বিষয়বস্তুতে চলুন

এলিসিয়া নাইটেকি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এলিসিয়া নাইটেকি
২০০৯ সালে এলিসিয়া নাইটেকি
জন্ম(১৯৪২-০১-০২)২ জানুয়ারি ১৯৪২
ওয়ারশ, পোল্যান্ড
মৃত্যু৫ সেপ্টেম্বর ২০২১(2021-09-05) (বয়স ৭৯)
পরিচিতির কারণপোলিশ লেখক ও হলোকস্ট সাহিত্য নিয়ে গবেষণা, মধ্যযুগীয় সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ এবং পোলিশ ভাষা থেকে অনুবাদ
পুরস্কারঅনুবাদের জন্য কোরেট জিউইশ বুক অ্যাওয়ার্ড (২০০৩)
উচ্চশিক্ষায়তনিক পটভূমি
মাতৃ-শিক্ষায়তন
  • শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়
  • ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলো
  • কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়
ডক্টরাল উপদেষ্টাজে. এল. বেয়ার্ড
উচ্চশিক্ষায়তনিক কর্ম
বিষয়ইংরেজি সাহিত্য
প্রতিষ্ঠানবেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়

এলিসিয়া নাইটেকি/নিʼটেট্‌স্কি[] (২ জানুয়ারি ১৯৪২ – ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১) ছিলেন একজন মার্কিন লেখিকা এবং ম্যাসাচুসেটসের ওয়ালথামে অবস্থিত বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপিকা।

ইউরোপে প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত এলিসিয়া নাইটেকি নাৎসি অধিকৃত ওয়ারশে বসবাস করেন। ১৯৪৪ সালের আগস্টে ওয়ারশ বিদ্রোহ দমনের পর নাৎসিরা তাঁদের জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত করে এবং ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বাডেন-ভুর্টেমবার্গের লাউটারবাখে অবস্থিত একটি শ্রম শিবিরে আটক রাখে।[]

যুদ্ধের পর পরিবারটিকে ফ্রান্সের নঁত শহরের নিকটবর্তী লা কুর্তিন ক্যান্টনে অবস্থিত পোলিশ শরণার্থী শিবিরে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তারা দক্ষিণ ফ্রান্সের কারকেইরানে বসতি স্থাপন করে, যেখানে এলিসিয়া নাইটেকি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত একটি ফরাসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।

১৯৪৮ সালের এপ্রিল মাসে পরিবারটি ইংল্যান্ডে চলে যায়। ঘন ঘন বাসস্থান পরিবর্তনের ফলে এলিসিয়াকে বারবার বিদ্যালয় বদলাতে হয়। তিনি স্কালফোর্ডের চার্চ অব ইংল্যান্ড বিদ্যালয়ে ইলেভেন প্লাস পরীক্ষা দেন এবং পরে ইংল্যান্ডের মধ্যভাগের ডার্বি শহরের একটি গ্রামার স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি একটি ক্যাথলিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৬০ সালে শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। সে সময় ইংরেজি বিভাগের প্রধান ছিলেন খ্যাতনামা সমালোচক উইলিয়াম এম্পসন।

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর এলিসিয়া নাইটেকি সিটি অব লন্ডন কলেজে একটি সচিবীয় প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সচিব ও শিশু পরিচারিকা হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে তিনি মার্কিন সাহিত্য পণ্ডিত রিচার্ড এলম্যানের পরিবারে কর্মরত ছিলেন। এলম্যান তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং একটি সুপারিশপত্রও প্রদান করেন। এর ফলস্বরূপ ১৯৬৬ সালে তিনি বাফেলোর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে ভর্তি হন।

যুক্তরাষ্ট্রে একাডেমিক জীবন

[সম্পাদনা]

এলিসিয়া নাইটেকি বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি হন এবং ১৯৭৬ সালে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।[]

১৯৮০ সাল থেকে তিনি বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রথমদিকে এলিসিয়া নাইটেকির গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল মধ্যযুগীয় ইংরেজি সাহিত্য। তবে জার্মানি সফরের সময় ফ্লোসেনবুর্গ কনসেনট্রেশন ক্যাম্প পরিদর্শনের পর তিনি হলোকস্ট বিষয়ক সাহিত্যের প্রতি গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই শিবিরেই তাঁর দাদু বন্দি ছিলেন।

হলোকস্ট সাহিত্য ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পোলিশ লেখক তাদেউশ বরোভস্কি এবং অন্যান্য উত্তরজীবিত লেখকদের ওপর গবেষণা করেন। ২০০০ সালে তিনি বরোভস্কির উই ওয়ার ইন আউশভিৎস গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন এবং ২০০২ সালে হেনরিক গ্রিনবার্গের দ্রোহোবিচ, দ্রোহোবিচ অনুবাদ করেন।[]

অনুবাদসমূহ

[সম্পাদনা]
  • হালিনা নেলকেন: এন্ড ইয়েট, আই এম হিয়ার, অনুবাদক: নেলকেন ও নাইটেকি, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস প্রেস, ১৯৯৯
  • তাদেউশ দ্রেভনোভ্‌স্কি: পোস্টেল ইনডিসক্রিয়েসন: দ্যা কারেসপন্ডেন্স অফ তাদেউস বোরোস্কি, অনুবাদক: এ. নাইটেকি, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৭
  • মিয়েচিস্লাভ লুরচিনিস্কি: দ্যা ওল্ড গার্ড, অনুবাদক: এ. নাইটেকি, এস.ইউ.এন.ওয়াই. প্রেস, ২০০৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. তিনি এলিসিয়া ভাইসোৎস্কা নামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সৎপিতার নামানুসারে করজেনিয়োভস্কি হন এবং জ্বিগনিয়েভ নাইটেকির সঙ্গে বিবাহের পর নাইটেকি পদবি গ্রহণ করেন।
  2. লাউটারবাখে কাটানো সময় এবং ১৯৯০-এর দশকে সেখানে পুনরায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এলিসিয়া নাইটেকির গ্রন্থ Recovered Land-এর Lauterbach-im-Schwarzwald অধ্যায়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
  3. গবেষণাগ্রন্থ: The Presence of the Past: the Sense of Time in the York Cycle of Mystery Plays (১৯৭৬); উপদেষ্টা: জে. এল. বেয়ার্ড।
  4. এর আগে তিনি গ্রিনবার্গের কয়েকটি গল্প বিভিন্ন সাময়িকীতে অনুবাদ করেছিলেন।