বিষয়বস্তুতে চলুন

এনকি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Enki
Sumerian: 𒀭𒂗𒆠
সাবটেরেনীয় তাজা জল, প্রজ্ঞা, কারুশিল্প, জাদুর ঈশ্বর[]
এনকি 2,300 খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রাচীন আক্কাদিয়ান সিলিন্ডার সীল []
অন্যান্য নামইএ, নুদিমুদ, নাগবু, নিশিকু
প্রধান অর্চনাকেন্দ্র centerEridu, Malgium, Babylon
আবাসAbzu
প্রতীকভেড়ার মাথা, goat-fish, কচ্ছপ, ibex[]

এনকি ( সুমেরীয় : 𒀭𒂗𒆠 d EN-KI ), ইএ ( আক্কাদিয়ান : 𒀭𒂍𒀀 d E₂-A ) নামেও পরিচিত, জ্ঞান, কারুশিল্প, ভূগর্ভস্থ জল, জাদু এবং মন্ত্রের মেসোপটেমীয় দেবতা ছিলেন।[][] তিনি আবজুকে শাসন করতেন । এনকির স্ত্রী দামগালনুনা এবং তাদের সন্তান হল নানশে, আসালুহি, মারদুক এবং এনবিলুলু । প্রথমে সুমেরে এরিদু শহর তার প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র এবং বাসস্থান ছিল। সেখানে তার মন্দির ছিল ই-আবজু। তার ধর্মীয় প্রভাব দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। উর তৃতীয় এবং পুরাতন ব্যাবিলনীয় যুগে এনকি/ইয়া-এর ধর্মানুষ্ঠান হত । এনকি/ইয়া হুরিয়ান ধর্মেও একজন প্রধান দেবতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল,খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের প্রথম দিকে তার ধর্ম আনাতোলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে,এবং তিনি হিট্টাইট দেবতাদের অংশ হয়ে ওঠেন। দেবতা মারদুকের উত্থানের সাথে সাথে, এনকি/ইয়ার ধর্ম গুরুত্ব হারাতে থাকে।

এনকি/ইয়ার প্রধান প্রতীকগুলির মধ্যে ছিল ছাগল-মাছ, ভেড়ার মাথাওয়ালা লাঠি এবং কচ্ছপ। মেসোপটেমিয়ার ঐতিহ্যে তাকে মাটি থেকে মানবজাতির স্রষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হত।আত্রা-হাসিস এনুমা এলিশ, এরুদু জেনেসিসে, এনকির উল্লেখ আছে।

এনকি এবং ইয়া নামের অর্থ অনিশ্চিত। তারা মূলত পৃথক দেবতা ছিলেন, কখন তাদের একে অপরের সাথে সম্পূর্ণরূপে সমতুল্য করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। [] আলফোনসো আর্চির মতে, ব্যাবিলোনিয়ায় প্রাক-সারগোনিক যুগে তাদের মধ্যে সমন্বয়বাদ বিদ্যমান ছিল। []

সুমেরীয় ভাষায় এনকি নামের অর্থ "পৃথিবীর প্রভু"।[] এনকি দেবতার একটি উপাধি হতে পারে যা অবশেষে তার মূল নাম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।.[] এরিডুর এনকির নাম আমানকি বা উমুনকি লেখা হয়।[]

পুরাতন আক্কাদীয় যুগের উৎসগুলিতে এই নামটি আছে। [১০]এ নামের ব্যুৎপত্তি সেমিটিক মূল ḥyy এর সাথে যুক্ত, যার অর্থ জীবিত[১১] [১২]

বিকল্প নাম

[সম্পাদনা]

নুদিম্মুদ

[সম্পাদনা]

আক্কাদিয়ান উৎস, রাজকীয় শিলালিপি, প্রার্থনা এবং মন্ত্রে এনকি/ইয়ার অন্যতম বিকল্প নাম এবং উপাধি নুদিম্মুদ দেখা যেত। [১৩]

