এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি
১৯১০ সালে প্রকাশিত বইটির প্রথম সংস্করণের শিরোনাম পাতা | |
| লেখক | ই. টি. হুইটেকার |
|---|---|
| প্রকাশনার স্থান | আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত |
| ভাষা | ইংরেজি |
| বিষয় | |
| ধরন |
|
| প্রকাশক |
|
প্রকাশনার তারিখ |
|
| পৃষ্ঠাসংখ্যা |
|
| পাঠ্য | এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি উইকিসংকলন |
এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি হলো ব্রিটিশ গণিতবিদ স্যার এডমন্ড টেলর হুইটেকার এফআরএস এফআরএসই কর্তৃক তড়িৎচৌম্বকীয় তত্ত্বের ইতিহাস নিয়ে রচিত তিনটি বইয়ের একটি, যেখানে চিরায়ত তড়িৎচৌম্বকীয় তত্ত্ব, আলোকবিজ্ঞান এবং ইথার তত্ত্বের বিকাশ আলোচনা করা হয়েছে। বইটির প্রথম সংস্করণ ১৯১০ সালে লংম্যানস, গ্রিন থেকে প্রকাশিত হয়, যার উপশিরোনাম ছিল ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি। বইটিতে ইথার তত্ত্বের ইতিহাস এবং ২০ শতক পর্যন্ত তড়িৎচৌম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশের বিবরণ রয়েছে। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে টমাস নেলসন থেকে এর একটি পরিমার্জিত এবং বর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়, যেখানে বইটির ব্যাপ্তি ২০ শতকের প্রথম ২৫ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়। প্রথম খণ্ডটি ১৯৫১ সালে দ্য ক্লাসিক্যাল থিওরিজ উপশিরোনামে প্রকাশিত হয় এবং এটি প্রথম বইটির একটি পরিমার্জিত ও আধুনিক সংস্করণ হিসেবে কাজ করে। এর দুই বছর পর ১৯৫৩ সালে দ্বিতীয় খণ্ডটি দ্য মডার্ন থিওরিজ (১৯০০–১৯২৬) উপশিরোনামে প্রকাশিত হয়, যা ১৯০০ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সময়কালকে কভার করে। আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের ইতিহাস নিয়ে হুইটেকারের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে একটি কুখ্যাত বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও,[১] যা দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় খণ্ডে আলোচিত হয়েছে, বইগুলো বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্বের ইতিহাসের ওপর একটি প্রামাণ্য তথ্যসূত্র[২] এবং পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়।[৩][৪]
মূল বইটি বেশ সমাদৃত হয়েছিল, কিন্তু ১৯২০-এর দশকের শুরুর দিকেই এর মুদ্রণ শেষ হয়ে যায়।[৫] হুইটেকার বিশ্বাস করতেন যে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পদার্থবিজ্ঞানে ঘটে যাওয়া উন্নয়নগুলো নতুন সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, তাই তিনি এটি পুনরায় মুদ্রণ করতে রাজি হননি।[৬] অবসরের পর তিনি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ লেখেন এবং ১৯৫১ সালে দ্য ক্লাসিক্যাল থিওরিজ প্রকাশ করেন, যা সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় খণ্ড দ্য মডার্ন থিওরিজ (১৯০০–১৯২৬)-এ হুইটেকার যুক্তি দেন যে অঁরি পোয়াঁকারে এবং হেন্ড্রিক লোরেনৎস আলবার্ট আইনস্টাইনের আগেই আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছিলেন। এই দাবিটি বিজ্ঞানের অধিকাংশ ইতিহাসবিদ প্রত্যাখ্যান করেছেন।[৭][৮][১] যদিও বইটির সামগ্রিক পর্যালোচনা ইতিবাচক ছিল, তবুও এই আপেক্ষিকতার অগ্রাধিকার বিতর্কের কারণে এটি অন্যান্য খণ্ডের তুলনায় অনেক কম উদ্ধৃতি লাভ করে।[৪]
পটভূমি
[সম্পাদনা]
বইটি মূলত আইনস্টাইনের আন্নুস মিরাবিলিস গবেষণাপত্র প্রকাশের অব্যবহিত পরে এবং মাক্স প্লাঙ্কের প্রাথমিক গবেষণার কয়েক বছর পর লেখা হয়েছিল; এটি পদার্থবিজ্ঞানের জন্য একটি রূপান্তরের সময় ছিল, যখন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব এবং পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্ব জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল। বইটি কোয়ান্টাম বিপ্লব এবং কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের জন্মের আগে বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্ব-এর বিকাশকে নথিবদ্ধ করতে সহায়তা করে। এই বইটি প্রকাশের সময় হুইটেকার একজন প্রতিষ্ঠিত গণিতবিদ ছিলেন এবং এর রচয়িতা হিসেবে তিনি অনন্য যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। ১৮৯৬ সালে ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজে শিক্ষক হিসেবে হুইটেকার স্পেকট্রোস্কোপি, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্স বিষয়ে উন্নত বক্তৃতা প্রদান করতেন।[৯] তাঁর প্রথম বই, মডার্ন অ্যানালাইসিস, ১৯০২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এটি ফলিত গণিতবিদদের জন্য একটি আদর্শ রেফারেন্স হিসেবে টিকে থাকে।[১০] ১৯০৬ সালে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় প্রধান প্রকাশনা, অ্যানালিটিক্যাল ডায়নামিকস অব পার্টিকেলস অ্যান্ড রিজিড বডিস একটি গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ছিল এবং ১৯৫২ সালে ভিক্টর লেনজেনের মতে এটি "এখনও সর্বোচ্চ সম্ভাব্য স্তরে এই বিষয়ের সেরা ব্যাখ্যা"।[১০]
হুইটেকার তাঁর অবসরে সাইত্রিশ বছর বয়সে প্রথম সংস্করণটি লিখেছিলেন, যখন তিনি ১৯০৬ সাল থেকে রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনোমার অব আয়ারল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।[৪][৯] এই পদের তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্য তাঁকে এই প্রকল্পের জন্য পড়াশোনায় সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেয়, যার ওপর তিনি ১৯১০ সালে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কাজ করেছিলেন।[৯] এই একই সময়ে হুইটেকার ১৯০৭ সালে 'দ্য থিওরি অব অপটিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টস' বইটি প্রকাশের পাশাপাশি আটটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যার মধ্যে ছয়টি ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর।[৯] তিনি এই পুরো সময়কাল জুড়ে ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে অ্যানালিটিক্যাল ডায়নামিকসের ওপর মৌলিক গবেষণা চালিয়ে যান।[৪]
১৯২০-এর দশকের পর বইটি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লেও বইটির মূল সংস্করণ সর্বজনীনভাবে প্রশংসিত হয়েছিল এবং পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি প্রামাণ্য তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত হতো।[১১] যখন বইটির প্রথম সংস্করণের মুদ্রণ শেষ হয়ে যায়, তখন ১৯৫১ এবং ১৯৫৩ সালে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশের আগে দীর্ঘ বিলম্ব ঘটেছিল। হুইটেকারের নিজের ভাষায় এই বিলম্বের কারণ ছিল তাঁর এই অভিমত যে, "যেকোনো নতুন সংস্করণে আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের উৎস এবং ১৯০০ সালের পর থেকে এগুলোর বিকাশ বর্ণিত হওয়া উচিত।"[৬] এই কাজটি সম্পন্ন করতে একজন গণিতবিদ হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের চেয়ে বেশি সময়ের প্রয়োজন ছিল, তাই ১৯৪৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার অধ্যাপনা থেকে অবসর নেওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটি স্থগিত রাখা হয়েছিল।[৫][৬][১২]
ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি
[সম্পাদনা]১৯১০ সালে লেখা বইটির প্রথম সংস্করণে রনে ডেসকার্টস থেকে শুরু করে হেন্ড্রিক লোরেনৎস এবং আলবার্ট আইনস্টাইন পর্যন্ত ইথার তত্ত্ব এবং এর বিকাশের একটি বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে হারমান মিনকোভস্কির অবদানও অন্তর্ভুক্ত। এই খণ্ডটি মূলত ইথার তত্ত্ব, মাইকেল ফ্যারাডে এবং জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের ওপর ব্যাপকভাবে আলোকপাত করে এবং তাঁদের প্রত্যেকের জন্য এক বা একাধিক অধ্যায় উৎসর্গ করা হয়েছে। এটি বেশ সমাদৃত হয়েছিল এবং বিজ্ঞানের একজন সম্মানিত ইতিহাসবিদ হিসেবে হুইটেকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।[৫] প্রথম সংস্করণের মুদ্রণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বহু বছর ধরে এটি অপ্রাপ্য ছিল, কারণ হুইটেকার এটি পুনরায় মুদ্রণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ১৯২৫ সালের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হওয়ার কারণে বইটি এখন সেখানে পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত এবং বেশ কয়েকজন প্রকাশক এটি পুনরায় মুদ্রণ করেছেন।
সারসংক্ষেপ
[সম্পাদনা]| নং | শিরোনাম |
|---|---|
| ১ | সপ্তদশ শতাব্দীতে ইথার তত্ত্ব |
| ২ | বিভব প্রবর্তনের পূর্বে বিদ্যুৎ ও চৌম্বক বিজ্ঞান |
| ৩ | গ্যালভানিজম, গ্যালভানি থেকে ওম পর্যন্ত |
| ৪ | আলোকবাহী মাধ্যম, ব্র্যাডলি থেকে ফ্রেনেল পর্যন্ত |
| ৫ | একটি স্থিতিস্থাপক কঠিন পদার্থ হিসেবে ইথার |
| ৬ | ফ্যারাডে |
| ৭ | উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের গাণিতিক তড়িৎবিদগণ |
| ৮ | ম্যাক্সওয়েল |
| ৯ | ইথারের মডেলসমূহ |
| ১০ | ম্যাক্সওয়েলের অনুসারীগণ |
| ১১ | দ্রবণ এবং গ্যাসে তড়িৎ পরিবহন, ফ্যারাডে থেকে জে. জে. থমসন পর্যন্ত |
| ১২ | উনবিংশ শতাব্দীর শেষ বছরগুলোতে ইথার ও ইলেকট্রন তত্ত্ব |
বইটি বারোটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত যা ১৭শ শতাব্দীতে ইথার তত্ত্বের আলোচনা দিয়ে শুরু হয় (যেখানে রনে ডেসকার্টসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে) এবং ১৯শ শতাব্দীর শেষে ইলেকট্রনিক্স ও ইথার তত্ত্বের আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়। এতে আইজ্যাক নিউটন, রনে ডেসকার্টস, মাইকেল ফ্যারাডে, জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল এবং জে. জে. থমসনের অবদান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি বিকাশের যৌক্তিক ধারা অনুসরণ করে, তাই অধ্যায়গুলো কিছুটা স্বতন্ত্র; এটি পুরোপুরি কালানুক্রমিক নয়।[১৩] বইটিতে সর্বত্র ভেক্টর বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং যারা ভেক্টর চিহ্নের সাথে পরিচিত নন, তাদের জন্য বইয়ের শুরুতে একটি ব্যাখ্যামূলক সারণী দেওয়া হয়েছে।[১৪][১৫]
প্রথম অধ্যায়ে ১৭শ শতাব্দীতে ইথার তত্ত্বের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ডেসকার্টসের অনুমান দিয়ে শুরু করে এই অধ্যায়টি মূলত ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন্স এবং আইজ্যাক নিউটনের অবদানের ওপর গুরুত্ব দেয়, এবং সেই সাথে এটি পেট্রাস পেরেগ্রিনাস, উইলিয়াম গিলবার্ট, পিয়ের দ্য ফের্মা, রবার্ট হুক, গ্যালিলিও এবং ওলে রোমারের গবেষণার ওপর আলোকপাত করে।[১৩] দ্বিতীয় অধ্যায়ে ভেক্টর বিভব এবং স্কেলার বিভব প্রবর্তনের আগে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাথমিক গাণিতিক বিকাশ এবং 'অ্যাকশন অ্যাট এ ডিস্ট্যান্স' (দূরক্রিয়া) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।[১৩] তৃতীয় অধ্যায়ে লুইজি গ্যালভানি থেকে শুরু করে গেয়র্গ ওম-এর সার্কিট তত্ত্ব পর্যন্ত 'গ্যালভানিজম' আলোচনা করা হয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়ে জেমস ব্র্যাডলি থেকে অগাস্টিন-জঁ ফ্রেনেল পর্যন্ত আলোকবাহী ইথার তত্ত্বের প্রাথমিক বিকাশ বর্ণনা করা হয়েছে। পঞ্চম অধ্যায়ে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের বিকাশগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে জোসেফ ভ্যালেন্টিন বুসিনেস্ক এবং লর্ড কেলভিনের কিছু অবদান রয়েছে। এখানে আলোকবাহী ইথারকে একটি স্থিতিস্থাপক কঠিন পদার্থ হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়টি প্রায় পুরোটাই মাইকেল ফ্যারাডের পরীক্ষার ওপর নিবদ্ধ। সপ্তম অধ্যায়ে ফ্যারাডের পরবর্তী কিন্তু জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের পূর্ববর্তী গণিতবিদদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যারা ফ্যারাডের 'বলরেখা' (লাইন্স অব ফোর্স) ধারণার পরিবর্তে 'অ্যাকশন অ্যাট এ ডিস্ট্যান্স' মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন।[১৩] এই অধ্যায়ে ফ্রাঞ্জ আর্নস্ট নিউম্যান, উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবার, বার্নহার্ড রিম্যান, জেমস প্রেসকট জুল, হারমান ফন হেলমহোল্টজ, লর্ড কেলভিন, গুস্তাভ কার্শফ এবং জঁ চার্লস আথানাস পেল্টিয়ারের অবদানসমূহ আলোচিত হয়েছে। অষ্টম অধ্যায়টি তড়িৎচুম্বকত্বে ম্যাক্সওয়েলের অবদানের ওপর আলোকপাত করে এবং নবম অধ্যায়ে ম্যাক্সওয়েলের পর ইথারের মডেলে আরও যে বিকাশ ঘটেছিল তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে লর্ড কেলভিন, কার্ল অ্যান্টন বিয়ার্কনেস, জেমস ম্যাককুলাঘ, বার্নহার্ড রিম্যান, জর্জ ফ্রান্সিস ফিটজেরাল্ড এবং উইলিয়াম মিচিনসন হিকসের অবদান রয়েছে। দশম অধ্যায়ে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ম্যাক্সওয়েলের পথ অনুসরণকারী পদার্থবিদদের কাজ আলোচিত হয়েছে, যেখানে হেলমহোল্টজ, ফিটজেরাল্ড, ওয়েবার, হেন্ড্রিক লোরেনৎস, এইচ. এ. রোল্যান্ড, জে. জে. থমসন, অলিভার হেভিসাইড, জন হেনরি পয়েন্টিং, হাইনরিখ হার্টজ এবং জন কারের অবদান রয়েছে। একাদশ অধ্যায়ে কঠিন পদার্থ এবং গ্যাসে তড়িৎ পরিবহন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে (যা ষষ্ঠ অধ্যায়ে আলোচিত ফ্যারাডের কাজ থেকে শুরু করে জে. জে. থমসনের কাজ পর্যন্ত বিস্তৃত), এবং শেষ অধ্যায়ে ১৮০০-এর দশকের শেষের দিকের ইথার তত্ত্বের বিবরণ দেওয়া হয়েছে যা শতকের শেষে ওয়েন উইলেন্স রিচার্ডসনের কাজের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।
