বিষয়বস্তুতে চলুন

ওমর কোশান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ওমর কোশান
'ওমরের হত্যা'
عمرکشان
ধরনকার্নিভালধর্মী শিয়া উৎসব
আরম্ভ৯ রবিউল আউয়াল
সমাপ্তি২৭ রবিউল আউয়াল
পুনরাবৃত্তিবার্ষিক
দেশইরান
প্রতিষ্ঠিত১৬ শতক
পূর্ববর্তী ঘটনা২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পরবর্তী ঘটনা২০ সেপ্টেম্বর ৭ অক্টোবর, ২০২৬
কার্যকলাপঐতিহ্যগত:
আবু লুলু কর্তৃক উমর ইবনুল খাত্তাবের হত্যাকাণ্ড উদযাপন (৬৪৪)
বর্তমান:
উমর ইবনে সাদের মৃত্যু উদযাপন (আনু.৬৮৬)

ওমর কোশান ( ফার্সি: عمرکشان; আক্ষ. উমরের হত্যা) বা জশনে হযরত-এ জাহরা ("ফাতিমা জাহরার উদযাপন")[] হলো একটি শিয়া ধর্মীয় উৎসব, যা ইরানের কিছু দ্বাদশী শিয়া মুসলমান একটি বার্ষিক উৎসব হিসেবে পালন করে। এই উৎসবটি মূলত ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবকে (যাকে শুধু 'ওমর'ও বলা হয়, আনু. ৫৮৩–৬৪৪) তার পারসিক দাস ফিরুজ নাহাওয়ান্দি কর্তৃক হত্যার স্মরণে পালিত হয়।[] এতে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবকে হত্যা করার জন্যে হত্যাকারী ফিরুজ নাহাওয়ান্দির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বর্তমান এটি ইসলামি বছরের রবিউল আওয়াল মাসের ৯ তারিখে শুরু হয় এবং একই মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।[][] বর্তমান অধিকাংশ শিয়া পণ্ডিত এই উৎসব পালনকে সমর্থন করেন না।

উৎসবটি মূলত এক ধরনের কার্নিভালধর্মী উৎসব, যেখানে সাধারণ সামাজিক নিয়ম ও ভূমিকা সাময়িকভাবে উল্টে যায়। স্বাভাবিকভাবে সমাজে যে সব নিয়ম-কানুন, মর্যাদা ও অবস্থান মানা হয়, এই উৎসবে তা কিছু সময়ের জন্য বদলে যায়; যেমন: নিচু স্তরের কেউ প্রতীকীভাবে উচ্চ অবস্থানের চরিত্রে অভিনয় করতে পারে অথবা সামাজিক আচরণের কঠোরতা শিথিল হয়ে যায়।[] এই উৎসব মহররম মাসের পালিত শোকানুষ্ঠানের পর একটি আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। কারণ মহররমে শিয়া মুসলমানরা কারবালার যুদ্ধে হুসাইন বিন আলির শাহাদাত উপলক্ষে গভীর শোক পালন করে, যা তাজিয়া নামে পরিচিত।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৬শ শতকে সাফাভীয় ইরানে এই উৎসবের সূচনা হয়।[] প্রথমদিকে এটি প্রতি হিজরি সনের ২৬ জ্বিলহজ্জ পালিত হতো, খলিফা উমরের মৃত্যুর তারিখ ছিল।[] প্রাথমিকভাবে এটি কেবল কাশান শহরে পালিত হত। তবে পরবর্তীতে এটি ইরানের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে এবং কখনও কখনও ২৬ জিলহজ্জের পরিবর্তে ৯ রবিউল আউয়ালে উদ্‌যাপিত হতে শুরু করে।[] এই উৎসবে আবু লুলু’কে জাতীয় বীর হিসেবে উদ্‌যাপন করা হতো এবং ঐ উপলক্ষে তাঁকে বাবা শুজা‘উদ্দীন (“ধর্মের সাহসী পিতা”) উপাধি দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হতো, তিনি একজন অত্যাচারী খলিফাকে হত্যা করে ইসলামকে রক্ষা করেছেন।[] এই উৎসবে যে উমরের কথা বলা হচ্ছে, তিনি হলেন খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব। কিছু দুর্বল শিয়া বর্ণনায় তাঁকে কেবল অনারবদের (পারস্য) ওপর নির্যাতনকারী হিসেবেই নয়, বরং নবি মুহাম্মদের কন্যা ও খলিফা আলির স্ত্রী ফাতিমাকে হুমকি ও আঘাত করার অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়। বলা হয়, ফাতিমা এজন্য তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। তবে এসব বর্ণনা শিয়া ও সুন্নি উভয়ধারার অধিকাংশ প্রসিদ্ধ পণ্ডিতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।[]

প্রারম্ভিক সাফাভীয় ইরানে প্রথম তিন খলিফাকে (যাদেরকে শিয়া দৃষ্টিতে আলির ন্যায্য খিলাফত থেকে বঞ্চিতকারী মনে করা হতো) অভিশাপ দেওয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল।[] এই প্রেক্ষাপটে উৎসবে উমরের কুশপুত্তলিকা প্রহার ও দাহ করা হতো এবং তার সঙ্গে অবমাননাকর কবিতা ও অভিশাপও পাঠ করা হতো।[১০]

