এএফএম মহিতুল ইসলাম
এএফএম মুহিতুল ইসলাম | |
|---|---|
![]() | |
| বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-এর ব্যক্তিগত সহকারী | |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| মৃত্যু | আগস্ট ২৫, ২০১৬ ঢাকা |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
এএফএম মহিতুল ইসলাম একজন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কর্মী এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সাক্ষী হয়েছিলেন এবং এ ব্যাপারে থানায় পুলিশ কেস করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড মামলার বাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।[১]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ
[সম্পাদনা]মুহিতুল ইসলাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।[২] তিনি মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার অফিস শাখার সহকারী হিসাবে যোগদান করেন। মুখ্যসচিবের কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ফাইল বহন করার সময় রাষ্ট্রপতি তাকে পছন্দ করেছিলেন। তাকে রাষ্ট্রপতিদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে বদলি করা হয়েছিল।[৩]
শেখ মুজিব হত্যার সাক্ষী
[সম্পাদনা]১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে একদল বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তা হত্যা করেছিলেন। তিনি তখন তাঁর বাসভবনে রাষ্ট্রপতির সহকারী এবং সংবর্ধনাবিদ ছিলেন। তিনি হত্যার সাক্ষী ছিলেন। ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে তিনি লালবাগ থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন। খুনিরা তখনও ক্ষমতায় থাকায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে লাঞ্ছিত করেছিলেন। শেখ মুজিবের দল আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন ২ অক্টোবর তিনি মামলা করতে সক্ষম হন। এই মামলায় রায়টি ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বরে প্রকাশ হয়।[১] আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি আইনটি বাতিল করে দেয়। কারণ এ আইনটি ঘাতকদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।[৪] দণ্ডিত দোষীদের মধ্যে পাঁচজনকে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।[৫]
১৯৭৫ সালে হত্যার চেষ্টায় মুহিতুল ইসলাম আহত হয়েছিল, তিনি হাসপাতাল থেকে তার গ্রামের বাড়ি যশোর পালিয়ে যান। তবে সেনাবাহিনী তাকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে সেনা হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছিল। শেখ মুজিবের এপিএস শাহরিয়ার জেডআর ইকবাল ইসলামকে হেফাজত থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করেছিলেন। তিনি সরকারী চাকরি অব্যাহত রেখেছিলেন, ত্রাণ অধিদপ্তরের পরিচালক হয়েছিলেন। ২০০২ সালে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর তাকে তার অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।[৬]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]মুহিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ আগস্ট ২০১৬ সালে মারা যান।[৫][৭] যশোরের মণিরামপুর কাশিমপুরে তাকে সমাহিত করা হয়।[৮][৯]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Mohitul Islam passes away"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৬ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "Bangabandhu murder case plaintiff Mohitul Islam dies"। The Independent। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "'You'll die and cause our deaths too'"। ঢাকা ট্রিবিউন। ২৬ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "Bangabandhu murder case's plaintiff Mohitul Islam dies"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৫ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- 1 2 "Bangabandhu murder case's plaintiff AFM Mohitul Islam dies at 63"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "Ordeals of plaintiff"। দ্য ডেইলি স্টার। ১৯ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "A look back at those who left us in 2016"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "Bangabandhu murder case plaintiff Mohitul Islam dies"। ঢাকা ট্রিবিউন। ২৫ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "Mohitul Islam laid to rest"। The Daily Sun। ১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭।