পর্যালোচনা
[সম্পাদনা]১৯১১ সালে বইটি বেশ কয়েকটি পর্যালোচনা লাভ করে, যার মধ্যে একটি ছিল পদার্থবিদ ক্যারল মেসন স্প্যারোর।[১৬] স্প্যারো লিখেছিলেন যে, বইটি হুইটেকারের 'মডার্ন অ্যানালাইসিস' এবং 'অ্যানালিটিক্যাল ডায়নামিকস অব পার্টিকেলস অ্যান্ড রিজিড বডিস' দ্বারা তৈরি উত্তরাধিকারের মান বজায় রেখেছে।[১৬] এরপর তিনি বইটির কয়েকটি উন্নয়নযোগ্য ক্ষেত্র উল্লেখ করার পর মন্তব্য করেন: "এই ধরনের বইতে কিছু ছোটখাটো ভুল বা অসঙ্গতি থাকাটা স্বাভাবিক, তবে আমরা যে দু-একটি লক্ষ্য করেছি তা এতই নগণ্য যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই এবং এটি কাজের সামগ্রিক উৎকর্ষকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করে না। বইটি চমৎকারভাবে মুদ্রিত এবং মুদ্রণজনিত ভুল থেকে আশ্চর্যজনকভাবে মুক্ত।"[১৬] ১৯১১ সালের আরেকটি পর্যালোচনায় এটিকে একটি "চমৎকার খণ্ড" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে এটি "সকল পদার্থবিদের কাছে একটি মূল্যবান অবদান হিসেবে সমাদৃত হবে"।[১৭] ১৯১১ সালের তৃতীয় একটি পর্যালোচনায় বিকাশের সতর্ক চিত্রায়ণের জন্য বইটির প্রশংসা করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর বর্ণনা পুরোপুরি নিঃশেষিত না হলেও, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সেগুলোকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার জন্য যথেষ্ট পর্যাপ্ত"।[১৮]
অন্যান্য পর্যালোচকদের মধ্যে ই. বি. উইলসন ১৯১৩ সালের একটি পর্যালোচনায় এমন একটি তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেন যা হুইটেকার উপেক্ষা করেছিলেন, তবে তিনি আরও বলেন: "এই ইতিহাসের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আরও বিশদ বিবরণে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, যা ব্যাপকভাবে পঠিত হওয়া উচিত এবং হবে। এটি বলাই যথেষ্ট যে, পুরো কাজটি দুবার এবং অনেক অংশ বেশ কয়েকবার মনোযোগ সহকারে পাঠ করার পর একটি সিদ্ধান্তই আসে, আর তা হলো অনির্দিষ্টকালের জন্য এর অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়া; কারণ যেখানে এত উপাদান এত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেখানে শিখতে পারার মতো নতুন কিছু সব সময়ই থাকে।"[১৩] ১৯১৩ সালের দ্বিতীয় একটি পর্যালোচনায় হারবার্ট হল টার্নার লিখেছেন যে "বইটি সম্ভবত এই প্রজন্মে অতীতের প্রতি নিবেদিত শ্রেষ্ঠতম শ্রদ্ধাঞ্জলি"[১৯] এবং এটি "পড়ার ঘরের সহজে নাগাল পাওয়া যায় এমন একটি তাকে রাখা উচিত, যাতে প্রতিনিয়ত এর সহায়তা নেওয়া সম্ভব হয়।"[১৯] ১৯১৪ সালে ইতালীয় ভাষায়ও বইটি একটি ইতিবাচক পর্যালোচনা লাভ করে।[২০]
দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম খণ্ডের বেশ কয়েকজন পর্যালোচক এই সংস্করণটির প্রশংসা করেছেন। এ. এম. টিন্ডাল ১৯৫১ সালে লিখেছেন যে একচল্লিশ বছর আগে এই সংস্করণটি পাঠ করা কতটা আনন্দদায়ক এবং জ্ঞানগর্ভ ছিল তা তাঁর মনে আছে।[২১] কার্ল একার্ট ১৯৫২ সালে লিখেছেন যে বইটি "আলোকবিজ্ঞান, তড়িৎচৌম্বকত্ব এবং ইথার তত্ত্বের ঐতিহাসিক দিকগুলোর জন্য প্রামাণ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।"[১১] ১৯৫২ সালে ভিক্টর লেনজেন লিখেছিলেন যে বইটি "তার ক্ষেত্রে অতুলনীয়"।[১০] ১৯৫২ সালের পর্যালোচনায় ডব্লিউ. এইচ. ম্যাকক্রিয়া লিখেছেন যে এটি "তার বিষয়ের একটি চমৎকার ও সুসংবদ্ধ বর্ণনা প্রদান করেছে।"[৫]
বর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ
[সম্পাদনা]১৯৫১ (১ম খণ্ড) এবং ১৯৫৩ (২য় খণ্ড) সালে হুইটেকার তাঁর বইটির একটি বর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ দুই খণ্ডে প্রকাশ করেন। প্রথম খণ্ডটি ১৯১০ সালের মূল বইটির একটি পরিমার্জিত রূপ, অন্যদিকে দুই বছর পরে প্রকাশিত দ্বিতীয় খণ্ডটিতে বিংশ শতাব্দীর ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ১৯০০ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। বইগুলো চিরায়ত তড়িৎচৌম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশের ওপর প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এই বিষয়ের ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পাঠ্যপুস্তকগুলোতে নিয়মিতভাবে উদ্ধৃত হয়।[২২][২] দ্বিতীয় সংস্করণে ১৯২৫ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে একটি তৃতীয় খণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ১৯৫৬ সালে হুইটেকারের মৃত্যুর কারণে তা আর প্রকাশিত হয়নি।[৪] এই দুই খণ্ড পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্বগুলোর ঐতিহাসিক বিকাশের একটি বিবরণ প্রদান করে এবং বলা হয় যে এগুলো "অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লেখকের পাঠ ও অধ্যয়নের নির্যাস ধারণ করে"।[১২]
দ্য ক্লাসিক্যাল থিওরিজ
[সম্পাদনা]দ্য ক্লাসিক্যাল থিওরিজ উপশিরোনামের প্রথম খণ্ডটি ১৯৫১ সালে টমাস নেলসন অ্যান্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। বইটি ১৯১০ সালের মূল বইটির একটি পরিমার্জিত রূপ, যাতে চিরায়ত বিকিরণ তত্ত্বের ওপর একটি নতুন অধ্যায় এবং কিছু নতুন উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, তবে এটি মূলত ১৯০০-পূর্ব পদার্থবিজ্ঞানের ওপরই নিবদ্ধ।[১১] বইটির ব্যাপ্তি প্রথম সংস্করণের মতোই, যদিও মাঝেমধ্যে শুরুর দিকে কিছু সংশোধন এবং শেষের দিকে ব্যাপক পরিমার্জন করা হয়েছে।[২১][৫] একজন পর্যালোচক উল্লেখ করেছেন যে বইটির প্রায় ৮০ শতাংশই মূল সংস্করণের পুনরুৎপাদন, যেখানে ২০ শতকের প্রথম চল্লিশ বছরের বিকাশের নিরিখে সংশোধনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।[২৩] এই কাজটি তিন শতাব্দী ধরে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত আলোকবিজ্ঞান, বিদ্যুৎ এবং চুম্বকত্বের বিকাশের পাশাপাশি তাপগতিবিদ্যার ইতিহাস এবং মহাকর্ষের কিছু পার্শ্ব-ঘটনাও বর্ণনা করে।[২৪]
সংক্ষিপ্ত আলোচনা (খণ্ড ১)
[সম্পাদনা]| # | শিরোনাম |
|---|---|
| ১ | নিউটনের মৃত্যু পর্যন্ত ইথার তত্ত্ব |
| ২ | বিভব প্রবর্তনের পূর্বে বিদ্যুৎ ও চৌম্বক বিজ্ঞান |
| ৩ | গ্যালভানিজম, গ্যালভানি থেকে ওম পর্যন্ত |
| ৪ | ব্র্যাডলি থেকে ফ্রেনেল পর্যন্ত আলোকবাহী মাধ্যম |
| ৫ | একটি স্থিতিস্থাপক কঠিন পদার্থ হিসেবে ইথার |
| ৬ | ফ্যারাডে |
| ৭ | উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের গাণিতিক তড়িৎবিদগণ |
| ৮ | ম্যাক্সওয়েল |
| ৯ | ইথারের মডেলসমূহ |
| ১০ | ম্যাক্সওয়েলের অনুসারীগণ |
| ১১ | দ্রবণ এবং গ্যাসে তড়িৎ পরিবহন, ফ্যারাডে থেকে ইলেকট্রন আবিষ্কার পর্যন্ত |
| ১২ | চিরায়ত বিকিরণ-তত্ত্ব |
| ১৩ | লোরেনৎসের যুগে চিরায়ত তত্ত্ব |
প্রথম খণ্ডের প্রথম অধ্যাটির নাম পরিবর্তন করে 'নিউটনের মৃত্যু পর্যন্ত ইথার তত্ত্ব' রাখা হয় এবং এটি বেশিরভাগই পুনরায় লেখা হয়, যদিও এটি এখনও মূলত রনে ডেসকার্টস, আইজ্যাক নিউটন, পিয়ের দ্য ফের্মা, রবার্ট হুক এবং ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন্সের ওপর গুরুত্ব দেয়।[৫][২৩] অধ্যায়টি রনে ডেসকার্টসের মহাশূন্যের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে পদার্থবিজ্ঞানের আলোচনা শুরু করে, যা পরবর্তীতে ইথার তত্ত্বে রূপান্তরিত হয়; এবং নিউটনের মৃত্যু পর্যন্ত হুক ও হাইগেন্সের আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের প্রথম প্রচেষ্টাসমূহ পর্যবেক্ষণ করে।[১০] নতুন খণ্ডটি অ্যারিস্টটলের সময় থেকে ইথার তত্ত্বের প্রাথমিক বিকাশ অনুসরণ করে।[২৫]
দ্বিতীয় থেকে একাদশ অধ্যায় জুড়ে অনেক নতুন অনুচ্ছেদ, তথ্যসূত্র এবং বর্ধিত পাদটীকা থাকলেও বিষয়বস্তুর অনেকখানি প্রথম সংস্করণের মতোই রয়ে গেছে।[৫] প্রথম সংস্করণের মতো দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধ্যায়ে বিদ্যুৎ এবং চুম্বকত্বের বিষয়গুলো শুরু হয়েছে, যার মধ্যে গ্যালভানিজমও অন্তর্ভুক্ত।[১০] দ্বিতীয় অধ্যায়টি ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক্স এবং ম্যাগনেটোস্ট্যাটিক্সের ইতিহাস থেকে শুরু করে জর্জ গ্রিনের বিভব তত্ত্ব সংক্রান্ত কাজ এবং তাঁর ভেক্টর বিভব ও স্কেলার বিভব প্রবর্তন পর্যন্ত আলোচনা করে।[৫] গ্যালভানিজম সংক্রান্ত তৃতীয় অধ্যায়ে গ্যালভানি, ওম এবং অ্যাম্পিয়ার-কে কেন্দ্র করে বৈদ্যুতিক প্রবাহের ইতিহাস আলোচনা করা হয়েছে।[১০] চতুর্থ অধ্যায়টি আলোকবাহী মাধ্যমের ওপর রচিত, যেখানে আলোকীয় বিপথন, মেরুকরণ এবং ব্যতিচার আবিষ্কারের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।[১০] এটি সেই রূপান্তরের সময়কাল, যখন নিউটনের আলোর কণিকা তত্ত্ব ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং পরবর্তীতে ফ্রেনেল ও ইয়াং-এর পরীক্ষার পর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।[৫] পঞ্চম অধ্যায়ে ইথারকে একটি স্থিতিস্থাপক কঠিন পদার্থ হিসেবে মডেল করার তত্ত্বসমূহের বিকাশ নথিবদ্ধ করা হয়েছে।[১০]
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম অধ্যায়ে ফ্যারাডে থেকে ম্যাক্সওয়েল পর্যন্ত তড়িৎচুম্বকত্বের বিকাশ এবং নিউটোনীয় বলবিজ্ঞানের আদলে তৈরি বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্বের তত্ত্বসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে।[১০] এই অধ্যায়টি ১৯১০ সালের সংস্করণের তুলনায় অনেক বর্ধিত করা হয়েছে।[২৩] সপ্তম ও অষ্টম অধ্যায়গুলো নতুন উপাদান যোগ করে ব্যাপকভাবে পুনরায় লেখা হয়েছে।[২৩] ইথারের মডেল সংক্রান্ত নবম অধ্যায়ে উনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ ম্যাক্সওয়েল, উইলিয়াম থমসন, জেমস ম্যাককুলাঘ, রিম্যান, জর্জ ফ্রান্সিস ফিটজেরাল্ড এবং হারমান ফন হেলমহোল্টজ-এর অবদান আলোচনা করা হয়েছে।[৫]
শেষ তিনটি অধ্যায় বিংশ শতাব্দীর বিকাশের পথ প্রশস্ত করে, যা দ্বিতীয় খণ্ডে বর্ণিত হয়েছে।[১০] একাদশ অধ্যায়টির নাম নতুন সংস্করণে পরিবর্তন করে 'দ্রবণ এবং গ্যাসে তড়িৎ পরিবহন, ফ্যারাডে থেকে ইলেকট্রন আবিষ্কার পর্যন্ত' রাখা হয়েছে। দ্বাদশ অধ্যায়টির শিরোনাম 'চিরায়ত বিকিরণ-তত্ত্ব' যা সম্পূর্ণ নতুন এবং এটি বর্ণালি সারির অভিজ্ঞতামূলক বিকাশের পাশাপাশি কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ পদার্থবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক বিকাশের ওপর আলোকপাত করে।[৫] ত্রয়োদশ অধ্যায়টির নাম পরিবর্তন করে 'লোরেনৎসের যুগে চিরায়ত তত্ত্ব' রাখা হয়েছে এবং এতে নতুন উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। তবে কিছু বিবরণ বাদ দিয়ে দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য রাখা হয়েছে।[৫] এই অধ্যায়টি মূলত বৈদ্যুতিক ও তাপীয় পরিবহন এবং লোরেনৎসের ইলেকট্রন তত্ত্বের ওপর নিবদ্ধ।[৫] সূচিপত্রটি অধ্যায়গুলোকে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করার জন্য "অত্যন্ত দরকারী" বলে প্রশংসিত হয়েছে যা মূল বিকাশগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।[২৬]
