এলিজাবেথ ডাববার্ন
এলিজাবেথ ডবার্ন (মৃত্যু ১৮৩৯) ছিলেন ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজশায়ারের উইসবেচ থেকে আসা একজন ইংরেজ নার্স এবং প্যামফ্লেটিয়ার (পুস্তিকা লেখক)। তিনি খ্রিষ্টের প্রকৃতি, পুরুষদের ওপর নারীদের প্রভাব এবং ছোট শিশুদের অধিকার ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লিখেছিলেন। তার কাজগুলো ইংরেজ ব্যাপটিস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। লিভারপুলের এলিজাবেথ ইয়েলভার্টন ১৮৪৩ সালে এলিজাবেথ ডবার্নের নাতি উইলিয়াম ডবার্নকে বিয়ে করেন এবং তিনিও এলিজাবেথ ডবার্ন নামে পরিচিত হন।[১]
জীবন
[সম্পাদনা]এলিজাবেথ সালটনস্টল নামে জন্মগ্রহণকারী এই নারী লিংকনশায়ারের আলফোর্ড থেকে এসেছিলেন। তাকে একজন "সম্ভ্রান্ত নারী" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[১] বলা হয় যে, তিনি স্যামুয়েল সালটনস্টলের বংশধরদের মধ্যে একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য ছিলেন। স্যামুয়েল ছিলেন ১৫৯৭ থেকে ১৫৯৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনের লর্ড মেয়র রিচার্ড সালটনস্টলের বড় ভাই।[১]
১৭৮২ সালের ৩০ এপ্রিল ক্যামব্রিজশায়ারের উইসবেচের রিচার্ড বানবারি ডবার্নের সাথে বিয়ের আগে তার সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়।[১] বিয়ের পর তিনি তার স্বামীকে চার্চ অফ ইংল্যান্ড ত্যাগ করতে এবং উইসবেচের প্যার্টিকুলার ব্যাপটিস্ট মণ্ডলীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন।[১] তার স্বামী পরবর্তীতে একজন ব্যাপটিস্ট প্রচারক হন। তাদের আটটি সন্তান ছিল: মেরি (১৭৮৩–১৮২৮), থমাস (১৭৮৫–১৮৬৩), রিচার্ড (১৭৮৬–১৮২৬), জন (১৭৮৯–১৮৪৯), এলিজাবেথ (জন্ম ১৭৯০), অ্যান (১৭৯৫–১৮৬৩), রবার্ট (১৭৯৯–১৮৮৮) এবং ফ্রান্সেস (মৃত্যু ১৮০১)।[১] তার স্বামী ১৮২৯ সালে ৭২ বছর বয়সে মারা যান।
শিশু যত্নের ওপর তার একটি পরবর্তী পুস্তিকা তার কন্যা এলিজাবেথকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছিল। তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানা যায় না।[২]
কর্মসমূহ
[সম্পাদনা]ডবার্নের ধর্মীয় লেখাগুলো শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের উদ্দেশ্যে লেখা ছিল। এগুলো মূলত ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে রচিত। তিনি তার লেখার মাধ্যমে "পুরাতন এবং নতুন নিয়মের মধ্যে ঐতিহাসিক ও প্রতীকী সংযোগ" দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার লেখা 'দ্য ইটারনাল এক্সিস্টেন্স অফ দ্য সান অফ গড' (১৮০০) বইটিতে ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রবাদ অধ্যায় ৮-এর আক্ষরিক এবং প্রতীকী ব্যাখ্যা সমান্তরালভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
১৮০৬ সালে প্রকাশিত 'ইয়াং পারসনস অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন রিডিং দ্য ওল্ড টেস্টামেন্ট' (দ্বিতীয় সংস্করণ ১৮১৬)[৩] বইটিতে ডবার্ন একজন মায়ের চরিত্রে তার সন্তানদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন। তিনি শিশুদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্মের আদর্শ গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং কঠিন শব্দ ও অনুচ্ছেদগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। খ্রিষ্টের প্রকৃতি নিয়ে তার কাজ সম্ভবত ১৮০০ সালের। এছাড়া ১৮০৫ সালে প্রকাশিত হয় তার আরেকটি পুস্তিকা 'দ্য রাইটস অফ ইনফ্যান্টস; অর, এ লেটার ফ্রম এ মাদার টু এ ডটার, রিলেটিভ টু দ্য নার্সিং অফ ইনফ্যান্টস'।[৪] শেষোক্ত বইটিতে তিনি শিশুদের যত্ন নেওয়া এবং সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করে স্নেহের সাথে লালন-পালন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।[২]
ডবার্নের আগে বেনামে প্রকাশিত 'ডায়ালগ বিটুইন ক্লারা নেভিল অ্যান্ড লুইসা মিলস, অন লয়্যালটি' (১৭৯৪) বইটিতে স্বাধীনতার চেয়ে রাজতন্ত্রের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ পায়। এতে তিনি দরিদ্রদের সেবা করা যে ঈশ্বরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা উল্লেখ করেন। ১৮০৫ সালে তিনি থিয়েটার বা নাট্যশালার বিরুদ্ধে কিছু লেখার একটি সংকলন প্রকাশ করেন, যার নাম ছিল: 'সেন্টিমেন্টস সিলেক্টেড ফ্রম রাইটার্স অফ অ্যানশিয়েন্ট অ্যান্ড মডার্ন সেলিব্রিটি কনসার্নিং থিয়েট্রিক্যাল অ্যামিউজমেন্টস'।[৪]
ডবার্নের লেখাগুলো উইসবেচ থেকে স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত হলেও ব্যাপটিস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে সেগুলো অনেক বিস্তৃত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিল।[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 W.F. Yeo (২০১১)। "William Dawbarn: A Victorian Life" (পিডিএফ)। University of Victoria। ১৭ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৬।
- 1 2 The Feminist Companion to Literature in English, ed. Virginia Blain, Patricia Clements and Isobel Grundy, (London: Batsford, 1990), p. 272.
- ↑ Elizabeth Dawbarn (১৮১৬)। The young person's assistant in reading the Old Testament; in a series of letters from a mother to her children, relative to divine truth। পৃ. ৭।
- 1 2 Handbook of Women Biblical Interpreters, ed. Marion N. Taylor and Agnes Choi (Grand Rapids, MI: Baker Academic) Retrieved 8 July 2016.
- ↑ See, for example, the Index of Notable Baptists... before 1850 Retrieved 8 July 2016.