বিষয়বস্তুতে চলুন

এল বে মসজিদ

এল বে মসজিদ
مسجد الباي
১৯৫০ সালে মসজিদটি
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিসুন্নি ইসলাম
যাজকীয় বা
সাংগঠনিক অবস্থা
অবস্থান
অবস্থানকন্সটান্টিন, কন্সটান্টিন প্রদেশ
দেশআলজেরিয়া
এল বে মসজিদ উত্তর আলজেরিয়া-এ অবস্থিত
এল বে মসজিদ
উত্তর আলজেরিয়ায় মসজিদটির অবস্থান
স্থানাঙ্ক৩৬°২২′০২.০″ উত্তর ৬°৩৬′৪২.৩″ পূর্ব / ৩৬.৩৬৭২২২° উত্তর ৬.৬১১৭৫০° পূর্ব / 36.367222; 6.611750
স্থাপত্য
ধরনইসলামি স্থাপত্য
স্থাপত্য শৈলীউসমানীয়
প্রতিষ্ঠাতাহোসেন বে ইবনে মুহাম্মদ
সম্পূর্ণ হয়১৭৩০ খ্রিস্টাব্দ
বিনির্দেশ
ধারণক্ষমতা১,০০০ জন মুসল্লি
গম্বুজসমূহ
মিনার
উপাদানসমূহপাথর
[]

এল বে মসজিদ, যা দাপ্তরিকভাবে হোসেন বে মসজিদ (আরবি: مسجد الباي) নামে পরিচিত, হলো আলজেরিয়ার কন্সটান্টিন প্রদেশের কন্সটান্টিন শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ[] এটি মূলত সুক এল ঘেজেল মসজিদ বা 'ঘেজেল বাজার মসজিদ' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭৩০ সালে মসজিদ হিসেবে এর নির্মাণকাজ শেষ হলেও ১৮৩৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ভবনটিকে ক্যাথলিক গির্জা বা ক্যাথেড্রাল অফ আওয়ার লেডি অফ দ্য সেভেন সরোস অফ কন্সটান্টিন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৯৬২ সালে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পর এটি পুনরায় মসজিদে রূপান্তরিত হয়।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

হোসেন বে মসজিদের আদি নাম ছিল 'সুক আল-গজল মসজিদ', যার অর্থ 'সুতা কাটার বাজারের মসজিদ'। মসজিদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি উলের বাজারের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়েছিল। মসজিদটি কেরমান স্ট্রিট এবং দিদুশ মুরাদ স্ট্রিটের মাঝে অবস্থিত। এর উত্তরে শুশান আবদেল-বাকি চত্বর এবং পশ্চিমে আহমেদ বে প্রাসাদ অবস্থিত।

এটি হোসেন কল্যাণ বা আবু কামিয়ার (১৭১৩-১৭৩৬) শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা হোসেন বে ইবনে মুহাম্মদের সম্মানে বর্তমানে এটি হাসান বে মসজিদ নামেও পরিচিত। হোসেন বে বুখামিয়া ১০৭৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত ছিলেন এবং তার শাসনকাল ছিল অত্যন্ত শান্ত।

সুক এল-গজল মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস সংবলিত একটি শিলালিপি আহমেদ বে প্রাসাদের উত্তর দেয়ালে একটি আয়তাকার সাদা মার্বেল ফলকে সংরক্ষিত আছে। ফরাসি গবেষক চারবোনউ শেখ মুস্তাফা বিন জালুলের কাছ থেকে প্রাপ্ত নথির মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, তার দাদা আব্বাস সুক আল-গজল এলাকায় নিজের অর্থ দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু আব্বাসের মৃত্যুর পর বে (শাসক) তার নাম মুছে নিজের নাম যুক্ত করে দেন যাতে ইতিহাস কেবল শাসককেই মনে রাখে।

১৮৩৮ সালে ফরাসি আক্রমণের সময় মসজিদটি পরিবর্তন করে একটি রোমান ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে রূপান্তর করা হয় এবং এর নামকরণ করা হয় ক্যাথেড্রাল অফ আওয়ার লেডি অফ দ্য সেভেন সরোস অফ কন্সটান্টিন (ফরাসি: Notre-Dame des Sept-Douleurs)। ১৯৬২ সালে স্বাধীনতার পর এটি পুনরায় তার আদি উদ্দেশ্য অর্থাৎ মসজিদে ফিরে আসে এবং বর্তমানে এল বে মসজিদ নামে পরিচিত।[]

স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

মসজিদটির বর্তমান কাঠামোটি আয়তাকার। এর উত্তর ও পশ্চিম দিকের সম্মুখভাগের একটি অংশ আহমেদ বে প্রাসাদের সাথে মিশে গেছে। মসজিদের দক্ষিণ দিকে পাথর দিয়ে তৈরি সিঁড়ি বিশিষ্ট দুটি প্রধান প্রবেশপথ রয়েছে।

সুক আল-গজল মসজিদে খিলানযুক্ত জানালা রয়েছে যার ওপরের অংশ স্টাকো অলঙ্করণ দিয়ে ঘেরা। দক্ষিণ দিকে এগারোটি এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তিনটি করে খিলানযুক্ত জানালা রয়েছে। গম্বুজটির প্রতিটি পাশে তিনটি করে জানালা আছে।

বাইরের দিক থেকে গম্বুজগুলো গোলাকার এবং মসজিদের পশ্চিম দিকে অবস্থিত মিনার দুটির দুই পাশে এগুলো অবস্থিত। মূল গম্বুজ ছাড়াও এখানে অগভীর গম্বুজ লক্ষ্য করা যায়।

মসজিদের প্রার্থনা কক্ষটি আয়তাকার এবং এটি মিহরাবের দিকে মুখ করা। মিহরাবটি লতাপাতা এবং জ্যামিতিক নকশা করা হাফ-ডোম দিয়ে অলঙ্কৃত এবং উজ্জ্বল রঙের সিরামিক টাইলস দিয়ে ঢাকা। মিহরাবের ডানে ও বামে কালো-সাদা মার্বেল স্তম্ভ রয়েছে। কাঠের তৈরি মিম্বরটি ১১ ধাপ বিশিষ্ট এবং এটি ৩.৪৫ মিটার দীর্ঘ। মসজিদের ভেতরে দেয়াল সংলগ্ন স্তম্ভসহ মোট ৩০টি স্তম্ভ রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটির ভিত্তি বৃত্তাকার এবং দেহ নলাকার।

গ্যালারি

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Abdulaziz Saoud Awaid (১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "Souk Al-Ghazal Mosque (El bey Mosque)"aathaar.net। Constantine, Algeria: Aathaar। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২১
  2. Davies, Ethel। North Africa: The Roman Coast। পৃ. ২১৫।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে এল বে মসজিদ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।