প্রতিক্রিয়া (খণ্ড ১)
[সম্পাদনা]১৯৫১ সালে এটি প্রকাশের পর আর্থার মানারিং টিন্ডাল, উইলিয়াম হান্টার ম্যাকক্রিয়া এবং জুলিয়াস সামনার মিলার এটি পর্যালোচনা করেন। আর্থার টিন্ডাল নতুন সংস্করণের বিন্যাসের প্রশংসা করে লেখেন যে "যদি এতে কোনো ভুল বা বিচ্যুতি থেকে থাকে, তবে পর্যালোচক বইটির আবহে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে তা লক্ষ্য করতে পারেননি"।[২১] টিন্ডাল সেইসব শিক্ষকদের জন্য বইটি সুপারিশ করেছেন যারা আলোকবিজ্ঞান এবং বিদ্যুতের ঐতিহাসিক পটভূমিতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে চান। তিনি বিশ্বাস করতেন যে এর অনেক বিষয়বস্তু সরাসরি লেকচারে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বইটির কিছু অংশ পড়তে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।[২১] ১৯৫১ সালের দ্বিতীয় একটি পর্যালোচনায় উইলিয়াম ম্যাকক্রিয়া মন্তব্য করেন যে, হুইটেকার "সম্ভবত বিজ্ঞানের অন্য যেকোনো ইতিহাসবিদের চেয়ে বেশি সফলভাবে" মহান অগ্রগামীদের প্রকৃত মাহাত্ম্য সম্পর্কে "একটি বিস্তৃত ও প্রামাণ্য ধারণা" দিতে পেরেছেন। এটি পাঠককে "পূর্বসূরিহীন তাদের কাজগুলোকে সমসাময়িক পরস্পরবিরোধী ভৌত ধারণা এবং বিচিত্র সব পরীক্ষামূলক তথ্যের প্রেক্ষাপটে দেখার" সুযোগ করে দেয় এবং "কীভাবে প্রত্যেকে স্থায়ী অগ্রগতির পথে অবদান রেখেছেন তা বুঝতে সাহায্য করে"।[২৭] ম্যাকক্রিয়া বইটির প্রশংসা করে বলেন, "এই অগ্রগতি কতটা কঠিন ছিল তা দেখানোর জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো বাস্তবভিত্তিক বিবরণ আর নেই।"[২৭] ১৯৫২ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় আরেকটি পর্যালোচনায় ম্যাকক্রিয়া বলেন, "এডমন্ড হুইটেকার তাঁর গাণিতিক ও ঐতিহাসিক পাণ্ডিত্যের সমৃদ্ধি থেকে আমাদের একটি অত্যন্ত মহান গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন।"[৫] জুলিয়াস মিলার তাঁর পর্যালোচনায় দাবি করেন যে বইটি পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে। তাঁর মতে, এটিই যথেষ্ট যে "এটি এই শতাব্দী এবং গত শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত—একইসাথে পদার্থবিদ, দার্শনিক ও গণিতবিদ-এর কাজ।"[২৮] মিলার উল্লেখ করেন যে এটি মূলত একটি ইতিহাসের বই হলেও এতে "উচ্চমানের দর্শন, পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিত" রয়েছে এবং এটি 'দ্য ক্লাসিক্যাল থিওরিজ'-এর একটি "চমৎকার ও গভীর বিশ্লেষণ" প্রদান করে।[২৮] তিনি আরও বলেন যে যদিও এটি "ভারী পাঠ" (heavy reading), তবুও কাজটি "চমৎকারভাবে স্পষ্ট" এবং এর "তথ্যসূত্র নথিবদ্ধকরণ বিস্ময়কর"।[২৮]
অন্যান্যদের মধ্যে কার্ল একার্ট, ভিক্টর লেনজেন, জন লাইটন সিঞ্জ, স্টিফেন টুলমিন, এডউইন সি. কেম্বল এবং আই. বার্নার্ড কোহেন ১৯৫২ সালে বইটি পর্যালোচনা করেন। কার্ল একার্ট বইটির প্রথম সংস্করণের প্রশংসা করে তাঁর পর্যালোচনা শুরু করেন এবং লেখেন: "এই দ্বিতীয় সংস্করণটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই আগামী বহু বছর ধরে একই অবস্থান দখল করে থাকবে।"[১১] একার্ট উল্লেখ করেন যে বইটি উচ্চাভিলাষী ছিল, কিন্তু হুইটেকারকে বিখ্যাত করে তোলা সেই একই স্পষ্টতা এবং চমৎকারিত্বের সাথে এটি "অস্বাভাবিক সাফল্যের" সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে।[১১] তিনি আরও বলেন যে বইটি হলো "ধারণার প্রকৃত ইতিহাস" যা একটি "অত্যন্ত প্রভাবশালী বই" হিসেবে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।[১১] ভিক্টর লেনজেন তাঁর পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছেন যে তিনি "ভৌত তত্ত্বের ওপর এমন কোনো কাজ জানেন না যা তত্ত্বগুলোর গাণিতিক সূত্রের বিশ্লেষণাত্মক এবং সমালোচনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে বর্তমান বইটির সাথে তুলনীয়"।[১০] মানবজাতিকে তাদের বসবাসের মহাবিশ্ব বোঝার দিকে পরিচালিত করে এমন "সীমাহীন বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল"-এর প্রমাণ হিসেবে বইটি গণ্য—এটি উল্লেখ করে তাঁর পর্যালোচনা শেষ হয়।[১০] ১৯৫২ সালের তৃতীয় একটি পর্যালোচনায় জন সিঞ্জ উল্লেখ করেন যে বইটি "বিশাল পাণ্ডিত্যের ওপর ভিত্তি করে" রচিত হলেও তা ক্লান্তিকর নয় এবং "এর শৈলী প্রাণবন্ত এবং লেখক প্রতিটি পদার্থবিদের অবস্থানে নিজেকে এবং পাঠককে বসাতে অনন্যভাবে সফল হয়েছেন"।[২৪] সিঞ্জ আরও বলেন যে হুইটেকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে "বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে সর্বদা বিরাজমান সমসাময়িক বিভ্রান্তির আবহকে পরবর্তী জ্ঞানের আলোকে আসলে কী ঘটছে তার মূল্যায়নের সাথে মিশ্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন"।[২৪] স্টিফেন টুলমিন তাঁর পর্যালোচনায় হুইটেকারের মূল সংস্করণটিকে একটি আদর্শ তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে লক্ষ্য করেন যে পরবর্তী বিকাশগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রায় অবিলম্বে একটি পরিশিষ্টের প্রয়োজন ছিল।[২৯] টুলমিন আরও বলেন যে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের পদার্থবিদদের জন্য "নতুন নতুন তত্ত্ব ও আবিষ্কারের জোয়ারে ভেসে থাকা" কঠিন ছিল এবং বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ হিসেবে হুইটেকারের অবস্থান ছিল "একেবারে অগম্য", তাই "অধ্যাপক হুইটেকারকে আবারও আমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পেয়ে আমরা ভাগ্যবান"।[২৯] এডউইন কেম্বল ১৯৫২ সালের পঞ্চম একটি পর্যালোচনায় বলেন যে বইটি "তার নিজের শ্রেণিতে অনন্য" এবং এটিকে তড়িৎচুম্বকত্বের চিরায়ত তত্ত্বের বিকাশের ধাপগুলোর একটি "উচ্চ-স্তরের বিবরণ" হিসেবে সারসংক্ষেপ করেন যা "সু-নথিভুক্ত এবং অসাধারণভাবে ব্যাপক"।[৩০] আই. বার্নার্ড কোহেন তাঁর পর্যালোচনায় লিখেছেন যে তিনি "বিদ্যুতের এমন কোনো ইতিহাসের কথা জানেন না যা হুইটেকারের বইয়ের মতো নির্ভুল", যদিও তিনি বেশ কিছু উন্নতির কথা উল্লেখ করেন যা তিনি ১৯১০ সালের ক্লাসিকটি আপডেটের সময় হুইটেকার করবেন বলে আশা করেছিলেন।[৩১]
'জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন' একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করে যেখানে উল্লেখ করা হয় যে আংশিক ডিফারেনশিয়াল সমীকরণ এবং ভেক্টর বিশ্লেষণের সাহায্যে ঐতিহাসিক বিকাশগুলোর বর্ণনা "অধিকাংশ চিকিৎসা পাঠকদের নিরুৎসাহিত করবে", তবে এটি "পাণ্ডিত্যপূর্ণ, নির্ভুল এবং গণিতবিহীন অংশগুলোতে মনোমুগ্ধকর হিসেবে প্রশংসার দাবি রাখে"।[৩২]
নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গাণিতিক গবেষণা গোষ্ঠীর একটি পর্যালোচনা বইটির ব্যাপকতা এবং "নিখুঁত প্রায় লেখক সূচী"র জন্য প্রশংসা করে এবং বলে যে "এর প্রাঞ্জল বর্ণনামূলক শৈলী এবং বিস্তারিত বিকাশ এই বিষয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী"।[২৬] এটি সমস্ত পদার্থবিদদের কাছে বইটি দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করে এবং বলে যে "যারা বর্তমানে প্রচলিত পাঠ্যপুস্তক এবং নিবন্ধ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান নিয়ে তড়িৎচুম্বকত্বে কাজ করছেন, তাদের কাছে এই উপাদানগুলো একটি নতুন উন্মোচন হিসেবে আসবে"।[২৬] পর্যালোচক জানান যে তিনি "দমবন্ধ উত্তেজনা" নিয়ে দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং প্রকাশককে বইটির দাম এক-তৃতীয়াংশ কমানোর পরামর্শ দেন যাতে এর বিক্রি তিনগুণ বেড়ে যায়।[২৬]
'ফিলোসফিক্যাল স্টাডিজ' আরও কিছুটা সংরক্ষিত সুরে একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করে, যেখানে কেবল উল্লেখ করা হয় যে মূল বইটি একটি "ক্লাসিক" ছিল এবং দুই সংস্করণের বিষয়বস্তুর পার্থক্যের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়।[২৩] তবে এতে বলা হয়েছে যে "আইরিশ ঘরানার কাজের জন্য একটি বিশাল স্থান বরাদ্দ করা হয়েছে", যার মধ্যে জর্জ বার্কলি, জোসেফ ব্ল্যাক, রবার্ট বয়েল, জর্জ ফ্রান্সিস ফিটজেরাল্ড, ওয়াল্টার নোয়েল হার্টলি, জোসেফ লার্মর, জেমস ম্যাককুলাঘ, উইলিয়াম থমসন, প্রথম ব্যারন কেলভিন, স্যার জর্জ স্টোকস এবং থমাস প্রেস্টন-সহ অন্যান্য বিজ্ঞানীদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[২৩]
বিশ্লেষণ (খণ্ড ১)
[সম্পাদনা]আর্থার মানারিং টিন্ডাল, ১৯৫১ সালের তাঁর পর্যালোচনায় বলেছিলেন যে বইটি "পরীক্ষামূলক তথ্যে সমৃদ্ধ", যেখানে লোরেনৎস এবং ম্যাক্সওয়েলের মতো উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ছাড়া তুলনামূলকভাবে কম গাণিতিক বিভাগ রয়েছে। তিনি বলেন, "এই নতুন খণ্ডটি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের কোনো ভারী গবেষণামূলক গ্রন্থ নয়, যেমনটা হয়তো এর নাম থেকে মনে হতে পারে"।[২১] উইলিয়াম হান্টার ম্যাকক্রিয়া উল্লেখ করেছেন যে বইটি "তত্ত্বের ইতিহাস", তবে এটি "সমস্ত পর্যায়ে পরীক্ষামূলক আবিষ্কারগুলোর খুব স্পষ্ট বিবৃতি" প্রদান করে।[৫] তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বইটি ইথার তত্ত্ব এবং বিদ্যুতের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেয়, যা ম্যাকক্রিয়ার মতে পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে মৌলিক অংশ, তবে এটি স্থিতিস্থাপকতা এবং তাপগতিবিদ্যার মতো পদার্থবিজ্ঞানের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রেও তথ্যবহুল।[৫] কিছু পর্যালোচক চিরায়ত বিকিরণ তত্ত্বের ওপর নতুন অধ্যায়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যার মধ্যে আর্থার টিন্ডাল উল্লেখ করেন যে প্রথম সংস্করণে এই বিষয়টি খুব একটা ছিল না এবং এটি একটি স্বাভাবিক সংযোজন যা দ্বিতীয় খণ্ডের পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করে।[২১] এছাড়া কার্ল একার্ট বলেন যে বর্ণালি এবং তাপীয় বিকিরণের ইতিহাসকে "ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর যথাযথ স্থান দেওয়া হয়েছে"।[১১]
বেশ কয়েকজন পর্যালোচক কিছু বিষয় বাদ দেওয়ার জন্য বইটির সমালোচনা করেছেন। এর মধ্যে কার্ল একার্ট অন্যতম, যিনি ইউক্লিড এবং লোবাচেভস্কিকে বাদ দেওয়ার জন্য হুইটেকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি একে এবং হুইটেকারের উনবিংশ শতাব্দীর দৃষ্টিকোণ থেকে ইথার নিয়ে লেখা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে এমন একটি ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন যা তিনি কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ বই হলে উপেক্ষা করতেন।[১১] ভিক্টর লেনজেন বলেছেন যে তিনি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে জোর দেওয়ার ক্ষেত্রে হুইটেকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, বিশেষ করে জোসেফ হেনরিকে একটিমাত্র পাদটীকা ছাড়া অন্য কোথাও উল্লেখ না করার বিষয়ে।[১০] তিনি প্লেটোনিক এবং অ্যারিস্টটলীয় দর্শনের মধ্যে হুইটেকারের পার্থক্যের কথাও উল্লেখ করেন; তিনি বলেন হুইটেকার অ্যারিস্টটলের অভিজ্ঞতামূলক পদ্ধতির পক্ষ নিয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর (লেনজেনের) মতে প্লেটো বিজ্ঞানে গাণিতিক পদ্ধতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেক বেশি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ছিলেন।[১০]
দ্য মডার্ন থিওরিজ (১৯০০–১৯২৬)