নাগবু

[সম্পাদনা]

নাগবু, "উৎস, বসন্ত", [১৪]ছিল এনকি/ইয়ার একটি বিকল্প নাম যা ঝর্ণা এবং ভূগর্ভস্থ জলের অধিপতি হিসেবে তার ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে। [১৫]

নিশিকু

[সম্পাদনা]

নিশিকু ছিল এনকি/ইয়ার একটি বিকল্প নাম । উইলফ্রেড জি. ল্যাম্বার্ট এবং অ্যালান আর. মিলার্ড প্রস্তাব করেন যে নামটি সেমিটিক উপাদান নাসিকু, "প্রধান" থেকে উদ্ভূত, যা এনকির সুমেরীয় উপাধি নান, "রাজপুত্র", "নেতা" প্রতিফলিত করে। [১৬][১৭]

অন্যান্য নাম এবং উপাধি

[সম্পাদনা]

ইয়া-র বেশিরভাগ আক্কাদীয় উপাধি জ্ঞানের দেবতা হিসেবে তাঁর ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে[১৮] উদাহরণস্বরূপ, বেল নেমেকি ("জ্ঞানের প্রভু"),[১৯] বেল তাশিমতি ("বোধগম্যতার প্রভু"), আপকাল ইলি ("দেবতাদের ঋষি"), বেল নাগবি ("ভূগর্ভস্থ জলের প্রভু") [২০]বেল টেনেশি, "মানবজাতির প্রভু"[২১] । মন্ত্রোচ্চারণের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর উপাধি মাশমাশ ইলি,[২২] "দেবতাদের ভূতপ্রেত", এবং বেল ইশিপুত্তি ("শুদ্ধিকরণের প্রভু")[২৩]-এ প্রতিফলিত হয়েছিল। কিছু আক্কাদীয় গ্রন্থে ইয়াকে ইয়া-শারু বলা হয়েছে।

চরিত্র এবং গুণাবলী

[সম্পাদনা]
পুরাতন ব্যাবিলনীয় (খ্রিস্টপূর্ব ১৯শ-১৭শ শতাব্দী) ইয়ার মূর্তি, যার হাতে জলের প্রবাহিত পাত্র। পারগামন জাদুঘর

এনকি/ইয়াকে জ্ঞান, শিল্প, কারুশিল্প, তাজা ভূগর্ভস্থ জল, ঝর্ণা এবং মন্ত্র ও জাদুর মাধ্যমে পূজা করা হত। তিনি একজন স্রষ্টা দেবতা। তিনি ভূগর্ভস্থ তাজা জলের অঞ্চল হিসেবে কল্পনা করা আবজুতে বাস করতেন । এনকি/ইয়াকে দানশীল দেবতা হিসেবে বিশ্বাস করা হত। মেসোপটেমিয়ার ঐতিহ্য তাকে মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টিকারী দেবতা হিসেবে বিবেচনা করত। শূর্পু মন্ত্র ধারায় তাকে "যার হাত মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছে" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।মেসোপটেমিয়ার বন্যার পুরাণে, তিনি মানবজাতিকে এনলিলের নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা থেকে বাঁচতে সাহায্য করেন। ভূত-প্রেত, শুদ্ধিকরণ, শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়, গৃহনির্মাণ এবং দেবতা ও দানবদের সন্তুষ্ট করতে এনকি/ইয়াকে ডাকা হত।

মেসোপটেমীয়রা আকাশকে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত করেছিল যা দেবতা আনু, এনলিল এবং ইএ-এর জন্য নির্ধারিত ছিল।বিষুবরেখার নিকটতম তারাগুলি ইএ-র, মেরুর কাছের তারাগুলি এনলিলের সাথে এবং কেন্দ্রীয় তারাগুলি আনু-এর সাথে যুক্ত ছিল।

