এস এম আমজাদ হোসেন
এস এম আমজাদ হোসেন | |
|---|---|
| পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক মন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৬৪ – ১৯৬৯ | |
| গভর্নর | আবদুল মোনেম খান |
| মন্ত্রণালয় | শিক্ষা |
| উত্তরসূরী | আব্বাস আলী খান |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৯২৭ খুলনা জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ২৩ অক্টোবর ২০১৩ (বয়স ৮৫–৮৬) মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| রাজনৈতিক দল | কনভেনশন মুসলিম লীগ |
| অন্যান্য রাজনৈতিক দল | পাকিস্তান মুসলিম লীগ (১৯৪৭–১৯৬২) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (প্রাক-১৯৪৭) |
| সম্পর্ক |
|
| বাসস্থান | খুলনা |
| শিক্ষা | আইনে স্নাতক |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | আইনজীবী |
এস এম আমজাদ হোসেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]আমজাদ ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির খুলনা জেলার দেয়াড়া গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশের খুলনা জেলার রূপসা উপজেলায় অবস্থিত) জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৪৪ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৪৭ সালে সরকারি ব্রজলাল কলেজ থেকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা লাভ করেন। একই বছরে তিনি চার বছরের জন্য খুলনা মুসলিম ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এছাড়া তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক মুসলিম লীগের যুগ্ম সচিব ছিলেন। ১৯৪৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তমদ্দুন মজলিসে যোগ দেন। তিনি বাংলা ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক অর্জনের পর তিনি ১৯৫২ সালে খুলনা আদালতে আইন পেশায় যোগ দেন। এর দুই বছর পর তিনি বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন[১][২][৩]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৫৩ সালে তিনি আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের সম্মানসূচক অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পদে ছিলেন, পাশাপাশি তিনি খুলনার দৌলতপুর কলেজের পরিচালনসভার সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে তিনি ১৯৫৭ সালে জাহানাবাদ ইউনিয়নের কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তিনি কনভেনশন মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর দুই বছর পর তিনি দ্বিতীয় মোনেম মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।[১][৩] উক্ত পদে তিনি ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন।[২]
পরবর্তী জীবন, মৃত্যু ও কিংবদন্তি
[সম্পাদনা]১৯৮০ সালে আমজাদ খুলনা সিটি আইন কলেজের সিনিয়র অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের ইউনেস্কো ক্লাব তাকে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। তার এক স্ত্রী, চার ছেলে ও চার মেয়ে ছিল। তার সহধর্মিণী ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আমজাদের বাবা এস এম ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন যিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন। তার বড় ভাই আবুল হোসেন একজন কবি ছিলেন, তিনি ২০১৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদা সম্পর্কে আমজাদের ভাগ্নে হয়।[৪][৩] আমজাদ ২৩ অক্টোবর ২০১৩ সালে ঢাকায় কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল।[৩][২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Life sketches"। দ্য ইস্টার্ন এক্সামিনার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ নভেম্বর ১৯৬৫। পৃ. ৩।
- 1 2 3 "এস এম আমজাদ হোসেন"। প্রথম আলো। ২৪ অক্টোবর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 3 4 হোসেন, এস এম সরফরাজ (২১ অক্টোবর ২০২০)। "সৎ ও যোগ্য রাজনীতিক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আমজাদ হোসেন"। খুলনাঞ্চল।
- ↑ নাথ, শ্যামল চন্দ্র (২৯ জুন ২০১৮)। "'দেশভাগ না হলে হয়তো আরও ভালো লিখতে পারতাম'"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৮।
- ১৯২৭-এ জন্ম
- ২০১৩-এ মৃত্যু
- পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রী
- ২০শ শতাব্দীর বাংলাদেশী আইনজীবী
- খুলনার শিক্ষায়তনিক
- খুলনা জেলার রাজনীতিবিদ
- রূপসা উপজেলার ব্যক্তি
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ১৯৬৫-১৯৬৯
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ১৯৬২-১৯৬৫
- পাকিস্তান মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ
- নিখিল ভারত মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ
- সরকারি ব্রজলাল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী