ওমিসোকা
| ওমিসোকা 大晦日 | |
|---|---|
ওমিসোকা উপলক্ষে শিন্তো মন্দির | |
| আনুষ্ঠানিক নাম | 大晦日 |
| অন্য নাম | নববর্ষের প্রাক্কাল |
| পালনকারী | জাপান |
| ধরন | সাংস্কৃতিক |
| তাৎপর্য | নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি |
| উদযাপন | কোহাকু উতা গাস্সেন |
| তারিখ | ৩১ ডিসেম্বর (পৌষ ১৬) |
| পরবর্তী আয়োজন | এক্সপ্রেশন ত্রুটি: অযাচিত < অপারেটর। |
| সংঘটন | বার্ষিক |
| সম্পর্কিত | জাপানি নববর্ষ নববর্ষের প্রাক্কাল |
ওমিসোকা (জাপানি: 大晦日) অথবা ওৎসুগোমোরি (大晦) জাপানের এক প্রাচীন উৎসব, যা বছরের শেষ দিনে পালিত হয়। প্রাচীনকালে এটি দ্বাদশ চন্দ্রমাসের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হতো। মেইজি যুগের সূচনায় জাপান যখন গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি গ্রহণ করে, তখন থেকে এটি ৩১ ডিসেম্বর (পৌষ মাসের ১৬ তারিখ)-এ পালিত হয়, অর্থাৎ নববর্ষের প্রাক্কালে।
উৎপত্তি
[সম্পাদনা]শব্দতত্ত্ব
[সম্পাদনা]জাপানি চান্দ্র-সূর্য বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাসের শেষ দিনকে বলা হতো মিসোকা (晦日)। মূলত "মিসো" লেখা হতো 三十, অর্থাৎ ত্রিশতম দিন। তবে চান্দ্র মাসের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হওয়ায় কখনও এটি উনত্রিশতম দিনে পড়ত। দ্বাদশ মাসের শেষ দিনকে বলা হয় ওমিসোকা (大晦日)—এখানে 大 অর্থ "মহান", অর্থাৎ বছরের সর্বশেষ দিন। মেইজি পুনর্গঠনের সময় (১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে) গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি চালু হলে ওমিসোকা নির্ধারিত হয় ৩১ ডিসেম্বর (পৌষ ১৬)।[১] এই দিনকে প্রাচীন উচ্চারণে ওৎসুগোমোরি (大晦)-ও বলা হয়, যা এসেছে ৎসুকিগোমোরি (月隠り) থেকে, অর্থাৎ "মাসের অন্তিম দিন"।[২][২][৩]
আচার-অনুষ্ঠান
[সম্পাদনা]
- বছরের শেষ দিনে মানুষ গৃহপরিচ্ছন্নতা, ঋণ পরিশোধ, অশুভ শক্তি ও দুর্ভাগ্য দূরীকরণ, এবং স্নান সম্পন্ন করে যাতে নতুন বছরটি নির্মলভাবে শুরু হয়।[৪]
- আধুনিককালে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে উৎসব, ভোজ, এবং দীর্ঘস্থায়ী কোহাকু উতা গাস্সেন (紅白歌合戦) নামক সঙ্গীত প্রতিযোগিতা দেখা জনপ্রিয়।[২]
- এই প্রথার মূল নিহিত আছে প্রাচীন বিশ্বাসে, যেখানে তোশিগামিসামা (歳神様) বা তোশিতোকুসামা (歳徳様) দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো।
নববর্ষের প্রাক্কালে প্রথা
- প্রায় এক ঘণ্টা আগে পরিবার-পরিজন একত্রিত হয়ে তোশিকোশি সোবা বা তোশিকোশি উদোন নামক দীর্ঘ নুডলস খায়। এর অর্থ হলো "এক বছর থেকে অন্য বছরে অতিক্রম"।
- বছরের শেষ কয়েক দিনে পরিবারগুলো ওসেচি নামক বিশেষ খাদ্য প্রস্তুত করে, যা নববর্ষের প্রথম কয়েক দিনে খাওয়া হয় দেবতার আগমনকে স্বাগত জানাতে এবং সারাবছরের সুখ কামনায়।
মধ্যরাত্রির আচার
- মধ্যরাতে মানুষ মন্দির বা উপাসনালয়ে যায় হাতসুমোদে পালনের জন্য, অর্থাৎ বছরের প্রথম দর্শন।[৫]
- শিন্তো মন্দিরে ভক্তদের জন্য পরিবেশন করা হয় আমাজাকে।
- অধিকাংশ বৌদ্ধ মন্দিরে বিশাল বনশো (ঘণ্টা) ১০৮ বার বাজানো হয়, যা মানবজীবনের ১০৮ প্রলোভন দূরীকরণের প্রতীক। এই প্রথাকে বলা হয় জোয়া নো কানেয় (除夜の鐘)।
শুভেচ্ছাবার্তা
[সম্পাদনা]- বছরের শেষবার দেখা হলে বলা হয় "ইয়োই ওতোশি ও" (良いお年を) অর্থাৎ "শুভ নববর্ষ কামনা করি"।[৬]
- নতুন বছরের সূচনায় প্রচলিত শুভেচ্ছা হলো "আকেমাশিতে ওমেদেতো" (明けましておめでとう) অর্থাৎ "নববর্ষের অভিনন্দন"।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Hamano, Sachiko। "大晦日(おおみそか)と正月 Omisoka & Shogatsu" [Ōmisoka and Shōgatsu]। Nihongo Instructor Club। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
- 1 2 3 Sosnoski, Daniel, সম্পাদক (৫ আগস্ট ২০১৪) [1996]। "Omisoka"। Introduction to Japanese Culture। North Clarendon, Vermont: Tuttle Publishing। পৃ. ৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৪-৮০৫৩-১৩১৩-৮। এলসিসিএন 95062169।
- ↑ Nishitsunoi, Masayoshi (২৩ মে ১৯৫৮)। 年中行事事典 [Encyclopedia of Annual Events] (জাপানি ভাষায়)। Tōkyōdō Shuppan। পৃ. ১২৩।
- ↑ Tanaka, Stefan (২২ আগস্ট ২০০৪)। "Prelude: Times, Pasts, History"। New Times in Modern Japan। Princeton, New Jersey: Princeton University Press। পৃ. ১৫। আইএসবিএন ০-৬৯১-১১৭৭৪-৮। এলসিসিএন 2003066411।
- ↑ "Washoku 和 食: Traditional Dietary Cultures of the Japanese" (পিডিএফ)। Ministry of Agriculture, Forestry and Fisheries। ৮ জুলাই ২০১৫। ১৬ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
- ↑ Kanagawa, Diane Wiltshire; Erickson, Jeanne Huey (১ আগস্ট ২০০০) [1992]। Japan for Kids: The Ultimate Guide for Parents and Their Children। New York: Kodansha America। পৃ. ২৩৬। আইএসবিএন ৪৭৭০০২৩৫১০। এলসিসিএন 92000978।