প্রতীক এবং মূর্তিতত্ত্ব

[সম্পাদনা]
আড্ডা সিলের বিস্তারিত বিবরণ, একটি প্রাচীন আক্কাদীয় সিলিন্ডার সীল (প্রায় ২৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) যেখানে এনকির কাঁধ থেকে জলধারা বেরিয়ে আসছে। ব্রিটিশ মিউজিয়াম

এনকি/ইয়াকে মেসোপটেমিয়ার কয়েকজন দেবতার মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যাদের মূর্তি রয়েছে।[২৪] তাঁর মূর্তির সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর দেহ থেকে প্রবাহিত জলধারা, যাতে মাছ সাঁতার কাটে।[২৫] একটি আদি রাজবংশীয় সীলমোহরে তিনি একজন উপবিষ্ট দেবতাকে প্রতিনিধিত্ব করেন যার পায়ের নীচে দুটি মাছ রয়েছে [২৬]

পূর্ব দিকে মাছের পোশাক পরিহিত আপকালাস । খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দী। পারগামন জাদুঘর

তার প্রতীকগুলির মধ্যে রয়েছে ছাগল-মাছ এবং ভেড়া-মাথাওয়ালা লাঠি, কচ্ছপ [২৭][২৮]

অন্যান্য দেবতাদের সাথে সম্পর্ক

[সম্পাদনা]

পিতামাতা

[সম্পাদনা]

আকাশ দেবতা আনকে এনকির পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে [২৯] । ইশমে-দাগানের বালবেলে, এনকির পিতামাতা হলেন আন এবং তার স্ত্রী উরাশ ।[৩০] এরিদুর ঐতিহ্যে স্রষ্টা দেবী নাম্মু এনকির মা ।[৩১]

ভাইবোন

[সম্পাদনা]

এনকি এনলিলকে তার বড় ভাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন।.[৩২] এনকি এবং নিন্মাহ পুরাণে, নিন্মাহ এনকির বোন । [৩৩] আবহাওয়া-দেবতা ইশকুর এনকির যমজ ভাই । [৩৪]

স্ত্রী

[সম্পাদনা]

এনকি/ইয়ার স্ত্রী ছিলেন দামগালনুনা (যাকে দামকিনাও বলা হত)।[৩৫] বিশ্বাস করা হত যে তিনি তার স্বামী এবং প্রার্থনাকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।[৩৬] এনকি এবং নিনহুরসাগের পৌরাণিক কাহিনীতে, নিনহুরসাগ এনকির স্ত্রী । [৩৫]নিঙ্গিকুগা ছিল একজন দেবীর নাম যাকে এনকির স্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হত। [৩৭] দেবতা তালিকার দ্বিতীয় ফলকে An=Anum তাকে দামগালনুনার সাথে সমতুল্য করা হয়েছে। নিঙ্গিকুগা ছিল নিঙ্গালের মায়ের নাম।

সন্তান

[সম্পাদনা]
মারদুক, খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীর একটি সিলিন্ডার সিল থেকে।

ব্যাবিলনের অভিভাবক দেবতা মারদুককে এনকি/ইয়া এবং দামগালনুনার পুত্র হিসেবে গণ্য করা হত। [৩৮] এনকির অসুস্থ দেহের অংশ থেকে আটটি দেবতার জন্ম হয়; আবু, নিনসিকিলা, নিঙ্গিরিয়েটুদ, নিনকাসি, নাজি, আজিমুয়া, নিন্তি এবং এনসাগ । তাদের নামগুলি তার শরীরের অংশগুলিকে উল্লেখ করে ।[৩৯]

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ

[সম্পাদনা]

ফারাও আমলের নথিতে এনকির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। [৪০]তার প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল এরিদু শহর, যা তার বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত হত। পরবর্তী শিলালিপিতে এনকিকে আবজুর রাজা এবং এরিদুর রাজা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরিদু ছিল সুমেরের প্রাচীনতম শহরগুলির মধ্যে একটি।এরিদুতে এনকির মন্দির ছিল ই-আবজু ("আবজুর ঘর")। দেবতা ইয়া-র নামের প্রাচীনতম প্রমাণ খ্রিস্টপূর্ব ২৪ শতকে পাওয়া যায়। এনকি এবং ইয়া কখন একে অপরের সাথে সম্পূর্ণরূপে একীভূত হয়েছিল তা নিশ্চিত নয়।

