এগারসিন্দুর
এগারসিন্দুর বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম।[১] গ্রামটি ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্ব পাশে অবস্থিত। এটি ঢাকা থেকে সড়ক পথে প্রায় ৮৫ কিমি দূরে অবস্থিত। আবুল ফজল ইবনে মুবারক এই গ্রামটির কথা তার আকবরনামায় উল্লেখ করেছেন। এগারসিন্দুরের ইতিহাস নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মনে করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ খ্রিস্টাব্দে এখানে প্রথম বসতি স্থাপন করা হয়েছে। সেই সময়ে গ্রামটি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। ১৯৩৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে এখানে রৌপ্য মুদ্রা, লোহার অক্ষ, লেন্স, ধনুক এবং তীর পাওয়া গেছে।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে, এটি একটি নদী বন্দর ছিল এবং মুসলমান বণিকরা সূক্ষ্ম মসলিন বস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী পারস্য ও রোমে নিয়ে যেত। ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ এগারসিন্ধুরসহ বাংলার এ অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তারপর ফিরোজ শাহ তুগলক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। ১৫৭৭ সালে, ঈসা খান মসনদ-ই-আলা এগারসিন্ধুরকে রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময় এগারসিন্দুর দুর্গে ঈসা খান ও আকবরের সেনাপতি মান সিংহের মধ্যে যুদ্ধ হয়, এতে মান সিংহ পরাজিত হন। শাহ জাহানের রাজত্বকালে, ১৬৩৮ সালে এগারসিন্দুর আক্রান্ত হয় এবং এর দুর্গটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যার ধ্বংসাবশেষ সেখানে আজো রয়েছে।[২]
বারো ভূঁইয়াদের ঐতিহ্য
[সম্পাদনা]বারো ভূঁইয়া এবং জমিদারদের যুগের অবসানের পরও একটি প্রাচীন পরিবার, খন্দকার পরিবার, আজও টিকে আছে এবং এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। খন্দকাররা প্রথমদিকে ছিলেন ইসলামি পণ্ডিত এবং পরবর্তীতে তাঁরা বারো ভূঁইয়াদের তালুকদার বা কর আদায়কারীতে পরিণত হন।
প্রত্নতত্ত্ব
[সম্পাদনা]উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে এখানে এগারসিন্ধুর দুর্গ,[৩] শাহ মসজিদ (১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে), সাদি মসজিদ,[৪] এবং কবরস্থান রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা
[সম্পাদনা]এগারসিন্ধুরে একটি আধুনিক এগারসিন্ধুর কমিউনিটি হাসপাতাল রয়েছে, যা আশেপাশের সব গ্রামের মানুষকে সেবা প্রদান করে। হাসপাতালটি স্থানীয় সমাজসেবক আফতাব উদ্দিন খন্দকার এবং তাঁর সন্তানদের দান করা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি দাতব্য হাসপাতাল যা সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সেবায় নিবেদিত। এটি SOLS এবং নারী উদ্যোগ কেন্দ্র (NUK)-এর যৌথ সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]এই ছোট্ট ঐতিহাসিক গ্রামটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন মাশহুদা খাতুন শেফালী[৫], যিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট নারী অধিকার কর্মী, সামাজিক উদ্যোক্তা এবং জেন্ডার বিশেষজ্ঞ। তিনি নারী ক্ষমতায়নের জন্য নিবেদিত এবং ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি সংস্থা নারী উদ্যোগ কেন্দ্র (NUK)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। তিনি অশোকা ফাউন্ডেশনের আজীবন ফেলো[৬] এবং সেইসাথে সিনিয়র সিনারজোস ফেলো[৭]।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Community Report: Kishoreganj" (PDF)। জনসংখ্যা ও গৃহশুমারি ২০১১। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৯।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- 1 2 এ.বি.এম. শামসুদ্দীন আহমদ (২০১২)। "এগারসিন্ধুর"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ শাহনাজ হুসনে জাহান (২০১২)। "এগারসিন্ধুর দুর্গ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ এম.এ বারি (২০১২)। "সাদী মসজিদ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ কমিশন, স্থানীয় সরকার সংস্কার। "মাশহুদা খাতুন শেফালী | কর্মকর্তাবৃন্দ"। স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৬।
- ↑ "Mashuda Khatun Shefali | Ashoka Fellow since 1991"। আশোকা ফাউন্ডেশন। সংগ্রহের তারিখ 13 July, 2020।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ "Mashuda Khatun Shefali | Synergos"। www.synergos.org। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |