এম এ মাওলানা আবদুল মান্নান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এম এ মাওলানা আবদুল মান্নান
জাতীয় সংসদ ধর্ম মন্ত্রী এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
মে ১৯৮৬ – মার্চ ১৯৮৮
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মচাঁদপুর, বাংলাদেশ
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলজাতীয় পার্টি
সন্তানএ এম এম বাহাউদ্দিন
পিতামাতামাওলানা ইয়াছিন (পিতা)
হোসনেয়ারা বেগম (মাতা)
শিক্ষাস্নাতকোত্তর
পেশাশিক্ষকতা, ব্যবসা, রাজনীতি
ধর্মইসলাম

এম এ মাওলানা আবদুল মান্নান একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি এই আসনে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রী এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। [১]

জন্ম ও জীবন[সম্পাদনা]

এম এ মাওলানা আবদুল মান্নান এর পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। যার পূর্ব নাম ছিল দেবীপুর গ্রাম।

শিক্ষাগত যোগ্যতা[সম্পাদনা]

তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার শীর্ষস্থানীয় ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসাতে পড়ালেখা করেন। তিনি ছোটবেলা থেকে মেধাবি ছাত্র ছিলেন। কথিত আছে, তিনি আলিম (এইচ,এস,সি) ক্লাসে পড়ার সময় ফাজিল (ডিগ্রী) ক্লাসের ছাত্রদের পড়াতেন। তিনি উক্ত মাদ্রাসা থেকে কামিল (এম,এ) পাশ করেন। তিনি আরবি ভাষায় ছিলেন অধিক দক্ষ। তিনি আরবিতে পুরো সাবলিলভাবে কথা বলতে পারতেন। যা তাঁর মন্ত্রিত্বকালীন সময়ে অনেক সুফল বয়ে আনে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মাওলানা আবদুল মান্নান ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ হলেও তিনি প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি তাঁর গ্রামের ইসলামপুর আলিয়া মাদ্রাসার হাদিস বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ঐ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে পদন্নোতি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের কয়েকটি সুনাম ধন্য দৈনিক পত্রিকার মধ্যে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রী এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন দানবীর ও সমাজসেবক। [২]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের মধ্যে সফলতম রাজনৈতিক ব্যক্তি হলেন এম এ মাওলানা আবদুল মান্নান। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পদেও মাদ্রাসা শিক্ষিতদের মধ্যে তিনিই প্রথম। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি জাতীয় পার্টি-এর মনোনিত চাঁদপুর-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি এই আসন থেকে দুইবার জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করেন। প্রথমবার তিনি সফলতার সাথে নির্বাচনে জয় লাভ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান শাসনামল থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। প্রথম রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি ১৯৬২ সালে ইস্ট পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ঐ পদে বহাল ছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ইস্ট পাকিস্তান এসেম্বলির পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ছিলেন। মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান পূর্ব পাকিস্তান সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের (মন্ত্রণালয়ের) দায়িত্বে নিয়োজিত পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৬৫ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৬৮ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মাওলানা এম এ মান্নান পাকিস্তান এডভাইজরি কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডলজির সদস্য ছিলেন। এ এডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্যদের পদ ছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় সচিবদের সমপদমর্যাদার। [২][৩]

অবদান[সম্পাদনা]

এম এ মাওলানা আবদুল মান্নানের অসংখ্য অবদান রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকদের বেতন, ভাতা ও অনুদান বাড়ানোর পিছনে তাঁর অবদান স্মরণীয়। মাদ্রাসা শিক্ষায় উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জন্য তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। এছাড়াও ১৯৮৭ সালের বন্যাতেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। বাংলাদেশের ১৯৮৭ সালের মহা বন্যার সময় তিনি বিদেশ থেকে অনেক ত্রাণ আনেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক ও দানবীর। তিনি অনেক স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ তৈরি করেছেন। তিনি ঢাকাতে গাউছুল আজম জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এছাড়াও তিনি তাঁর গ্রাম ইসলামপুরে একটি ইসলামি মিশন চালু করেন। যার পরিচালনায় রয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অনেক স্কুল প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছন। তার মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলার কেরোয়া গ্রামে কেরোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। [৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]