জীবনযাপন করতেন এবং একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সরাসরি এই সঙ্গীতজ্ঞের কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল না। আলাউদ্দিন খাঁ তার শিষ্য হওয়ার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল ছিলেন এবং বলা হয় যে একদিন তিনি নবাবের গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।[৫] আলাউদ্দিনের অধ্যবসায় দেখে রামপুরের নবাব সন্তুষ্ট হন এবং ওয়াজির খানকে ডেকে পাঠান। এরপর আলাউদ্দিনকে ওয়াজির খানের শিষ্য করা হয়। তবে প্রথম দুই বছর ওয়াজির খান আলাউদ্দিনকে কিছুই শেখাননি। যখন তিনি জানতে পারলেন যে শিখতে আসার কারণে আলাউদ্দিনের স্ত্রী বাড়িতে চরম অর্থকষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন, তখন থেকে তিনি তাকে শিক্ষা দিতে শুরু করেন।[৬]


বংশলতিকা
[সম্পাদনা]
-
১. সমোখন সিং, কিষানগড়ের রাজা। মুঘল সম্রাট আকবরের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি নিহত হন।
-
২. ঝনঝন সিং, কিষানগড়ের যুবরাজ সাহেব। যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং নিহত হন।
-
৩. মিশরি সিং (নওবত খান), কিষানগড়ের যুবরাজ সাহেব। গৃহবন্দী হন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আকবর তাকে 'খান' উপাধি দেন। সম্রাট আকবর নওবত খানের সাথে তানসেনের কন্যা সরস্বতীর বিবাহ দেন। জাহাঙ্গীর তাকে 'নওবত খান' উপাধি এবং ৫০০ কর্মী ও ২০০ ঘোড়ার পদমর্যাদায় উন্নীত করেন।
- ৪. লাল খান গুনসমুদ্র। ১৯ নভেম্বর ১৬৩৭ সালে শাহ জাহান তাকে 'গুনসমুদ্র' উপাধি দেন।
- ৫. বিসরাম খান। মুঘল সম্রাট শাহ জাহান এবং আওরঙ্গজেবের দরবারের প্রধান সঙ্গীতজ্ঞদের একজন।
- ৬. মানরঙ্গ
- ৭. ভূপত খান
- ৯. সিধার খান
- ৮. খুশাল খান গুনসমুদ্র
- ১০. নির্মল শাহ
- ১১. নেয়ামত খান, সদরঙ্গ (১৬৭০–১৭৪৮)। খেয়াল গানের বিকাশ ঘটান, মুহাম্মদ শাহ রঙ্গিলার প্রধান সঙ্গীতজ্ঞ।
- ১২. দ্বিতীয় নওবত খান
- ১৩. ফিরোজ খান, আদারাঙ্গ
- ১৪. মোহাম্মদ আলী খান
- ১৫. ওমরাও খান
- ১৬. হাজি মোহাম্মদ আমীর খান খানদারা। নবাব কালবে আলী খানের সাথে হজ্জ পালন করেন।
- ১৭. ওয়াজির খান (রামপুর) (১৮৬০–১৯২৬)। নবাব হামিদ আলী খানের দরবারের প্রধান সঙ্গীতজ্ঞ।
- ১৯. মোহাম্মদ নজির খান
- ২২. মোহাম্মদ দাবীর খান
- ২৩. মোহাম্মদ শাব্বির খান
- ২২. মোহাম্মদ দাবীর খান
- ২০. মোহাম্মদ নাসির খান
- ২১. মোহাম্মদ সগির খান
- ১৯. মোহাম্মদ নজির খান
- ১৮. ফিদা আলী খান
- ২৪. মমতাজ আলী খান
- ২৫. ইমতিয়াজ আলী খান
- ২৬. ইমদাদ আলী খান
- ১৭. ওয়াজির খান (রামপুর) (১৮৬০–১৯২৬)। নবাব হামিদ আলী খানের দরবারের প্রধান সঙ্গীতজ্ঞ।
- ১৬. হাজি মোহাম্মদ আমীর খান খানদারা। নবাব কালবে আলী খানের সাথে হজ্জ পালন করেন।
- ১০. নির্মল শাহ
- ৪. লাল খান গুনসমুদ্র। ১৯ নভেম্বর ১৬৩৭ সালে শাহ জাহান তাকে 'গুনসমুদ্র' উপাধি দেন।
-
-
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Mukhopādhyāẏa, Kumāraprasāda (২০০৬)। The Lost World of Hindustani Music। Penguin Books India। আইএসবিএন ৯৭৮০১৪৩০৬১৯৯১।
- 1 2 3 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;TheHinduনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Hamilton, James Sadler (১৯৯৪)। Sitar Music in Calcutta: An Ethnomusicological Study। Motilal Banarsidass Publishe। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২০৮১২১০৯।
- ↑ Lavezzoli, Peter (২৪ এপ্রিল ২০০৬)। The Dawn of Indian Music in the West। A&C Black। আইএসবিএন ৯৭৮০৮২৬৪১৮১৫৯।
- ↑ Mehta, Ved (১৫ ডিসেম্বর ২০১৩)। Portrait of India। পেঙ্গুইন বুক্স। পৃ. ৭৫। আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৫১১৮২৭৭১ – Google Books এর মাধ্যমে।
- ↑ The Garland Encyclopedia of World Music: South Asia। Taylor & Francis। ১৯৯৮।
- ↑ ওস্তাদ মোহাম্মদ ওয়াজির খান এবং তার শিষ্যগণ, রতি রাস্তোগির পিএইচডি থিসিস, রোহিলখণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
- ভারতীয় পুরুষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ
- ভারতীয় রাজপদ
- মুঘল অভিজাত
- আকবর
- ভারতীয় শিয়া মুসলিম
- হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রী
- বীণা বাদক
- ১৮৬০-এ জন্ম
- ১৯২৬-এ মৃত্যু
- রামপুর, উত্তরপ্রদেশের ব্যক্তি
- ভারতীয় সঙ্গীততত্ত্ববিদ
- ১৯শ শতাব্দীর ভারতীয় নাট্যকার
- ১৯শ শতাব্দীর ভারতীয় সঙ্গীতজ্ঞ
- ১৯শ শতাব্দীর ভারতীয় মুসলিম
- ১৯শ শতাব্দীর ভারতীয় পুরুষ সঙ্গীতজ্ঞ
- ১৯শ শতাব্দীর ভারতীয় সঙ্গীততত্ত্ববিদ
- ব্রিটিশ ভারতের সঙ্গীতজ্ঞ
- হিন্দুস্তানি সঙ্গীতজ্ঞ