এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজেস
| গঠিত | ১৯৪৯ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠাতা | হারম্যান মেইনার |
| ধরন | আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা |
| নিবন্ধন নং | ০৮৩১১৫৭০২ |
| আইনি অবস্থা | চলমান |
| উদ্দেশ্য | মানবতাবাদ |
| সদরদপ্তর | ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া ( ইন্সব্রুক, অস্ট্রিয়াতে নিবন্ধিত) |
President | ডোমেনিকো প্যারিসি |
| ওয়েবসাইট | www |
| মন্তব্য | স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী |
এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজেস একটি স্বাধীন, বেসরকারি, অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা যার সদর দপ্তর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত । এই সংস্থাটি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন পরিবারগুলিকে মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তা প্রদান করে এবং পিতামাতার যত্ন ছাড়াই বা তাদের যত্ন হারানোর ঝুঁকিতে থাকা শিশু এবং তরুণদের সহায়তা করে। এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে শিশুদের স্বার্থও রক্ষা করে। আজ, এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজেস বিশ্বব্যাপী ১৩০ টিরও বেশি দেশ এবং অঞ্চলে সক্রিয়।
এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজেস শিশু এবং তরুণদের জন্য বিকল্প যত্নের বিকল্পগুলি অফার করে।
উপরন্তু, SOS চিলড্রেন'স ভিলেজেস -এর সাথে - এবং তাদের পক্ষে - সেইসব শিশু এবং তরুণদের সমর্থন করে যারা পিতামাতার যত্ন হারিয়েছে বা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
SOS চিলড্রেন'স ভিলেজেস সরকার এবং বেসরকারি দাতাদের অবদানের উপর নির্ভর করে। ২০১৭ সালে, সংস্থার ৩৫০টি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোট ৩১ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল বাস্তবায়িত হয়েছিল। ফাউন্ডেশন এবং লটারি থেকে মোট তহবিল প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ইউরো এবং কর্পোরেট অংশীদারিত্ব বিশ্বব্যাপী SOS চিলড্রেন'স ভিলেজেসকে সহায়তার জন্য ৪৯ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি প্রদান করেছিল। সংস্থাটি ২০০২ সালে কনরাড এন. হিলটন হিউম্যানিটেরিয়ান পুরস্কার এবং ২০১৬ সালে কনকর্ডের প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিল।
এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি ঘরে ঘরে ঘুরে এবং রাস্তার প্রতিনিধিদের শোষণমূলক অনুশীলনের সাথে যুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে দাতাদের "প্রতারণা" করার কৌশল এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মতো প্রশিক্ষণ পদ্ধতির অভিযোগ।
২০২৫ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উঠে আসে। এর মধ্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হারমান গমেইনার , অস্ট্রিয়ার বেশ কয়েকটি এসওএস শিশু গ্রাম এবং নেপালের একটি জড়িত ছিল।[১][২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে অনেক শিশু গৃহহীন এবং এতিম হয়ে পড়ে। হারমান মেইনার (২৩ জুন ১৯১৯ – ২৬ এপ্রিল ১৯৮৬), যিনি নিজে একজন অস্ট্রীয় সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, ১৯৪৯ সালে মারিয়া হোফার, জোসেফ জেসটল, লুডভিগ কোগেল, হার্বার্ট ফ্যানার এবং হেডউইগ ওয়াইনগার্টনারকে সাথে নিয়ে অস্ট্রিয়ার টাইরল রাজ্যের ইমস্ট-এ প্রথম এসওএস শিশু পল্লী প্রতিষ্ঠা করেন।[৩] মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এতিম শিশুদের দেখাশোনার জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সংস্থাটি পরিত্যক্ত, অবহেলিত এবং নির্যাতনের শিকার অন্যান্য শিশুদের দেখাশোনা শুরু করে।[৩]
২০শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এই সংস্থাটি পুরো ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫৯ সালে ইতালি, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজ জাতীয় সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একই বছর অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুকে প্রথম এসওএস যুব সুবিধা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এসওএস শিশু পল্লীর প্রথম সেবিকা ছিলেন অস্ট্রীয় মারিয়া ওয়েবার (১৯১৯-২০১১)। প্রথম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিয়াট্রিচ ফন বোচ-গালহাউ (১৯১৪-২০১১), যিনি জার্মানিতে প্রথম এসওএস কর্মসূচিটি নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে অর্থায়ন করেছিলেন।