[সম্পাদনা]দ্য মডার্ন থিওরিজ (১৯০০–১৯২৬) উপশিরোনামের দ্বিতীয় খণ্ডটি ১৯৫১ সালে টমাস নেলসন অ্যান্ড সন্স থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি ১৯০০-১৯২৬ সময়কালে পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে হুইটেকারের জরিপের একটি ধারাবাহিকতা এবং এটি বিংশ শতাব্দীর প্রথম পঁচিশ বছরে পদার্থবিজ্ঞানের বিপ্লব বর্ণনা করে।[৩৩] বইটিতে আচ্ছাদিত প্রধান ঐতিহাসিক বিকাশগুলোর মধ্যে রয়েছে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব, পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্ব, ম্যাট্রিক্স বলবিজ্ঞান এবং শ্রোডিঙ্গার সমীকরণ ও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানে এর ব্যবহার (যা "তরঙ্গ বলবিজ্ঞান" হিসেবে পরিচিত)।[৩৩]
বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়টি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এটি আপেক্ষিকতার অগ্রাধিকার বিতর্কে হুইটেকারের প্রধান ভূমিকার প্রতিনিধিত্ব করে। আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের ইতিহাসের ওপর হুইটেকারের দৃষ্টিভঙ্গি হলো যে আইনস্টাইনের আগে লোরেনৎস এবং পোয়াঁকারে সফলভাবে তত্ত্বটি তৈরি করেছিলেন এবং এর অগ্রাধিকার তাদেরই প্রাপ্য। হুইটেকারের আপত্তি সত্ত্বেও, বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য দৃঢ়ভাবে তত্ত্বটির ওপর আইনস্টাইনের অগ্রাধিকারের পক্ষেই রয়েছে। লেখকরা উল্লেখ করেছেন যে যদিও পোয়াঁকারে এবং লোরেনৎসের তত্ত্বগুলো গাণিতিক এবং পরীক্ষামূলকভাবে আইনস্টাইনের তত্ত্বের সমতুল্য, সেগুলো আপেক্ষিকতার স্বীকার্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় এবং বর্তমানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা হিসেবে যা পরিচিত তা গঠন করে না। বইটির কিছু অংশ উল্লেখযোগ্য প্রশংসা পেলেও, ঐতিহাসিক বিতর্কে এর ভূমিকার কারণে সামগ্রিকভাবে বলা হয় যে বইটি অন্যদের মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে পড়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবে এটি অনেক কম উদ্ধৃতি পেয়েছে।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা (খণ্ড ২)
[সম্পাদনা]| # | শিরোনাম |
|---|---|
| ১ | রাদারফোর্ডের যুগ |
| ২ | পোয়াঁকারে এবং লোরেনৎসের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব |
| ৩ | কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রারম্ভ |
| ৪ | পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্বে বর্ণালিবীক্ষণ |
| ৫ | মহাকর্ষ |
| ৬ | পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্বে বিকিরণ এবং পরমাণু |
| ৭ | চুম্বকত্ব এবং তড়িৎচুম্বকত্ব |
| ৮ | ম্যাট্রিক্স-বলবিজ্ঞানের আবিষ্কার |
| ৯ | তরঙ্গ-বলবিজ্ঞানের আবিষ্কার |
প্রথম অধ্যায়, রাদারফোর্ডের যুগ, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পরীক্ষামূলক পদার্থবিজ্ঞানের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।[৩৪] দ্বিতীয় অধ্যায়টি আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের উৎপত্তির ওপর রচিত এবং অত্যন্ত বিতর্কিত; এটি আপেক্ষিকতার অগ্রাধিকার বিতর্কে হুইটেকারের ভূমিকার ভিত্তি। এই অধ্যায়ে, শিরোনাম অনুযায়ী, হুইটেকার আলবার্ট আইনস্টাইনকে সাধারণভাবে স্বীকৃত স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে হেন্ড্রিক লোরেনৎস এবং অঁরি পোয়াঁকারেকে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যে কারণে হুইটেকার অনেক পণ্ডিতদের দ্বারা তিরস্কৃত হয়েছেন।[১]
তৃতীয় এবং চতুর্থ অধ্যায়ে পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিকাশ বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং মূলত "জটিল পরীক্ষামূলক তথ্য এবং সেগুলোর প্রাথমিক ব্যাখ্যা" নিয়ে কাজ করা হয়েছে।[৩৪] তৃতীয় অধ্যায়ে পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রাথমিক বিকাশগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পদার্থবিজ্ঞানে মাক্স প্লাঙ্কের অবদান আলোচনা করা হয়েছে এবং আইনস্টাইন ও আর্নল্ড সমারফেল্ডকে সংক্ষেপে স্পর্শ করা হয়েছে। পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্বে বর্ণালিবীক্ষণ সংক্রান্ত চতুর্থ অধ্যায়ে নিলস বোরের অনেক পূর্বসূরির কথা আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে আর্থার ডব্লিউ. কনওয়ে, পেনরি ভন বেভান, জন উইলিয়াম নিকলসন এবং নিলস বিয়েরুম অন্তর্ভুক্ত।[৩৪] পঞ্চম অধ্যায়টি মহাকর্ষের দিকে মোড় নেয়, যেখানে সৃষ্টিতত্ত্বের ইতিহাস এবং আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়টি আবার কোয়ান্টাম তত্ত্বে ফিরে আসে এবং পদার্থবিজ্ঞানে পুরানো এবং আরও আধুনিক ধারণাগুলোর মধ্যে সংযোগ বর্ণনা করে। এখানে লুই দ্য ব্রোয়ির বস্তুতরঙ্গ, বসু-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান এবং ফার্মি পরিসংখ্যানের মতো ঘটনা ও তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।[৩৪] শেষ দুটি অধ্যায়ে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের জন্মের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।[৩৪] ম্যাট্রিক্স বলবিজ্ঞান অষ্টম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে, যার মধ্যে হাইজেনবার্গ পিকচার এবং ভৌত অপারেটরের প্রবর্তন অন্তর্ভুক্ত। এরউইন শ্রোডিঙ্গার, শ্রোডিঙ্গার পিকচার এবং শ্রোডিঙ্গার সমীকরণ সবই শেষ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া (খণ্ড ২)
[সম্পাদনা]১৯৫৪ সালে দ্বিতীয় খণ্ডের একটি বই পর্যালোচনায়, ম্যাক্স বর্ন পরিবর্ধিত এবং পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণের উভয় খণ্ডেরই প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "এই দ্বিতীয় খণ্ডটি একটি চমৎকার কাজ, যা কেবল এর উজ্জ্বল শৈলী এবং মতপ্রকাশের স্পষ্টতার জন্যই নয়, বরং এর অবিশ্বাস্য পাণ্ডিত্য এবং জ্ঞানের জন্যও অনবদ্য" এবং "এই কাজটি আমাদের প্রতিশ্রুত তৃতীয় খণ্ডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে বাধ্য করে"।[৩৪] বর্ন বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের একটি বই "আমাদের সাহিত্যের জন্য সবচেয়ে অপরিহার্য অবদান এবং এটি পদার্থবিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞানগুলোর (বৈজ্ঞানিক ইতিহাস এবং দর্শনসহ) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পড়া উচিত"।[৩৪] পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিকাশের ওপর তৃতীয় এবং চতুর্থ অধ্যায়কে বর্ন আলাদাভাবে উল্লেখ করে সেগুলোকে "শিক্ষা, অন্তর্দৃষ্টি এবং বৈষম্য নির্ণয়ের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কীর্তি" বলে অভিহিত করেন।[৩৪] তিনি মহাকর্ষ সংক্রান্ত পঞ্চম অধ্যায়টিকেও এই ক্ষেত্রে হুইটেকারের নিজস্ব পাণ্ডিত্যের কারণে "নিখুঁত" বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন এটি "সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের সবচেয়ে সুখপাঠ্য এবং স্পষ্ট সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা"।[৩৪] ১৯৫৬ সালে তাঁর ফিজিক্স ইন মাই জেনারেশন বইয়ে বর্ন এটিকে একটি "চমৎকার বই" বলে অভিহিত করেন এবং ছাত্রাবস্থায় এর প্রথম সংস্করণটিকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানান।[৩৫]
ফ্রিম্যান ডাইসন ১৯৫৪ সালের একটি পর্যালোচনায় বলেছিলেন যে দ্বিতীয় খণ্ডটি প্রথম খণ্ডের তুলনায় "এর পরিধিতে আরও বেশি সীমাবদ্ধ এবং পেশাদার"। এটি "আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের দিকে পরিচালিত করা বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামগুলোর ঘটনাপ্রবাহের একটি স্পষ্ট, যৌক্তিক বিবরণ" প্রদান করে।[৩৬] তিনি এই খণ্ডটিকে আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের ওপর একটি "গাণিতিক পাঠ্যপুস্তক" বলে অভিহিত করেন, যা ঐতিহাসিক পদ্ধতির ওপর জোর দেয়, কারণ এটি প্রয়োজনীয় সমস্ত গণিত ব্যাখ্যা করে।[৩৬] তিনি বলেন যে "হুইটেকারের দুই খণ্ড বিশ্বস্ততার সাথে দুটি ভিন্ন সময়ের বিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুকে প্রতিফলিত করে"। তিনি আরও বলেন যে যদিও তিনি বইটির ঐতিহাসিক নির্ভুলতা নিয়ে মন্তব্য করতে অক্ষম, তবুও তিনি মনে করেন "এটি সম্ভবত সবচেয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ এবং সাধারণত প্রামাণ্য ইতিহাস যা আমরা কখনও পাবো"।[৩৬]
১৯৫৪ সালের ৩০ নভেম্বর রয়্যাল সোসাইটিতে তাঁর ভাষণের উদ্বোধনী মন্তব্যে সভাপতি এডগার অ্যাড্রিয়ান উল্লেখ করেন যে, হুইটেকার সম্ভবত তাঁর "অসংখ্য, বৈচিত্র্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান" এবং তাঁর দায়িত্ব পালন করা পদগুলোর কারণে সেই সময়ের সবচেয়ে সুপরিচিত ব্রিটিশ গণিতবিদ। তবে তাঁর সমস্ত কাজের মধ্যে এই ইতিহাস বইটিই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও লক্ষ্য করেন যে অ্যানালিটিক্যাল ডায়নামিকস এবং মডার্ন অ্যানালাইসিসের ওপর হুইটেকারের বইগুলো যুক্তরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে প্রভাবশালী।[৩৭] সদ্য প্রকাশিত দ্বিতীয় খণ্ডটিকে তিনি একটি "মহান কাজ" হিসেবে আলাদাভাবে উল্লেখ করেন, যা "১৯২৫ সাল পর্যন্ত ভৌত তত্ত্বের বিকাশের একটি সমালোচনামূলক মূল্যায়ন" প্রদান করে।[৩৭] তিনি আরও বলেন যে হুইটেকারের সমস্ত লেখাই তাঁর "বিন্যাস এবং বর্ণনার ক্ষমতা" প্রদর্শন করে যা "অত্যন্ত অসাধারণ পর্যায়ের"। শেষে তিনি বলেন যে "তাঁর কাজের বিস্ময়কর পরিমাণ এবং গুণমান সম্ভবত আধুনিক গণিতে অতুলনীয় এবং এটি অত্যন্ত উপযুক্ত যে রয়্যাল সোসাইটি হুইটেকারকে তাদের সবচেয়ে বিশিষ্ট পুরস্কার প্রদান করবে"; এখানে তিনি ১৯৫৪ সালে হুইটেকারের কপলি পদক প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেন।[৩৭]
১৯৫৪ সালের একটি পর্যালোচনায় রলফ হ্যাগডর্ন বলেছেন যে "পুরো কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খতা এবং বিবেকবোধ উপলব্ধি করার জন্য বইটির মাত্র কয়েকটি পৃষ্ঠাই পড়া যথেষ্ট"। তিনি বলেন বইটি একটি অমূল্য তথ্যসূত্র এবং এটি "যেকোনো গ্রন্থাগারের জন্য অপরিহার্য"।[৩৮] তিনি আরও বলেন যে হুইটেকার "একটি সুসংগত গাণিতিক বর্ণনার মাধ্যমে পাঠককে প্রকৃত উপলব্ধিতে নিয়ে আসেন যা তাকে ধাপে ধাপে বিকাশ অনুসরণ করতে সক্ষম করে" এবং এর "স্পষ্টতা ও শিক্ষামূলক গঠন একে অনুসরণ করা আনন্দদায়ক করে তোলে"।[৩৮] আরেকটি আলোচনায় উইলিয়াম ফুলার ব্রাউন জুনিয়র উল্লেখ করেন যে বইটি গবেষণা প্রকাশ করা বিজ্ঞানীদের ইতিহাসের পরিবর্তে প্রকাশিত গবেষণাপত্রগুলোর ইতিহাস; তবে তিনি আরও বলেন যে বইটি আলোকিত করার মতো এবং পাঠক "এর থেকে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের প্রক্রিয়ার আরও ভালো মূল্যায়ন করতে পারবেন"।[৩৯] অন্যান্যদের মধ্যে সায়েন্স সাময়িকী বইটির একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করে যার শুরুটা ছিল এরকম: "বর্তমান খণ্ডটি, যেমনটি শিরোনাম থেকে মনে হতে পারে, ১৯১০ সালে স্যার এডমন্ড হুইটেকারের লেখা একই শিরোনামের মূল কাজের কেবল ২৬ বছরের বর্ধিত রূপ নয়। বরং, এটি ১৯০০-১৯২৬ সময়কালে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং প্রামাণ্য বিবরণ, যার মধ্যে পরমাণু গঠন, আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব, পুরাতন কোয়ান্টাম তত্ত্ব, আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব, ম্যাট্রিক্স বলবিজ্ঞান এবং তরঙ্গ বলবিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে"।[৪০]
১৯৫৬ সালে পি. ডব্লিউ. ব্রিজম্যানের একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে "আমার বিশ্বাস, এই ভয়ানক গ্রন্থের প্রতি পাঠকদের প্রথম ইমপ্রেশন প্রায় সব সময়ই হবে লেখকের পরিশ্রম এবং বহুমুখী প্রতিভার প্রতি বিস্ময়, যিনি এত কিছু আত্মসাৎ করতে এবং সমালোচনামূলকভাবে পর্যালোচনা করতে পেরেছেন।"[৮] তিনি আরও বলেন যে পুরোনো পদার্থবিদরাও এটিকে তাদের "নিজস্ব অভিজ্ঞতার" একটি "সারমর্ম" হিসেবে পাবেন এবং এটি তাদের জন্য "অনেক সংকটময় পরিস্থিতির" স্মৃতিচারণ করবে।[৮]
বিশ্লেষণ (খণ্ড ২)