আক্কাদীয় সিলিন্ডার সীলমোহর যা তিন দেবতার প্রতিনিধিত্ব করে এবং সিংহাসনে অধিষ্ঠিত এনকির সামনে একটি অর্ধ পাখি, অর্ধ মানব প্রাণীর পরিচয় করিয়ে দেয়।

আক্কাদের নারাম-সিনের শিলালিপিতে উল্লেখিত দেবতাদের মধ্যে এনকি হলেন একজন। শিমানুমের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের সাথে সম্পর্কিত নারাম-সিনের আরেকটি শিলালিপির একটি অংশে এনকিকে রাজার সাহায্যকারী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। নারাম-সিনের একটি শিলালিপিতে এনকিকে তার শত্রুর কাছ থেকে সেচের জল এবং তার জ্ঞান কেড়ে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আক্কাদীয় সিলিন্ডার সিল যেখানে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত এনকির সামনে পা রাখার জন্য চার দেবতাকে চিত্রিত করা হয়েছে।

আক্কাদীয় সাম্রাজ্যের পতনের পরবর্তী সময়ে, লাগাশি শাসক উর-বাউ একটি শিলালিপিতে গিরসুতে এনকির মন্দির নির্মাণের স্মৃতিচারণ করেন। তার উত্তরসূরী গুডিয়া এনকির জন্য টাইগ্রিস নদীর তীরে একটি মন্দির নির্মাণ করেন, যা তৃতীয় উর আমলের একটি নৈবেদ্য তালিকা থেকেও প্রমাণিত।

পুরাণ

[সম্পাদনা]

সৃষ্টির মিথ

[সম্পাদনা]

এনকি এবং বিশ্বব্যবস্থা

[সম্পাদনা]
আক্কাদীয় সিলিন্ডার সিল যাতে এনকি তার নৌকায় ভ্রমণ করছে বলে চিত্রিত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যবস্থা পৌরাণিক কাহিনী এনকিকে বিশ্বের সংগঠনের জন্য দায়ী করে[৪১] । এই পৌরাণিক কাহিনীতে, উর শহরকে সুমেরের রাজধানী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে যা উর তৃতীয় রাজবংশের সময় পুরাণ রচনার সময়কে প্রতিফলিত করে। [৪২]

এই রচনাটি এনকির প্রশংসা দিয়ে শুরু হয়। [৪৩][৪১]এনকি সুমের, মেলুহা, মাগান এবং দিলমুনে ভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি সুমেরকে এবং উর শহরকে আশীর্বাদ করেন। তিনি মেলুহায় ভ্রমণ করেন, বিলাসবহুল প্রাণী এবং উদ্ভিদ দিয়ে আশীর্বাদ করেন । এনকি টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিসকে জল দিয়ে পূর্ণ করে এবং এনবিলুলুকে এর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেন,[৪৪][৪৫] সমুদ্রে একটি মন্দির তৈরি করে, নানশেকে অর্পণ করেন[৪৬][৪৭], ইশকুরকে বৃষ্টিপাতের দায়িত্ব দেন। [৪৮] এনকিমডুকে কৃষি সরঞ্জামের দায়িত্ব দেন, সুমুগানকে তৃণভূমিতে গাছপালা এবং পশুপাল সরবরাহর দায়িত্বে নিযুক্ত করেন।[৪৯] স্টল এবং ভেড়ার খোঁয়াড় ডুমুজিকে অর্পণ করেন। উতুকে মহাবিশ্বের দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। বয়ন শিল্প উত্তুকে অর্পণ করেন। [৫০]

এনকি এবং নিনহুরসাগ

[সম্পাদনা]