তবে কাজার যুগে (১৭৮৯–১৯২৫) সুন্নি উসমানীয়দের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নত হওয়ার পর প্রথম তিন খলিফাকে অভিশাপ ও অপমান করার রীতি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়। ২০ শতকের শুরুতে এসে ইরানের বড় শহরগুলোতে ‘ওমর কোশান’ উৎসব প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়; তখন কেবল গ্রামীণ এলাকায় এটি কিছুটা টিকে ছিল।[] ১৯ শতকের শেষভাগে সর্ব-ইসলামবাদের উত্থান শিয়া ও সুন্নিধারার মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানায়, যার ফলে উৎসবের পতন আরো ত্বরান্বিত হয়। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর ইরান সরকারিভাবে এই আচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।[]

তবু উৎসবটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি; বর্তমানও এটি ইরানে পালিত হয়। তবে সর্বদা প্রকাশ্যে নয়, বরং গোপনে ও ঘরের ভেতরে নির্জন পরিবেশে এটি পালিত হয়।[] বর্তমানে এই উৎসবে একটি ঐতিহাসিক বিভ্রান্তিও দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, এখানে যে "উমরের” কথা বলা হচ্ছে, তিনি দ্বিতীয় খলিফা নন; বরং তিনি হলেন কারবালায় হুসাইনের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী উমর ইবনে সা'দ[]

এছাড়াও বর্তমানে এই উৎসবের গুরুত্ব উমরের বিরোধিতার চেয়ে নবি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমার প্রতি ভক্তি প্রকাশের দিকে রূপান্তরিত হয়েছে বেশি সরে গেছে। এখন অনেকের কাছে এটি ফাতিমা জাহরার প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য জোরদার করার এবং নিজেকে একজন শিয়া মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করার একটি উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। []

শিয়া পণ্ডিতদের মতামত

[সম্পাদনা]

অধিকাংশ শিয়া পণ্ডিতের মতে, রবিউল আউয়াল মাসের নবম দিনটি অত্যন্ত খুশি ও আনন্দের দিন। কারণ আহলে বাইত থেকে এই দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে কেউ কেউ এসব বর্ণনাকে দুর্বল মনে করেন এবং এই উপলক্ষের ব্যাপারে তারা ভিন্নমত পোষণ করেন। শিয়া পণ্ডিত শেখ আল-মুফিদ বিশ্বাস করতেন যে, নবি মুহাম্মাদ এ দিনটিকে একটি উৎসব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি নিজেও এটি উদযাপন করেছিলেন এবং মানুষকে উদযাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই দিনটি শিয়া মুসলমানদের কাছে উৎসবের দিন হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হলো, এটি ছিল ইমাম মাহদির ইমামতের প্রথম দিন। কারণ তাঁর পিতা আল-আসকারীর মৃত্যু ৮ রবিউল আউয়াল হয়েছিল। এই দিনেই তিনি ইমামত ও অভিভাবকত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শিয়া মতাবলম্বীদের মতে, তিনিই হলেন সেই মহান শাসক, যিনি কিয়ামতের পূর্বে পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করবেন এবং তাঁর হাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে; নিপীড়িত মানুষেরা অত্যাচারীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাবে। এই হিসেবে এটি দ্বাদশ শিয়াদের জন্য একটি উদযাপনের দিন। [১১]

শেখ মুহাম্মদ আল-হুসাইন আল-কাশিফ আল-গিতা বিশ্বাস করেন যে, এই দিনের উৎসবের কারণ সম্ভবত আল্লাহর নবিখাদিজাতুল কুবরার মধ্যে বিবাহ সংঘটিত হওয়া। এদিনে ফাতিমা আল-জাহরা আনন্দ প্রকাশ করতেন; এই কারণে উৎসবটি "জশনে হযরত-এ জাহরা" নামে পরিচিতি লাভ করে। কারণ বেশ কিছু শিয়া ঐতিহাসিক বর্ণনা মতে, তাঁদের বিবাহ ১০ রবিউল আউয়াল সংঘটিত হয়। তিনি দাবি করেন যে, এতে কোনো সন্দেহ নেই, ফাতিমা প্রতি বছরের এই দিনে আনন্দ প্রকাশ করতেন এবং তাঁর অনুসরণেই এই আনন্দ প্রদর্শনের রীতি শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর উৎসবটির মূল কারণটি সম্পর্কে অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিয়ারা কেবল এটিকে একটি উৎসব হিসেবে পালন করতে থাকে; কিন্তু উৎসবের প্রকৃত কারণ জানত না। তারপর কিছু প্রতারক এর সঠিক অর্থ বিকৃত করে এবং এই উৎসবকে উমরের হত্যার সাথে সম্পর্কিত করে। [১২]