[সম্পাদনা]১৯৭১ সালে প্রকাশিত আলবার্ট আইনস্টাইনকে লেখা ১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বরের একটি চিঠিতে ম্যাক্স বর্ন লেখেন যে, আপেক্ষিকতার অগ্রাধিকারের সমস্যাগুলো ছাড়াও, তাঁর জন্য এটি "বিশেষভাবে অপ্রীতিকর" ছিল যে হুইটেকার "কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের তাঁর বিবরণে সব ধরণের ব্যক্তিগত তথ্য বুনেছিলেন" যেখানে এই বিকাশে বর্নের ভূমিকাকে "অতিরিক্ত প্রশংসা" করা হয়েছিল।[৭] কিন্তু ১৯৭১ সালের ভাষ্যে তিনি উল্লেখ করেন যে বইটি "একটি উজ্জ্বল এবং ঐতিহাসিক দার্শনিক কাজ" যা তিনি তাঁর প্রাথমিক বছরগুলোতে "অত্যন্ত দরকারী" বলে মনে করেছিলেন।[৪১] ১৯৫৪ সালের একটি বই পর্যালোচনায় বর্ন বইটির "অত্যন্ত যত্নশীল" রেকর্ডের প্রশংসা করেন যেখানে "অস্পষ্ট বা ভুলে যাওয়া গবেষণাপত্রগুলো তুলে আনা হয়েছে, যেগুলোতে হয়তো অসম্পূর্ণ আকারে হলেও কিছু অপরিহার্য নতুন ধারণা রয়েছে"। তিনি উল্লেখ করেন যে বইটির শেষ দুটি অধ্যায় "ম্যাট্রিক্স বলবিজ্ঞান এবং তরঙ্গ বলবিজ্ঞান—উভয় রূপেই কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের জন্মের একটি বিস্তারিত এবং প্রাণবন্ত বিবরণ দেয়"।[৩৪] তিনি তাঁর দার্শনিক স্বার্থকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য হুইটেকারের প্রশংসাও করেন, এই বলে যে "বিজ্ঞানের বিবেকবান ইতিহাসবিদ হুইটেকার, অধিবিদ্যাবিদ হুইটেকারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছেন, এবং এই বৈশিষ্ট্যটিই বইটিকে ঘটনাপ্রবাহের জটাজালের মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ নির্দেশিকায় পরিণত করেছে"।[৩৪] বর্ন বলেন যে দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম বা "এতে প্রকাশিত ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিই" একমাত্র পয়েন্ট যেখানে তিনি হুইটেকারের মতামতের সাথে একমত নন।[৩৪] বর্ন এও উল্লেখ করেন যে বইটি সাধারণ পাঠ্যপুস্তক যা করতে পারে তার চেয়েও অনেক এগিয়ে, যা তাঁর মতে শিক্ষার্থীদের "জ্ঞান এবং উপলব্ধির জন্য সবচেয়ে ছোট এবং সহজ উপায়" প্রদান করে,[৩৪] এবং "ক্ষেত্রবিশেষে শুধু ইতিহাস-বিবর্জিতই নয় বরং ইতিহাসের বিকৃতিও ঘটায়"।[৩৪]
ফ্রিম্যান ডাইসন তাঁর ১৯৫৪ সালের পর্যালোচনায় মন্তব্য করেন যে ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে দ্রুত গাণিতিক বিকাশের কারণে দ্বিতীয় খণ্ডটির স্টাইল আবশ্যিকভাবে "প্রথম খণ্ডের তুলনায় খুব আলাদা"।[৩৬] তিনি প্রথম খণ্ডটিকে "ঐতিহাসিক দুর্ঘটনাগুলোর" একটি বিবরণ হিসেবে সারসংক্ষেপ করেন, যার ফলে বিজ্ঞানীরা সমস্যাগুলো নিয়ে যেভাবে ভাবতেন তাতে পরিবর্তন আসে; সাথে তৎকালীন সময়ের পদার্থবিজ্ঞান এবং সাধারণ দার্শনিক জলবায়ুর মধ্যকার সংযোগের আলোচনাও ছিল। অন্যদিকে তিনি বলেন, দ্বিতীয় খণ্ডটি পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসের সেই সময়কালকে কভার করে যখন এর অগ্রগতি নির্ধারিত হয়েছিল "পর্যবেক্ষণগুলো কত দ্রুত বোঝা যায় এবং সঠিক গাণিতিক পরিভাষায় প্রকাশ করা যায় তার গতির" দ্বারা।[৩৬]
১৯৫৪ সালে নেচার সাময়িকীতে তাঁর পর্যালোচনায় রলফ হ্যাগডর্ন উল্লেখ করেন যে পাঠকদের ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলাস, ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস এবং লিনিয়ার অ্যালজেব্রা সম্পর্কে পরিচিত হওয়া উচিত; তিনি বলেন "এটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে আগ্রহী সাধারণ মানুষের জন্য লেখা নয়, এবং অবশ্যই এটি জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বইয়ের বিভাগে পড়ে না"।[৩৮] তিনি "অন্তত একটি উদ্ধৃতি" দিয়ে প্রতিটি বিবৃতিকে ন্যায্য প্রমাণ করার জন্য বইটির প্রশংসা করেন, এবং অনুমান করেন যে এর মোট সংখ্যা এক হাজারের বেশি। তিনি আরও বলেন, "এটা অকল্পনীয় যে এমন একজন লেখক, যার তাঁর উৎসগুলোর ওপর এত গভীর জ্ঞান রয়েছে, তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করতে পারেন"।[৩৮] তিনি এও স্বীকার করেন যে "সংক্ষিপ্ত শৈলী" এবং "বর্তমানে ব্যবহৃত নামের পরিবর্তে মূল গবেষণায় ব্যবহৃত নামগুলোর ঘন ঘন প্রয়োগের" কারণে বইটি মাঝে মাঝে পড়া কঠিন হয়।[৩৮]
১৯৫৬ সালের তাঁর বই পর্যালোচনায়, পি. ডব্লিউ. ব্রিজম্যান বলেন যে এটি "নিঃসন্দেহে" সত্যি যে বইটির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের জন্য লোরেনৎস এবং পোয়াঁকারেকে অগ্রাধিকার দেওয়া, তবে তিনি আইনস্টাইনের অগ্রাধিকার রক্ষার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পাঠকদের ম্যাক্স বর্নের উত্তরের প্রতি নির্দেশ করেন।[৮] তিনি অবশ্য উল্লেখ করেন যে "এটা মনে রাখতে হবে, তত্ত্বের বিকাশের সময় হুইটেকার ঘটনার একেবারে কেন্দ্রে ছিলেন এবং অনেক ভুলে যাওয়া ইতিহাস রয়েছে"। ভর-শক্তি সমতুল্যতার "অল্প পরিচিত প্রাক-ইতিহাস" তুলে ধরার জন্য তিনি হুইটেকারের প্রশংসা করেন।[৮] ব্রিজম্যান আরও লক্ষ্য করেন যে আপেক্ষিকতার বিশেষ এবং সাধারণ তত্ত্বের আলোকে "ইথার" কে অপ্রয়োজনীয় বিবেচনা করা উচিত কিনা তা এই খণ্ডে আলোচনা করা হয়নি, তবে মূল সংস্করণের মুখবন্ধে কোয়ান্টাম শূন্যস্থান বর্ণনা করার জন্য ইথার শব্দটি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।[৮]
আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব এবং সমতা নীতির প্রাথমিক বিকাশের ক্ষেত্রে রবার্তো টোরেত্তি ১৯৮৩ সালের তাঁর বইয়ে হুইটেকারের সমালোচনা করেন। হুইটেকার মাক্স প্লাঙ্ককে এই ধারণার কৃতিত্ব দিয়েছিলেন যে "সমস্ত শক্তিরই মহাকর্ষীয় প্রভাব থাকা উচিত", যদিও টোরেত্তির মতে প্লাঙ্কের ১৯০৭ সালের গবেষণাপত্রটি "বিপরীত কথাই বলছিল"।[৪২]
আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের অগ্রাধিকার বিতর্ক
[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় খণ্ডে, "দ্য রিলেটিভিটি থিওরি অব পোয়াঁকারে অ্যান্ড লোরেনৎস" (পোয়াঁকারে এবং লোরেনৎসের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব) শিরোনামের একটি অধ্যায়ে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব বিকাশের কৃতিত্ব অঁরি পোয়াঁকারে এবং হেন্ড্রিক লোরেনৎস-কে দেওয়া হয়েছে। এখানে বিশেষভাবে লোরেনৎসের ১৯০৪ সালের গবেষণাপত্র (যাকে হুইটেকার ১৯০৩ সালের বলে উল্লেখ করেছেন), ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বরে পোয়াঁকারের সেন্ট লুইসের ভাষণ (দ্য প্রিন্সিপলস অব ম্যাথমেটিক্যাল ফিজিক্স) এবং ১৯০৫ সালের জুনে পোয়াঁকারের গবেষণাপত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।[৪৩] তিনি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব সংক্রান্ত গবেষণাপত্র-কে খুব কম গুরুত্ব দিয়েছেন, যেটির সম্পর্কে তিনি বলেছেন "এটি পোয়াঁকারে এবং লোরেনৎসের আপেক্ষিকতা তত্ত্বকে কিছু পরিবর্ধনসহ উপস্থাপন করেছিল এবং ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল"।[৪৪] রবার্তো টোরেত্তি ১৯৮৩ সালের তাঁর বই রিলেটিভিটি অ্যান্ড জিওমেট্রি-তে বলেন, "আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের উৎপত্তির ওপর হুইটেকারের দৃষ্টিভঙ্গি অধিকাংশ পণ্ডিতদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে"।[১] তিনি এর সপক্ষে ম্যাক্স বর্ন,[৪৫] জেরাল্ড হোল্টন,[৪৬][৪৭][৪৮] চতুর্থ চার্লস স্ক্রিবনার,[৪৯] স্ট্যানলি গোল্ডবার্গ,[৫০][৫১] এলি জাহার,[৫২] টেটু হিরোশিগে,[৫৩] কেনেথ এফ. শ্যাফনার[৫৪] এবং আর্থার আই. মিলার-কে উদ্ধৃত করেছেন।[৫৫] তিনি অবশ্য উল্লেখ করেন যে জি. এইচ. কেসওয়ানি[৫৬][৫৭] হুইটেকারের পক্ষ নিয়েছেন, যদিও "তিনি পরের জনের দৃষ্টিভঙ্গিকে কিছুটা নরম করেছেন"।[১] আর্থার আই. মিলার ১৯৮১ সালের তাঁর বইয়ে লিখেছেন যে দ্বিতীয় অধ্যায়টির "ঐতিহাসিক বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব"[৫৮] হোল্টনের ১৯৬০ সালের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের উৎপত্তির ওপর রচিত প্রবন্ধটির মাধ্যমে "কার্যকরভাবে প্রদর্শিত" হয়েছিল।[৪৬]
ম্যাক্স বর্নের খণ্ডন
[সম্পাদনা]১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বরে বর্ন আইনস্টাইনকে একটি চিঠি লেখেন যেখানে তিনি তাঁকে ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর বন্ধু হুইটেকার দ্বিতীয় খণ্ডটি প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, যার বিশেষত্ব হলো "আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের বিকাশের কৃতিত্ব লোরেনৎস এবং পোয়াঁকারেকে দেওয়া হয়েছে" এবং আইনস্টাইনের গবেষণাপত্রগুলোকে "কম গুরুত্বপূর্ণ" হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।[৭] তিনি আইনস্টাইনকে আরও জানান যে বিগত তিন বছরে তিনি হুইটেকারকে "তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার জন্য" যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন, এবং উল্লেখ করেন যে হুইটেকার এই ধারণাটি "পোষণ করতেন" এবং এটি নিয়ে "কথা বলতে পছন্দ করতেন"।[৭] বর্ন আইনস্টাইনকে বলেছিলেন যে হুইটেকার জোর দিয়ে বলেছেন, সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো পোয়াঁকারে দ্বারা বিকশিত হয়েছিল, অন্যদিকে লোরেনৎস "একেবারে স্পষ্টভাবেই ভৌত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন"।[৭] বর্ন বলেন যে এটি তাঁকে বিরক্ত করেছিল কারণ হুইটেকার "ইংরেজি-ভাষী দেশগুলোতে একজন মহান কর্তৃপক্ষ" এবং তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে "অনেকেই তাঁকে বিশ্বাস করবে"।[৭] অক্টোবরের এক প্রত্যুত্তরে আইনস্টাইন বর্নকে আশ্বস্ত করে বলেন যে এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, "আপনার বন্ধুর বই নিয়ে বিনিদ্র রাত কাটানোর দরকার নেই। প্রত্যেকেই যা সঠিক বলে মনে করে তা-ই করে বা নির্ধারক পরিভাষায় বলতে গেলে তাকে তা-ই করতে হয়। যদি সে অন্যদের বোঝাতে সক্ষম হয়, তবে সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার।"[৫৯] তিনি জানান যে নিজের গবেষণার ফলাফলকে একান্তই নিজের বলে দাবি করাটা তাঁর কাছে যৌক্তিক বলে মনে হয় না।[৫৯] এই উত্তরের ১৯৭১ সালের ভাষ্যে বর্ন বলেন যে, আইনস্টাইনের উত্তর কেবল তাঁর "খ্যাতি ও গৌরবের প্রতি চরম উদাসীনতা" প্রমাণ করে।[৬০]
১৯৫৪ সালের বই পর্যালোচনায় বর্ন বলেন যে "হুইটেকারের বিচারের সপক্ষে অনেক কিছুই বলার আছে। গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে লোরেনৎস রূপান্তরগুলো আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সমগ্রতা ধারণ করে এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে পোয়াঁকারে হয়তো আইনস্টাইনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থেকে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভৌত পরিণতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন"।[৩৪] যদিও তিনি "আইনস্টাইনের নামে আপেক্ষিকতার নামকরণ করার সাধারণ ব্যবহারের" পক্ষ নেন,[৩৪] তবে তা "লোরেনৎস এবং পোয়াঁকারের মহান অবদানকে উপেক্ষা না করে"।[৩৪] ১৯৫৬ সালের বইয়ে বর্ন এই ধারণাগুলোকে আরও প্রসারিত করেন, যেখানে তিনি[৬১] কার্ল জেলিগ-কে দেওয়া আইনস্টাইনের একটি উত্তরের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন বৈজ্ঞানিক সাহিত্য তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল।[৬২] আইনস্টাইন জানান যে তিনি কেবল ১৮৯০-এর দশকে লোরেনৎসের কাজের কথাই জানতেন। বর্ন বলেন এটি "পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার করে দেয়"।[৬৩] তিনি উল্লেখ করেন যে ১৯০৫ সালের আপেক্ষিকতা এবং আলোক কোয়ান্টাম সম্পর্কিত গবেষণাপত্রগুলো পরস্পর সম্পর্কিত ছিল এবং এই গবেষণা লোরেনৎস এবং পোয়াঁকারের পরবর্তী কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিল না।[৬৩] তিনি "আইজ্যাক নিউটনের প্রতিষ্ঠিত দর্শন, স্থান ও কালের ঐতিহ্যগত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার" ক্ষেত্রে আইনস্টাইনের "দুঃসাহস"-কে তুলে ধরেন।[৬৪] বর্নের মতে, এটিই "আইনস্টাইনের কাজকে তাঁর পূর্বসূরিদের থেকে আলাদা করে এবং হুইটেকারের ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব নিয়ে কথা বলার অধিকার দেয়।"[৬৪]
জর্জ হোল্টনের খণ্ডন