তিনটি পুরাতন ব্যাবিলনীয় কপি থেকে এই পৌরাণিক কাহিনীটি জানা যায়, একটি নিপ্পুর থেকে, একটি উর থেকে এবং একটি অজানা উৎস থেকে। [৫১]

দিলমুনের দেবী নিনসিকিলা এনকির কাছে অভিযোগ করেন যে তার জমিতে জলের অভাব রয়েছে।[৫২][৫৩] এনকি ভূগর্ভস্থ মিষ্টি জল দেন এবং ফলস্বরূপ এটি একটি সমৃদ্ধ, উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়।[৫৪][৫৫][৫৬]কিছু পণ্ডিত এই পুরাণে নিনসিকিলাকে নিনহুরসাগের আরেকটি নাম হিসাবে চিহ্নিত করেন। [৫৭][৫৮]

পরবর্তী দৃশ্যটি ঘটে সুমেরের দক্ষিণে জলাভূমিতে। [৫৯]এনকি নিনহুরসাগের সাথে ঘুমায়, এবং সে গর্ভবতী হয়। নয় দিন গর্ভধারণের পর, সে নিনিসগ/নিনসারকে জন্ম দেয়। [৬০][৬১]একদিন, এনকি নিনিসগ/নিনসারকে জলাভূমিতে নদীর তীরে দেখতে পায়। সেও তার সাথে ঘুমায়, সে গর্ভবতী হয়, এবং নয় দিন গর্ভধারণের পর, সে নিনকুরার জন্ম দেয়। [৬২][৬৩]একইভাবে, এনকি তাকে দেখে, তার সাথে সহবাস করে, সে গর্ভবতী হয় এবং নয় দিন গর্ভধারণের পর, সে উত্তুর জন্ম দেয়।[৫৯][৬০] নিনহুরসাগ উত্তুর শরীর থেকে তার বীর্য বের করে এবং সেখান থেকে আটটি গাছ জন্মায়। [৬৪][৬৫]

এনকি জলাভূমিতে অপরিচিত গাছপালা দেখতে পায় এবং সেগুলি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। [৬৬] নিনহুরসাগ তাকে অভিশাপ দেয় এবং সে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। [৬৫][৬৭]অষ্টম দেবতার জন্ম তার শরীর থেকে অসুস্থতা দূর করে।[৬৮][৬৯] আবু মাথার উপরের অংশের সাথে সংযুক্ত, এবং আক্কাদিয়ান শব্দ আব্বাত্তু, [৭০]নিনসিকিলা চুলের সাথে (সিকি), নিনকিরিডু নাকের সাথে (কিরি), নিনকাসি মুখের সাথে (কা), নাজি গলার সাথে (জি), আজিমুয়া বাহু (এ), নিন্তি পাঁজরের সাথে (টিআই), এবং এনসাগ পাশে (জ্যাগ)।[৭১][৭০] তাদের নামগুলি তার শরীরের অংশগুলিকে উল্লেখ করে । নতুন দেবতাদের ভূমিকা নির্ধারণ এবং এনকির প্রশংসার সূত্র দিয়ে এই পৌরাণিক কাহিনীটি শেষ হয়। [৭২]


এনকির গাছপালা খাওয়া এবং তার পরিণতি এবং আদিপুস্তকে আদমহবার আপেল খাওয়ার মধ্যে তুলনীয়।

এনকি এবং নিনমাহ

[সম্পাদনা]

এই পৌরাণিক কাহিনীটি প্রাচীন ব্যাবিলনীয় যুগের সুমেরীয় ভাষায় লিখিত কয়েকটি ফলক এবং নব্য-আসিরীয় যুগের দ্বিভাষিক সুমেরীয়-আক্কাদীয় অনুলিপি থেকে জানা যায়। পুরাণের প্রথম অংশে, এনকি নাম্মু, নিন্মাহ এবং বেশ কয়েকজন সাহায্যকারী দেবীর সহযোগিতায় মানবজাতি সৃষ্টি করেন। দেবতাদের নিজেদের খাবারের জন্য কাজ করতে হত।কাজ করা দেবতারা তাদের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট হন। এনকিকে নাম্মু তাদের অভিযোগের কথা জানান এবং বিকল্প তৈরি করতে বলেন।এনকি আবজুর কাদামাটি থেকে মানবজাতি সৃষ্টির জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেন।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি

