এর্নস্ট অটো ফিশার
এর্নস্ট অটো ফিশার | |
|---|---|
এর্নস্ট অটো ফিশার | |
| জন্ম | ১০ নভেম্বর ১৯১৮ |
| মৃত্যু | ২৩ জুলাই ২০০৭ (বয়স ৮৮) মিউনিখ, জার্মানি |
| জাতীয়তা | জার্মানি |
| মাতৃশিক্ষায়তন | মিউনিখ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় |
| পরিচিতির কারণ | জৈব-ধাতব রসায়ন ফেরোসিন |
| পুরস্কার | রসায়নে নোবেল পুরস্কার (১৯৭৩) |
| বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন | |
| কর্মক্ষেত্র | রসায়ন |
| প্রতিষ্ঠানসমূহ | মিউনিখ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় |
| ডক্টরেট উপদেষ্টা | ভাল্টার হেবার |
এর্নস্ট অটো ফিশার একজন জার্মান রসায়নবিদ। তিনি ১৯৭৩ সালে যৌথভাবে ব্রিটিশ ইংরেজ রসায়নবিদ জেফ্রি উইলকিনসনের সাথে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। পরস্পর থেকে স্বাধীনভাবে জৈব-ধাতব যৌগগুলির (তথাকথিত স্যান্ডুইচ যৌগ) রসায়নের উপরে অগ্রণী গবেষণাকর্ম সম্পাদনের জন্য তাদেরকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।[১]
জীবনী
[সম্পাদনা]ফিশার ১৯১৮ সালের ১০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪১ সালে মিউনিখ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ১৯৪৯ সালে স্নাতক হন ও পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন। তিনি ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে নিযুক্ত হন ও ১৯৫৭ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
সম্মাননা
[সম্পাদনা]রসায়নে নোবেল পুরস্কার (১৯৭৩)
[সম্পাদনা]
উইলকিনসন ও ফিশার জৈব-ধাতব যৌগগুলির উপর গবেষণার জন্য ১৯৭৩ সালে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বিশেষ করে তারা স্যান্ডুইচ যৌগ নামক এক ধরনের যৌগের আবিষ্কার ও এ সংক্রান্ত ধারণার উন্নয়নের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ্য। স্পষ্ট ফলিত প্রয়োগ না থাকলেও তারা রসায়নের একটি মৌলিক দিক নিয়ে কাজ করেন, যা অনেক রাসায়নিক ধারণাকে নতুন রূপ দেয় ও অবস্থান্তর ধাতুর রসায়ন সম্পর্কিত জ্ঞানের উন্নতি ঘটায়।[১]
জৈব-ধাতব রসায়নে ধাতু-কার্বন বন্ধনবিশিষ্ট যৌগ অধ্যয়ন করা হয়। ১৮৪৯ সালে ফ্রাংকল্যান্ডের জিঙ্ক-মিথাইল যৌগ থেকে এই গবেষণাক্ষেত্রটির পথচলা শুরু। এটি ছিল প্রথম জ্ঞাত ধাতু-কার্বন বন্ধন। রাসায়নিক সংশ্লেষণে এগুলির উপকারিতা যেমন আছে (যেমন জৈব-পারদ), আবার এগুলি বিপজ্জনকও হতে পারে (যেমন জৈব-সীসা)। এর আগে এই ক্ষেত্রটিতে গ্রিনিয়ারের কাজ (১৯১২), সিগলার ও নাটার কাজ (১৯৬৩) এবং হজকিনের ভিটামিন বি১২-তে কোবাল্ট-কার্বন বন্ধনের আবিষ্কার (১৯৬৪) নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিল।[১]
২০শ শতাব্দীর মধ্যভাগে ডিওয়ার, চ্যাট ও তাদের সমমনস্ক ব্রিটিশ রসায়নবিদেরা কার্বন-কার্বন বন্ধনের সাথে আবদ্ধ ধাতু নিয়ে গবেষণা করেন। ফিশার ও উইলকিনসন এই গবেষণা আরও এগিয়ে নিয়ে যান ও প্রদর্শন করেন যে ধাতুগুলি গোটা অণুর সাথে আবদ্ধ হতে পারে। তাদের প্রথম উদাহরণটি ছিল ফেরোসিন নামক যৌগ, যেখানে একটি লোহার পরমাণু দুইটি সাইক্লোপেন্টাডায়েনিল বলয়ের মাঝখানে স্যান্ডুইচের মতো ধাতব-বন্ধনে আবদ্ধ। এই নতুন ধরনের বন্ধনের পন্থাটি বিদ্যমান ধারণার বিরোধী ছিল। ১৯৫২ সালের পরে তারা অন্যান্য ধাতু ও সংযোজকের (লিগ্যান্ড) জন্যও স্যান্ডুইচ যৌগ বের করেন। ফিশার ক্রোমিয়াম-বেনজিন যৌগ সংশ্লেষ করতে সক্ষম হন। তিনি খোলা স্যান্ডুইচ যৌগও বের করেন, যেখানে একটি বলয়ের পরিবর্তে ছোট সংযোজক (লিগ্যান্ড) যেমন CO- বা মিথাইল মূলক যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে উইলকিনসন রেনিয়াম ধাতুর সাথে ধাতু-হাইড্রোজেন বন্ধন প্রদর্শন করেন, যা এই ধারণাটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।[১]
এই আবিষ্কারগুলি শেষ পর্যন্ত ১৮-ইলেকট্রন নিয়মের জন্ম দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিটি অবস্থান্তর ধাতুর জৈব-ধাতব যৌগের স্থিতিশীলতা ও বিক্রিয়াশীলতার পূর্বাভাস প্রদান করতে পারে। যদিও প্রাকৃতিকভাবে কোনও স্যান্ডুইচ যৌগের অস্তিত্ব নেই, তথাপিও তাদের এই কাজ সমস্বত্ত্ব প্রভাবনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এদের মধ্যে শিল্পখাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উইলকিনসনের প্রভাবক অ্যালকিনের হাইড্রোজেনীকরণের ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফিশার ও উইলকিনসনের গবেষণা রসায়নের ধারণাগত পরিকাঠামোর উন্নয়ন সাধনের পাশাপাশি বেশ কিছ ফলিত প্রয়োগের উপর প্রভাব ফেলেছে, যা আধুনিক প্রভাবনের ক্ষেত্রে আজও গুরুত্বপূর্ণ।[১]