[সম্পাদনা]১৯৬০ সালে তাঁর সুস্পষ্ট খণ্ডনে হোল্টন উল্লেখ করেন যে আইনস্টাইনের গবেষণাপত্রটি "প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন লেখকের অসংখ্য অবদানের মধ্যে একটি ছিল",[৪৬] তবে তিনি আরও দেখান যে হুইটেকারের মূল্যায়ন ঘাটতিপূর্ণ এবং কিছু জায়গায় স্পষ্টতই ভুল ছিল। তিনি বলেন, ১৯০৪ সালের বদলে ১৯০৩ সালের একটি গবেষণাপত্রের জন্য লোরেনৎসকে কৃতিত্ব দেওয়া "নিছক একটি ভুল ছিল না", বরং এটি অন্তত একটি "প্রতীকী ভুল" যা "একজন জীবনীকারের পূর্বানুমান কীভাবে তাঁর উপাদানের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে তার প্রতীক"।[৪৬] তিনি আরও বলেন, আইনস্টাইন এবং তাঁর সহকর্মীদের বিপরীত বিবৃতি সত্ত্বেও হুইটেকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে আইনস্টাইনের কাজ লোরেনৎসের কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অথচ ১৯০৫ সালের গবেষণাপত্রে একাধিক প্রমাণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে আইনস্টাইন লোরেনৎসের পরবর্তী কাজ সম্পর্কে জানতেন না; এর মধ্যে একটি হলো আইনস্টাইন লোরেনৎস রূপান্তরটি প্রতিপাদন করেছিলেন যেখানে লোরেনৎস এটি ধরে নিয়েছিলেন, এবং আইনস্টাইন তাঁদেরকেই কৃতিত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন যাঁদের কাজ তাঁকে প্রভাবিত করেছিল।[৪৬] তিনি গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে একটি মূল পার্থক্যও তুলে ধরেন, যেখানে আইনস্টাইন যুক্তি দেন যে "তড়িৎগতিবিজ্ঞান এবং আলোকবিজ্ঞানের সূত্রগুলো" v/c-এর ক্রম পর্যন্ত "সমস্ত প্রসঙ্গ কাঠামোতে বৈধ", অন্যদিকে লোরেনৎস তাঁর ১৯০৪ সালের গবেষণাপত্রে একটি "মূল বিষয়" হিসেবে দাবি করেছিলেন যে তিনি "তত্ত্বটিকে v/c-এর দ্বিতীয় ক্রম পর্যন্ত প্রসারিত করেছেন"।[৪৬] অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে প্লাঙ্ক ১৯০৬ সালে নির্দেশ করেছিলেন যে আহিত কণার ভরের জন্য আইনস্টাইনের রাশিমালা "লোরেনৎসের তুলনায় অনেক কম উপযুক্ত" ছিল।[৪৬] হোল্টন আরও একটি "সমপরিমাণ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা" উল্লেখ করেন যে লোরেনৎসের গবেষণাপত্রটি "আইনস্টাইনের পর থেকে আমরা আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব বলতে যা বুঝি তার ওপর ছিল না", কারণ তাঁর "মৌলিক অনুমানগুলো আপেক্ষিকতাভিত্তিক নয়"।[৪৬] তিনি আরও বলেন যে লোরেনৎস কখনই আপেক্ষিকতার কৃতিত্ব দাবি করেননি এবং প্রকৃতপক্ষে এটিকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলেই উল্লেখ করেছিলেন। অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে লোরেনৎসের সূত্রায়ন কেবল ছোট v/c-এর জন্যই বৈধ ছিল, কিন্তু আইনস্টাইনের তত্ত্বের মূল বিষয় ছিল সর্বজনীন বৈধতা।[৪৬] হোল্টন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের ইতিহাসের ওপর আরও কিছু কাজ লিখেছেন, যেখানে তিনি আইনস্টাইনের অগ্রাধিকার রক্ষা করেছেন।[৪৭][৪৮]
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পণ্ডিতদের খণ্ডন
[সম্পাদনা]রবার্তো টোরেত্তি ১৯৮৩ সালের তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেন যে পোয়াঁকারে এবং লোরেনৎস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বটি আইনস্টাইনের অন দ্য ইলেকট্রোডায়নামিক্স অব মুভিং বডিসের সাথে "পরীক্ষামূলকভাবে অভিন্ন এবং গাণিতিকভাবে সমতুল্য" ছিল, কিন্তু তাদের দর্শন আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।[১] টোরেত্তি উল্লেখ করেন যে তাঁদের তত্ত্ব, আইনস্টাইনের তত্ত্বের সম্পূর্ণ বিপরীতে, এমন একটি ইথারের অনুমানের ওপর নির্ভর করে যা এর মধ্য দিয়ে চলমান সিস্টেমগুলোর সাথে মিথস্ক্রিয়া করে ঘড়ি ও সঙ্কুচিত বস্তুগুলোকে প্রভাবিত করে। তিনি আরও বলেন যে এটি নিঃসন্দেহে সত্য যে আইনস্টাইন পোয়াঁকারের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকতে পারেন,[৬৫] তিনি নির্দেশ করেন যে পোয়াঁকারের তত্ত্ব আইনস্টাইনের মতো সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য ছিল না এবং এটি স্থান ও কালের ধারণার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না।[৬৬] তিনি এও উল্লেখ করেন যে লোরেনৎস নিয়মিতভাবে তত্ত্বটিকে আইনস্টাইনের বলে উল্লেখ করতেন, কিন্তু পোয়াঁকারে কখনোই সত্যিকার অর্থে আপেক্ষিকতাবাদী হতে পারেননি এবং তিনি তত্ত্বটিকে লোরেনৎসের বলে উল্লেখ করতেন।[৬৭] টোরেত্তি উল্লেখ করেন যে পোয়াঁকারের ব্যর্থতার কারণ ছিল তাঁর কুখ্যাত প্রথাগত চিন্তাধারা এবং এই সত্যটি যে তিনি সম্ভবত এই কথা স্বীকার করার মতো যথেষ্ট অহংকারী ছিলেন যে "তিনি ২০ শতকের পদার্থবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার গৌরব একজন তরুণ সুইস পেটেন্ট ক্লার্কের কাছে হারিয়েছিলেন।"[৬৮]
চতুর্থ চার্লস স্ক্রিবনার ১৯৮৪ সালের তাঁর প্রবন্ধ অঁরি পোয়াঁকারে অ্যান্ড দ্য প্রিন্সিপল অব রিলেটিভিটি-তে এই বিষয়ে তাঁর বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে হুইটেকারের দৃষ্টিভঙ্গি "উপলব্ধ ঐতিহাসিক প্রমাণের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়" এবং উল্লেখ করেন যে এটি "শিক্ষার্থীদের জন্য বাধাও সৃষ্টি করতে পারে"।[৪৯] তিনি আরও বলেন, "আপেক্ষিকতা নীতির সর্বজনীন বৈধতা প্রতিষ্ঠা এবং এর মৌলিক প্রভাবগুলো প্রকাশ ও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আইনস্টাইন অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন।"[৪৯] তিনি ১৯৬০ সালে হোল্টনের খণ্ডনে উত্থাপিত বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন, যার মধ্যে v/c-এর ঘাতের অসামঞ্জস্যতা এবং আইনস্টাইন যেভাবে তত্ত্বটি উপস্থাপন করেছিলেন পোয়াঁকারে কখনোই সেভাবে তা গ্রহণ করেননি—এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিজ্ঞানের ইতিহাসের ওপর লেখা অন্যান্য বইতেও এই বিতর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাটল ইজ দ্য লর্ড বইয়ে আব্রাহাম পাইস হুইটেকারের তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের আলোচনা "দেখায় যে লেখকের ভৌত অন্তর্দৃষ্টির অভাব সাহিত্যের প্রতি তাঁর অজ্ঞতার সাথে কতটা ভালোভাবে মিলে যায়";[৬৯] অবশ্য এই বাক্যাংশটিকে অন্তত একজন উল্লেখযোগ্য পর্যালোচক "অশ্লীল" এবং "দুঃখজনক" বলে তিরস্কার করেছিলেন।[৭০] কিছুটা স্ববিরোধীভাবে তিনি এও বলেন যে তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা উভয়েই বিশ্বাস করেন যে হুইটেকারের মূল সংস্করণটি "একটি মাস্টারপিস"।[৬৯] তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বইটি যদি "এই তত্ত্ব আবিষ্কারের অগ্রাধিকার নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন না তুলত" তবে তাঁর মন্তব্য করার প্রয়োজন অনুভব হতো না।[৬৯] আরও একটি সহানুভূতিশীল পর্যালোচনা আসে ক্লিফোর্ড ট্রুয়েসডেলের কাছ থেকে, যিনি ১৯৮৪ সালের তাঁর বই অ্যান ইডিয়টস ফিউজিটিভ এসেস অন সায়েন্স-এ লিখেছিলেন যে হুইটেকার "স্মৃতিচারণ, লোককথা এবং পেশাদার প্রচারণার পরিবর্তে মুদ্রিত উপাদান ও নথির ভিত্তিতে সত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে এক বিশাল শত্রুতার জন্ম দিয়েছিলেন,..."।[৭১]
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
[সম্পাদনা]হুইটেকারের ১৯৫৮ সালের একটি শোকলেখে, উইলিয়াম ম্যাকক্রিয়া মন্তব্য করেন যে গ্রন্থদ্বয় এমন অসাধারণ কীর্তি যে “সময় যত যাবে, ঝুঁকি হবে—তুলনায় হুইটেকারের অন্যান্য মহান কৃতিত্বগুলো উপেক্ষিত হয়ে পড়বে।”[৭২] তিনি পূর্বাভাস দেন যে ভবিষ্যৎ পাঠকদের “কঠিন হবে” স্বীকার করা যে এটি কেবল “অন্য ক্ষেত্রগুলোতে সর্বোচ্চ মর্যাদার একটি দীর্ঘ কর্মজীবনের দুই প্রান্তে কয়েক বছরের কাজের” ফলমাত্র।[৭২] ১৯৫৬ সালের একটি শোকলেখে, আলেকজান্ডার এইটকেন গ্রন্থমালাটিকে হুইটেকারের ম্যাগনাম ওপাস—অর্থাৎ তাঁর মহাকীর্তি—বলে অভিহিত করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন যে প্রতিশ্রুত তৃতীয় খণ্ডটি তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেননি।[৭৩] অন্য শোকলেখগুলোর মধ্যে একটি দাবি করে যে দ্বিতীয় সংস্করণের দুই খণ্ড “হুইটেকারের ম্যাগনাম ওপাস” গঠন করে; বহু অন্যান্য সম্মাননার পাশাপাশি, ইতিহাস গ্রন্থটি ছাড়া আরও চারটি মানক গ্রন্থ তাঁর রয়েছে।[১২] চতুর্থ একটি শোকলেখে কাজটিকে “দীপ্তিমান” এবং “ব্যাপক পাঠ ও নির্ভুল উপলব্ধি-সমৃদ্ধ এক বিপুল উদ্যোগ” বলা হয়।[৭৪]
১৯৫৮ সালে সায়েন্স-এ আইভি কেলারম্যান রিড এবং আলেকজান্ডার গোডে-এর একটি প্রবন্ধে “বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ” শিরোনামের একটি বাছাইকৃত তালিকায় বইটি অন্তর্ভুক্ত হয়; সেখানে এই দুই খণ্ডকে “ইথার ও বিদ্যুতের ধ্রুপদি ও আধুনিক তত্ত্বসমূহের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস” বলে উল্লেখ করা হয়।[৭৫] ১৯৬৮ সালে, জন এল. হেইলব্রন বলেন যে কোয়ান্টাম মেকানিক্স-বিষয়ক হুইটেকারের দ্বিতীয় খণ্ডের “মহামূল্য” নিহিত আছে—এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিকাশকে অন্যান্য ক্ষেত্রের বিকাশের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে, এবং এতে “সমৃদ্ধ উদ্ধৃতি” রয়েছে; এরপর তিনি পাঠকদের এটিসহ বিজ্ঞানের ইতিহাস-বিষয়ক আরও কয়েকটি বই পড়ার সুপারিশ করেন।[৭৬]
জন ডেভিড জ্যাকসন তাঁর বিখ্যাত স্নাতকোত্তর পাঠ্যপুস্তক ক্লাসিক্যাল ইলেক্ট্রোডাইনামিক্সের (১৯৬২) প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় উভয় খণ্ডই পাঠকদের জন্য সুপারিশ করেন; পরবর্তী সব সংস্করণে—মানক তৃতীয় সংস্করণ (১৯৯৯) সহ—এটি পুনর্মুদ্রিত হয়েছে।[৭৭] জ্যাকসন ইলেক্ট্রোডাইনামিক্সের গাণিতিক বিকাশের ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন এবং বলেন যে “বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্ব সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধির বিকাশের গল্প—অবশ্যই—এক শতাব্দীর কয়েকটি নামমাত্র উল্লেখ যতটা ইঙ্গিত করে, তার চেয়ে অনেক দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ।”[২] এরপর তিনি পাঠকদের “আকর্ষণীয় ইতিহাস”-এর “বিস্তারিত বিবরণ” পাওয়ার জন্য এই দুইটি “কর্তৃত্বপূর্ণ” খণ্ড পরামর্শ দেন।[২]
১৯৮৮ সালে আইসিস-এ দ্বিতীয় সংস্করণের সম্মিলিত পুনর্মুদ্রণের (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে বাঁধাই করা; ১৯৮১ সালে নিউ ইয়র্কে আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স এবং টোমাশ পাবলিশার্স প্রকাশিত) একটি পর্যালোচনায় বিজ্ঞান-ইতিহাসবিদ ব্রুস জে. হান্ট বলেন যে গ্রন্থদ্বয় সময়ের পরীক্ষায় “অসাধারণভাবে ভালোভাবে” টিকে আছে। তিনি মনে করেন আধুনিক কালে অন্য কেউ এমন গ্রন্থ রচনার চেষ্টা করবে—এটা অল্পই সম্ভাব্য; কারণ সাম্প্রতিক প্রবণতার বিচারে “বিশ্বকোষসম ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিস্তৃত” এবং “শুধু অন্তর্গততাবাদী ফোকাস অত্যন্ত সংকীর্ণ”—তবে তিনি বলেন, “কেউ যে এটা লিখেছিল—সেটাই আমাদের জন্য সৌভাগ্য”, এবং সম্ভবত এটাই ভালো যে হুইটেকার এত আগে কাজটি করেছিলেন।[৪] তিনি নতুন পুনর্মুদ্রণটির জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। “ধ্রুপদি তত্ত্বসমূহ” বিষয়ক প্রথম খণ্ডের তুলনায়, হান্ট উল্লেখ করেন যে দ্বিতীয় খণ্ড দ্য মডার্ন থিওরিজ আজ “খুব কম উদ্ধৃত হয়—এই বিতর্ক প্রসঙ্গ ছাড়া”, এবং আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে পরবর্তী প্রকাশনাগুলোর ওপর এর “তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব” পড়েছে।[৪] তিনি আরও বলেন যে প্রথম খণ্ডটি “এখনও একটি মানক রেফারেন্স” হিসেবে টিকে আছে।[৪] তাঁর মতে, বইটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—এতে “প্রকৃত ঐতিহাসিক সংবেদন” অনুপস্থিত; এটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট মিস করে, ফলে অপূর্ণ থেকে যায়, কারণ এটি মানুষ নয়—তত্ত্বের ওপর বেশি জোর দেয়।[৪] হান্ট শেষে বলেন যে নানা অর্থে গ্রন্থটি “একটি অতীত যুগের নিদর্শন”, তবু “সমালোচনামূলকভাবে” পড়লে এটি এখনও “খুবই উপকারী”; এবং তিনি হুইটেকারকে “মহান ভিক্টোরীয় গাণিতিক পদার্থবিদদের শেষদিকের একজন এবং সবচেয়ে চিন্তাশীলদের একজন” বলে প্রশংসা করেন।