শিয়াদের পণ্ডিতদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, এই দিনে উমর ইবনুল খাত্তাবকে হত্যা করা হয়েছিল। যদিও অন্যরা এটিকে ভুল বলে মনে করেন। কারণ অধিকাংশ শিয়া ও সুন্নি ইতিহাসবিদ ও জীবনীকার একমত পোষণ করেন যে, তিনি জ্বিলহজ্জ মাসে নিহত হন।[১৩] [১৪] এই দিনে উমর ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস নিহত হন, যিনি কারবালার যুদ্ধে উমাইয়া সেনাবাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। [১৫] [১৬] সম্ভবত এই দিনে তাঁর মৃত্যুর কারণেই পরবর্তীতে দিনটিকে উৎসব হিসেবে পালন করার রেওয়াজ চালু হয়। তবে এতে ভুলক্রমে উমর ইবনে সাদের পরিবর্তে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের নাম জুড়ে দেওয়া হয়। [১৭]

কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, এই দিনে পাপ ক্ষমা করা হয়।কারণ কলম তোলার হাদিসের উপর ভিত্তি করে (অর্থাৎ, কলম তোলার হাদিস)। তবে, পণ্ডিতরা এটিকে মূলত প্রত্যাখ্যান করেন কারণ বর্ণনাটি তার বর্ণনার ক্রম অনুসারে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না এবং দ্বিতীয়ত কারণ এটি কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। [১৮] [১৯]

ওমর কোশান পালনে নিষেধাজ্ঞা

[সম্পাদনা]

সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে এই নামে কোনো উৎসব প্রচলিত নেই; বরং এটিকে জঘন্য ও ধর্মবিরোধী উৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ইরানে রুহুল্লাহ খোমেনির শাসনকালে কথিত ওমর কোশান নামের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি তখন কিছু উগ্র শিয়া গোষ্ঠী পালন করত। সে সময়ের ইরানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর মোহতাশেমি এই অনুষ্ঠান আয়োজকদের কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিয়াসুন্নিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং মুসলিম সমাজে অস্থিরতা ও মতবিরোধ বাড়ায়।[২০]

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ঘনিষ্ঠ সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যম পার্স নিউজ এজেন্সি ঘোষণা করে যে, এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রতিরোধ করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বনোয়াট, অনৈতিক ও মুসলিম ঐক্যের পরিপন্থী।”[২১]

বর্তমান অনেক শিয়া মুসলমান মনে করেন যে, এই ধরনের আচার-অনুষ্ঠান সঠিক নয় এবং তা ভিন্নমতাবলম্বী ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতর্ক ও বিরোধ উসকে দেয়। তাঁদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মুসলিম উম্মাহর ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের পরিবেশ নষ্ট করে।[২২]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 Torab 2007.
  2. Algar 1990; Torab 2007. On Abu Lu'lu'a, see Pellat 2011, and especially El-Hibri 2010
  3. 1 2 3 Torab 2007; cf. Daniel ও Mahdi 2006.
  4. 1 2 Algar 1990.
  5. Algar 1990; Daniel ও Mahdi 2006; Torab 2007.
  6. Johnson 1994; cf. Algar 1990.
  7. 1 2 Calmard 1996; Algar 1990; cf. Daniel ও Mahdi 2006.
  8. On the tensions between Arabs and non-Arabs under Umar's rule, see Madelung 1997.
  9. Algar 1990; cf. Daniel ও Mahdi 2006.
  10. Algar 1990; Torab 2007.
  11. مركز الأبحاث العقائدية، موسوعة الأسئلة العقائديّة، الجزء : 4 صفحة : 398. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০২-২৪ তারিখে
  12. كاشف الغطاء، الشيخ محمد حسين، جنّة المأوى، الجزء : 1 صفحة : 74. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০২-২৪ তারিখে
  13. جمع من المؤلفين، ریاض العلماء و حیاض الفضلاء، الجزء: 4، صفحة: 381. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০২-২৪ তারিখে
  14. الكفعمي العاملي، المصباح- جنة الأمان الواقية و جنة الإيمان الباقية، الجزء: 1، صفحة: 511. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০২-২৪ তারিখে
  15. فرحة الزهراء، موقع الميزان ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৭-১০-১৫ তারিখে
  16. العاملي، جعفر مرتضى، الصحيح من سيرة الإمام علي، الجزء : 14 صفحة : 204. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০২-২৪ তারিখে
  17. تقرير عن فرحة الزهراء بالفارسية ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৭-০৯-২৮ তারিখে
  18. مكارم الشيرازي، الشيخ ناصر، الفتاوي الجديدة، الجزء : 3 صفحة : 546. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০২-২৪ তারিখে
  19. هل حديث رفع القلم يوم التاسع من ربيع الاول؟، islamquest، 2012/04/17. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৮-০৬-২৩ তারিখে
  20. فاطمه لطفی، يوم التاسع من ربيع الأول واقامة الاحتفال(فارسي)، موقع علم اجتماع الشيعة. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৮-০৮-১৫ তারিখে
  21. "إيران تمنع احتفالات " مقتل عمر " و " عيد الزهراء " | عكس السير دوت كوم"aksalser.com। ১৬ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  22. فرحة الزهرة الأصل الطقوس والدلالات إبراهيم عبد علي