ঐক্য দিবস (ইয়েমেন)
| ঐক্য দিবস | |
|---|---|
| পালনকারী | |
| উদযাপন | পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক গান এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান |
| তারিখ | ২২ মে |
| সংঘটন | বার্ষিক |
| সম্পর্কিত | ইয়েমেনের একত্রীকরণ |
ইয়েমেনের ঐক্য দিবস (যা জাতীয় ঐক্য দিবস, জাতীয় দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস নামেও পরিচিত) হলো প্রতি বছর ২২ মে তারিখে পালিত একটি ইয়েমেনি জাতীয় ছুটির দিন। এটি ১৯৯০ সালে এই তারিখে অনুষ্ঠিত উত্তর ইয়েমেন এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের একীকরণের স্মরণে পালিত হয়। এই দিনে রাষ্ট্রপতি টেলিভিশন এবং রেডিওতে ভাষণ দেন[১] এবং ইয়েমেনি নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় পদক ও সম্মাননা প্রদান করেন।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]একত্রীকরণের আগে ইয়েমেন কয়েক দশক ধরে দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। ১৯৬২ সালে ইয়েমেন রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লবের পর সানা-ভিত্তিক উত্তর ইয়েমেন একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।[৩] অন্যদিকে দক্ষিণ ইয়েমেন যার রাজধানী ছিল এডেন, ১৯৬৭ সালে গ্রেট ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময় পূর্ব ব্লকের অংশ হিসেবে মার্কসবাদের আদর্শ গ্রহণ করে।[৪]
উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল প্রথম ইয়েমেনি যুদ্ধ। এই যুদ্ধে উত্তর ইয়েমেন সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ছিল এবং দক্ষিণ ইয়েমেনকে সমর্থন দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।[৫][৬] পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইয়েমেনি যুদ্ধেও উত্তর ইয়েমেন সৌদি আরব এবং তাইওয়ানের সমর্থন লাভ করে।[৭][৮]
তবে, ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মতো ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো উভয় পক্ষকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে বাধ্য করে। নিবিড় আলোচনার ফলস্বরূপ ১৯৯০ সালের ২২ মে ইয়েমেনের ঐক্যের ঘোষণা করা হয়, যেখানে সানাকে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী করা হয়। উত্তর ইয়েমেনের আলী আবদুল্লাহ সালেহ রাষ্ট্রপ্রধান এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের আলী সালিম আল-বেইধ সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।[৯]
একত্রীকরণ-পরবর্তী
[সম্পাদনা]একত্রীকরণের পর থেকে ইয়েমেন অসংখ্য সংঘাতের সম্মুখীন হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৯৪ সালের ইয়েমেনি গৃহযুদ্ধ[১০] এবং ২০১৪ সাল থেকে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট অন্যতম।[১১]
২০১২ সালের ২১ মে ইয়েমেনের সানায় বার্ষিক ঐক্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজের মহড়ার সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী ইয়েমেনি সৈন্যদের মাঝে একটি বিস্ফোরক বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটায়। আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮ বছর বয়সী একজন সৈন্য ইউনিফর্ম পরে আল-সাবিন চত্বরে প্রবেশ করে এবং মহড়ার মাঝপথে তার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ব্রিগেডে যোগ দেয়। সৈন্যরা যখন কুচকাওয়াজ দেখার মঞ্চটি অতিক্রম করছিল, তখন সেই হামলাকারী তার বিস্ফোরক বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় ইয়েমেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ নাসের আহমেদকে লক্ষ্য করা হলেও তিনি বেঁচে যান, তবে কমপক্ষে ৯৬ জন সৈন্য নিহত এবং ২২২ জন আহত হন। এটি ইয়েমেনের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হামলা ছিল। আল কায়েদা আরব উপদ্বীপ শাখার সহযোগী সংগঠন আনসার আল শরিয়া এই বোমা হামলার দায় স্বীকার করে।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Cultures of the World- Yemen. Anna Hestler
- ↑ "President Hadi awards Order of Duty to anti-terrorism team, SABA – Aden Tribune, 23 May, 2013"। ২৩ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৪।
- ↑ Background Notes, (North) Yemen। U. S. Department of State, Bureau of Public Affairs, Office of Public Communication, Editorial Division। ১৯৮৫।
- ↑ "South Yemen New Thinking in a Marxist Land"। ২৮ এপ্রিল ২০০৭। ২৮ এপ্রিল ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২৪।
- ↑ "CIA Study on Yemeni Unification, 1990" (পিডিএফ)।
- ↑ Gause, F. Gregory (১৯৯০)। Saudi-Yemeni Relations: Domestic Structures and Foreign Influence (ইংরেজি ভাষায়)। Columbia University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-০৭০৪৪-৭।
- ↑ Hermann, Richard, Perceptions and behavior in Soviet foreign policy, University of Pittsburgh Pre, 1985, page 152
- ↑ Burrowes, Robert, google.com/books?id=x3CtaL2yEnkC&dq=yemen+unification&pg=PA187 Middle East dilemma: the politics and economics of Arab integration ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ জুলাই ২০১৩ তারিখে, Columbia University Press, 1999, pages 187 to 210
- ↑ "2 Yemens Become One, and Celebrate"। New York Times। Reuters। ২৩ মে ১৯৯০। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২২।
- ↑ "Remembering the 1994 Yemeni Civil War"। Middle East Monitor।
- ↑ "UN condemns suicide attack on Yemeni army parade"। BBC News। ২১ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১২।