এডওয়ার্ড ফন দার মারউই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এডওয়ার্ড ফন দার মারউই
Edward van der Merwe.jpg
১৯৩১ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে এডওয়ার্ড ফন দার মারউই
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএডওয়ার্ড আলেকজান্ডার ফন দার মারউই
জন্ম(১৯০৩-১১-০৯)৯ নভেম্বর ১৯০৩
রাস্টেনবার্গ, ট্রান্সভাল
মৃত্যু২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১(1971-02-26) (বয়স ৬৭)
অকল্যান্ড পার্ক, ট্রান্সভাল
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৩১)
১৩ জুলাই ১৯২৯ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৭
রানের সংখ্যা ২৭ ২৮৭
ব্যাটিং গড় ৯.০০ ১০.৬২
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ১৯ ৩৫*
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ৩৫/২৯
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এডওয়ার্ড আলেকজান্ডার ফন দার মারউই (ইংরেজি: Edward van der Merwe; জন্ম: ৯ নভেম্বর, ১৯০৩ - মৃত্যু: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১) ট্রান্সভালের রাস্টেনবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২৯ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন এডওয়ার্ড ফন দার মারউই। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক ছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত এডওয়ার্ড ফন দার মারউই’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সর্বক্রীড়ায় দক্ষ ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রাগবি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স ও ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন এডওয়ার্ড ফন দার মারউই। ট্রান্সভালের পক্ষে ক্রিকেট ও রাগবিতে অংশ নেন। উপযুক্ত উইকেট-রক্ষক হিসেবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেছেন।

ফন দার মারউই নিচেরসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে ১১ বছরের অধিক সময় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। সফরকারী দলের বিপক্ষে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ খেলায় অংশ নেন। তাসত্ত্বেও সবমিলিয়ে মাত্র ২৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন তিনি।[২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন এডওয়ার্ড ফন দার মারউই। ১৩ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে লিডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে ডারবানে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। দুই টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে তাকে ছয় বছরের ব্যবধানে গড়তে হয়।

ট্রান্সভালের পক্ষে দুইটি খেলায় অংশগ্রহণের পরপরই ১৯২৯ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অন্তর্ভুক্ত হন। নিয়মিত উইকেট-রক্ষক জক ক্যামেরনকে সহায়তাকল্পে তাকে দলে রাখা হয়েছিল। ক্যামেরন দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, বেশ কম খেলার সুযোগ হয়েছিল তার। এ সফরের মোট ৩৪টি খেলার মধ্যেই ১৪টিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এডওয়ার্ড ফন দার মারউই। তন্মধ্যে, হেডিংলিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। এ পর্যায়ে পূর্ববর্তী লর্ডস টেস্টে হ্যারল্ড লারউডের ব্যাটিংকালে জক ক্যামেরন আহত হলে এ সুযোগ পান তিনি।[৩] খেলায় তিনি দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ ও ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।[৪]

কিন্তু, ব্যাটসম্যান হিসেবে জক ক্যামেরনের খেলার মান যথেষ্ট উন্নততর থাকায় সিরিজের পরের টেস্টে অংশগ্রহণ করা থেকে তাকে বিরত থাকত হয়। ক্যামেরন পুনরায় আহত হলে সফরের শেষ পাঁচটি খেলায় একাধারে খেলেন। স্কটল্যান্ডের পার্থে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ১০ নম্বরে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে হার না মানা ৩৫ রান তুলেছিলেন। পরবর্তীকালে এটিই তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হিসেবে রয়ে যায়।[৫]

অস্ট্রেলিয়া গমন[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ড গমন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু পরবর্তী দুই মৌসুম কেবলই বিশ্রামে ভরপুর ছিল তার জীবন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ট্রান্সভালে পক্ষে একটি ও ১৯৩০-৩১ মৌসুমে সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে ট্রান্সভালের সদস্যরূপে দুইটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, ১৯৩১-৩২ মৌসুমে আবারও তিনি জক ক্যামেরনের সহকারী হিসেবে বিদেশে গমনের জন্যে মনোনীত হন।

তবে, ১৯২৯ সালের ন্যায় ইংল্যান্ডে তাকে বেশি খেলায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি। সবমিলিয়ে তিনি মাত্র তিনটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। তন্মধ্যে, নিউজিল্যান্ডে পদার্পণ করে কোনটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল না; এমনকি কোন টেস্টও নয়।[৬]

এ সফরের পর থেকে পরবর্তী চার বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলার জগৎ থেকে দূরে সরেছিলেন তিনি। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে তাকে পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সোজা তাকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে খেলানো হয়।

১৯৩৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে তার সহকারী হিসেবে রবার্ট উইলিয়ামসকে রাখা হয় ও ইংল্যান্ডেই অবস্থান করতে থাকেন। দেশে প্রত্যাবর্তন করে অনেকটা আকস্মিকভাবেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ক্যামেরন।

১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজের প্রথম চার খেলায় ফ্রাঙ্ক নিকোলসনকে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়। চার খেলায় তিনি মাত্র তিনটি ক্যাচ নিয়েছিলেন। তথৈবচ ফিল্ডিং পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। মারউই এ পরাজয়বরণ করা থেকে দলকে রক্ষা করতে পারেননি। একমাত্র খেলায় অংশ নিয়ে একটিমাত্র ক্যাচ নেন। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৭ ও ০ রানে বিদেয় নেন। অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ব্যবধানে জয় পায়।[৭]

এ টেস্টের মাধ্যমেই তিনি তার সর্বশেষ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর তিনি আর তিনটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে ট্রান্সভালের পক্ষে ঐ তিনটি খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ৬৭ বছর বয়সে ট্রান্সভালের অকল্যান্ড পার্ক এলাকায় এডওয়ার্ড ফন দার মারউই’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Edward van der Merwe"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০১২ 
  2. "First-class Batting and Fielding in each Season by Edward van der Merwe"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১২ 
  3. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1930 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 27–33। 
  4. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৩ জুলাই ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১২ 
  5. "Scorecard: Scotland v South Africans"। www.cricketarchive.com। ২০ জুলাই ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১২ 
  6. "First-class matches played by Edward van der Merwe"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  7. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]