[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Galter 1983, পৃ. 52-103।
  2. "The Adda Seal"British Museum
  3. Wiggermann 1997, পৃ. 226।
  4. Black ও Green 1992, পৃ. 75।
  5. Horry 2019
  6. Archi 2010, পৃ. 15-17।
  7. Galter 1983, পৃ. 8।
  8. Galter 1983, পৃ. 8-9।
  9. Lambert 2013, পৃ. 414।
  10. Roberts 1972, পৃ. 20-21।
  11. Archi 2010, পৃ. 15।
  12. Galter 1983, পৃ. 3।
  13. Galter 1983, পৃ. 13।
  14. Roberts 1972, পৃ. 80।
  15. Galter 1998, পৃ. 77।
  16. Lambert ও Millard 1969, পৃ. 148-149।
  17. Espak 2010, পৃ. 60।
  18. Galter 1983, পৃ. 51।
  19. Galter 1983, পৃ. 37।
  20. Galter 1983, পৃ. 11।
  21. Galter 1983, পৃ. 38।
  22. Galter 1983, পৃ. 40।
  23. Galter 1983, পৃ. 36।
  24. Asher-Greve ও Goodnick Westenholz 2013, পৃ. 289।
  25. Lambert 1997, পৃ. 5।
  26. Boehmer 1965, পৃ. 87।
  27. Galter 1983, পৃ. 105।
  28. Seidl 1971, পৃ. 488।
  29. Wiggermann 1998, পৃ. 138।
  30. Krebernik 2014, পৃ. 402।
  31. Wiggermann 1998, পৃ. 137-138।
  32. Lambert 2013, পৃ. 405।
  33. Krebernik 1997, পৃ. 507।
  34. Shwemer 2008, পৃ. 133।
  35. 1 2 Katz 2008, পৃ. 322।
  36. Asher-Greve ও Goodnick Westenholz 2013, পৃ. 273।
  37. Jacobsen 1976, পৃ. 124।
  38. Black ও Green 1992, পৃ. 128।
  39. Katz 2008, পৃ. 336-337।
  40. Selz 1995, পৃ. 118।
  41. 1 2 Black 2004, পৃ. 215-217।
  42. Bottéro ও Kramer 1989, পৃ. 181।
  43. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 39-41।
  44. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 47।
  45. Leick 1991, পৃ. 44।
  46. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 48-49।
  47. Black 2004, পৃ. 221-222।
  48. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 49-50।
  49. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 50-51।
  50. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 52-53।
  51. Katz 2007, পৃ. 569।
  52. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 24।
  53. Jacobsen 1987, পৃ. 187।
  54. Jacobsen 1987, পৃ. 189-190।
  55. Dickson 2007, পৃ. 2।
  56. Katz 2007, পৃ. 586।
  57. Postgate 2010, পৃ. 242।
  58. Katz 2007, পৃ. 570।
  59. 1 2 Katz 2008, পৃ. 320।
  60. 1 2 Dickson 2007, পৃ. 3।
  61. Jacobsen 1987, পৃ. 191।
  62. Jacobsen 1987, পৃ. 192-193।
  63. Katz 2008, পৃ. 323-324।
  64. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 28।
  65. 1 2 Dickson 2007, পৃ. 4।
  66. Katz 2008, পৃ. 330।
  67. Jacobsen 1987, পৃ. 200-201।
  68. Dickson 2007, পৃ. 5।
  69. Jacobsen 1987, পৃ. 202-204।
  70. 1 2 Katz 2008, পৃ. 335-336।
  71. Jacobsen 1987, পৃ. 203-204।
  72. Kramer ও Maier 1989, পৃ. 30।