ওয়াকি ইবনুল জাররাহ
ওয়াকি ইবনুল জাররাহ | |
|---|---|
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ৭৪৫–৭৪৭ |
| মৃত্যু | ৮১২ (বয়স ৬৫–৬৬) ফায়াদ, আব্বাসীয় খিলাফত |
| ধর্ম | ইসলাম |
| সন্তান | সুফিয়ান |
| আখ্যা | সুন্নি |
| ব্যবহারশাস্ত্র | হানাফি |
| প্রধান আগ্রহ | হাদিস, ফিকহ |
| উল্লেখযোগ্য কাজ | আস সুনান, আল-মারিফা ওয়াল তারিখ, আল-জুহদ |
আবু সুফিয়ান ওয়াকি ইবনুল জারাহ ইবনে মালিহ আল-রুসাসি আল-কিলাবি আল-কুফি (৭৪৫/৪৭ -৮১২) ছিলেন কুফার একজন বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ । তিনি সুন্নি মুসলিম আইনজ্ঞ ইমাম শাফেঈ ও আহমদ ইবনে হাম্বলের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শিক্ষক। ৮১৩ সালে হজ্জপালন শেষে ফিরতে পথে তিনি ফাইয মরুদ্যানে মৃত্যুবরণ করেন। [১]
প্রাথমিক জীবনী
[সম্পাদনা]ওয়াকি ইবনুল জাররা ১২৮/২৯ হিজরি সালে (৭৪৫–৭৪৭ খ্রিস্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন। [২] কিছু ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, তার জন্মস্থল ছিল কুফা, আর কিছু সূত্র মতে, তিনি নিশাপুরের নিকটবর্তী উস্তুয়া নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[৩] তার পিতা জাররাহ ইবনে মালিহ ছিলেন ‘উবাইদ ইবন রু'আস’ গোত্রের একজন সদস্য, যা ‘বানু কিলাব’ নামক একটি বিখ্যাত আরব গোত্রের শাখা। জাররাহ সাগদিয়া অঞ্চলে জন্মেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন আমরা ইবনে শাদ্দাদ ইবনে সাওর নামক ব্যক্তির কন্যা, যারা একই গোত্রভুক্ত ছিলেন এবং তারা উভয়ই বুখারায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। [৪]
ওয়াকির পূর্বপুরুষগণ ইসলামি খিলাফতের শুরুর দিকে ৬৩০-এর দশকে মুসলিম বাহিনী যখন ইরাক বিজয় করে, তখন থেকেই কুফায় বসতি স্থাপন করে। [৫] ওয়াকির পরিবার স্বচ্ছল ও প্রভাবশালী ছিল। তার পিতা জাররাহ রাই নগরীর তাম্রমুদ্রা তৈরির কেন্দ্রের (বায়তুদ-দারব) তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আব্বাসীয় খলিফা হারুন অর-রশীদের (শাসনকাল: ৭৮৬–৮০৯) শাসনামলে বাগদাদের বায়তুল মাল বা সরকারি কোষাগারের প্রধান নিযুক্ত হন।.[২]
কর্মজীবন ও হাদিস চর্চা
[সম্পাদনা]ওয়াকি ইসলাম ধর্মীয় জ্ঞান, বিশেষ করে হাদীস চর্চায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি তার জন্মস্থান কুফায় একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি বিপুলসংখ্যক হাদীস মুখস্থ করেছিলেন এবং তা মুখে মুখে বর্ণনা করতেন। যদিও মাঝে মাঝে কিছু বর্ণনায় তিনি কিছু ভুলের স্বীকার হয়েছেন, তবে সেই যুগে তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হিসেবে গণ্য হতেন। [৬] [২]
খলিফা হারুনুর রশিদ তাকে প্রধান বিচারপতি (কাযি আল কুযাত) হিসেবে নিয়োগ দিতে চাইলেও তিনি তা বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ তিনি সর্বদা রাষ্ট্রনির্ভরতা এড়াতে চাইতেন। তার এই অবস্থান তাকে আরো পবিত্র ও আধ্যাত্মিক জীবনযাপনকারী হিসেবে পরিচিত করে তোলে। [২]
বিখ্যাত হাদীস পণ্ডিত ইবনে হাজার আসকালানি তার গ্রন্থ তাহযীবুত তাহযীবে ওয়াকির অসংখ্য শিক্ষক ও শিষ্যের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন। ওয়াকী যাদের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, ইকরিমা ইবনে আম্মার, আওযাঈ, আল-আ'মাশ, মালিক ইবনে আনাস এবং তার নিজের পিতা। [২]
ইমাম জাহাবি তার গ্রন্থ সিয়ারু আলামিন নুবালাতে ওয়াকির প্রায় ২০ জন প্রসিদ্ধ শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন ইমাম সুফিয়ান সাওরি, শুবা বিন হাজ্জাজ ও ইবনে জুরাইয। [১] উল্লেখ্য যে, ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলের (হাম্বলী মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা) অন্যতম প্রধান শিক্ষকের একজন ছিলেন ওয়াকি। [৭] তবে ওয়াকী নিজে হানাফি মাজহাব অনুসরণ করতেন। [৮]
ওয়াকি কুফায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন এবং তার আত্মীয় হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হুমায়দ রু'আসিকে সেই মসজিদের ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন।
প্রসিদ্ধ ছাত্ররা
[সম্পাদনা]ওয়াকির কাছে অনেক আলেম ও হাদিসবিশারদ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:
- আহমদ ইবনে হাম্বল
- ইসহাক ইবনে রাহুয়াইহ
- আবু উমর হাফস ইবনে উমর আল-দুরী
- খলিফা ইবনে খইয়াত (ইতিহাসবিদ)
- আবু খাইসামা জুহায়র ইবনে হারব
- সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি ইবনুল জারাহ
- আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে বশীর ইবনে জাকওয়ান (দামেস্কের কারী)
- আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র আল-হুমাইদী
- আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক
- আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ
- আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিমা কু’আনবী
- আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী
- উবায়দ ইবনে ওয়াকি ইবনুল জারাহ
- উসমান ইবনে আবি শায়বা
- আলী ইবনুল মাদিনী
- কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ
- মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ
- মালিহ ইবনে ওয়াকি ইবনুল জারাহ
- নসর ইবনে আলী আল-জাহজামী আস-সাগীর
- হিশাম ইবনে আম্মার আদিমাশকী
- হানাদ ইবনে সারি
- ইয়াহইয়া ইবনে আদম
- ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন
- ইয়াজিদ ইবনে হারূন
- ইসহাক ইবনে বাহলুল আত-তানূখী।
- তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছাত্র ছিল ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস শাফিঈ, যিনি ওয়াকি সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত একটি কবিতা রচনা করেছিলেন।[৯]
মৃত্যু ও উত্তরসূরী
[সম্পাদনা]ওয়াকি যখন হজ পালন শেষে ফিরছিলেন, তখন ১৯৭ হিজরিতে (৮১২ খ্রিস্টাব্দ) তিনি ফাইয নামক একটি মরুদ্যানে ইন্তেকাল করেন। [৩] তার পুত্র সুফিয়ানও কুফার একজন হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন, যদিও তার খ্যাতি ছিল খুবই সীমিত এবং অনেক ইমামই তাকে নির্ভরযোগ্য মনে করতেন না। সুফিয়ান বার্ধক্যে উপনীত হয়ে ৮৬১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। [১০]
উল্লেখযোগ্য রচনাবলী
[সম্পাদনা]যদিও সাধারণত মনে করা হয় যে, ওয়াকি ইবনুল জারারহ কোনো লিখিত গ্রন্থ রচনা করেনি, তবে তিনি বাস্তবে কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, যা ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায়। তবে বর্তমান সেই সব গ্রন্থের অস্তিত্ব পাওযা যায় না। তার লিখিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হল:[২]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Al-Dhahabi। Siyar a'lam al-nubala, Volume 9। পৃ. ১৪৩।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 Khoury 2002, পৃ. 101।
- 1 2 Rosenthal 1989, পৃ. 200, note 242।
- ↑ Szilagyi 2009, পৃ. 148, note 64।
- ↑ Caskel 1966, পৃ. 560।
- ↑ Salem 2016, পৃ. 21, note 64।
- ↑ Spectorsky 2013, পৃ. 86–87।
- ↑ Hurvitz 2002, পৃ. 51।
- ↑ "أدب | الموسوعة العالمية للأدب العربي"। www.adab.com। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Rosenthal 1989, পৃ. 176, note 66।
- ↑ Tillier, Mathieu; Vanthieghem, Naïm (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। "Une œuvre inconnue de Wakīʿ b. al-Ǧarrāḥ (m. 197/812 ?) et sa transmission en Égypte au IIIe/IXe siècle"। Arabica। ৬৫ (5–6): ৬৭৫–৭০০। ডিওআই:10.1163/15700585-12341510। আইএসএসএন 0570-5398। এস২সিআইডি 195465795।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Blankinship, Khalid Yahya, সম্পাদক (১৯৯৩)। The History of al-Ṭabarī, Volume XI: The Challenge to the Empires। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-০৮৫১-৩।
- Caskel, Werner (১৯৬৬)। Ğamharat an-nasab: Das genealogische Werk des His̆ām ibn Muḥammad al-Kalbī, Volume II (German ভাষায়)। Leiden: Brill।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - Hurvitz, Nimrod (২০০২)। The Formation of Hanbalism: Piety into Power। New York: Routledge। আইএসবিএন ০-৭০০৭-১৫০৭-X।
- Khoury, R. G. (২০০২)। "Wakīʿ b. al-Djarrāḥ b Malīḥ"। Bearman, P. J.; Bianquis, Th.; Bosworth, C. E.; van Donzel, E.; Heinrichs, W. P. (সম্পাদকগণ)। The Encyclopaedia of Islam, New Edition, Volume XI: W–Z। Leiden: E. J. Brill। পৃ. ১০১। আইএসবিএন ৯০-০৪-১২৭৫৬-৯।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|lastauthoramp=উপেক্ষা করা হয়েছে (|name-list-style=প্রস্তাবিত) (সাহায্য); অবৈধ|ref=harv(সাহায্য) - Rosenthal, Franz, সম্পাদক (১৯৮৯)। The History of al-Ṭabarī, Volume I: General Introduction and from the Creation to the Flood। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৮৭০৬-৫৬২-০।
- Salem, Feryal (২০১৬)। The Emergence of Early Sufi Piety and Sunnī Scholasticism: ʿAbdallāh b. al-Mubarak and the Formation of Sunni Identity in the Second Islamic Century। Leiden and Boston: Brill। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-৩১০২৯-২।
- Spectorsky, Susan A. (২০১৩)। "Ahmad b. Hanbal (d. 243/855)"। Powers, David S.; Spectorsky, Susan A.; Arabi, Oussama (সম্পাদকগণ)। Islamic Legal Thought: A Compendium of Muslim Jurists। Leiden and Boston: Brill। পৃ. ৮৫–১০৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-২৫৪৫২-৭।
- Szilagyi, K. (২০০৯)। "A Prophet like Jesus? Christians and Muslims Debating Muhammad's Death"। Jerusalem Studies in Arabic and Islam। ৩৬।