সংস্থাটি বড় হতে থাকলে ১৯৬০ সালে সমস্ত জাতীয় সমিতিগুলোকে তদারকি করার জন্য একটি আমব্রেলা অর্গানাইজেশন বা প্রধান সংস্থা হিসেবে এসওএস-কিন্ডারডর্ফ ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়েতে প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতে কর্মসূচির মাধ্যমে এটি এশিয়ায় পৌঁছায়। সাত বছর পর এটি আফ্রিকায় আইভরি কোস্ট, কেনিয়া, ঘানা এবং সিয়েরা লিওনে কার্যক্রম শুরু করে।[৩] উত্তর আমেরিকায় ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কর্মসূচি শুরু হয়। বর্তমানে ১৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ৫৭০টিরও বেশি এসওএস শিশু পল্লী কার্যক্রম বিদ্যমান।[৪]
২০০৬ সালে কোস্টারিকার সান্তা আনায় অবস্থিত "কোলেজিও ইন্টারন্যাশনাল এসওএস হারমান মেইনার" স্কুলটি ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ অফ কোস্টারিকা নামে পুনরায় চালু হয়। এটি এসওএস শিশু পল্লীর প্রত্যক্ষ অধীনে না থাকলেও সংস্থাটির সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং এসওএস শিশুদের জন্য পূর্ণ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
হারমান মেইনার ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই সংস্থার সভাপতি ছিলেন এবং এরপর হেলমুট কুটিন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। হেলমুট কুটিন ২৭ বছর এই সংস্থার নেতৃত্ব দেন, যিনি নিজেও অস্ট্রিয়ার এসওএস পল্লীতে বড় হওয়া প্রথম শিশুদের একজন ছিলেন। ২০১২ সালে ভারতের সিদ্ধার্থ কাউল তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।[৫][৬]
পরিচালনা ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]১১৮টি জাতীয় এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন, প্রোটোকল এবং নীতিমালা বাস্তবায়ন করে। আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো এই কাজগুলোকে নির্দেশনা দেয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় কার্যালয়গুলোকে তহবিল সংগ্রহ, বিপণন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। সংস্থার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুকে অবস্থিত সদর দপ্তর থেকে পরিচালিত হয়।
সংস্থার সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হলো জেনারেল অ্যাসেম্বলি বা সাধারণ পরিষদ, যা সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক সিনেটের অন্যান্য সদস্যদের নির্বাচনের জন্য দায়ী। এসওএস-এর সমস্ত কাজ পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব ২২ সদস্যের আন্তর্জাতিক সিনেটের ওপর ন্যস্ত। তারা নীতিমালা নির্ধারণ করে এবং নীতিগত পরিবর্তন ও কার্যপ্রণালী নির্দেশিকা প্রণয়ন করে। আন্তর্জাতিক সিনেটের কাজগুলো ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল দ্বারা সমন্বয় করা হয়, যা সভাপতির সভাপতিত্বে সদস্য সমিতিগুলোর আটজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত। ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল সিনেটের সিদ্ধান্তের জন্য সুপারিশ করে, ম্যানেজমেন্ট টিমের তৈরি করা কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করে এবং ফেডারেশনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। জেনারেল সেক্রেটারিয়েট বা সাধারণ সচিবালয় অস্ট্রিয়া এবং অন্যান্য আঞ্চলিক কার্যালয় নিয়ে গঠিত, যা কৌশলগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সংস্থার গুণগত মান উন্নয়ন ও পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ফোরামগুলোতে সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য দায়ী।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার"।
- ↑ "প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার"।
- 1 2 3 James, George (২৭ এপ্রিল ১৯৮৬)। "HERMANN GMEINER OF AUSTRIA, 66; ESTABLISHED SHELTERS FOR CHILDREN"। The New York Times।
- ↑ "SOS Children's Villages History"। SOS Children's Village International।
- ↑ "Helmut Kutin"। worldofchildren.org।
- ↑ "President of SOS Children's Villages International"। www.sos-childrensvillages.org।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]