২০০৩ সালে ফরাসি বিজ্ঞান-ইতিহাসবিদ অলিভিয়ে দারিগোলের একটি বইয়ের পর্যালোচনায় এল. পিয়ার্স উইলিয়ামস নতুন বইটির সঙ্গে হুইটেকারের দ্বিতীয় সংস্করণের তুলনা করেন, যেটিকে তিনি “পুরোনো, কিন্তু এখনও মূল্যবান” বলে আখ্যা দেন।[৭৮] ২০০৭ সালে স্টিফেন জি. ব্রাশ কৃষ্ণদেহ বিকিরণসহ আলোক-কোয়ান্টাম বিকাশের ইতিহাস-বিষয়ক নির্বাচিত গ্রন্থতালিকায় দ্বিতীয় সংস্করণের দ্বিতীয় খণ্ডটি অন্তর্ভুক্ত করেন।[৭৯] অন্যান্য গবেষকেরাও মূল খণ্ডটিকে আলাদা করে উল্লেখ করেছেন; যেমন দারিগোল ২০১০ সালের একটি প্রবন্ধে কাজটিকে একটি কর্তৃত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরেন,[৮০] এবং আব্রাহাম পাইস তাঁর ১৯৮২ সালের আইনস্টাইন-বিষয়ক গ্রন্থে বলেন যে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বইটিকে একটি “মাস্টারপিস” বলে মনে করেন।[৬৯]
প্রকাশের বিবরণ
[সম্পাদনা]প্রথম সংস্করণ
[সম্পাদনা]বইটি মূলত ১৯১০ সালে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক সিটি, বোম্বে এবং ক্যালকাটা-য় লংম্যানস, গ্রিন অ্যান্ড কোম্পানি কর্তৃক এবং ডাবলিন-এ হজেস, ফিজিস অ্যান্ড কোম্পানি কর্তৃক প্রকাশিত হয়।[৮১] ১৯২০-এর দশকের মধ্যে এটি মুদ্রণহীন (আউট অফ প্রিন্ট) হয়ে যায়[৫] এবং এর পর থেকে এটি সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।[১১] এটি 'ডাবলিন ইউনিভার্সিটি প্রেস' এবং 'ল্যান্ডমার্কস অব সায়েন্স' সিরিজের বইয়ের অংশ ছিল।[৮২] যেহেতু এটি ১৯২৫ সালের আগে মার্কিন কপিরাইট অফিসে নিবন্ধিত হয়েছিল, তাই বইটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত এবং ইন্টারনেট আর্কাইভ-এ বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং এটি পুনরায় মুদ্রণ করা সম্ভব।
- হুইটেকার, ই. টি. (১৯১০)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি: ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি। লন্ডন, নিউ ইয়র্ক [ইত্যাদি]: লংম্যানস, গ্রিন অ্যান্ড কোম্পানি; [ইত্যাদি, ইত্যাদি]। এলসিসিএন a11001073।
- হুইটেকার, ই. টি. (১৯১০)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসি: ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি। ডাবলিন ইউনিভার্সিটি প্রেস সিরিজ। লন্ডন; নিউ ইয়র্ক; ডাবলিন: লংম্যানস, গ্রিন; হজেস, ফিজিস। এলসিসিএন 85240132।
- হুইটেকার, ই. টি. (২০১২) [১৯১০]। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি: ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি। হোয়াইটফিশ, মন্টানা: কেসিঞ্জার পাবলিশিং। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫৪৮-৯৬৭২০-১। ওসিএলসি 784841387।
- হুইটেকার, ই. টি. (২০১২) [১৯১০]। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি: ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি। বেনিডিকশন ক্লাসিকস। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৮১৩৯-১৩০-৩। ওসিএলসি 935740243।
দ্বিতীয় সংস্করণ
[সম্পাদনা]- প্রথম খণ্ডের মূল মুদ্রণ:—হুইটেকার, ই. টি. (১৯৫১)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি: দ্য ক্লাসিক্যাল থিওরিজ। খণ্ড ১ (২য় সংস্করণ)। টমাস নেলসন অ্যান্ড সন্স।
- দ্বিতীয় খণ্ডের মূল মুদ্রণ:—হুইটেকার, ই. টি. (১৯৫৩)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি: দ্য মডার্ন থিওরিজ। খণ্ড ২ (২য় সংস্করণ)। টমাস নেলসন অ্যান্ড সন্স।
- সংস্করণের প্রথম পুনঃমুদ্রণ, যেখানে উভয় খণ্ডকে একত্রে যুক্ত করা হয়েছে:—হুইটেকার, ই. টি. (১৯৫৮)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি: দ্য মডার্ন থিওরিজ (২য় সংস্করণ)। টমাস নেলসন অ্যান্ড সন্স। ওসিএলসি 636972310।
- আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স এবং টোমাশ পাবলিশিং কর্তৃক পুনঃমুদ্রণ:—হুইটেকার, ই. টি. (১৯৮৭)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি (২য় সংস্করণ)। টোমাশ পাবলিশিং। এলসিসিএন 87001851। ওসিএলসি 1067614173।
- ডোভার পাবলিকেশন্স কর্তৃক পুনঃমুদ্রণ:—হুইটেকার, ই. টি. (১৯৮৯)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি: খণ্ড ১: দ্য ক্লাসিক্যাল থিওরিজ; খণ্ড ২: দ্য মডার্ন থিওরিজ, ১৯০০–১৯২৬ (২য় সংস্করণ)। নিউ ইয়র্ক: ডোভার পাবলিকেশন্স। আইএসবিএন ০-৪৮৬-২৬১২৬-৩। ওসিএলসি 20357018।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 টোরেত্তি ১৯৮৩, পৃ. 83
- 1 2 3 4 জ্যাকসন, জন ডেভিড (১৯৭৫)। ক্লাসিক্যাল ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স। নিউ ইয়র্ক। পৃ. xi। ওসিএলসি 488784931।
- ↑ মিলার, আর্থার আই.; কুশিং, জেমস টি. (৪ জুন ১৯৯৮)। "Albert Einstein's Special Theory of Relativity: Emergence (1905) and Early Interpretation (1905–1911)"। American Journal of Physics (ইংরেজি ভাষায়)। ৫০ (5): ৪৭৬। ডিওআই:10.1119/1.13068।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 হান্ট, ব্রুস জে. (১৯৮৮)। "এ রিভিউ অব এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেক্ট্রিসিটি"। আইসিস। ৭৯ (3): ৫১৫–৫১৬। ডিওআই:10.1086/354809। জেস্টোর 234708।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 ম্যাকক্রিয়া ১৯৫২
- 1 2 3 হুইটেকার, ই. টি. (১৯৫১)। A History of the Theories of Aether and Electricity: The Classical Theories। খণ্ড ১ (2nd সংস্করণ)। Thomas Nelson and Sons। পৃ. preface।
- 1 2 3 4 5 6 ১৯৫৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আলবার্ট আইনস্টাইন-কে লেখা ম্যাক্স বর্ন-এর চিঠি বর্ন ও আইনস্টাইন ১৯৭১, পৃ. 197–198
- 1 2 3 4 5 6 ব্রিজম্যান ১৯৫৬
- 1 2 3 4 মেইডমেন্ট, অ্যালিসন; ম্যাককার্টনি, মার্ক (২ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "'A man who has infinite capacity for making things go': Sir Edmund Taylor Whittaker (1873–1956)" (পিডিএফ)। British Journal for the History of Mathematics। ৩৪ (3): ১৭৯–১৯৩। ডিওআই:10.1080/26375451.2019.1619410। এস২সিআইডি 186939363।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 লেনজেন ১৯৫২
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 একার্ট ১৯৫২
- 1 2 3 মার্টিন, ড্যানিয়েল (জুন ১৯৫৮)। "স্যার এডমন্ড হুইটেকার, এফ.আর.এস."। প্রসিডিংস অব দ্য এডিনবরো ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ (1): ১–৯। ডিওআই:10.1017/S0013091500014334।
- 1 2 3 4 5 উইলসন ১৯১৩
- ↑ "Books"। The American Mathematical Monthly। ১৯ (3): ৬২। ১৯১২। ডিওআই:10.1080/00029890.1912.11997669। আইএসএসএন 0002-9890। জেস্টোর 2972440।
- ↑ "Books"। The American Mathematical Monthly। ১৯ (10/11): ১৭৮–১৮২। ১৯১২। ডিওআই:10.1080/00029890.1912.11997700। আইএসএসএন 0002-9890। জেস্টোর 2971889।
- 1 2 3 স্প্যারো, ক্যারল মেসন (১৯১১)। "A History of the Theories of Aether and Electricity from the Age of Descartes to the Close of the Nineteenth Century"। The Astrophysical Journal। ৩৪: ৩২২। বিবকোড:1911ApJ....34..322W। ডিওআই:10.1086/141898।
- ↑ জেড, জে. (৮ সেপ্টেম্বর ১৯১১)। "A History of the Theories of, Æther and Electricity from the Age of Descartes to the Close of the Nineteenth Century"। Science (ইংরেজি ভাষায়)। ৩৪ (871): ৩১৬। ডিওআই:10.1126/science.34.871.316। জেস্টোর 1636778।
- ↑ এইচ, টি. এইচ. (১৯১১)। "A History of the Theories of Aether and Electricity from the Age of Descartes to the Close of the Nineteenth Century"। Nature (ইংরেজি ভাষায়)। ৮৬ (2168): ৩৭৫–৩৭৬। বিবকোড:1911Natur..86..375T। ডিওআই:10.1038/086375b0। এইচডিএল:2027/uc2.ark:/13960/t3kw58f0w। এস২সিআইডি 3979228।
- 1 2 টার্নার ১৯১৩
- ↑ মাগরিনি, সিলভিও (১৯১৪)। "Review of A History of the Theories of Aether and Electricity, Whittaker, E. T"। Isis (Italian ভাষায়)। ২ (1): ২২২–২২৪। ডিওআই:10.1086/357846। আইএসএসএন 0021-1753। জেস্টোর 223575।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 3 4 5 6 টিন্ডাল ১৯৫১
- ↑ পারসেল, এডওয়ার্ড এম.; মরিন, ডেভিড জে. (২১ জানুয়ারি ২০১৩)। ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড ম্যাগনেটিজম। Cambridge University Press। পৃ. ৫০০। ডিওআই:10.1017/cbo9781139012973। এইচডিএল:10821/2745। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-০১২৯৭-৩।
- 1 2 3 4 5 6 ম্যাকলফলিন, প্যাট্রিক জে. (জুন ১৯৫২)। "A History of the Theories of Aether and Electricity"। Philosophical Studies। ২: ১৩১–১৩২। ডিওআই:10.5840/philstudies1952216।
- 1 2 3 সিঞ্জ ১৯৫২
- ↑ হেইল ১৯৫২
- 1 2 3 4 টুয়ারস্কি, ভিক (১৯৫২)। "A History of the Theories of Aether and Electricity. The Classical Theories"। Physics Today (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ (7): ১৫–১৬। বিবকোড:1952PhT.....5g..15W। ডিওআই:10.1063/1.3067659।
- 1 2 ম্যাকক্রিয়া, ডব্লিউ. এইচ. (১৯৫১)। "A Classic in Physics Revised"। Nature (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬৮ (4286): ১০৫৩–১০৫৪। বিবকোড:1951Natur.168.1053M। ডিওআই:10.1038/1681053a0। এস২সিআইডি 4294484।
- 1 2 3 মিলার ১৯৫২
- 1 2 টুলমিন ১৯৫২
- ↑ কেম্বল ১৯৫২
- ↑ কোহেন ১৯৫২
- ↑ "A History of the Theories of Aether and Electricity: The Classical Theories"। Journal of the American Medical Association (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪৯ (5): ৫২৩। ৩১ মে ১৯৫২। ডিওআই:10.1001/jama.1952.02930220113036।
- 1 2 "New books"। Electrical Engineering। ৭৩ (5): ৪৮৬। মে ১৯৫৪। বিবকোড:1954ElEng..73..486.। ডিওআই:10.1109/EE.1954.6438791।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 বর্ন ১৯৫৪
- ↑ বর্ন ১৯৫৬, পৃ. ১৯১
- 1 2 3 4 5 ডাইসন ১৯৫৪
- 1 2 3 অ্যাড্রিয়ান, ই. ডি. (১৫ মার্চ ১৯৫৫)। "Address of the President Dr E. D. Adrian, O. M., at the Anniversary Meeting, 30 November 1954"। Proceedings of the Royal Society of London, Series B (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪৩ (912): ২৯৩–৩০১। বিবকোড:1955RSPSB.143..293.। ডিওআই:10.1098/rspb.1955.0012। এস২সিআইডি 166174780।
- 1 2 3 4 5 হ্যাগডর্ন ১৯৫৪
- ↑ ব্রাউন ১৯৫৪
- ↑ কর্নহাউসার, এডওয়ার্ড টি. (২৮ মে ১৯৫৪)। "A History of the Theories of Aether and Electricity: The Modern Theories, 1900–1926. Sir Edmund Whittaker. Philosophical Library, New York; Thomas Nelson, Edinburgh--London, 1954. 319"। Science (ইংরেজি ভাষায়)। ১১৯ (3100): ৭৬৯–৭৭০। ডিওআই:10.1126/science.119.3100.769-a। জেস্টোর 1682334। এস২সিআইডি 161330621।
- ↑ ম্যাক্স বর্ন কর্তৃক আলবার্ট আইনস্টাইনকে লেখা ১৯৫৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের চিঠির ভাষ্য বর্ন ও আইনস্টাইন ১৯৭১, পৃ. 198–199
- ↑ টোরেত্তি ১৯৮৩, পৃ. 134, 310
- ↑ জিয়ানেত্তো, এনরিকো। "The Rise of Special Relativity: Henri Poincaré's Works Before Einstein" (পিডিএফ)।
- ↑ হুইটেকার, ই. টি. (১৯৫৩)। A History of the Theories of Aether and Electricity: The Modern Theories। খণ্ড ২ (2nd সংস্করণ)। Thomas Nelson and Sons। পৃ. ৪০।
- ↑ বর্ন ১৯৫৬, পৃ. 100 ff
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 হোল্টন ১৯৬০
- 1 2 কয়রে, আলেকজান্ডার (১৯৬৪)। Mélanges Alexandre Koyré : publiés à l'occasion de son soixante-dixième anniversaire [Mélanges Alexandre Koyré: published on the occasion of his seventieth birthday] (French ভাষায়)। হোল্টন, জেরাল্ড। Éditions Hermann। পৃ. ২৫৭–২৬৮। ওসিএলসি 173513753।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 হোল্টন, জেরাল্ড (১৯৬৭)। "Influences on Einstein's Early Work in Relativity Theory"। The American Scholar। ৩৭ (1): ৫৯–৭৯। জেস্টোর 41210232।
- 1 2 3 স্ক্রিবনার ১৯৬৪
- ↑ গোল্ডবার্গ, স্ট্যানলি (১৯৬৭)। "Henri Poincaré and Einstein's theory of relativity"। American Journal of Physics। ৩৫ (10): ৯৩৪–৯৪৪। বিবকোড:1967AmJPh..35..934G। ডিওআই:10.1119/1.1973643।
- ↑ গোল্ডবার্গ, স্ট্যানলি (১৯৬৯)। "The Lorentz Theory of Electrons and Einstein's Theory of Relativity"। American Journal of Physics। ৩৭ (10): ৯৮২–৯৯৪। বিবকোড:1969AmJPh..37..982G। ডিওআই:10.1119/1.1975220।
- ↑ জাহার, এলি (১৯৭৩)। "Why did Einstein's Programme supersede Lorentz's? (I)"। The British Journal for the Philosophy of Science। ২৪ (2): ৯৫–১২৩। ডিওআই:10.1093/bjps/24.2.95।
- ↑ হিরোশিগে, টেটু (১ জানুয়ারি ১৯৭৬)। "The Ether Problem, the Mechanistic Worldview, and the Origins of the Theory of Relativity"। Historical Studies in the Physical Sciences। ৭: ৩–৮২। ডিওআই:10.2307/27757354। জেস্টোর 27757354।
- ↑ ম্যাকারমার, পিটার কে.; টার্নবুল, রবার্ট জি. (১৯৭৬)। Motion and time, space and matter : interrelations in the history of philosophy and science। Ohio State University Press। পৃ. ৪৬৫–৫০৭। আইএসবিএন ০-৮১৪২-০২০৭-১। ওসিএলসি 1582837।
- ↑ মিলার ১৯৮১
- ↑ কেসওয়ানি, গোবিন্দ হেমরাজ (১৯৬৫)। "Origin and Concept of Relativity (I)"। The British Journal for the Philosophy of Science (ইংরেজি ভাষায়)। XV (60): ২৮৬–৩০৬। ডিওআই:10.1093/bjps/XV.60.286।
- ↑ কেসওয়ানি, গোবিন্দ হেমরাজ (১৯৬৫)। "Origin and Concept of Relativity (II)"। The British Journal for the Philosophy of Science। XVI (61): ১৯–৩২। ডিওআই:10.1093/bjps/xvi.61.19।
- ↑ মিলার ১৯৮১, পৃ. 354
- 1 2 ১৯৫৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর লেখা ম্যাক্স বর্ন-এর চিঠির উত্তরে (১২ অক্টোবর ১৯৫৩ তারিখে) আলবার্ট আইনস্টাইন-এর জবাব বর্ন ও আইনস্টাইন ১৯৭১, পৃ. 199
- ↑ ১৯৫৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর লেখা তাঁর চিঠির উত্তরে (১২ অক্টোবর ১৯৫৩ তারিখে) আলবার্ট আইনস্টাইন-এর জবাবের ওপর ম্যাক্স বর্ন-এর ভাষ্য বর্ন ও আইনস্টাইন ১৯৭১, পৃ. 200
- ↑ বর্ন ১৯৫৬, পৃ. 193–194
- ↑ এ. আইনস্টাইন, কার্ল জেলিগ-কে লেখা চিঠি, টেকনিশ রুন্ডশাউ ৪৭, বের্ন, ৬ মে (১৯৫৫)।
- 1 2 বর্ন ১৯৫৬, পৃ. 194
- 1 2 Born 1956, পৃ. 195
- ↑ টোরেত্তি ১৯৮৩, পৃ. 84
- ↑ টোরেত্তি ১৯৮৩, পৃ. 86
- ↑ টোরেত্তি ১৯৮৩, পৃ. 85–86
- ↑ টোরেত্তি ১৯৮৩, পৃ. 87
- 1 2 3 4 পাইস, আব্রাহাম (১৯৮২)। Subtle is the Lord: The Science and the Life of Albert Einstein। Oxford University Press। পৃ. ১৬৮। আইএসবিএন ০-১৯-৮৫৩৯০৭-X। ওসিএলসি 8195995।
- ↑ ম্যাকক্রিয়া, ডব্লিউ. এইচ. (১৯৮৩)। "'Subtle is the Lord...' The science and life of Albert Einstein"। Physics of the Earth and Planetary Interiors (ইংরেজি ভাষায়)। ৩৩ (1): ৬৪–৬৫। ডিওআই:10.1016/0031-9201(83)90008-0।
- ↑ ট্রুয়েসডেল, ক্লিফোর্ড (১৯৮৪)। An idiot's fugitive essays on science: methods, criticism, training, circumstances। Springer-Verlag। পৃ. ৪৩২। আইএসবিএন ০-৩৮৭-৯০৭০৩-৩। ওসিএলসি 8929424।
- 1 2 ম্যাকক্রিয়া, ডব্লিউ. এইচ. (১৯৫৭)। "এডমন্ড টেইলর হুইটেকার"। জার্নাল অব দ্য লন্ডন ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি (ইংরেজি ভাষায়)। s১-৩২ (2): ২৩৪–২৫৬। ডিওআই:10.1112/jlms/s1-32.2.234।
- ↑ এইটকেন, এ. সি. (২১ এপ্রিল ১৯৫৬)। "স্যার এডমন্ড হুইটেকার, এফ.আর.এস."। নেচার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭৭ (4512): ৭৩০–৭৩১। বিবকোড:1956Natur.177..730A। ডিওআই:10.1038/177730a0। এস২সিআইডি 39973666।
- ↑ ওয়েদারহেড, কেনেথ কিলপ্যাট্রিক (১৯৫৪)। "দ্য লেট স্যার এডমন্ড টেইলর হুইটেকার, এম.এ., হন.এফ.এফ.এ., এফ.আর.এস., এস.সি.ডি., এল.এল.ডি."। ট্রান্স্যাকশনস অব দ্য ফ্যাকাল্টি অব অ্যাকচুয়ারিজ। ২৩ (189): ৪৫৪–৪৫৬। ডিওআই:10.1017/S0071368600006601। জেস্টোর 41218460।
- ↑ রিড, আইভি কেলারম্যান; গোডে, আলেকজান্ডার (১৯৫৮)। "ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ"। সায়েন্স। ১২৮ (3336): ১৩৮৮–১৪৬১। ডিওআই:10.1126/science.128.3336.1458। জেস্টোর 1756365। পিএমআইডি 17797596।
- ↑ হেইলব্রন, জে. এল. (১ মার্চ ১৯৬৮)। "কোয়ান্টাম হিস্টোরিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য আর্কাইভ ফর হিস্ট্রি অব কোয়ান্টাম ফিজিক্স"। হিস্ট্রি অব সায়েন্স (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ (1): ৯০–১১১। ডিওআই:10.1177/007327536800700103। এস২সিআইডি 117424648।
- ↑ জ্যাকসন, জন ডেভিড (১৯৯৯)। ক্লাসিক্যাল ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (৩য় সংস্করণ)। নিউ ইয়র্ক: ওয়াইলি। আইএসবিএন ০-৪৭১-৩০৯৩২-X। ওসিএলসি 38073290।
- ↑ উইলিয়ামস, এল. পিয়ার্স (১ সেপ্টেম্বর ২০০৩)। "অলিভিয়ে দারিগোল: ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স ফ্রম আঁপেয়ার টু আইনস্টাইন"। আইসিস। ৯৪ (3): ৫৩২। ডিওআই:10.1086/380693।
- ↑ ব্রাশ, স্টিফেন জি. (১ মার্চ ২০০৭)। "হাউ আইডিয়াস বিকেম নলেজ: দ্য লাইট-কোয়ান্টাম হাইপোথেসিস ১৯০৫––১৯৩৫" (পিডিএফ)। হিস্টোরিক্যাল স্টাডিজ ইন দ্য ফিজিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস (ইংরেজি ভাষায়)। ৩৭ (2): ২০৫–২৪৬। ডিওআই:10.1525/hsps.2007.37.2.205। এস২সিআইডি 120320005। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ দারিগোল, অলিভিয়ে (২০১০)। "জেমস ম্যাককালাঘ'স ইথার: অ্যান অপটিক্যাল রুট টু ম্যাক্সওয়েল'স ইকুয়েশনস?"। দ্য ইউরোপিয়ান ফিজিক্যাল জার্নাল এইচ (ইংরেজি ভাষায়)। ৩৫ (2): ১৩৩–১৭২। বিবকোড:2010EPJH...35..133D। ডিওআই:10.1140/epjh/e2010-00009-3। এস২সিআইডি 120427058।
- ↑ হুইটেকার, ই. টি. (১৯১০)। এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি, ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি (১ম সংস্করণ)। লংম্যানস, গ্রিন অ্যান্ড কোম্পানি। পৃ. শিরোনাম পাতা।
- ↑ "বিবরণ - এ হিস্ট্রি অব দ্য থিওরিজ অব ইথার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি ফ্রম দ্য এজ অব ডেসকার্টস টু দ্য ক্লোজ অব দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি"। বায়োডাইভারসিটি হেরিটেজ লাইব্রেরি। ২ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০।
উদ্ধৃত কর্মসমূহ
[সম্পাদনা]আপেক্ষিকতার অগ্রাধিকার
- বর্ন, ম্যাক্স (১৯৫৬)। ফিজিক্স ইন মাই জেনারেশন। Pergamon Press। ওসিএলসি 427382550।
- হোল্টন, জেরাল্ড (১৯৬০)। "অন দ্য অরিজিনস অব দ্য স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি" (পিডিএফ)। American Journal of Physics। ২৮ (7): ৬২৭–৬৩৬। বিবকোড:1960AmJPh..28..627H। ডিওআই:10.1119/1.1935922।
- স্ক্রিবনার, চার্লস জুনিয়র (১৯৬৪)। "অঁরি পোয়াঁকারে অ্যান্ড দ্য প্রিন্সিপল অব রিলেটিভিটি"। American Journal of Physics। ৩২ (9): ৬৭২–৬৭৮। বিবকোড:1964AmJPh..32..672S। ডিওআই:10.1119/1.1970936।
- বর্ন, ম্যাক্স; আইনস্টাইন, আলবার্ট (১৯৭১)। দ্য বর্ন-আইনস্টাইন লেটার্স: করেসপন্ডেন্স বিটুইন আলবার্ট আইনস্টাইন অ্যান্ড ম্যাক্স অ্যান্ড হেডউইগ বর্ন ফ্রম ১৯১৬–১৯৫৫, উইথ কমেন্টারিস বাই ম্যাক্স বর্ন। Walker। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৩৩-১১২৬৭-০। ওসিএলসি 243246354।
- মিলার, আর্থার আই. (১৯৮১)। আলবার্ট আইনস্টাইন'স স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি: ইমারজেন্স (১৯০৫) অ্যান্ড আরলি ইন্টারপ্রিটেশন, ১৯০৫-১৯১১। Reading, Massachusetts: Addison-Wesley। আইএসবিএন ০-২০১-০৪৬৮০-৬। ওসিএলসি 5894058।
- টোরেত্তি, আর. ভি. (১৯৮৩)। রিলেটিভিটি অ্যান্ড জিওমেট্রি। Pergamon Press। আইএসবিএন ০-০৮-০২৬৭৭৩-৪। ওসিএলসি 230608803।
উল্লেখযোগ্য পর্যালোচনা
- টার্নার, এইচ. এইচ. (১৯১৩)। "Review of History of the Theories of Aether and Electricity"। The Mathematical Gazette। ৭ (105): ১১৬। ডিওআই:10.2307/3603314। আইএসএসএন 0025-5572। জেস্টোর 3603314।
- উইলসন, ই. বি. (১৯১৩)। "Review: E. T. Whittaker, A History of the Theories of Aether and Electricity from the Age of Descartes to the Close of the Nineteenth Century"। Bulletin of the American Mathematical Society (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ (8): ৪২৩–৪২৭। ডিওআই:10.1090/S0002-9904-1913-02381-4।
- টিন্ডাল, এ. এম. (১৯৫১)। "History of the Theories of Aether and Electricity"। Physics Bulletin। ২ (23): ৭। ডিওআই:10.1088/0031-9112/3/23/008।
- কোহেন, আই. বি. (১৯৫২)। "Books"। Scientific American। ১৮৬ (5): ৮০–৮৫। বিবকোড:1952SciAm.186e..80C। ডিওআই:10.1038/scientificamerican0552-80। জেস্টোর 24950682।
- একার্ট, কার্ল (১৯৫২)। "History of the Theories of the Aether and Electricity (Whittaker, Sir Edmund)"। Journal of Chemical Education। ২৯ (5): ২৬৫। বিবকোড:1952JChEd..29..265E। ডিওআই:10.1021/ed029p265.3।
- হেইল, পল আর. (১৯৫২)। "Classical Physics"। The Scientific Monthly। ৭৪ (1): ৫৯–৬০। আইএসএসএন 0096-3771। জেস্টোর 20853।
- কেম্বল, ই. সি. (১৯৫২)। "A History of the Theories of Aether and Electricity, The Classical Theory"। American Journal of Physics (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ (3): ১৮৮–১৮৯। বিবকোড:1952AmJPh..20..188W। ডিওআই:10.1119/1.1933161।
- লেনজেন, ভি. এফ. (১৯৫২)। "A History of the Theories of Aether and Electricity, the Classical Theories. Edmund Whittaker"। Isis। ৪৩ (3): ২৯৩–২৯৪। ডিওআই:10.1086/348142। জেস্টোর 227496।
- ম্যাকক্রিয়া, ডব্লিউ. এইচ. (১৯৫২)। "Review of History of Theories of the Aether and Electricity. I"। The Mathematical Gazette। ৩৬ (316): ১৩৮–১৪১। ডিওআই:10.2307/3610345। জেস্টোর 3610345।
- মিলার, জুলিয়াস এস. (১৯৫২)। "Book Reviews"। School Science and Mathematics (ইংরেজি ভাষায়)। ৫২ (6): ৪৯৮–৫০৮। ডিওআই:10.1111/j.1949-8594.1952.tb06911.x।
- সিঞ্জ, জন এল. (১৯৫২)। "Review of A History of the Theories of Aether and Electricity: (The Classical Theories)"। The British Journal for the Philosophy of Science। ৩ (10): ২০৪–২০৭। ডিওআই:10.1093/bjps/III.10.204। জেস্টোর 685564।
- টুলমিন, স্টিফেন (১৯৫২)। "X.—New Books"। Mind (ইংরেজি ভাষায়)। ৬১ (242): ২৮৮–২৮৯। ডিওআই:10.1093/mind/LXI.242.288। জেস্টোর 2252303।
- বর্ন, ম্যাক্স (১৯৫৪)। "Reviews"। The British Journal for the Philosophy of Science (ইংরেজি ভাষায়)। V (19): ২৬১–২৬৩। ডিওআই:10.1093/bjps/V.19.261। জেস্টোর 685722।
- ব্রাউন, ডব্লিউ. এফ. (১৯৫৪)। "A History of the Theories of Aether and Electricity. The Modern Theories, 1900–1926"। Physics Today (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ (11): ১৭। বিবকোড:1954PhT.....7k..17W। ডিওআই:10.1063/1.3061437।
- ডাইসন, ফ্রিম্যান জে. (১৯৫৪)। "Review of A History of the Theories of Aether and Electricity, Vol. II, Whittaker Edmund"। Scientific American। ১৯০ (3): ৯২–৯৪। ডিওআই:10.1038/scientificamerican0354-92। জেস্টোর 24944499।
- হ্যাগডর্ন, রলফ (১৯৫৪)। "Foundations of Modern Physics"। Nature (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭৩ (4410): ৮৩৮–৮৩৯। বিবকোড:1954Natur.173..838H। ডিওআই:10.1038/173838a0। এস২সিআইডি 4296379।
- ব্রিজম্যান, পি. ডব্লিউ. (১৯৫৬)। "History of the Theories of Aether and Electricity. Volume II, The Modern Theories, 1900–1926. Edmund Whittaker"। Isis। ৪৭ (4): ৪২৮–৪৩০। ডিওআই:10.1086/348516। জেস্টোর 226638।